রবিবার-১৭ নভেম্বর ২০১৯- সময়: সকাল ৬:৪৬
৭ কেজি চালের মূল্যে মিলছে ১কেজি পেয়াজ বিরামপুরের বাজারে চিকিৎসা সেবা দিয়ে মানব সেবা করতে চাই-পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হুমায়ুন কবীর বিরামপুরে নেশার ইনজেকশন ও ফেন্সিডিলসহ আটক-৩ হিলি চেকপোস্টে বিজিবি’র গোয়েন্দা সদস্যের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে হয়রাণীর অভিযোগ বিরামপুরে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালিত বিরামপুরে প্রকল্প সমাপনী কর্মশালা গরীব ও অসহায় মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে পারলে আমি শান্তি পাই জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে আজও চালু হয়নি, নবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন “প্রেসিডেন্ট পদক” অর্জন বিরামপুরের কৃতি সন্তান ফায়ার সার্ভিসের গোলাম রওশন ঘোড়াঘাটে বানিজ্যিক ভাবে মাল্টা বাগান করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে

নারী ও শিশু newsdiarybd.com:

ঘোড়াঘাটে আমি একজন বিরোঙ্গনা নারী

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি-দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার চকবামুনিয়া বিশ্বনাথপুর গ্রামের সানোয়ার খান সানুর কন্যা তাসিয়া জাহান ঐশি (১৫) একজন বিরোঙ্গনা নারী।

১৯৭১ সালে পাকিস্থানি বাহিনির সাথে বাংলাদেশ স্বাধীন নিয়ে বেজেগেল সেই যুদ্ধ। যুদ্ধের সময় বাবুর আব্বারে পাকবাহিনি বাহিনিরা কোথায় যেন ধরে নিয়ে গেল সেই থেকে আর ফিরে আইলোনা।

পেটে দুইমাসের বাবু দেখতে দেখতে জম্ম নিলো তবুও ফিরে আইলোনা।এ সময় আমি একাকি বাড়ী খান সেনাদের পাশবিক অত্যাচার ধর্ষণ,সয্য করে বাবুর আব্বার জন্য পথ চেয়ে আজও বসে আছি। অনেক কষ্ট করে বাবুরে মানুষ করছি। স্কুলে শিক্ষক বাবুরে ভর্তি করায়না।স্কুলের অন্য ছেলে মেয়েরা বলে তোর মা বিরোঙ্গনা তোর সাথে খেলবোনা।

সকল দুঃখ কষ্ট বুকে নিয়ে বিরোঙ্গনা হয়ে আজও বেচে আছি। দেশ স্বাধীন হলো জাতী স্বাধীনতা পেল,মুক্তিযোদ্ধারা সুযোগ সুবিধা পেল,সরকারী ভাতা পেল,কিন্তু আজও আমি বিরোঙ্গনার জ্বালা যন্ত্রনা মাথায় নিয়ে বেচে আছি। বিরোঙ্গনার সাধ ও স্বীকৃতি পেলামনা। ভিক্ষা বিত্তি ও ভাপা পিঠা বিক্রি করে সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করার চেষ্টা করছি। ৩০ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হলো তবে কি সেই স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি ?তবে কেন দেশে এত মারা-মারি হানা হানি। তার এই একক অভিনয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহি অফিসার আবেগে ভেঙ্গে পরেন।

বিরোঙ্গনার একক অভিনয়ে ঘোড়াঘাট ওসমানপুর সরকারী ডিগ্রী কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্রী মোছাঃ তাসনিয়া জাহান ঐশি প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে এবং পরে জেলা পর্যায়ে ১ম স্থান অধিকারী হওয়ায় বিজয় ফুল অুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক তাকে গলায় মেডেল পরিয়ে দেন করেন।

