শুক্রবার-৩ জুলাই ২০২০- সময়: রাত ১২:৩৫
বিরামপুরে পৌর মেয়র সহ ৭ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে বিরামপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী পালিত বিরামপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আটক বিরামপুরে লাখো কণ্ঠে ৭ মার্চের ভাষন পাঠ গুরুদাসপুরে এক বৃদ্ধা খুন বিরামপুরে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত কাটলা হলি চাইল্ড স্কুল বিরামপুরে মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান দিদউফ বিরামপু‌রে দুস্থ শীতার্ত‌দের মা‌ঝে শীতবস্ত্র বিতরন বিরামপুরে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণ গণনার সূচনা বিরামপুরে ১২ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস খাওয়ানো হয়েছে

রকমারি newsdiarybd.com:

ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস, কালের পরিক্রমায় প্রতি বছরই হাজির হয় শীত

মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি– অতীত-বর্তমানের রেষারেষির যাতাকলে পড়ে নওগাঁর মহাদেবপুরে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস। কালের পরিক্রমায় প্রতি বছরই হাজির হয় শীত।

সকালে ঘাসের ডগায় শিশির ভেজা মুক্তকণা জানান দিচ্ছে শীতের। বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান নিয়ে হাজির হয় এ ঋতু। তার মধ্যে অন্যতম খেজুর রস। শীতের সাথে রয়েছে খেজুর রসের এক অপূর্ব যোগাযোগ।

শীতকালের শুরুতেই গ্রাম গঞ্জের মনুষেরা খেজুর গাছ ছিলানো (কাটা) নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তো। কে কার আগে রস সংগ্রহ করতে পারে। বিশেষ করে শীত মৌসুম এলে গাছিদের আনন্দের সীমা থাকতো না। শীতের ভোরে খেজুর রস সংগ্রহের জন্য গাছিরা মহাব্যস্ত হয়ে পড়তো। কোমরে মোটা রশি বেঁধে গাছে ঝুঁলে-ঝুঁেেল রস সংগ্রহ করতো গাছিরা।

খেজুর রস সংগ্রহ করে নতুন আমন ধানের পিঠা ভাপা-পুলি ও পায়েশ তৈরির ধুম পড়ে যেতো গ্রামে গ্রামে। শীত যতো বাড়তে থাকে খেজুর রসের মিষ্টতাও তেমন বৃদ্ধি পায়। এক সময় খেজুর রসের মন মাতানো গন্ধে মৌ মৌ করত পল্লী গ্রামের অলি গলি।

শীতের সকালে খেজুর রসে ভিজিয়ে মুড়ি না খেলে গ্রাম গঞ্জের মানুষদের যেন দিনটাই ভালভাবে শুরু হতো না। শীতের সকাল মানেই গ্রামের অলি গলিতে চলতো রস-মুড়ির আড্ডা। সময় বয়ে চলার সাথে সাথে রস-মুড়ি খাওয়ার সকালের সেই পারিবারিক আড্ডা বর্তমানে আর দেখা যায়না।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাড়ি-ঘর নির্মাণ আর নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে খেজুর গাছের সংখ্যা পল্লী গ্রামে অস্বাভাবিক ভাবে কমে গেছে। যে হারে গাছ কাটা হয়েছে; সে হারে রোপণ করা হয়নি। যা আছে তাও সঠিকভাবে পরিচর্যা না করা এবং গাছ ছিলানোর (কাটা) পদ্ধতিগত ভুলের কারনে প্রতিবছর অসংখ্য গাছ মারা গেছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও পেশাদার গাছির সংকট।

তারপরেও উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ইতিমধ্যে শখের বশতঃ গাছিরা নামমাত্র রস সংগ্রহ করছে। হয়তো সেদিন খুব বেশি দূরে নয়, যেদিন খেজুর রসের কথা মানুষের মন থেকে হারিয়ে যাবে।

আগামী প্রজন্মের কাছে খেজুর রস রূপকথার গল্পের মতো মনে হবে। সচেতনদের মতে, বাড়ির আনাচে-কানাচে, রাস্তার পার্শ্বে, পরিত্যক্ত স্থানে পর্যাপ্ত পরিমানে খেজুর গাছ রোপণ করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে খেজুর গাছের রস ও গুড় সম্পর্কে কোন গল্পকথা বলতে হবে না।

