বৃহস্পতিবার-২১ নভেম্বর ২০১৯- সময়: রাত ১:২৫
বিরামপুরে অসহায় ও দরিদ্রদের বিনামূল্যে চোখের অপারেশন বিরামপুরে সাংবাদিকের বাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় আটক-১ ৭ কেজি চালের মূল্যে মিলছে ১কেজি পেয়াজ বিরামপুরের বাজারে চিকিৎসা সেবা দিয়ে মানব সেবা করতে চাই-পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হুমায়ুন কবীর বিরামপুরে নেশার ইনজেকশন ও ফেন্সিডিলসহ আটক-৩ হিলি চেকপোস্টে বিজিবি’র গোয়েন্দা সদস্যের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে হয়রাণীর অভিযোগ বিরামপুরে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালিত বিরামপুরে প্রকল্প সমাপনী কর্মশালা গরীব ও অসহায় মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে পারলে আমি শান্তি পাই জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে আজও চালু হয়নি, নবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন

রকমারি newsdiarybd.com:

আত্রাইয়ের জনপদ স্ট্রিটলাইটের আলোয় আলোকিত

নাজমুল হক নাহিদ- নওগাঁর আত্রাইয়ের বিভিন্ন জনপদ এখন স্ট্রিটলাইটের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে।

বিভিন্ন সড়ক ও রাস্তার মোড়, হাট-বাজার ও জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্ট্রিটলাইট স্থাপিত হওয়ায় এসব এলাকা এখন আলোকিত হয়ে উঠেছে। সরকারের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) ও গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) প্রকল্পের অর্থ দ্বারা এসব স্ট্রিটলাইট স্থাপন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮ ইউনিয়নে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৫৯লাখ ৮২ হাজার ৫৬৯ টাকা ব্যয়ে ২৮০ টি স্ট্রিটলাইট স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে শাহাগোলা ইউনিয়নে ২৭টি, ভোঁপাড়া ইউনিয়নে ৩৮টি, আহসানগঞ্জ ইউনিয়নে ৩০টি, পাঁচুপুর ইউনিয়নে ৮৭ টি, বিশা ইউনিয়নে ৪৪ টি, মনিয়ারী ইউনিয়নে ২৫ টি, কালিকাপুর ইউনিয়নে ১৪ টি ও হাটকালুপাড়া ইউনিয়নে ১৬ টি স্ট্রিটলাইট স্থাপন করা হয়।

ইডকল প্রতিনিধি সোলার ইনকোম্পানী কর্তৃক সরবারাহকৃত প্রত্যেকটি স্ট্রিটলাইটের প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয়েছে ৫৬ জাহার ৪ শত ৯০ টাকা।

জানা যায়, স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলমের প্রচেষ্টায় আত্রাইয়ের জনপদগুলোকে আলোকিত করতে সরকারের বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব লাইট স্থাপন করা হয়েছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে রয়েছে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তর। এসব লাইট স্থাপন হওয়ায় এলাকা হতে অপরাধ প্রবনতা অনেকটা কমে গেছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

দিনের বেলায় সূর্যের আলো থেকে তাপ গ্রহন করে সন্ধ্যার পর আপনা-আপনি জ¦লে উঠে সারা রাত জ¦লে থাকায় এলাকাগুলো আলোকিত হয়ে থাকছে।

উপজেলার জগদাস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান বলেন, আমাদের জগদাস বাজারে স্ট্রিটলাইট স্থাপন করায় বাজার এখন সারা রাত আলোকিত থাকে।

বাজারের ব্যবসায়ীদের আর দোকানের বাইরে আর বৈদ্যুতিক বাল্ব জ¦ালিয়ে রাখতে হয় না। ফলে একদিকে বিদ্যুতের সাশ্রয় অন্যদিকে চোরের উপদ্রব হতে বাজার মুক্ত হয়েছে। তারাটিয়া গ্রামের ডিএস জাহিদ বলেন, আমাদের ভাবনীপুর-শাহাগোলা রাস্তাটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা।