জীবনযুদ্ধে জয়ি জোবায়রা খাতুন

নবাবগঞ্জের সফল নারী উদ্যোক্তা আজমেরী কামাল মীম

মোঃ সাজেদুল ইসলাম সাগর,সংবাদদাতা- সরকার যখন দেশে বেকার সমস্যা শূন্যের কোঠায় পৌঁছানোর নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে সফলতার দ্বার প্রান্তে -ঠিক তখনই, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুরে আজমেরী কামাল মীম নামে এক নারী উদ্যোক্তা এম এস ফিশারিজ, এগ্রো এন্ড ডেইরী ফার্ম প্রতিষ্ঠা করে।

তিনিসহ এলাকার বেশ কিছু বেকার যুবক যুবতীর কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন।

মীম জানান, তার ফার্মে বর্তমানে ২৭টি গাভী নিয়মিত দুধ দিচ্ছ ফলে তার ফার্মের দুধে অত্র এলাকার দুধের চাহিদা পুরণ হচ্ছে।

পাশা পাশি গরুর পরিত্যাক্ত খাবারে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এই মাছ এলাকার চাহিদা পূরনের পর দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ভালো লাভজনক দামে বিক্রয় হচ্ছে।

আজমেরী কামাল মীম আরও জানান, আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে তার ফার্মে প্রায় ৩৫টি বিভিন্ন প্রজাতির গরু দেশীয় প্রযুক্তি ও দেশীয় খাদ্য ব্যবহার করে মোটা তাজা করণ প্রক্রিয়াধীন আছে। তিনি আশা করছেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে চোরাই পথে যদি গরু বাংলাদেশে প্রবেশ না করে তবে,তিনি ভালো লাভ আশা করছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে কোন সুযোগ সুবিধা পেলে তিনি আরও সফলভাব তার ফার্ম পরিচালনা করতে পারবেন। তার মাধ্যমে এলাকার অনেক বেকারের কর্ম সংস্থান সহ এলাকার বিভিন্ন এলাকার মাংস ও দুধের চাহিদা পূরণ হবে।

৫০ হাজার ছাত্রছাত্রীর বেটি রাহেলা

হিলি, দিনাজপুর-দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর চালুর অনেক আগে ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় হাকিমপুর সরকারি ডিগ্রী কলেজ।

প্রায়ত রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ ৯০ সালে তখনকার হাকিমপুর ডিগ্রী কলেজ মাঠে হেলিকেপ্টারে এসেছিল এবং বাংলাহিলি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি সরকারি করনের ঘোষনা দেন। আর এ কলেজটি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের অতি পরিচিত মুখ সবার প্রিয় রাহেলা বেটি।

প্রথম বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের আবদার বেটির নিকট একটু বেশী যদিও তার মুলদ্বায়িত্ব ছিল কোন শিক্ষক কোন ক্লাসে কোন ক্লাস নিতে যাচ্ছে কমনরুমে অবস্থানরত ছাত্রীদের সে খবর জানানো এবং তাদেরকে খাবার পানি সরবরাহসহ দোকান থেকে টুকটাক অতি জরুরী জিনিসপত্র কিনে দেওয়া। এসবের পাশাপাশি বিশেষ করে প্রথম বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের আর একটা গোপনীয় কাজ করতে হত বেটিকে তাহলো চিরোকুট (প্রেমপত্র) আদানপ্রদান করা, আর কে কোথায় কার জন্য অপেক্ষা করছে সে মেসেসটা পৌছে দেওয়া।

বর্তমানে কলেজে অধ্যায়নরত ছাত্রছাত্রীদের জন্য এসব অতিরিক্ত ঝামেলা বেটিকে আর পোহাতে হয়না কারন ৯০ এর দশকে মোবাইলের ব্যবহার না থাকলেও এখন সব ছাত্রছাত্রীর হাতেই আছে মুঠোফোন। কে কাকে পছন্দ-অপছন্দ করে নিজেরাই তারা ফোনে সেরে নেয়।