উপজেলার কর্ণপুর গ্রামের গাছি ছামাদ বলেন, ‘শীত মৌসুম এলে গাছ ছাটাই করে রস বিক্রির টাকায় ভালভাবে সংসার চালাতে পারতাম। আগে প্রতি বছর শীত মৌসুমে নিজের গাছ ছাড়াও নির্ধারিত অর্থ বা গুড় দেয়ার চুক্তিতে অন্যের ১০-১৫ টি গাছ ছিলতাম (কাটা)। কিন্তু এখন গাছ মরে যাওয়া এবং গাছ বিক্রি করার কারনে মাত্র একটি গাছ কাটি। গাছ কম থাকায় গ্রামবাসী খেজুর রস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের গাছি মুনু মন্ডল বলেন, ‘শীত মৌসুম এলেই সারা বছর অযতেœ অবহেলায় পড়ে থাকা খেজুর গাছের কদর বেড়ে যেতো। আমার নিজস্ব খেজুর গাছ না থাকলেও আমি মালিকদের গাছ ছাটাই করে সংগ্রহীত রসের একটি অংশ প্রদান করতাম।’

এ ব্যাপারে উপজেলার সফাপুর গ্রামের কফিল উদ্দিন নামে এক প্রবীণ বলেন, ‘এক সময় আমাদের এলাকায় প্রায় প্রতিটি বাড়িতে, জমির আইলে, রাস্তার পার্শ্বে ও পতিত জমিতে সারি সারি খেজুর গাছ ছিল।

বর্তমানে খেজুর গাছ মরে যাওয়া এবং বিক্রি করার কারনে খেজুর গাছ নেই বল্লেই চলে। বর্তমানে খেজুর গাছের সংখ্যা কমতে কমতে বিলুপ্ত প্রায়।’

পলিটেকনিক্যালের মেধাবী ছাত্র রতন বাঁচাতে চায়

মোসলেম উদ্দিন-একমাত্র মেধাবী ছেলেকে বাঁচাতে দিনাজপুরের হাকিমপুরের (হিলি) এক অসহায় পিতার সাহায্যের আবেদন।

হাকিমপুর উপজেলার ঘনেশ্যামপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের একমাত্র মেধাবী ছেলে দিনাজপুর পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট এ কম্পিউটার সাইন্স এর ৫ম সেমিস্টারে অধ্যায়নরত রতন মাহমুদ মরণব্যাধি ক্যান্সার (T-cell Non-Hodgkin Lymphoma) রোগে আক্রান্ত হয়ে দুই মাস যাবত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৯০১ ওযার্ডে ২৬ নং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ইতোমধ্যে তার চিকিৎসার জন্য যাবতীয় জমি-জমা ও গহনা বিক্রি করে ১২ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেয়ার প্রয়োজন। এতে আরো প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার প্রয়োজন।

তার পিতার পক্ষে এতো টাকা খরচ করা সম্ভব নয়। তাই তিনি সমাজের বিত্তবানদের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্যের জন্য আবেদন জানিয়েছেন।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা। সোনালী ব্যাংক লি. হাকিমপুর শাখা। যাহার সঞ্চয়ী হিসাব নং- ১৮১২৭০১০১১৩১৯ এবং বিকাশ নং-০১৭৫০৫১.

ঝালকাঠিতে বিজয় দিবসে ঘোড় দৌড় প্রতিযোগীতা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি-ঝালকাঠিতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহি ঘোড় দৌড় প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার পড়ন্ত বিকেলে সুগন্ধা-বিষখালী-ধানসীঁড়ি নদীর মোহনায় ইকোপার্ক মাঠে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন এ প্রতিযোগীতার আয়োজন করে।

ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ জন প্রতিযোগী ঘোড়া নিয়ে দৌড়ে অংশ নেয়।

এদের মধ্যে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার সুলতানের ঘোড়া প্রথম এবং বরগুনার তালতলির রোকন ও চালিতাতলার সৈকতের ঘোড়া যথাক্রমে ২য় ও ৩য় হয়। জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী প্রতিযোগীতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক আরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব এসএম ফরিদ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট নাহিদা আক্তার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া ফেরদৌসসহ বিশিস্ট জনেরা উপস্থিত ছিলেন। কয়েক হাজার মানুষ এ প্রতিযোগীতা উপভোগ করেন।