এ রাস্তা দিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত লোকজন চলাচল করে থাকে। রাতের বেলায় অন্ধকার রাস্তায় অনেকেই নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করতো। তারাটিয়া ব্রিজের মুখে স্ট্রিটলাইট স্থাপন হওয়াতে জনসাধারণ খুব উপকৃত হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা নভেন্দু নারায়ন চৌধুরী বলেন, এমপি মহোদয়ের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্থানে স্ট্রিটলাইটগুলো স্থাপন করা হয়েছে এবং তারই তত্বাবধানে আমরা এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছানাউল ইসলাম বলেন, এলাকা থেকে অপরাধ প্রবনতা কমিয়ে আনতে রাস্তাগুলোকে আলোকিত করা খুবই জরুরী।

আর এ প্রয়োজনীয়তা পুরো করা হচ্ছে এ প্রকল্পের মাধ্যমে। তবে লাইটগুলো স্থাপনের পূর্বে পরীক্ষা নিরীক্ষার সুযোগ উপজেলা পর্যায়ে থাকলে আরও ভাল হত।

উপমহাদেশের ইতিহাস শ্রেষ্ঠ দানবীর হাজী মুহাম্মদ মহসিন !

রকমারি ডেস্কহাজী মুহাম্মদ মহসিন, যিনি দানশীলতার জন্য দানবীর খেতাব পেয়েছিলেন। দানশীলতার কারণে হাজী মহসিন কিংবদন্তীতে পরিণত হয়েছেন।

উপমহাদেশের ইতিহাসের এ বিখ্যাত দানবীর মুহাম্মদ মহসিন ১৭৩২ সালের ৩ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে জন্মগ্রহণ করেন।

দানের ক্ষেত্রে তুলনা অর্থে মানুষ সর্বদা তাঁর দৃষ্টান্ত ব্যবহার করে থাকে। এই সর্বশ্রেষ্ঠ দানবীর পুরো বাঙালি জাতি হিন্দু, মুসলিম সকলের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র।

অঢেল সম্পত্তির মালিক ছিলেন হাজী মহসিন। এসব সম্পদ তিনি দুহাতে অকাতরে বিলিয়ে গেছেন। মহসিনের পূর্ব পুরুষরা অত্যন্ত ধনী ছিলেন। ইরান থেকে বাংলায় আসা তার বাবা হাজী ফয়জুল্লাহ ছিলেন একজন ধনী জায়গিরদার।

মাতা জয়নব খানমেরও হুগলি, যশোর, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়ায় বিস্তর জমি ছিল। তাঁর বোন মন্নুজানের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারী হিসেবে মহসিন বোনের সম্পত্তির মালিক হন।

এতো সম্পদের মালিক হয়েও মহসিন ছিলেন খুব ধার্মিক ও নিরহঙ্কারী। তিনি সর্বদা সহজ সরল জীবনযাপন করতেন। তিনি ছিলেন চিরকুমার। তিনি তার প্রতিষ্ঠিত ইমাম বাড়া প্রাসাদে বাস করতেন না। ইমাম বাড়ির পাশে একটি ছোট কুটিরে বাস করতেন।

আর কুরআন শরীফ নকল করে যা পেতেন তা দিয়েই চলতেন। নিজ হাতে রান্না করে অধিনস্তদের নিয়ে বসে খেতেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে হাজী মহসিন গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্জন করেছেন। পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষার জন্য রাজধানী মুর্শিদাবাদ যান। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি দেশ ভ্রমণে বের হন। তিনি মক্কা, মদিনা, কুফা, কারবালাসহ ইরান, ইরাক, আরব, তুরস্ক এমন নানা স্থান সফর করে দীর্ঘ ২৭ বছর পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।

শিক্ষানুরাগী এ দানবীর তাঁর অর্থ দিয়ে বহু বিদ্যাপিঠ স্থাপন করে গেছেন। হুগলিতে ‘হুগলি মহসিন কলেজ’ ও ‘চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ’ প্রতিষ্ঠার সময় মহসিনের ওয়াকফকৃত অর্থ ব্যবহৃত হয়। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠে ‘দৌলতপুর মুহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’।

