বুধবার-১৩ নভেম্বর ২০১৯- সময়: রাত ১২:১৬
ঘোড়াঘাটে বানিজ্যিক ভাবে মাল্টা বাগান করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে নাটোরের প্রতিবন্ধি প্রবীণ দম্পত্তি ভাতা নয়, চায় মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নবাবগঞ্জে ইঁদুর কেটে ফেলছে কাঁচা আমন ধানের রোপা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা কমেছে সময় ও দুর্ঘটনা,ঝালকাঠিতে ১৪ কি.মি মহাসড়ক নির্মাণ, স্বস্তিতে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা রাজাপুরে ব্যক্তি উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রীজ নির্মান, বই ও বেঞ্চ প্রদান মুক্তিযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ প্রসঞ্জী রায়এর পাশে- এমপি গোপাল ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল হাসপাতালে লাইভ ওয়ার্কশপে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় রিং (স্টেন্ট) সফল প্রতিস্থাপন সম্পন্ন ধামইরহাটে তিন ভূয়া ডিবি পুলিশ আটক সম্মানি না পেয়ে চিকিৎসা দিতে এলেন হারবাল এ্যাসিস্টেন্ট!

গুণীজন newsdiarybd.com:

উপমহাদেশের ইতিহাস শ্রেষ্ঠ দানবীর হাজী মুহাম্মদ মহসিন !

রকমারি ডেস্কহাজী মুহাম্মদ মহসিন, যিনি দানশীলতার জন্য দানবীর খেতাব পেয়েছিলেন। দানশীলতার কারণে হাজী মহসিন কিংবদন্তীতে পরিণত হয়েছেন।

উপমহাদেশের ইতিহাসের এ বিখ্যাত দানবীর মুহাম্মদ মহসিন ১৭৩২ সালের ৩ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে জন্মগ্রহণ করেন।

দানের ক্ষেত্রে তুলনা অর্থে মানুষ সর্বদা তাঁর দৃষ্টান্ত ব্যবহার করে থাকে। এই সর্বশ্রেষ্ঠ দানবীর পুরো বাঙালি জাতি হিন্দু, মুসলিম সকলের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র।

অঢেল সম্পত্তির মালিক ছিলেন হাজী মহসিন। এসব সম্পদ তিনি দুহাতে অকাতরে বিলিয়ে গেছেন। মহসিনের পূর্ব পুরুষরা অত্যন্ত ধনী ছিলেন। ইরান থেকে বাংলায় আসা তার বাবা হাজী ফয়জুল্লাহ ছিলেন একজন ধনী জায়গিরদার।

মাতা জয়নব খানমেরও হুগলি, যশোর, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়ায় বিস্তর জমি ছিল। তাঁর বোন মন্নুজানের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারী হিসেবে মহসিন বোনের সম্পত্তির মালিক হন।

এতো সম্পদের মালিক হয়েও মহসিন ছিলেন খুব ধার্মিক ও নিরহঙ্কারী। তিনি সর্বদা সহজ সরল জীবনযাপন করতেন। তিনি ছিলেন চিরকুমার। তিনি তার প্রতিষ্ঠিত ইমাম বাড়া প্রাসাদে বাস করতেন না। ইমাম বাড়ির পাশে একটি ছোট কুটিরে বাস করতেন।

আর কুরআন শরীফ নকল করে যা পেতেন তা দিয়েই চলতেন। নিজ হাতে রান্না করে অধিনস্তদের নিয়ে বসে খেতেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে হাজী মহসিন গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্জন করেছেন। পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষার জন্য রাজধানী মুর্শিদাবাদ যান। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি দেশ ভ্রমণে বের হন। তিনি মক্কা, মদিনা, কুফা, কারবালাসহ ইরান, ইরাক, আরব, তুরস্ক এমন নানা স্থান সফর করে দীর্ঘ ২৭ বছর পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।

শিক্ষানুরাগী এ দানবীর তাঁর অর্থ দিয়ে বহু বিদ্যাপিঠ স্থাপন করে গেছেন। হুগলিতে ‘হুগলি মহসিন কলেজ’ ও ‘চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ’ প্রতিষ্ঠার সময় মহসিনের ওয়াকফকৃত অর্থ ব্যবহৃত হয়। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠে ‘দৌলতপুর মুহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’।