জাকারিয়া মন্ডলের পাহাড়ের ভাঁজে মহাকাব্য

 
এসএম আব্বাস-ভ্রমণ কাহিনীতে সাধারণত গৎবাঁধা তথ্যের গতানুগতিক রূপ পাওয়া যায়। কোথায় গেলাম, কী করলাম, কী খেলাম, থাকার জায়গাটা কেমন ইত্যাদি তথ্যের সন্নিবেশেই এ ধরনের লেখার ভিত রচিত হয়ে থাকে। কিন্তু ‘পাহাড়ের ভাঁজে মহাকাব্য’ গ্রন্থটি চিরচেনা সেই কাঠামো ভেঙে বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে।

গ্রন্থটির লেখক জাকারিয়া মণ্ডল পেশায় সংবাদকর্মী। তিনি যতটা না সংবাদ সংগঠক, তার চেয়েও বেশি রিপোর্টিং মানসিকতা ধারণ করেন। ‘পাহাড়ের ভাঁজে মহাকাব্য’ বইয়ে তাই রিপোর্টিং ও ফিচারের অভূতপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে।

পেশাগত প্রয়োজনে পারস্য উপসাগরের দ্বীপদেশ বাহরাইন, দক্ষিণ চীন সাগরের পশ্চিমপাড়ের মালয় উপদ্বীপ ও পূর্ব পাড়ের বোর্নিও দ্বীপ, হিমালয় কন্যা নেপাল এবং প্রতিবেশী ত্রিপুরার আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়িয়েছেন জাকারিয়া মণ্ডল। আয়েশি পর্যটকের আড়মোড়া ভেঙে হয়ে উঠেছেন পরিশ্রমী পরিব্রাজক। সরেজমিন অভিজ্ঞতার সঙ্গে কিংবদন্তি, ঐতিহ্য, ইতিহাস, সাহিত্য ও সভ্যতার গল্প মিশিয়ে নিজস্ব ঢঙে বুনেছেন ভ্রমণ সাহিত্য। ফাঁকে ফাঁকে বেদ, উপনিষদ, রামায়ণ, মহাভারত, মহাপুরাণ, উপপুরাণের আখ্যান ও উদ্ধৃতি বইটিকে সমৃদ্ধ করেছে।

‘পাহাড়ের ভাঁজে মহাকাব্য’তে মোট ১২টি ভ্রমণ গল্প স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি মালয় উপদ্বীপের, চারটি ত্রিপুরার ও অবশিষ্ট তিনটি বোর্নিও, বাহরাইন ও নেপালের প্রেক্ষাপটে রচিত। প্রতিটি গল্পেই জ্বলজ্বল করছে অগণিত এক্সক্লুসিভ রিপোর্টের সম্ভাবনা। যেমন বাহরাইনের গল্পে মেসোপটেমীয় ও অ্যাসেরিয় সভ্যতার মিশেলে গড়ে ওঠা দিলমুন সভ্যতার প্রেক্ষাপট ও বিবর্তন, মালয়েশিয়ায় ভারতীয়দের অভিবাসন, বোর্নিওতে আত্মার উপাসক মুসলিম বাজাউ সম্প্রদায়, নেপালের স্বয়ম্ভু মন্দিরের বিবর্তন ও সংস্কৃতি এবং বাংলাদেশের ময়নামতি ও পাহাড়পুরের প্রতিচ্ছায়ায় ছাওয়া ত্রিপুরার পিলাক নগর নিয়ে নিঃসন্দেহে বড় বড় রিপোর্ট হতে পারে। রবীন্দ্রনাথের ভুবনেশ্বরী, মাতাবাড়ির ত্রিপুরেশ্বরী, কসবার কমলেশ্বরী নিয়েও দারুণ রিপোর্ট করা যায়।

চোখে দেখা বিবরণে কীভাবে তথ্যের সমাবেশ ঘটাতে হয় তার অনন্য নজির হয়ে উঠেছে ‘পাহাড়ের ভাঁজে মহাকাব্য’ গ্রন্থটি। তবে অনেক বিষয়ে গবেষণালব্ধ অজানা বিষয়ের সমাবেশ ঘটালেও কিছু কিছু প্রসঙ্গ ইচ্ছে করেই অসমাপ্ত রেখে দিয়েছেন লেখক। এতে পাঠক মনের তৃষ্ণা আরও বেড়েছে নিঃসন্দেহে।