১৭৬৯-৭০ সালের সরকারি দলিল অনুযায়ী তৎকালীন দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অনেক লঙ্গরখানা স্থাপন করেন এবং সরকারি তহবিলে অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। ১৮০৬ সালে তিনি ‘মহসিন ফান্ড নামক তহবিল প্রতিষ্ঠা করেন। এ তহবিল ধর্মীয় কর্মকাণ্ড, পেনশন, বৃত্তি ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্য বরাদ্দ করা হয়।

১৮১২ সালে এ ধার্মিক দানবীর হুগলিতে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে হুগলির ইমামবাড়ায় দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য,ইতিহাসে দাতা হাজী মুহাম্মদ মহসিনের নাম চিরস্মরণীয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলের নাম তাঁর স্মরণে রাখা হয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাটির নাম বিএনএস হাজী মহসিন।

এছাড়াও মহসিন ফান্ডের অর্থে অসংখ্য দরিদ্র ছাত্রদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয় ভারত ও বাংলাদেশে। কিন্তু আশ্চর্য, এমন একজন মহান ব্যাক্তির জন্মদিন নীরবে চলে যাচ্ছে! অথচ এখনও হাজার হাজার ছাত্র তাঁর রেখে যাওয়া টাকার স্কলারশিপ নিচ্ছে। ইতিহাসের এই মহান ব্যাক্তিকে কেন ভুলে গেল বাঙালি ?

জীবনযুদ্ধে জয়ি জোবায়রা খাতুন

শুভ্রতার প্রতীক শরৎ

রকমারি ডেস্কঝকঝকে কাচের মতো স্বচ্ছ নীল আকাশ আর তার মধ্যে পেঁজা তুলার মতো সাদা মেঘমালা, এসব নিয়েই প্রকৃতি বরণ করে নেয় শরৎকালকে। কিন্তু শরতের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের এই অপরূপ বর্ণনা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শরৎকালের সেই মাধুর্য এখন আর খুঁজে পায় না মানুষ। তবু ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যে আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে ভাদ্র মাস তথা শরৎকাল।

ঋতু পরিক্রমার তৃতীয় ঋতু শরৎকাল। গঠিত হয় ভাদ্র ও আশ্বিন মাস নিয়ে। খ্রিষ্টীয় পঞ্জিকা অনুসারে মধ্য আগস্ট থেকে মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত শরৎ ঋতুর পথচলা।

শরৎকে বলা হয় শুভ্রতার প্রতীক! সাদা কাশফুল, শিউলি, স্নিগ্ধ জ্যোৎস্না, আলোছায়ার খেলা দিনভর- এইসব মিলেই তো শরৎ। শরৎকালের প্রথম মাস অর্থাৎ ভাদ্রের শুরু থেকেই শরতের আবির্ভাবটা লক্ষণীয়। শরতের স্নিগ্ধতা এক কথায় অসাধারণ! জলহারা শুভ্র মেঘের দল যখন নীল, নির্জন, নির্মল আকাশে পদসঞ্চার করে তখন আমরা বুঝতে পারি শরৎ এসেছে। শরতের আগমন সত্যিই মধুর।

গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদ আর বর্ষায় অঝোরধারায় শ্রাবণ ঢলের পর আসে শরতের আলোছায়ার খেলা; এই মেঘ, এই বৃষ্টি, তো কিছুক্ষণ পরই রোদ। শরতের অন্যতম বড় আকর্ষণ কাশফুল! নদী তীরে বনের প্রান্তে কাশফুলের রাশি অপরূপ শোভা ছড়ায়। কাশফুলের এ অপরূপ সৌন্দর্য পুলকিত করেনি এমন মানুষ খুঁজে মেলা ভার। গাছে গাছে শিউলির মন ভোলানো সুবাসে অনুভূত হয় শরতের ছোঁয়া। শরতের মেঘহীন আকাশে গুচ্ছ গুচ্ছ কাশফুলের মতো সাদা মেঘের ভেলা কেড়ে নেয় মন।