১৭৬৯-৭০ সালের সরকারি দলিল অনুযায়ী তৎকালীন দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অনেক লঙ্গরখানা স্থাপন করেন এবং সরকারি তহবিলে অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। ১৮০৬ সালে তিনি ‘মহসিন ফান্ড নামক তহবিল প্রতিষ্ঠা করেন। এ তহবিল ধর্মীয় কর্মকাণ্ড, পেনশন, বৃত্তি ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্য বরাদ্দ করা হয়।

১৮১২ সালে এ ধার্মিক দানবীর হুগলিতে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে হুগলির ইমামবাড়ায় দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য,ইতিহাসে দাতা হাজী মুহাম্মদ মহসিনের নাম চিরস্মরণীয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলের নাম তাঁর স্মরণে রাখা হয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাটির নাম বিএনএস হাজী মহসিন।

এছাড়াও মহসিন ফান্ডের অর্থে অসংখ্য দরিদ্র ছাত্রদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয় ভারত ও বাংলাদেশে। কিন্তু আশ্চর্য, এমন একজন মহান ব্যাক্তির জন্মদিন নীরবে চলে যাচ্ছে! অথচ এখনও হাজার হাজার ছাত্র তাঁর রেখে যাওয়া টাকার স্কলারশিপ নিচ্ছে। ইতিহাসের এই মহান ব্যাক্তিকে কেন ভুলে গেল বাঙালি ?

জীবনযুদ্ধে জয়ি জোবায়রা খাতুন

সমাজসেবায় উজ্জীবিত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) মাসুদ আলী খান

গুণীজন ডেস্ক-দিনাজপুর দক্ষিণান্চল উন্নয়ণ ফোরাম সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবঃ মাসুদ আলী খান আজ পাউশগাড়া ফাযিল ডিগ্রি মাদরাসা পরিদর্শন করেন।

কৃতবিদ্য ও স্বভাব বিনয়ি এ মানুষটির আগমনে এ ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।তিনি এ মাদরাসায় ছাত্র শিক্ষক সমাবেশে এক হৃদয়গ্রাহি ও প্রেরণাময় বক্তৃতা দান করেন,যা এ ক্যাম্পাসকে উদ্দীপনের মন্ত্রে করে উজ্জীবিত।

সম্মানীয় এ মেহমামকে মাদরাসার পক্ষ থেকে আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দা র.রচিত আদর্শ শিক্ষক মহানবী স.কিতাবখানা উপহার হিসেবে দেয়া হয়। আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দা হিজরী ত্রয়োদশ শতাব্দির অন্যতম সেরা মুহাদ্দিস ও গবেষক।এ কিতাবখানা তার কুড়ি বছরের সাধনার সংকলন।

★ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ আলী খান দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলাধীন বোয়ালদাড় গ্রামের ঐতিহ্যবাহি খান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম মহসিন আলী খান ১৯৩০ সালের কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েট।

মাতা মরহুমা আমিনা খাতুন ছিলেন রত্নগর্ভা।তিনি এ খান পরিবারেরই এক সম্মানীয়া কন্যা। তার পিতার নাম আব্বাস আলী খান। ছিলেন বিদুষী। এবাদাত উদযাপনায় ছিলেন আবেদা ও কামেলা মহিলা। তার সাত সন্তানের সবায় উচ্চশিক্ষিত এবং পদস্থ।

১ম ছেলে ডা.মোশতাক আলী খান বিশিষ্ট চক্ষু চিকিৎসক। দিনাজপুর চক্ষু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা।

২য় ছেলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ আলী খান।

৩য় ছেলে ইন্জিনিয়ার ড. মতলুব আলী খান। পি এইচ ডি. জাপান।

৪র্থ ছেলে ঢাবিয়ান মন্জুর আলী খান। ফার্মাসিস্ট।

৫ম ছেলে মেহবুব আলী খান,মেকানিক্যাল ইন্জিনিয়ার বুয়েট,ইলেক্ট্রিক্যাল ইন্জিনিয়ার, ইউএসএ।

৬ষ্ঠ ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান খান,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, ইউএসএ।

একমাত্র মেয়ে সুরাইয়া খান, রাবিয়ান মাস্টার্স, ইউএসএ।

★ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবঃ মাসুদ আলী খানঃ
জন্মঃ১৯৪৩ খ্রি.