হাকিমপুর উপজেলা হাসপাতাল মোড় চন্ডিপুরে ১ ছেলে ও ২ মেয়ের সংসার রাহেলা খাতুনের। ছেলেমেয়ে সবারই বিয়ে হয়েছে নাতিপুতি নিয়ে সুখের সংসার রাহেলা বেটির। গত ৫ বছর আগে হঠাৎ একদিন বেটির অতি আপনজন তার প্রিয় স্বামী বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয় আজ পর্যন্ত আর বাড়িতে ফিরে নাই।

রাহেলা বেটি বলেন, আমি জানিনা পৃথিবীতে সে বেঁচে আছে না মারা গেছে। তবে তাঁর ফিরে আসার অপেক্ষা আজও পথের দিকে চেয়ে থাকি। রাহেলা খাতুন বলেন, এখন বয়স হয়েছে আগের মত আর দৌড়-ঝাঁপ করতে পারিনা। তাঁর আশা কলেজের চাকরীর বাঁকি সময় টুকু যেন সবার সাথে মিলেমিশে শেষ করতে পারি।

কলেজে কর্মরত বেটির সহকর্মি মোফাজ্জল হোসেন বলেন ১৯৮৪ সালে কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে

বর্তমান পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ভর্তি রেজিষ্টার অনুযায়ী প্রায় ৫০ হাজার। আর একরনেই হাকিমপুর সরকারি ডিগ্রী কলেজের ৫০ হাজার ছাত্রছাত্রীর বেটি রাহেলা খাতুন।

ধামইরহাটের বরেন্দ্র অঞ্চলে মাল্টা চাষে সফল নারী উদ্যোক্তা রিনা আক্তার

মো.হারুন আল রশীদ,ধামইরহাট প্রতিনিধি-নওগাঁর ধামইরহাটের বরেন্দ্র অঞ্চলে মাল্টা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন নারী উদ্যোক্তা রিনা আক্তার। তিনি একর জমিতে মাল্টা রোপন করে এখন তার বাগান ফলে ফলে ভরে গেছে। বাজারে ভালো দাম পেলে তিনি অনেক মুনাফা লাভের স্বপ্ন দেখছেন।

জানা গেছে,উপজেলার ধামইরহাট ইউনিয়নের অন্তর্গত আঙ্গরত তেলিপাড়া গ্রামের পাকা রাস্তার পার্শে মায়া কানন (বায়ো এগ্রি ফার্ম) নামে একটি নার্সারী গড়ে তোলা হয় নারী উদ্যোক্তা রিনা আক্তার।

কৃষিবিদ পরিবারে বেড়ে ওঠা রিনা আক্তার ছোট বেলা থেকে কৃষির প্রতি তার বিশেষ আগ্রাহ ছিল। বিশেষ করে ফল বাগান গড়ে তোলা তার স্বপ্ন ছিল। গ্রাজুয়েশন করার পর চাকুরী না হওয়ায় তিনি হতাশ না হয়ে নেমে পড়েন ফল বাগান করতে। তার নিজ হাতে গড়ে তোলেন মায়া কানন।

এব্যাপারে রিনা আক্তার বলেন,ধামইরহাট উপজেলার সাবেক কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড.মো.জামাল উদ্দিন ও বর্তমান কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.সেলিম রেজার সার্বিক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় আমি ৫০শতাংশ জমিতে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ১ বছর বয়সী উন্নত মানের মাল্টা চাষ শুরু করি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ১০ ফুট পর পর চারা গাছ রোপন করা হয়।

মোট ১৩৬টি চারা গাছ রোপন করেন। পরের বছর গাছে ফুল আসলেও তা ভেঙ্গে দেয়া হয়। এবছর গাছে পর্যাপ্ত ফুল আসে এবং অসংখ্য ফল ধরে। বর্তমানে প্রতি গাছে প্রচুর পরিমাণে ফল ধরেছে। আশা করা যাচ্ছে প্রতি গাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া যাবে।