‘পাহাড়ের ভাঁজে মহাকাব্য’ গ্রন্থে অনেক কঠিন বিষয়কে সহজ ছন্দে গেঁথেছেন লেখক। তার বিবরণ সাবলীলভাবে এগিয়ে চলে বাঁধ ভাঙা স্রোতস্বিনীর মতো। একবার পাঠের মধ্যে ঢুকে পড়লে মগ্ন হয়ে পড়তে হয়। বইয়ের পাতায় ফুটে উঠতে থাকে একের পর এক ভ্রমণ দৃশ্যের প্রাণবন্ত সব ছবি।

সব গল্পেই প্রাসঙ্গিক ও দুর্লভ আলোকচিত্রের উপস্থিতিতে বইটি আরও দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। সহায়িকা হিসেবে ব্যবহার করা বিভিন্ন গ্রন্থ ও সূত্রের উদ্ধৃতি গ্রন্থটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। গত অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রকাশক শুদ্ধপ্রকাশ। চার রঙে ছাপা বইটির দাম ২৫০ টাকা। বিভিন্ন অভিজাত বইয়ের দোকান ছাড়াও অনলাইনে রকমারি ও ইত্যাদি শপে বইটি পাওয়া যাচ্ছে।

আত্রাইয়ের জনপদ স্ট্রিটলাইটের আলোয় আলোকিত

নাজমুল হক নাহিদ- নওগাঁর আত্রাইয়ের বিভিন্ন জনপদ এখন স্ট্রিটলাইটের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে।

বিভিন্ন সড়ক ও রাস্তার মোড়, হাট-বাজার ও জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্ট্রিটলাইট স্থাপিত হওয়ায় এসব এলাকা এখন আলোকিত হয়ে উঠেছে। সরকারের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) ও গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) প্রকল্পের অর্থ দ্বারা এসব স্ট্রিটলাইট স্থাপন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮ ইউনিয়নে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৫৯লাখ ৮২ হাজার ৫৬৯ টাকা ব্যয়ে ২৮০ টি স্ট্রিটলাইট স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে শাহাগোলা ইউনিয়নে ২৭টি, ভোঁপাড়া ইউনিয়নে ৩৮টি, আহসানগঞ্জ ইউনিয়নে ৩০টি, পাঁচুপুর ইউনিয়নে ৮৭ টি, বিশা ইউনিয়নে ৪৪ টি, মনিয়ারী ইউনিয়নে ২৫ টি, কালিকাপুর ইউনিয়নে ১৪ টি ও হাটকালুপাড়া ইউনিয়নে ১৬ টি স্ট্রিটলাইট স্থাপন করা হয়।

ইডকল প্রতিনিধি সোলার ইনকোম্পানী কর্তৃক সরবারাহকৃত প্রত্যেকটি স্ট্রিটলাইটের প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয়েছে ৫৬ জাহার ৪ শত ৯০ টাকা।

জানা যায়, স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলমের প্রচেষ্টায় আত্রাইয়ের জনপদগুলোকে আলোকিত করতে সরকারের বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব লাইট স্থাপন করা হয়েছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে রয়েছে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তর। এসব লাইট স্থাপন হওয়ায় এলাকা হতে অপরাধ প্রবনতা অনেকটা কমে গেছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

দিনের বেলায় সূর্যের আলো থেকে তাপ গ্রহন করে সন্ধ্যার পর আপনা-আপনি জ¦লে উঠে সারা রাত জ¦লে থাকায় এলাকাগুলো আলোকিত হয়ে থাকছে।

উপজেলার জগদাস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান বলেন, আমাদের জগদাস বাজারে স্ট্রিটলাইট স্থাপন করায় বাজার এখন সারা রাত আলোকিত থাকে।

বাজারের ব্যবসায়ীদের আর দোকানের বাইরে আর বৈদ্যুতিক বাল্ব জ¦ালিয়ে রাখতে হয় না। ফলে একদিকে বিদ্যুতের সাশ্রয় অন্যদিকে চোরের উপদ্রব হতে বাজার মুক্ত হয়েছে। তারাটিয়া গ্রামের ডিএস জাহিদ বলেন, আমাদের ভাবনীপুর-শাহাগোলা রাস্তাটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা।