এসএসসিঃ ১৯৫৮ দিনাজপুর জিলা স্কুল।

বুয়েট সিভিল ইন্জিনিয়ারঃ ১৯৬৪

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে লেপ্টেন্যান্ট পদে যোগদানঃ১৯৬৬

এ্যডভান্স ইন্জিনিয়ারিং কোর্স ইউএসএঃ১৯৭৮

কুয়েতে যুদ্ধোত্তর পুনর্বাসন প্রোগ্রামে কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব
পালনঃ১৯৯৩-৯৫ সেনাবাহিনীতে দ্বায়িত্ব পালনঃচীফ ইন্জিনিয়ার,ব্রিগেড কমান্ডার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে।

সহধর্মিনীঃ
মরিয়ম বেগম।বোটানিতে ঢাবিয়ান মাস্টার্স।
চেয়ার পার্সন ইনার হুইল,প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দিনাজপুর গার্লস
স্কুল প্রাক্তন ছাত্রী সমিতি।
সহজাত সরলতা,ভদ্রতা আর মায়া মমতার প্রতীক।
একজন সুগৃহিনী। সমাজ সেবায় অবদান আর অতিথি
বাৎসল্যে উদার সম্পৃক্তিতে তিনি হয়েছেন বিশেষায়িত নারী।
জনাব খান সাহেবের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে
প্রেরণাদাত্রী ছায়াসঙ্গী।

সর্বোপরি তিনি একজন রত্নগর্ভা মা।সন্তান সন্ততি লালন পালনে হয়েছেন আদর্শস্থানীয় একজন আদর্শ মা।

সন্তান সন্ততিঃ২ ছেলে ১ মেয়ে।

১ম সন্তান রিফাত সুলতানা ঢাবিয়ান মাস্টার্স, ফিনান্স,কানাডা।

২য় সন্তান ডা.মারূফ আলী খান এফআরসিএস সার্জন, অষ্ট্রেলিয়া।

৩য় সন্তান মাশরুফ আলী খান কম্পিউটার প্রোগ্রামার, নিউ ইয়র্ক আমেরিকা।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ আলী খানকে আল্লাহ তায়ালা হায়াতে তাইয়েবা দান করুন। পাউশগাড়া ফাযিল মাদরাসার এ ছায়াসুনিবিড় ক্যাম্পাসকে আল্লাহ তায়ালা আরো সমৃদ্ধি,অর্থবহ কল্যাণ ও সাফল্যের জন্য কবুল করুন।আল্লাহুম্মা আমিন। লেখক-অধ্যক্ষ মো.মামুনুর রশিদ,পাউশগাড়া ফাযিল ডিগ্রি মাদরাসা ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ডা.নজরুল ইসলাম সাদা মনের মানুষ

গুণীজন ডেস্ক-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ডা.নজরুল ইসলামকে পাউশগাড়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার পক্ষ থেকে আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দা র.রচিত “আদর্শ শিক্ষক মহানবী স.” কিতাবখানা উপহার হিসেবে প্রদান করি।

আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দা হিজরি ত্রয়োদশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা মুহাদ্দিস ও গবেষক।
বিশ্ব বরেণ্য এ মুহাদ্দিস তার সুদীর্ঘ কুড়ি বছরের সাধনায় এ সংকলনখানা সম্পন্ন করেন।

💢 প্রফেসর ডা.নজরুল ইসলামঃ জন্মঃ ০১/০১/১৯৪৩।
জন্মস্থানঃ দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলাধীন সীমান্ত ঘেঁষা এলাকার চকবিরভান গ্রামে।

💢 শিক্ষাজীবনঃ
চাচা হেসাব উদ্দীন মন্ডল ছিলেন উপসচিব পদমর্যাদার সরকারি কর্মকর্তা ।
শিক্ষা জীবনে তিনি ছিলেন তার পথিকৃত ব্যক্তিত্ব।
তার সাথে থাকার কারণে কৈশোরে অনেকগুলো স্কুল তাকে বদলাতে হয়।

# পড়ালেখা শুরু করেন নিজের এলাকার নয়ানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
এর পরে ঠাকুরগাঁও গুরুট্রেনিং স্কুল,রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল,দিনাজপুর জেলা স্কুলে।
মেট্রিক পাশ করেন সিরাজগঞ্জ ভিক্টোরিয়া স্কুল থেকে ১৯৫৭ সালে।