আগামী আগষ্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে গাছ থেকে ফল নামানো শুরু হবে। বাজারে বর্তমানে পাইকারী মাল্টা ১শত থেকে ১শত ২০ টাকা দরে কেনা বেচা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী ১শত টাকা কেজি হলে প্রতি গাছ থেকে প্রায় ১০ কেজি মাল্টা পাওয়া যাবে যার দাম হবে ১ হাজার টাকা। সেই হিসেবে ১৩৬টি গাছ থেকে ১ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যদি কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হয় তবে এবার মাল্টা বিক্রি করে লাভের আশা দেখছেন। রিনা আক্তার আরও বলেন, প্রতিটি চারা গাছ তিনি ১৫০ টাকা দর হিসেবে ২০ হাজার ৪শত টাকায় কিনেছেন।

এছাড়া শ্রমিকের মজুরী ও অন্যান্য বাবদ মোট ৫০হাজার টাকা খরচ করেছেন। তিনি মাল্টা বাগান গড়ে তুলতে প্রায় ৭০হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। তিনি আশা করছেন এবছর তিনি ১ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা মাল্টা বিক্রি করবেন। পরে বছর দ্বিগুন লাভের আশা করছেন। ধামইরহাট উপজেলার সাবেক কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড.মো.জামাল উদ্দিন বলেন,ধামইরহাটের মাটি যে কোন ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগি।

এ অঞ্চলের মানুষ শুধু ধান চাষে ব্যস্ত থাকে। বর্তমানে ধান চাষে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে এলাকার চাষীদেরকে লাভ জনক ফল বাগানে চাষে উদ্বৃদ্ধ করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.সেলিম রেজা বলেন,রিনা আক্তারকে মাল্টা ও ড্রাগন চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তার বাগানে মাল্টার প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে।

এছাড়া উন্নতমানের মাল্টা চারা বারি-১ সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত তাকে পরামর্শ দেয়া হয়। এ অঞ্চলের মাটি যে কোন ফল চাষের জন্য উপযোগি।

এ অঞ্চলে মাল্টা ও ড্রাফন ফলের মিষ্টতা ও গুনাগুন অন্যান্য অঞ্চল থেকে ভালো। তাছাড়া বাজারে মাল্টা এবং ড্রাফন ফলের দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

এলাকার বেকার যুবকরা ওই বাগান দেখে ইতোমধ্যে অনেকে ফল বাগান চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। আগামীতে এ অঞ্চল ফলের এলাকা হিসেবে পরিচিতি পাবে।

বিরামপুরে নারীদের মেলা

নজরুল ইসলাম-বিরামপুর উপজেলা মহিলা দপ্তরের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে দু’দিন ব্যাপী নারী উন্নয়ন মেলা শনিবার (০৯ মার্চ) সমাপ্ত হয়েছে।

উপজেলা চত্বরে মেলার শুরুতে মহিলা দপ্তর ও পল্লীশ্রী ইভিপিআরএ প্রকল্পের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালি করা হয়েছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাহমিদা উসলাম, পল্লীশ্রী’র সিনিয়র সিডিএস সাইফুল ইসলাম, সিডিএস সুবাস হাঁসদা, আরিফ. সোহেল রানা ও রত্না রানা।

দিবসটি উপলক্ষ্যে পল্লীশ্রী’র ইভিপিআরএ প্রকল্পের উদ্যোগে ৭ ও ৯ই মার্চ পৌর এলাকা ও ৭টি ইউনিয়নের ১৮টি সিএসও’র মাধ্যমে নারী পুরুষদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আলোচনা সভা করা হয়েছে।

অন্ধকার ঘরে বন্দি দুই বছর,নাবাবগঞ্জ ইউএনও হস্তক্ষেপে উদ্ধার

আকরাম হোসেন-দিনাজপুরের নাবাবগঞ্জ উপজেলার বিনোদনগর ইউনিয়নের রাঘবিন্দুপুর (সোনাপাড়া) গ্রামের মৌলভী রোস্তম আলী মেয়ে সুমি খাতুন কে প্রেমের সম্পর্কের সন্দেহে শাস্তি হিসেবে তাঁকে অন্ধকার ঘরে বন্দী রাখা হয় দুই বছরের বেশি সময় স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার ঘরে স্নাতকপড়ুয়া ছাত্রীকে (২২) আটকে রেখেছিল তাঁর পরিবার।