এ রাস্তা দিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত লোকজন চলাচল করে থাকে। রাতের বেলায় অন্ধকার রাস্তায় অনেকেই নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করতো। তারাটিয়া ব্রিজের মুখে স্ট্রিটলাইট স্থাপন হওয়াতে জনসাধারণ খুব উপকৃত হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা নভেন্দু নারায়ন চৌধুরী বলেন, এমপি মহোদয়ের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্থানে স্ট্রিটলাইটগুলো স্থাপন করা হয়েছে এবং তারই তত্বাবধানে আমরা এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছানাউল ইসলাম বলেন, এলাকা থেকে অপরাধ প্রবনতা কমিয়ে আনতে রাস্তাগুলোকে আলোকিত করা খুবই জরুরী।

আর এ প্রয়োজনীয়তা পুরো করা হচ্ছে এ প্রকল্পের মাধ্যমে। তবে লাইটগুলো স্থাপনের পূর্বে পরীক্ষা নিরীক্ষার সুযোগ উপজেলা পর্যায়ে থাকলে আরও ভাল হত।

উপমহাদেশের ইতিহাস শ্রেষ্ঠ দানবীর হাজী মুহাম্মদ মহসিন !

রকমারি ডেস্কহাজী মুহাম্মদ মহসিন, যিনি দানশীলতার জন্য দানবীর খেতাব পেয়েছিলেন। দানশীলতার কারণে হাজী মহসিন কিংবদন্তীতে পরিণত হয়েছেন।

উপমহাদেশের ইতিহাসের এ বিখ্যাত দানবীর মুহাম্মদ মহসিন ১৭৩২ সালের ৩ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে জন্মগ্রহণ করেন।

দানের ক্ষেত্রে তুলনা অর্থে মানুষ সর্বদা তাঁর দৃষ্টান্ত ব্যবহার করে থাকে। এই সর্বশ্রেষ্ঠ দানবীর পুরো বাঙালি জাতি হিন্দু, মুসলিম সকলের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র।

অঢেল সম্পত্তির মালিক ছিলেন হাজী মহসিন। এসব সম্পদ তিনি দুহাতে অকাতরে বিলিয়ে গেছেন। মহসিনের পূর্ব পুরুষরা অত্যন্ত ধনী ছিলেন। ইরান থেকে বাংলায় আসা তার বাবা হাজী ফয়জুল্লাহ ছিলেন একজন ধনী জায়গিরদার।

মাতা জয়নব খানমেরও হুগলি, যশোর, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়ায় বিস্তর জমি ছিল। তাঁর বোন মন্নুজানের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারী হিসেবে মহসিন বোনের সম্পত্তির মালিক হন।

এতো সম্পদের মালিক হয়েও মহসিন ছিলেন খুব ধার্মিক ও নিরহঙ্কারী। তিনি সর্বদা সহজ সরল জীবনযাপন করতেন। তিনি ছিলেন চিরকুমার। তিনি তার প্রতিষ্ঠিত ইমাম বাড়া প্রাসাদে বাস করতেন না। ইমাম বাড়ির পাশে একটি ছোট কুটিরে বাস করতেন।

আর কুরআন শরীফ নকল করে যা পেতেন তা দিয়েই চলতেন। নিজ হাতে রান্না করে অধিনস্তদের নিয়ে বসে খেতেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে হাজী মহসিন গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্জন করেছেন। পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষার জন্য রাজধানী মুর্শিদাবাদ যান। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি দেশ ভ্রমণে বের হন। তিনি মক্কা, মদিনা, কুফা, কারবালাসহ ইরান, ইরাক, আরব, তুরস্ক এমন নানা স্থান সফর করে দীর্ঘ ২৭ বছর পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।

শিক্ষানুরাগী এ দানবীর তাঁর অর্থ দিয়ে বহু বিদ্যাপিঠ স্থাপন করে গেছেন। হুগলিতে ‘হুগলি মহসিন কলেজ’ ও ‘চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ’ প্রতিষ্ঠার সময় মহসিনের ওয়াকফকৃত অর্থ ব্যবহৃত হয়। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠে ‘দৌলতপুর মুহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’।