শরৎকালেও বর্ষণ হয়, তবে বর্ষার মতো অবিরাম নয়। বরং শরতের বৃষ্টি মনে আনন্দের বার্তা বয়ে আনে। চারপাশের শুভ্রতার মাঝে বৃষ্টির ফোঁটা যেন আনন্দ-বারি! বৃষ্টি শেষে আবারও রোদ। দিগন্তজুড়ে সাতরঙা হাসি দিয়ে ফুটে ওঠে রংধনু। প্রকৃতির এ অপরূপ যেন প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য চায়। হয়তো ইচ্ছা হয় গোধূলির ওপারে হারিয়ে যেতে প্রিয়জনের হাতটি ধরে।

প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ এ ঋতুর চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করেছেন প্রিয়তমাকে। তিনি তার ‘এখানে আকাশ নীল’ কবিতায় লিখেছেন- ‘এখানে আকাশ নীল/নীলাভ আকাশজুড়ে সজিনার ফুল/ফুটে থাকে হিম শাদা/রং তার আশ্বিনের আলোর মতন’। অনেকের মতে, শরৎকালে মনটা নেচে ওঠে ছুটির নেশায়, উৎসবের নেশায়! কারণ, শরৎকালে মাঠে মাঠে সবুজ ধানের ওপর সোনালি আলোর ঝলমলানি দেখা যায়। প্রতীক্ষায় থাকেন কৃষক।

আসন্ন নবান্নের আশায়। আলোক-শিশিরে-কুসুমে-ধান্যে বাংলার প্রকৃতিও খুশি। আর বাঙালির সেই প্রাণের উৎসবটা তো রয়েছেই- শারদীয় দুর্গাপূজা। শরৎ শারদীয় আরাধনায় হিন্দু সমাজকে উৎসবমুখর করে, বিজয়ার বেদনায় করে ব্যথিত।

শরতের বর্ণনা দিতে গিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘শরৎ, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি/ ছড়িয়ে গেল ছাপিয়ে মোহন অঙুলি/শরৎ, তোমার শিশির-ধোয়া কুন্তলে/বনের-পথে-লুটিয়ে পড়া অঞ্চলে/আজ প্রভাতের হৃদয় ওঠে চঞ্চলি’। শুধু রবীন্দ্রনাথ নন, শরৎ নিয়ে আরও অনেক কবি কাব্য রচনা করেছেন। জনপ্রিয় বাংলা গানও রয়েছে শরৎ-বন্দনার। উৎপল সেন লিখেছিলেন, ‘আজি শরতের আকাশে মেঘে মেঘে স্বপ্ন ভাসে।’

শরতের মন ভোলানো প্রকৃতিতে মন যে কী চায় তা বোঝা বড়ই মুশকিল! রোদ আর বৃষ্টির লুকোচুরি খেলায় মনেও যেন জমে মেঘ, আবার কখনও হয়ে ওঠে রৌদ্রকরোজ্জ্বল। কিন্তু ব্যস্ত এ নগরীতে শত ব্যস্ততার মাঝে আমরা পারি না মনের আকাঙ্ক্ষায় শরতের রঙে সাজাতে। তবু যেন মনে হয় হারিয়ে যাই শরতের কাশফুল, গোধূলি, শিউলি আর জ্যোৎস্নার মাঝে। প্রিয়জনের হাত ধরে অনুভব করি স্নিগ্ধতা।