# আই এস সিতে ভর্তি হন রাজশাহী কলেজে,
পাশ করেন যশোর মাইকেল মধুসূদন কলেজ থেকে ১৯৫৯ সালে ।

# ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন ১৯৫৯ সালে,
এমবিবিএস পাশ করেন ১৯৬৪ সালে ।

# মাইক্রো বায়োলজিতে অনার্সসহ এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন ১৯৬৭ সালে ।

# লন্ডন সেন্ট থমাস মেডিকেল স্কুল থেকে ভাইরোলজিতে পি এইস ডি ডিগ্রী অর্জন করেন ১৯৭৬ সালে ।

💢 কর্মজীবনঃ
# ইস্ট পাকিস্তান হেল্থ সার্ভিসে যোগদান করেন ১৯৬৫ সালে।

# ভাইরোলজি প্রফেসর হিসেবে যোগদান করেন ১৯৯০ সালে ।

# বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে ভাইরোলজি ডিপার্টমেন্টের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন ১৯৯৮ সালে ।

# বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে যোগদান করেন ২০০৮ সালে এবং ২০০৯ সালে উক্ত পদ হতে ইস্তফা দান করেন ।

# National aids কমিটিতে মেম্বার সেক্রেটারি পদে যোগদান ১৯৮৫ সালে।

# Bangladesh aids prevention and control project এর ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনঃ
১৯৯৬ -১৯৯৮ ।

# Who,South East Asia পোলিও মাইলাইটিস ইরাডিকেশন রিজিওনাল সার্টিফিকেশন কমিশনে চেয়ারম্যান পদে দ্বায়িত্ব পালনঃ২০০৮-২০১২ ।

# বাংলাদেশ মেডিকেল টিসার্স এসোসিয়েশন এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বায়িত্ব পালনঃ ১৯৯৪-১৯৯৮ ।

# বাংলাদেশ সোসাইটি ফর মেডিকেল মাইক্রোবায়োলজিস্ট এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনঃ ২০১৪-২০১৮ ।

💢 দিদউফ সভাপতি হিসেবে দ্বায়িত্ব পালনঃ
দিনাজপুর দক্ষিণান্চল উন্নয়ন ফোরাম (দিদউফ)
এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০১৬ সাল থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ।
বর্তমানে তিনি দিদউফ এর সিনিয়র সহসভাপতি ।

💢 সহধর্মিনীঃ
প্রয়াত প্রফেসর ড.দিলরুবা আফরোজ
ডিপার্টমেন্ট অব সাইকোলজি,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ।
💢 একমাত্র সন্তানঃ
ডা.সোনিয়া ইসলাম, এমবিবিএস ।

স্বনামধন্য চিকিৎসাবীদ প্রফেসর ডা.নজরুল ইসলাম ব্যক্তিগতভাবে অন্তর্মুখী এবং স্বভাব বিনয়ী একজন মানুষ । সহজতা,সরলতা আর সাধারণ উপস্থাপনায় তিনি একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব।
আমাদের এমন সব কৃতি আর কৃতবিদ্য মানুষদের জন্য শান্তিপূর্ণ দীর্ঘ জীবন কামনা করি।

লেখক- অধ্যক্ষ মোঃ মামুনুর রশীদ,পাউশগাড়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা ।

বেগম রোকেয়া বিদুষী নারী

সাহিদা সাম্য লীনা-এক মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া। নারী জাগরণ ও নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত প্রথম তিনিই।

বেগম রোকেয়ার মতো নারী জন্ম না নিলে আজকের বাংলাদেশের নারীরা কোথায় থাকতো তা সহজেই অনুমেয়। যার বিদুষী মনোভাব আজ সব নারীরই প্রেরণা। যার গন্তব্য অনুসরণ করে আজ নারীরা সব বাধার শেষ পর্যায়ে।

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অšতর্গত পায়রাবন্দ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার প্রকৃত নাম ছিল রোকেয়া খাতুন। ১৮৯৭ সালে মাত্র ষোল বছর বয়সে উর্দুভাষী ও বিপত্বীক সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

বৈবাহিক সূত্রে তার নাম হয় রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। সমাজ সচেতন কুসংস্কার মুক্ত ও প্রগতিশীল চিন্তা চেতনার মানুষ সাখাওয়াত হোসেনের অনুপ্রেরণায় তাঁর সাহিত্য চর্চার সূত্রপাত হয়।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন না করেও তিনি বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। এসবই সম্ভব হয়েছে তাঁর বড় ভাই,বোন ও স্বামীর কারণে।