১৭৬৯-৭০ সালের সরকারি দলিল অনুযায়ী তৎকালীন দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অনেক লঙ্গরখানা স্থাপন করেন এবং সরকারি তহবিলে অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। ১৮০৬ সালে তিনি ‘মহসিন ফান্ড নামক তহবিল প্রতিষ্ঠা করেন। এ তহবিল ধর্মীয় কর্মকাণ্ড, পেনশন, বৃত্তি ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্য বরাদ্দ করা হয়।

১৮১২ সালে এ ধার্মিক দানবীর হুগলিতে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে হুগলির ইমামবাড়ায় দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য,ইতিহাসে দাতা হাজী মুহাম্মদ মহসিনের নাম চিরস্মরণীয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলের নাম তাঁর স্মরণে রাখা হয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাটির নাম বিএনএস হাজী মহসিন।

এছাড়াও মহসিন ফান্ডের অর্থে অসংখ্য দরিদ্র ছাত্রদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয় ভারত ও বাংলাদেশে। কিন্তু আশ্চর্য, এমন একজন মহান ব্যাক্তির জন্মদিন নীরবে চলে যাচ্ছে! অথচ এখনও হাজার হাজার ছাত্র তাঁর রেখে যাওয়া টাকার স্কলারশিপ নিচ্ছে। ইতিহাসের এই মহান ব্যাক্তিকে কেন ভুলে গেল বাঙালি ?

জীবনযুদ্ধে জয়ি জোবায়রা খাতুন

শুভ্রতার প্রতীক শরৎ

রকমারি ডেস্কঝকঝকে কাচের মতো স্বচ্ছ নীল আকাশ আর তার মধ্যে পেঁজা তুলার মতো সাদা মেঘমালা, এসব নিয়েই প্রকৃতি বরণ করে নেয় শরৎকালকে। কিন্তু শরতের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের এই অপরূপ বর্ণনা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শরৎকালের সেই মাধুর্য এখন আর খুঁজে পায় না মানুষ। তবু ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যে আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে ভাদ্র মাস তথা শরৎকাল।

ঋতু পরিক্রমার তৃতীয় ঋতু শরৎকাল। গঠিত হয় ভাদ্র ও আশ্বিন মাস নিয়ে। খ্রিষ্টীয় পঞ্জিকা অনুসারে মধ্য আগস্ট থেকে মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত শরৎ ঋতুর পথচলা।

শরৎকে বলা হয় শুভ্রতার প্রতীক! সাদা কাশফুল, শিউলি, স্নিগ্ধ জ্যোৎস্না, আলোছায়ার খেলা দিনভর- এইসব মিলেই তো শরৎ। শরৎকালের প্রথম মাস অর্থাৎ ভাদ্রের শুরু থেকেই শরতের আবির্ভাবটা লক্ষণীয়। শরতের স্নিগ্ধতা এক কথায় অসাধারণ! জলহারা শুভ্র মেঘের দল যখন নীল, নির্জন, নির্মল আকাশে পদসঞ্চার করে তখন আমরা বুঝতে পারি শরৎ এসেছে। শরতের আগমন সত্যিই মধুর।

গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদ আর বর্ষায় অঝোরধারায় শ্রাবণ ঢলের পর আসে শরতের আলোছায়ার খেলা; এই মেঘ, এই বৃষ্টি, তো কিছুক্ষণ পরই রোদ। শরতের অন্যতম বড় আকর্ষণ কাশফুল! নদী তীরে বনের প্রান্তে কাশফুলের রাশি অপরূপ শোভা ছড়ায়। কাশফুলের এ অপরূপ সৌন্দর্য পুলকিত করেনি এমন মানুষ খুঁজে মেলা ভার। গাছে গাছে শিউলির মন ভোলানো সুবাসে অনুভূত হয় শরতের ছোঁয়া। শরতের মেঘহীন আকাশে গুচ্ছ গুচ্ছ কাশফুলের মতো সাদা মেঘের ভেলা কেড়ে নেয় মন।