বন্দিদশায় তাঁর হাত-পায়ের আঙুলগুলো গেছে কুঁকড়ে। জীর্ণ-শীর্ণ শরীর, রক্তশূন্যতা, চর্মরোগসহ নানা সমস্যায় আক্রান্ত মেয়েটি মরতে বসেছিলেন।

বুধবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপে মেয়েটিকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বলছেন, যেকোনো মুহূর্তে মৃত্যু হতে পারত মেয়েটির। ছাত্রীটির মা বলছেন, কবিরাজ ও স্বপ্নে দেখা এক ব্যক্তির পরামর্শে মেয়েকে ওইভাবে ঘরে আবদ্ধ করে রেখেছিলেন।

প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ওই পরিবারের সঙ্গে বিরোধ আছে এমন এক পরিবারের ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সন্দেহে প্রায় আড়াই বছর ধরে ওই ছাত্রীকে তাঁর পরিবার আটকে রেখেছিল। বাড়িতে বিদ্যুৎ থাকলেও যে ঘরে মেয়েটিকে আটকে রাখা হয়, সেই ঘরে কোনো বিদ্যুৎ–সংযোগ ছিল না। এমনকি ঘরের দরজা-জানালা সব সময় তালা মেরে রাখা হতো।

গতকাল ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, ছাত্রীটির মুখ ও পা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। হাতের আঙুলগুলো কুঁকড়ে গেছে। কিছুতেই বসে থাকতে বা দাঁড়াতে পারছেন না। কথা বলতে গেলে শরীর কাঁপুনি দিচ্ছে। প্রচ- দুর্গন্ধ বের হচ্ছে তাঁর শরীর থেকে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন অপচিকিৎসায় ও বদ্ধ ঘরে থাকায় ছাত্রীটির রক্তশূন্যতা দেখা দিয়েছে। সূর্যের আলোয় না আসায় এবং হাঁটাচলা না করায় দেখা দিয়েছে হাড়ক্ষয় রোগ। পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে চর্মরোগ, আর মুখে ফাঙ্গাস। ছাত্রীটি শারীরিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন। এভাবে কিছুদিন থাকলে যেকোনো মুহূর্তে মৃত্যু হতে পারত ছাত্রীটির। এখন তাঁকে সুস্থ করতে সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স নাসরিন বলেন, ওই তরুণী তাঁকে জানিয়েছেন, ছয় মাস ধরে তাঁকে গোসল করতে দেওয়া হয়নি।

নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা ছাত্রীটির খালাতো বোন বলেন, এক বছর ধরে চেষ্টা করেও তিনি তাঁর খালাতো বোনের (ছাত্রীটির) সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আশরাফুল ইসলাম বলেন, ওই ছাত্রীর চাচা দুই বছর আগে ছাত্রীকে আটক রাখার বিষয়টি জানান। তখন তিনি ওই ছাত্রীর বাড়িতে গেলে তাঁর সঙ্গে কেউ কথা বলেননি। পারিবারিক ইস্যু দেখালে তিনি ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন।

স্নাতকপড়ুয়া ছাত্রীকে দুই বছর পর অন্ধকার ঘর থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বন্দিদশা থেকে উদ্ধার হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই তরুণী বলেন, রংপুরের একটি স্কুলে মানবিক বিভাগ থেকে তিনি ২০১১ সালে এসএসসি ও নবাবগঞ্জের একটি কলেজ থেকে ২০১৩ সালে এইচএসসি পাস করেন। লেখাপড়া শেষ করে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মশিউর রহমান বলেন, দুই বছরের বেশি সময় আটকে রাখার খবর পেয়ে ওই ছাত্রীর মাদ্রাসা শিক্ষক বাবাকে ডেকে পাঠান।