বিয়ের আগে তাঁর লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখে তাঁর বড় বোন সহযোগীতায় এগিয়ে আসেন। রাতের আঁধারে সবাই যখন ঘুমিয়ে যেত তখন বেগম রোকেয়া চুপি চুপি হারিকেনের আলোতে পড়াশোনা করতেন। কারণ বেগম রোকেয়ার পিতা জহির উদ্দিন আবু আলী হায়দার সাবের বহু ভাষায় সুপন্ডিত ছিলেন;কিš‘ মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে ছিলেন রক্ষণশীল।

একদিন তাঁর বড় ভাই এ দৃশ্যটি দেখতে পান। বোনের দুর্দান্ত লেখাপড়ার ই”ছা তাকে বিচলিত করে। আর এই বড় ভাইবোনের সাহচর্যে তিনি বাংলা ও ইংরেজী ভাষা ভালভাবে রপ্ত করেন এবং জ্ঞান অর্জনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন।

পরবর্তীতে ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট স্বামীর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় তার জ্ঞান অর্জনের পথ অধিক সুযোগ লাভ করে। নিজেকে জ্ঞানে পরিপূর্ণ করে অন্য নারীদের শিক্ষা প্রসারে তিনি এগিয়ে আসেন। বিরুপ সমালোচনা ও নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার মুখেও তিনি কখনই নারী শিক্ষার লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি,বরং পর্দাপ্রথা,কুসংস্কার ও শিক্ষাবিমুখ যেসব মুসলমান মেয়ে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত তাদের লেখাপড়ার জন্য তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্রী সংগ্রহ করেন।

পুরুষের চোখে তিনি নানাভাবে বিভ্রান্তও হয়েছিলেন এ কাজ করতে গিয়ে। এভাবে তিনি ১৯০৯ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর তার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন মাত্র পাঁচজন ছাত্রী নিয়ে।

তাঁর বেশভুষা-পোশাক ও আচার আচরণ,শালীনতাবোধ সেসময়ের নারীদের জন্য ছিল এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সমাজের কুসংস্কার ও জড়তা দূর করার জন্য তিনি অসাধারণ ও হৃদয়গ্রাহী গদ্য রচনা করেন। তাঁর সব রচনাই সমাজ জীবনের গভীর উপলব্ধি থেকে উৎসারিত। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্হ মতিচুর ও অবরোধবাসিনী। এছাড়া তিনি সুলতানার স্বপ্ন ও পদœরাগ নামে দুটি উপন্যাসও রচনা করেন। সুলতানার স্বপ্ন উপন্যাসটি বহুল জনপ্রিয়তার কারণে এটি ইংরেজি ভাষায়ও অনুবাদিত হয় “সুলতানার্স ড্রেম’’ নামে।

সাহিত্যিক হিসেবে তখনকার সময়ে বেগম রোকেয়া ছিলেন এক ব্যতিক্রমী প্রতিভা। তাঁর সাহিত্য কর্মই ছিল নারী শিক্ষা, নারীদের প্রতি সামাজিক অবমাননা, নারীর অধিকার ও নারী জাগরণ সম্পর্কে। বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ প্রথার বিরুদ্ধেও তাঁর লেখনী ছিল সোচ্চার।

৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়ার ১৩৮ তম জন্মদিন ও ৮৬ তম মৃত্যুদিবস। এই দিনে বাংলাদেশের সব নারীর ও রোকেয়া ভক্তদের জন্য গভীর শ্রদ্ধার ও স্বরণীয় দিন। রোকেয়ার আদর্শে উজ্জিবিত হোক সকল নারী। তাঁর আত্বা চির প্রশান্তি লাভ করুক।

আমেনা-বাকী স্কুল এন্ড কলেজে গুণিজন সম্মাননা প্রদান

মোঃ আফজাল হোসেন-আমেনা-বাকী রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ আয়োজিত এবং এবি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় নৈতিক শিক্ষা ও শিক্ষার মান উন্নয়ন শীর্ষক আলোচনা সভা ও ৭ জন গুণিজনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম এর সভপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর, কবি-সাহিত্যিক, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষাবিদ আব্দুল্লাহ আল সায়ীদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ গোলাম রব্বানী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবি ফাউন্ডেশনের পরিচালক অধ্যাপক মোঃ শামসুল হক।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, ফাউন্ডেশন এবং স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডাঃ এম আমজাদ হোসেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমান।