শরৎকালেও বর্ষণ হয়, তবে বর্ষার মতো অবিরাম নয়। বরং শরতের বৃষ্টি মনে আনন্দের বার্তা বয়ে আনে। চারপাশের শুভ্রতার মাঝে বৃষ্টির ফোঁটা যেন আনন্দ-বারি! বৃষ্টি শেষে আবারও রোদ। দিগন্তজুড়ে সাতরঙা হাসি দিয়ে ফুটে ওঠে রংধনু। প্রকৃতির এ অপরূপ যেন প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য চায়। হয়তো ইচ্ছা হয় গোধূলির ওপারে হারিয়ে যেতে প্রিয়জনের হাতটি ধরে।

প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ এ ঋতুর চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করেছেন প্রিয়তমাকে। তিনি তার ‘এখানে আকাশ নীল’ কবিতায় লিখেছেন- ‘এখানে আকাশ নীল/নীলাভ আকাশজুড়ে সজিনার ফুল/ফুটে থাকে হিম শাদা/রং তার আশ্বিনের আলোর মতন’। অনেকের মতে, শরৎকালে মনটা নেচে ওঠে ছুটির নেশায়, উৎসবের নেশায়! কারণ, শরৎকালে মাঠে মাঠে সবুজ ধানের ওপর সোনালি আলোর ঝলমলানি দেখা যায়। প্রতীক্ষায় থাকেন কৃষক।

আসন্ন নবান্নের আশায়। আলোক-শিশিরে-কুসুমে-ধান্যে বাংলার প্রকৃতিও খুশি। আর বাঙালির সেই প্রাণের উৎসবটা তো রয়েছেই- শারদীয় দুর্গাপূজা। শরৎ শারদীয় আরাধনায় হিন্দু সমাজকে উৎসবমুখর করে, বিজয়ার বেদনায় করে ব্যথিত।

শরতের বর্ণনা দিতে গিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘শরৎ, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি/ ছড়িয়ে গেল ছাপিয়ে মোহন অঙুলি/শরৎ, তোমার শিশির-ধোয়া কুন্তলে/বনের-পথে-লুটিয়ে পড়া অঞ্চলে/আজ প্রভাতের হৃদয় ওঠে চঞ্চলি’। শুধু রবীন্দ্রনাথ নন, শরৎ নিয়ে আরও অনেক কবি কাব্য রচনা করেছেন। জনপ্রিয় বাংলা গানও রয়েছে শরৎ-বন্দনার। উৎপল সেন লিখেছিলেন, ‘আজি শরতের আকাশে মেঘে মেঘে স্বপ্ন ভাসে।’

শরতের মন ভোলানো প্রকৃতিতে মন যে কী চায় তা বোঝা বড়ই মুশকিল! রোদ আর বৃষ্টির লুকোচুরি খেলায় মনেও যেন জমে মেঘ, আবার কখনও হয়ে ওঠে রৌদ্রকরোজ্জ্বল। কিন্তু ব্যস্ত এ নগরীতে শত ব্যস্ততার মাঝে আমরা পারি না মনের আকাঙ্ক্ষায় শরতের রঙে সাজাতে। তবু যেন মনে হয় হারিয়ে যাই শরতের কাশফুল, গোধূলি, শিউলি আর জ্যোৎস্নার মাঝে। প্রিয়জনের হাত ধরে অনুভব করি স্নিগ্ধতা।

বিরামপুরের পত্রিকা বিক্রেতা উজ্জলের বাংলাদেশের চিত্র নখদর্পণে

আব্দুর রশিদ,বিরামপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা- দিনাজপুরের বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ উপজেলা এলাকায় পত্রিকা বিক্রেতা উজ্জলের নখদর্পণে বাংলাদেশ। সে একাধারে মুখস্থ বলতে পারে দেশের সব বিভাগ, জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন, সংসদীয় আসন ও নদ-নদীর নাম। বলতে পারে কোন জেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে কোন নদী।
উজ্জল জানায়, কোন বিভাগে কতটি জেলা। কোন জেলায় কতটি থানা বা উপজেলা রয়েছে। ওই সব উপজেলার কোনটি কতটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা রয়েছে তা মুখস্থ বলতে পারে। বলতে পারে প্রতিটি জেলার প্রতিষ্ঠার সাল ও এর আয়তন। কোন জেলায় কতটি সংসদীয় আসন সেটাও তার মুখস্থ।
বলতে পারে দেশের সব নদ-নদীর নাম এবং সেগুলো কোন জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত সেটাও এবং ঢাকা থেকে কোন জেলার দুরত্ব কত সেটাও সে বলতে পারে।
দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার কুশালপুর গ্রামের দরিদ্র পরিবারে তার জন্ম। তার পিতার নাম গোলাম হোসেন। দরিদ্রতার কারণে উজ্জলের লেখাপড়া ভাগ্যে মিলেনি। প্রাথমিক পর্যায়ে সে পড়ালেখা শেষ করে। ৩০ বছর বয়সী উজ্জল প্রায় ১০ বছর যাবৎ পত্রিকা বিক্রেতার ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।
বিরামপুর পত্রিকা এজেন্ট আবু হোসেনের থেকে সে নবাবগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলে তা বিক্রি করে থাকে। উজ্জলের এসব মুখস্থ থাকাটিকে অনেকেই অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছেন।