ছাত্রীর বাবা ইউএনওকে জানান, ছাত্রীর মা একক কর্তৃত্বে ছাত্রীটিকে আটক রেখেছেন। এরপর ইউএনও পুলিশ পাঠিয়ে ছাত্রীটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মশিউর রহমান বলেন, এই সভ্য সমাজে কোনো পরিবার তার সুস্থ–স্বাভাবিক সন্তানকে এভাবে বন্দী করে রেখে তিলে তিলে মৃত্যুর মুখে নিয়ে যেতে পারে, তা ভেবে অবাকই হচ্ছেন। ছাত্রীটির যাবতীয় চিকিৎসার ব্যয় তিনি বহন করবেন। ছাত্রীটিকে সুস্থ করে আবারও লেখাপড়া শুরু করাবেন।

মেয়েটিকে উদ্ধারে যাওয়া নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতিকুল ইসলাম বলেন, উদ্ধারে গেলে প্রতিবেশীরা জানান, দুই বছরের বেশি সময় ধরে ওই ছাত্রীকে আটকে রাখা হয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশী জানান, ওই পরিবারের সঙ্গে বিরোধ আছে এমন পরিবারের এক ছেলের সঙ্গে ওই মেয়ের প্রেমের সম্পর্কের সন্দেহে তাঁকে শাস্তি দিতে ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল।

অরবিন্দ শিশু হাসপাতালে বন্ধু ’৭১ ব্যাচ, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে সাকার মেশিন প্রদান

দিনাজপুর থেকে ইদ্রিস আলী-অরবিন্দ শিশু হাসপাতালে শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বন্ধু ’৭১ এর ব্যাচ একটি সাকার মেশিন প্রদান করেন।

৩ জানুয়ারি রোববার সাকার মেশিনটি গ্রহণ করে অরবিন্দ শিশু হাসপাতালের সভাপতি আব্দুস সামাদ, সাধারণ সম্পাদক শামীম কবীর, কোষাধ্যক্ষ জহির শাহ্, মেডিকেল সম্পাদক মোঃ সাইদুর রহমান।

এ সময় বন্ধু ’৭১ ব্যাচের সভাপতি সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন লাবু, সাধারণ সম্পাদক কাজী তসলিম উদ্দিন বাবু, সহ-সভাপতি ডাঃ গোলাম গাউস মন্টু, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাবুদার রহমান চৌধুরী, সাবেক এয়ার কমডর শেখ জামাল আখতার, অবসরপ্রাপ্ত লেঃ কর্ণেল লুৎফন হক টুটুল, সদস্য জিনাত আরা সুলতানা, সুমিতি ঘোষসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বন্ধু ’৭১ ব্যাচের সভাপতি সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন লাবু বলেন, অরবিন্দু শিশু হাসপাতাল দিনাজপুরবাসীর জন্য একটি আশির্বাদ সংগঠন।

শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে অরবিন্দু শিশু হাসপাতাল সেবা দিয়ে আসছে। এখন শিশুদের জরুরী কোন রোগ হলে বাইরে যেতে হয় না। তাদের কার্যক্রম দেখে আমরা এই সাকার মেশিন প্রদান করছি।

অরবিন্দ শিশু হাসপাতালের সভাপতি আব্দুস সামাদ, সাধারণ সম্পাদক শামীম কবীর বলেন, শিশুদের বিভিন্ন রোগের সেবা প্রদান করা হচ্ছে এখানে। অরবিন্দ শিশু হাসপাতালের উন্নয়নে সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা উচিত।

দিনাজপুর প্রেসক্লাবে লেঃ কর্ণেল (অবঃ) ডাঃ বেগম নাজনিন লেখা বইয়ের মড়ক উন্মোচন

স্টাফ রির্পোটার, দিনাজপুর- শনিবার রাতে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আনন্দ উৎসব পরিবেশে লেঃ কর্ণেল (অবঃ) ডাঃ বেগম নাজনিন (গাইনী বিশেষজ্ঞ) লেখা “কিছু রোগ কিছু পরামর্শ” বইয়ের মড়ক উন্মোচন করা হয়।