বিরামপুরের পত্রিকা বিক্রেতা উজ্জলের বাংলাদেশের চিত্র নখদর্পণে

আব্দুর রশিদ,বিরামপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা- দিনাজপুরের বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ উপজেলা এলাকায় পত্রিকা বিক্রেতা উজ্জলের নখদর্পণে বাংলাদেশ। সে একাধারে মুখস্থ বলতে পারে দেশের সব বিভাগ, জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন, সংসদীয় আসন ও নদ-নদীর নাম। বলতে পারে কোন জেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে কোন নদী।
উজ্জল জানায়, কোন বিভাগে কতটি জেলা। কোন জেলায় কতটি থানা বা উপজেলা রয়েছে। ওই সব উপজেলার কোনটি কতটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা রয়েছে তা মুখস্থ বলতে পারে। বলতে পারে প্রতিটি জেলার প্রতিষ্ঠার সাল ও এর আয়তন। কোন জেলায় কতটি সংসদীয় আসন সেটাও তার মুখস্থ।
বলতে পারে দেশের সব নদ-নদীর নাম এবং সেগুলো কোন জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত সেটাও এবং ঢাকা থেকে কোন জেলার দুরত্ব কত সেটাও সে বলতে পারে।
দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার কুশালপুর গ্রামের দরিদ্র পরিবারে তার জন্ম। তার পিতার নাম গোলাম হোসেন। দরিদ্রতার কারণে উজ্জলের লেখাপড়া ভাগ্যে মিলেনি। প্রাথমিক পর্যায়ে সে পড়ালেখা শেষ করে। ৩০ বছর বয়সী উজ্জল প্রায় ১০ বছর যাবৎ পত্রিকা বিক্রেতার ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।
বিরামপুর পত্রিকা এজেন্ট আবু হোসেনের থেকে সে নবাবগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলে তা বিক্রি করে থাকে। উজ্জলের এসব মুখস্থ থাকাটিকে অনেকেই অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছেন।

৫০ হাজার ছাত্রছাত্রীর বেটি রাহেলা

হিলি, দিনাজপুর-দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর চালুর অনেক আগে ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় হাকিমপুর সরকারি ডিগ্রী কলেজ।

প্রায়ত রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ ৯০ সালে তখনকার হাকিমপুর ডিগ্রী কলেজ মাঠে হেলিকেপ্টারে এসেছিল এবং বাংলাহিলি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি সরকারি করনের ঘোষনা দেন। আর এ কলেজটি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের অতি পরিচিত মুখ সবার প্রিয় রাহেলা বেটি।

প্রথম বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের আবদার বেটির নিকট একটু বেশী যদিও তার মুলদ্বায়িত্ব ছিল কোন শিক্ষক কোন ক্লাসে কোন ক্লাস নিতে যাচ্ছে কমনরুমে অবস্থানরত ছাত্রীদের সে খবর জানানো এবং তাদেরকে খাবার পানি সরবরাহসহ দোকান থেকে টুকটাক অতি জরুরী জিনিসপত্র কিনে দেওয়া। এসবের পাশাপাশি বিশেষ করে প্রথম বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের আর একটা গোপনীয় কাজ করতে হত বেটিকে তাহলো চিরোকুট (প্রেমপত্র) আদানপ্রদান করা, আর কে কোথায় কার জন্য অপেক্ষা করছে সে মেসেসটা পৌছে দেওয়া।

বর্তমানে কলেজে অধ্যায়নরত ছাত্রছাত্রীদের জন্য এসব অতিরিক্ত ঝামেলা বেটিকে আর পোহাতে হয়না কারন ৯০ এর দশকে মোবাইলের ব্যবহার না থাকলেও এখন সব ছাত্রছাত্রীর হাতেই আছে মুঠোফোন। কে কাকে পছন্দ-অপছন্দ করে নিজেরাই তারা ফোনে সেরে নেয়।

হাকিমপুর উপজেলা হাসপাতাল মোড় চন্ডিপুরে ১ ছেলে ও ২ মেয়ের সংসার রাহেলা খাতুনের। ছেলেমেয়ে সবারই বিয়ে হয়েছে নাতিপুতি নিয়ে সুখের সংসার রাহেলা বেটির। গত ৫ বছর আগে হঠাৎ একদিন বেটির অতি আপনজন তার প্রিয় স্বামী বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয় আজ পর্যন্ত আর বাড়িতে ফিরে নাই।

রাহেলা বেটি বলেন, আমি জানিনা পৃথিবীতে সে বেঁচে আছে না মারা গেছে। তবে তাঁর ফিরে আসার অপেক্ষা আজও পথের দিকে চেয়ে থাকি। রাহেলা খাতুন বলেন, এখন বয়স হয়েছে আগের মত আর দৌড়-ঝাঁপ করতে পারিনা। তাঁর আশা কলেজের চাকরীর বাঁকি সময় টুকু যেন সবার সাথে মিলেমিশে শেষ করতে পারি।

কলেজে কর্মরত বেটির সহকর্মি মোফাজ্জল হোসেন বলেন ১৯৮৪ সালে কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে

বর্তমান পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ভর্তি রেজিষ্টার অনুযায়ী প্রায় ৫০ হাজার। আর একরনেই হাকিমপুর সরকারি ডিগ্রী কলেজের ৫০ হাজার ছাত্রছাত্রীর বেটি রাহেলা খাতুন।

দেশে কোন মানুষ যেন ভিক্ষাবৃত্তি না করে বিরামপুরে-জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম

বিরামপুর (দিনাজপুর) থেকে-বিরামপুর উপজেলার ২নং কাটলা ইউনিয়নের ২৬জন ভিক্ষুককে বিভিন্ন ভাবে সহায়তার মাধ্যমে পুনর্বাসনের মাধ্যমে ঐ ইউনিয়নকে ভিক্ষুক মুক্ত ঘোষণা করেছেন, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম।

বিরামপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ২ং কাটলা ইউনিয়ন চত্তরের মঙ্গলবার বিকেলে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন।
কাটলা ইউনিয়নকে ভিক্ষুক মুক্ত করার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের জন্য ২৬ জনকে বিভিন্ন উপকরণ দেয়া হয়। তাদের মধ্যে ৬ জনকে ব্যাটারি চালিত ভ্যান, ৬ জনকে থাকার ঘর, ৬ জনকে বিধবা ভাতা, ৩ জনকে বয়স্ক ভাতা এবং ২ জনকে কৃষি প্রণোদনা প্রদান করা হয়। বাঁকী ভিক্ষুকদের নাতী নাতনীকে শিক্ষা বৃত্তি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান জানান, কাটলা ইউনিয়নের ২৬ জন ভিক্ষুকদের নামের তালিকা তৈরি করা হয়। পরে বেশ কয়েকদিন ধরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ও একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কর্মকর্তাগণ তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে, ওই কর্মকর্তাগণের দেয়া তথ্যে সহায়তা করে এই ইউনিয়নকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম বলেন, দেশ যেমন নিম্ম আয়ের দেশ থেকে নিম্ম-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের সকল গ্রামকে শহরে পরিনত করার কাজ চলছে। সরকারের লক্ষ্য হলো- দেশে কোন মানুষ যেন ভিক্ষাবৃত্তি না করে।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান খায়রুল আলম রাজু, থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির, ভাইস চেয়ারম্যান মেসবাউল হক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান উম্মে কুলসুম, কাটলা ইউনিয়নের ২৬ জন ভিক্ষুক, ইউপিসদস্যসহ এবং এলাকার সুধিজন উপস্থিত ছিলেন।

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র

কাহারোল থেকে আব্দুল্লাহ-বাঁশের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় পুঁজি ও অর্থের অভাবে সীমাহীন অভাব অনটনের মধ্যেদিয়ে দিন কাটাচ্ছেন দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বাঁশ মালিরা।

এ পেশায় নিয়োজিত শতশত শ্রমিক অর্থ ও পুঁজির অভাবে অন্য পেশা বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। এতে করে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী হস্ত শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে।

কাহারোল উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ২শতাধিক পরিবার রয়েছে তারা বংশ গতভাবে দীর্ঘদিন থেকে এ পেশার সাথে জড়িত।

তারা বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র যেমন, ডালি, মাছের খোলই, কুলা, মুরগী পালনের ঝাপা, খইচালা ঝুরি, মাছ ধরা ডেরই, বাঁশের হারিকেন, পশুর হাত থেকে গাছ রক্ষাকারী খাঁচা, হাত পাখা, বাঁশি ইত্যাদি তৈরি করে উপজেলা বিভিন্ন হাট বাজার ছাড়াও অন্যান্য উপজেলার হাট বাজারে খুচরা ও পাইকারী দরে বিক্রি করে বেশ স্বাচ্ছন্দে তারা জীবিকা নির্বাহ করতেন।

ঐ সময় একটি বাঁশের মূল্য ছিল ১৫-২০ টাকা। এ বিষয়ে ৩নং মুকুন্দপুর ইউনিয়নের দাস পাড়া গ্রামের বাঁশমালি গীতা রাণী দাস এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, প্লাস্টিকের তৈরি জিনিস পত্রে বাজার দখল হয়ে গেছে। বর্তমানে বাঁশের তৈরী জিনিসের তেমন কদর নেই।

তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে আরো বলেন, বর্তমানে এই ব্যবসা করে সংসার চালানো খুবই কষ্ট কর হয়ে পড়েছে। বর্তমানে আমি ডেলিয়া (ডালি) বানিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে কোন মতে দিনপাত করছি।

দাস পাড়ার অন্যান্য বাঁশ শিল্পী বাবু, প্রফুল্ল, ছায়া রানী দাস, অর্জুন দাস, শংকর দাস, হেমন্ত দাস ও কৃষ্ণ রানী দাস জানান, এক সময় তারা অল্প টাকার বাঁশ ক্রয় করে সেই বাঁশ দিয়ে ঘর গোছালির বিভিন্ন আসবাবপত্র তৈরি করে সেগুলো নিজ উপজেলা ছাড়াও পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁওসহ দিনাজপুর জেলা শহরে রেলবাজারসহ জেলার অন্যান্য উপজেলায় হাট বাজার গুলোতে খুচরা ও পাইকারী দরে বিক্রি করে বেশ স্বচ্ছলতার সাথে সংসার জীবন চালাতে পারতেন।

বর্তমানে একটি বাঁশ ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকায় ক্রয় করে সেই বাঁশ থেকে বাতা বের করে যে টাকা আয় হয় তাতে আমাদের শ্রমের টাকাই আসে না। তারা আরোও বলেন, আমরা শুধু বংশ পরমপরা রক্ষায় এ পেশা ধরে রেখেছি। আমাদের মধ্যে অনেকেই দারিদ্রতার কারণে অন্য পেশা বেছে নিতেবাধ্য হয়েছে।

শাহারিয়ার চিকিৎসা সেবায় উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন

এম রুহুল আমিন- চিকিৎসা সেবায় বিদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেছেন শাহারিয়ার আহম্মদ। সে দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার জগন্নাথপুর কলেজপাড়ার স্কুল শিক্ষক মোঃ লুৎফর রহমানের পুত্র।

শাহারিয়ার আহম্মদ দেশে লেখাপড়া শেষ করে চিকিৎসা সেবায় উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনের জন্য চীনদেশে নর্থ চায়না ইউনির্ভাসিটি অফ সাইন্স  এন্ড টেকনোলজি থেকে ৭ জানুয়ারি ২০১৯ইং সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এম বি বি এস সনদ অর্জন করেন।

শাহারিয়ার আম্মদের মা মোছাঃ খালেদা বেগম জানান, ছোট থেকেই শাহারিয়ার চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে নিজেকে আত্বনিয়োগ করবে এমন মনোবল ছিল তাঁর মধ্যে।

শাহারিয়ারের দাদা অবসর প্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক মোঃ মশিহুর রহমানের অনুপ্রেরনায় এগিয়ে যাওয়া তার হাতে খড়ি।

তার পিতা নবাবগঞ্জ উপজেলার ৩নং গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের গরিবপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পেশায় কর্মরত। সুষ্ঠ ভাবে দেশে ফিরে এসে চিকিৎসা সেবায় সে সকলের নিকট দোয়ার আহব্বান করেছেন।

বিরামপুরে চমক ক্লাব ও পাঠাগার প্রবীনদের হাতে দিল শীতবস্ত্র

বিরামপুর থেকে- দিনাজপুর জেলার কৃষি নির্ভরশীল ও সিমান্তবর্তী উপজেলা বিরামপুরের দিওড় ইউনিয়নের কিছু উদ্দ্যেগী তরুন গড়ে তুলেছে দিওড় চমক ক্লাব ও পাঠাগার, নানামুখী আয়োজনে এবারে ছিল হতদরিদ্র ও প্রবীনদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ।

গতকাল বিকেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা নিয়ামুল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ পারভেজ কবীর, এসময় উপস্থিত ছিলেন ৪নং দিওড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান, সাবেক প্রধান শিক্ষক জিন্নাত আলী , ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী সহ সংগঠনের নেত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।