প্রধান অতিথি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ শিক্ষায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য আলহাজ্ব মহিউদ্দিন, চিকিৎসায় ডাঃ বসন্ত কুমার রায়, লেখিকা লায়লা চৌধুরী, সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব উস্তাদ সাইদুম আলী খান (মরনোত্তর) ক্রীড়াবিদ মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধে আহত মুক্তিযোদ্ধা মাসুম হাসান তোরাব আলী ও নাট্যকার, নাট্য নির্দেশক ও নাট্য সংগঠক এবং বরেন্দ্র নাট্য গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা দ্বিজেন্দ্র নাথ ব্যানার্জী’র হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উত্তরিয় পড়িয়ে সম্মাননা প্রদান করেন।

প্রধান অতিথি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি আর তোমরা বাংলাদেশকে বড় করবে। ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতার লাইসেন্স পেয়েছি। এই স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে হলে চাই শিক্ষকা, জ্ঞান ও আত্মউৎস্বর্গের মানুষিকতা।

‘ফুটবলের যাদুকর সামাদ’ আজও অবেহেলিত, প্রজন্ম চেনে না

নিউজ ডায়েরী ডেস্ক-সামাদ নামটা শুনলেই চোখের সামনে ফুটবলের কিছু শৈল্পিক দৃশ্য ভেসে উঠে। ফুটবলে শিল্প শব্দটার পরিচিতি যেন সামাদের হাত ধরেই। তিনি উপমহাদেশের ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তি। পরিচিতি তার ফুটবলার যাদুকর সামাদ হিসেবে।

জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের ভুরী গ্রামে। এই গ্রামেই ১৮৯৫ সালের ৬ ডিসেম্বর এক নিভৃত পরিবারে তাঁর জন্ম। ‘যাদুকর সামাদ’ নামেও পরিচিত হলেও তাঁর পুরো নাম সৈয়দ আবদুস সামাদ। সামাদ স্বাধীন বাংলাদেশের ভূ-খণ্ডে জন্ম না নিয়েও ১৯৪৭-এর দেশ-বিভাগের পর এই ভূ-খন্ডকেই নিজের দেশ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন ।

 

১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে যখন ‘পাকিস্তান’ ও ‘ভারত’ নামক দু’টি দেশ জন্ম নিল, তখন জাদুকর সামাদ চলে আসেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম বৃহত রেলওয়ে শহর পার্বতীপুরে। এরপর পুরো জীবনটাই কাটিয়েছেন এখানেই।

যাদুকর সামাদ ১৯১২ সালে কলিকাতা মেইন টাউন ক্লাবে এবং ১৯৩৩ সালে মোহামেডান এ যোগদান করেন। সে সময় মোহামেডান পর পর পাঁচবার আইএফএ শীল্ড ও লীগ জয় করে। উনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে অপূর্ব ক্রীড়াশৈলীর প্রদর্শন করে ফুটবল জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।

১৯১৫ সাল থেকে ১৯৩৮ সাল থেকে মাত্র ২৩ বছর ছিল সামাদের খেলোয়াড়ী জীবন। তিনি ছিলেন একজন রেল কর্মচারী। সে সময় ইবিআর নামে যে রেলওয়ে ফুটবল টিম ছিল সামাদ তাতে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।

সামাদের ২৩ বছর খেলোয়াড়ী জীবনে এমন সব বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে যা তার নামের সামনে যাদুকর শব্দটি বসাতে বাধ্য করেছে। যাদুকর সামাদের কালজয়ী ফুটবল প্রতিভা ও নেতৃত্বগুণ তৎকালীন সর্বভারতীয় ফুটবল দলকে গ্রেট বৃটেনের মতো বিশ্বসেরা ফুটবল দলের বিরুদ্ধে অবিস্মরনীয় জয় এনে দিয়েছিল,

১৯৩৩ সালে সামাদের নেতৃত্বে সর্বভারতীয় দল গ্রেট বৃটেনকে ৪-১ গোলে এবং শক্তিশালী ইউরোপিয় টিমকে ২-১ গোলে পরাজিত করেছিল।

 

ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে জীবনের শেষ খেলা খেলেছিলেন ইংল্যান্ডের সার্ভিসেস একাদশের
সামাদের অসাধারণ ক্রীড়ানৈপুণ্য দেখে ইংল্যান্ডের তৎকালীন সেরা লেফট্ আউট কম্পটন চমকে উঠেছিলেন, ‘‘ধারণা ছিল না এমন খেলোয়াড় এদেশে দেখতে পাবো!’’ –
ইংল্যান্ডের কৃতি ফুটবলার এলেক হোসি একবার বলেছিলেন: ‘বিশ্বমানের যেকোনো ফুটবল দলে খেলবার যোগ্যতা সামাদের রয়েছে।’ এই মন্তব্য থেকেই সামাদের অবস্থান সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়। একবার আফ্রিকায় এক সফরের সময় ষড়যন্ত্র করে তাকে অধিনায়ক না-করায়, সামাদ অভিমানে দল থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। সামাদবিহীন সর্বভারতীয় দলটি সেবার তেমন কোনো সাফল্যই দেখাতে পারেনি।

১৯৩৬ সালে তিনি খেলার সময় মাঠে গুরুতর আহত হবার পর তিনি আর তেমন করে খেলতে পারেননি কোনোদিনই। তাঁর আহত হবার ঘটনা তীব্রভাবে নাড়া দিয়েছিল তৎকালীন অবিভক্ত উপমহাদেশের ফুটবল-জগতকে।

খেলার মাঠে প্রতিনিয়ত অবিশ্বাস্য ঘটনার জন্ম দিতেন সামাদ। তেমনি একটি ঘটনা ঘটেছিল একবার ইন্দোনেশিয়ায়। সর্বভারতীয় ফুটবল দল গিয়েছিল ইন্দোনেশিয়ার জাভায়। খেলা চলাকালে ইন্দোনেশিয়ার বেশ ক’জন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোলপোস্ট লক্ষ্য করে তীব্র শট করলেন সামাদ। বল গোলপোস্টের ক্রসবারে লেগে ফিরে এলো মাঠে। বিস্মিত হলেন তিনি। গোল হলো না কেন? কিছুক্ষণ পর আবারো সামাদের তীব্র শটের বল ইন্দোনেশিয়ার গোলপোস্টের ক্রসবারে লেগে ফিরে এলো। এবার সামাদ রেফারিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন, ‘গোলপোস্টের উচ্চতা কম আছে। তা না-হলে, আমার দুটো শটেই গোল হতো’ ফিতে দিয়ে মেপে দেখা গেল সত্যিই গোলপোস্টের উচ্চতা স্ট্যান্ডার্ড মাপের চেয়ে চার ইঞ্চি কম রয়েছে! আরেকবার মাঠের মধ্যস্থল থেকে বল নিয়ে সব খেলোয়াড়কে বোকা বানিয়ে বল ড্রিবলিং করে নিক্ষেপ করলেন গোলে, বল গোলে প্রবেশ না করে গোলপোস্টের কয়েক ইঞ্চি উপর দিয়ে বাইরে চলে গেলে রেফারি বাঁশি বাজিয়ে বলকে আউট ঘোষণা করলে সাথে সাথে সামাদ তা গোল হয়েছে বলে চ্যালেঞ্জ করে বসলেন। ‘আমার শটে নিশ্চিত গোল হয়েছে’। সামাদের শটের মেজারমেন্ট কোনোদিন ভুল হয়নি। গোলপোস্ট উচ্চতায় ছোট। মেপে দেখা গেল সত্যিই তাই। ফুটবল নিয়ে সেই কিশোর বয়স থেকে অনুশীলন করতে করতে সামাদ পরিণত হয়েছিলেন ফুটবলের এক মহান শিল্পীতে। একবার খেলার আগ মুহূর্তে মাঠের চারদিকে পায়চারী করে এসে সামাদ ক্রীড়া কমিটির কাছে অভিযোগ করলেন এ মাঠ আন্তর্জাতিক মাপ হিসেবে ছোট বিধায় এ মাঠে আমাদের টিম খেলতে পারে না। পরে মাঠ মাপার পর তার অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হয়। তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের এমন বহু ঘটনা আজো দেশ-বিদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অগণিত সামাদ ভক্তের মুখে মুখে আজও ঘুরে বেড়ায়।