বন্ধু ’৭১ ব্যাচের সার্বিক সহযোগিতায় মড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বরূপ বক্্সী বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল, বন্ধু ’৭১ ব্যাচের সাধারণ সম্পাদক কাজী তসলিম উদ্দিন বাবু, সহ-সভাপতি ডাঃ গোলাম গাউস মন্টু, সহ- সাধারণ সম্পাদক মামুদার রহমান চৌধুরী, দপ্তর সম্পদাক সমর চক্রবর্তী, সদস্য ধীরেন্দ্র নাথ অধিকারী, মোঃ মাহাতাব উদ্দিন সরকার ও অজিৎ রায় বক্তব্য রাখেন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সাবেক এয়ার কমডর শেখ জামাল আখতার ও অবসরপ্রাপ্ত লেঃ কর্ণেল লুৎফুন হক টুটুল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কমিটির সদস্য জিনাত আরা সুলতানা, বিলকিস আরা রিতা, সুনিতা ঘোষ, সাবেক এমপি রেজিনা ইসলাম। বইটির উপর আলোচনা করেন, দিনাজপুর সরকারি কলেজের বিশিষ্ট সাহিত্যিক প্রফেসর জলিল আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক ও বিশিষ্ট গবেষক ড. মাসুদুল হক এবং কবি সাহিত্যিক মকবুল হোসেন।

মড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে “কিছু রোগ কিছু পরামর্শ” বইয়ের লেখক অবসরপ্রাপ্ত লেঃ কর্ণেল ডাঃ বেগম নাজনিন বলেন, আমাদের জীবনে যে রোগগুলো প্রায় প্রত্যেক ঘরে ঘরে মানুষকে ও তার পরিবারকে কষ্ট দিচ্ছে সেগুলো নিয়েই আমার এই বই লেখা। যেখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাব রয়েছে সেইসব গ্রাম গঞ্জের মানুষদের কাছে আমি বইটি পৌঁছাবো সেই সব সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের জন্য এই বইটি আমি উৎসর্গ করেছি।

ফুলবাড়ীতে শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মশালা

মোঃ আফজাল হোসেন-দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ক তিনদিন ব্যাপী কর্মশালা গতকাল মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় সমাপণী অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ফুলবাড়ী এপি’র সহযোগিতায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মশালায় মূখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক কামাল ইউ এ চৌধুরী।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ফুলবাড়ী এপি ম্যানেজার স্বপন সিংয়ের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষিকা মোছা. শরিফা আক্তারের সঞ্চালনায় আয়োজিত কর্মশালার সমাপণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক কামাল ইউ এ চৌধুরী, উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাম্মৎ হাসিনা ভূঁইয়া, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ সংস্থার রিজিওনাল এ্যাডভোকেসী এন্ড চাইল্ড প্রটেক্টশন প্রকল্পের সমন্বয়কারি জামাল উদ্দিন, সংস্থার শিশু সুরক্ষা ও শিশু অংশগ্রহণ প্রকল্পের জাতীয় সমন্বয়কারি স্ট্রেলা রূপা মল্লিক, বিরামপুর এপিসি’র ক্লাস্টার ম্যানেজার কাজল এ দ্রং প্রমূখ। উপজেলার ৩২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তিনদিন ব্যাপী কর্মশালায় অংশ নেন।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা সরকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কর্মকর্তা মোঃ হাসিনা ভূঁইয়া জানান, ২০১৮ সালের বাংলাদেশ ওয়াল্ডভিষন এর সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তির আলোতেই আজকে এই শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ কর্মশালা।

প্রথমমত আমার ১১০টি স্কুল কে নিয়ে কাজ শুরু করেছি। বাকি স্কুলগুলিকেও এর আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন বে-সরকারী অন্যান্য স্কুললগুলিকে ইতিমধ্যে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। তাদের কে নিয়েও কাজ করা হবে। এই কাজটি একটি মানসিক কাজ। শিশুদের কে সুরক্ষা ও তাদের জ্ঞানের বিকাশ ঘটানোর জন্য আমরা কাজ করে যাব।