৫০ হাজার ছাত্রছাত্রীর বেটি রাহেলা

হিলি, দিনাজপুর-দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর চালুর অনেক আগে ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় হাকিমপুর সরকারি ডিগ্রী কলেজ।

প্রায়ত রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ ৯০ সালে তখনকার হাকিমপুর ডিগ্রী কলেজ মাঠে হেলিকেপ্টারে এসেছিল এবং বাংলাহিলি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি সরকারি করনের ঘোষনা দেন। আর এ কলেজটি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের অতি পরিচিত মুখ সবার প্রিয় রাহেলা বেটি।

প্রথম বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের আবদার বেটির নিকট একটু বেশী যদিও তার মুলদ্বায়িত্ব ছিল কোন শিক্ষক কোন ক্লাসে কোন ক্লাস নিতে যাচ্ছে কমনরুমে অবস্থানরত ছাত্রীদের সে খবর জানানো এবং তাদেরকে খাবার পানি সরবরাহসহ দোকান থেকে টুকটাক অতি জরুরী জিনিসপত্র কিনে দেওয়া। এসবের পাশাপাশি বিশেষ করে প্রথম বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের আর একটা গোপনীয় কাজ করতে হত বেটিকে তাহলো চিরোকুট (প্রেমপত্র) আদানপ্রদান করা, আর কে কোথায় কার জন্য অপেক্ষা করছে সে মেসেসটা পৌছে দেওয়া।

বর্তমানে কলেজে অধ্যায়নরত ছাত্রছাত্রীদের জন্য এসব অতিরিক্ত ঝামেলা বেটিকে আর পোহাতে হয়না কারন ৯০ এর দশকে মোবাইলের ব্যবহার না থাকলেও এখন সব ছাত্রছাত্রীর হাতেই আছে মুঠোফোন। কে কাকে পছন্দ-অপছন্দ করে নিজেরাই তারা ফোনে সেরে নেয়।

হাকিমপুর উপজেলা হাসপাতাল মোড় চন্ডিপুরে ১ ছেলে ও ২ মেয়ের সংসার রাহেলা খাতুনের। ছেলেমেয়ে সবারই বিয়ে হয়েছে নাতিপুতি নিয়ে সুখের সংসার রাহেলা বেটির। গত ৫ বছর আগে হঠাৎ একদিন বেটির অতি আপনজন তার প্রিয় স্বামী বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয় আজ পর্যন্ত আর বাড়িতে ফিরে নাই।

রাহেলা বেটি বলেন, আমি জানিনা পৃথিবীতে সে বেঁচে আছে না মারা গেছে। তবে তাঁর ফিরে আসার অপেক্ষা আজও পথের দিকে চেয়ে থাকি। রাহেলা খাতুন বলেন, এখন বয়স হয়েছে আগের মত আর দৌড়-ঝাঁপ করতে পারিনা। তাঁর আশা কলেজের চাকরীর বাঁকি সময় টুকু যেন সবার সাথে মিলেমিশে শেষ করতে পারি।

কলেজে কর্মরত বেটির সহকর্মি মোফাজ্জল হোসেন বলেন ১৯৮৪ সালে কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে

বর্তমান পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ভর্তি রেজিষ্টার অনুযায়ী প্রায় ৫০ হাজার। আর একরনেই হাকিমপুর সরকারি ডিগ্রী কলেজের ৫০ হাজার ছাত্রছাত্রীর বেটি রাহেলা খাতুন।