‘বিংশ শতাব্দীর তিরিশের দশকের কথা, একদিন বিকেলে কলকাতার ইডেন গার্ডেন-এর বিপরীত দিকের ফুটপাত ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন প্রায় ছয় ফুট লম্বা একজন লোক। হঠাৎ তাঁর পাশে গাড়ি থামিয়ে নেমে এলেন স্বয়ং তৎকালীন বাংলার গভর্ণর এবং তাঁর কন্যা। গভর্ণর সোজা এগিয়ে গিয়ে আঁকড়ে ধরলেন। ঘটনার আকস্মিকতায় গভর্ণরের সঙ্গী-সাথীদের সবাই হতভম্ভ। লম্বা লোকটির হাত ধরে কুশল বিনিময় করলেন । তারপর, নিজ কন্যাকে ডেকে বললেন, ‘এসো, ফুটবলের জাদুকরের সঙ্গে পরিচিত হও (Meet the wizard of football)।’ কথিত আছে, ফুটবল জাদুকর সামাদের সোনার মূর্তি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রক্ষিত আছে।

দারিদ্রের কষাঘাতে বিনাচিকিৎসায় ১৯৬৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারী এই ফুটবলের যাদুকর মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে একবার তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি তো নিঃশেষ হয়ে গেছি। আমার প্রাপ্য মর্যাদা আমি পেলাম না। আমি ধুঁকে ধুঁকে মরে যাব সেটাই ভালো। কারো করুণা এবং অনুগ্রহের প্রত্যাশী আমি নই।’ যাদুকর সামাদের মৃত্যু আমাদের অপরাধি করে দেয়।

পার্বতীপুর শহরের ইসলামপুর কবরস্থানে সমাহিত করার দীর্ঘ ২৫ বছর অবহেলিত ও অরক্ষিত থাকার পর ১৯৮৯ সালে ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিসৌধ। তাঁর স্মরণে একটি স্মারক ডাক টিকেট প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার ।

পার্বতীপুরে রেলওয়ে নির্মিত “সামাদ মিলনায়তন” নামে একটি মিলনায়তন আছে।

আজ উপমহাদেশের ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তি যাদুকর সামাদের ৫৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী সামাদকে বর্তমান প্রজন্ম চেনেনা, চিনবেই বা কি করে সামাদকে চেনার জন্য যে উদ্যোগ দরকার তা বাফুফেরই নেওয়া উচিত। সেই সাথে পাঠ্যপুস্তকে যাদুকর সামাদের জীবনী অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।

আজ ২ ফেব্রুয়ারি ফুটবলের কিংবদন্তি যাদুকর সামাদের ৫৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী। মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরন করছি উপমহাদেশের ফুটবল কিংবদন্তিকে।

বৈপ্লবিক রাজনৈতিক দর্শন- হাজী মোহাম্মদ দানেশ

পরাধীন যুগের আলীগড়ের এমএ এবং এলএলবি হাজী দানেশ আজীবন বৈপ্লবিক রাজনৈতিক দর্শনের সংগ্রামী অনুশীলন ছাড়া আত্মসুখের জন্য জীবনে কিছুই করে যাননি। তিনি ছিলেন মানুষের সুখে দুঃখে ও প্রয়োজনে, অভাব অভিযোগের প্রতিবিধানের পটভূমিতে একজন আপ-খোরাকী স্বেচ্ছাকর্মী।

এই অনন্য মানসিকতার জন্যই তিনি হতে পেরেছিলেন গণ মানুষের মুক্তিদাতা নেতা। রাজনৈতিক আন্দোলনের পরিবর্তে তার সংগ্রাম ছিল অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যার্জনে।

কৃষক সমিতির মাধ্যমে ১৯৩৭ সালে রাজনীতিতে তার প্রথম পদার্পন। ৪৬ এর তেভাগা আন্দোলনে তিনি একটি চিরস্মরণীয় কিম্বদন্তী। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে তিনি যুক্তফ্রন্ট ভূক্ত এমপি হন। তখন দেশময় তার জনপ্রিয়তার স্বর্ণযুগ। সেই সুবাদে মন্ত্রী হওয়ার উজ্জল সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু তার কর্মধারায় অতিমাত্রায় কমিউনিষ্ট গন্ধ থাকায় তা হতে পারেননি।

একনীতির কট্টোরপন্থী নেতা হয়েও শেষ জীবনের কতিপয় কর্মকান্ডে; বিশেষ করে স্বৈরাচারী শাসনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংম্পৃক্ত হয়ে পড়ায় বড় বেশী বিতর্কিত হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

অনেক স্পষ্টবাদীর মতে-তার দৈহিক মৃত্যু না হতেই তার সুদীর্ঘ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের মৃত্যু হয় আগে ভাগেই। দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় তারই নামে অমর স্মৃতি। তিনি ১৯৮৫ সালে মৃত্যুবরন করেন।