বুধবার-১৩ নভেম্বর ২০১৯- সময়: রাত ১:৪৩
ঘোড়াঘাটে বানিজ্যিক ভাবে মাল্টা বাগান করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে নাটোরের প্রতিবন্ধি প্রবীণ দম্পত্তি ভাতা নয়, চায় মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নবাবগঞ্জে ইঁদুর কেটে ফেলছে কাঁচা আমন ধানের রোপা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা কমেছে সময় ও দুর্ঘটনা,ঝালকাঠিতে ১৪ কি.মি মহাসড়ক নির্মাণ, স্বস্তিতে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা রাজাপুরে ব্যক্তি উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রীজ নির্মান, বই ও বেঞ্চ প্রদান মুক্তিযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ প্রসঞ্জী রায়এর পাশে- এমপি গোপাল ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল হাসপাতালে লাইভ ওয়ার্কশপে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় রিং (স্টেন্ট) সফল প্রতিস্থাপন সম্পন্ন ধামইরহাটে তিন ভূয়া ডিবি পুলিশ আটক সম্মানি না পেয়ে চিকিৎসা দিতে এলেন হারবাল এ্যাসিস্টেন্ট!

পর্যটন newsdiarybd.com:

নবাবগঞ্জে প্রাচীন স্থাপনার নিদর্শন রক্ষাসহ সংরক্ষন করা প্রয়োজন

মোঃ মতিয়ার রহমান,নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি-দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে প্রাচীন যুগের বেশ কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শনের স্থাপনা।

কোন কোন স্থানে মাটির নিচেও লুকিয়ে আছে এরকম স্থাপনা। রয়েছে অনেক ঢিবি যা খনন করলে কিছু উন্মোচন হতে পারে। এসব স্থাপনা ও ঢিবি গুলো রক্ষা করা সহ সংরক্ষন করা প্রয়োজন বলে প্রতœতত্ব বিদগণ মত পোষন করেন।

উল্লেখ যোগ্য স্থাপনার মধ্যে রয়েছে উপজেলার গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের সীতাকোর্ট বৌদ্ধ বিহার, মুনিরথান, মাহমুদপুর ইউনিয়নের দারিয়ায় অরুনধাপ বা বেহুলার বাপের বাড়ী ঢিবি, বেহুলার বাসর ঘর ঢিবি,হরিনাথপুর দূর্গ, হলাইজানা তেলিপাড়া মসজিদ, দাউদপুর ইউনিয়নের জিগাগড় দূর্গ, পুটিমারা ইউনিয়নের টঙ্গীর ঢিবি,দলারদগা মঠ ।

দিনাজপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক আঃ কাঃ মোঃ যাকারিয়ার সাহেবের মতে সমগ্র এলাকা ছিল প্রাচীন একটি জনপদ ও বৌদ্ধ ধর্ম সস্কৃতির কেন্দ্র। এখানে একাধিক বৌদ্ধ বিহার ও স্তুপ থাকার সম্ভাবনা আছে তিনি মন্তব্য করেন বলে একটি বই থেকে জানা যায়।

বাংলাদেশ প্রত্ন সম্পদ গ্রন্থের মতে মাহমুদপুর এলাকায় ১৯৬০ সালের আগে মোট ঢিবি ছিল ১০০টি, ১৯৬৭ সালে কমে দাড়ায় ৫১টি। সেগুলোর মধ্যে এখন অনেক ঢিবিই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের পরিক্ষা মূলক খননের পর অরুন ধাপে দেখা গেছে বগুড়ার লখিন্দরের মেড় সদৃশ্য একটি পুরাকীর্তির অস্তিত্ব ঢিবির তলদেশে বিদ্যমান।

দাউদপুর ইউনিয়নের খয়েরগনি নামক স্থানে ২০০৬ সালে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ব বিভাগের খনন দল খনন করে বৌদ্ধ বিহারের স্থাপনার অস্তিত্ব পেয়েছিলেন। ওই সময় অর্থের অভাবে সেটি পুরো খনন করা সম্ভব হয় হয়নি।

বর্তমানে সেটি মাটির নিচে পড়ে রয়েছে। এসব স্থাপনা সংস্কারসহ সংরক্ষন করা গেলে এলাকায় পর্যটকদের আগমন ঘটবে বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।

রাজকন্যা ইন্দুপ্রভার ২৮৫ চিঠি এখন সংগ্রহশালায় দিঘাপতিয়া নাটোরে

মাহমুদুল হক, নাটোর ফিরে-প্রায় ১২০ বছর আগে কলকাতা থেকে নাটোরের দিঘাপতিয়ার রাজবংশের চতুর্থ পুরুষ প্রমথনাথের কন্যা ইন্দুপ্রভার কাছে বিয়ের আগে ও পরে মহেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরীর লেখা ২৮৫টি চিঠি এখন উত্তরা গণভবনের সংগ্রহশালায় রাখা হয়েছে।

একই সাথে রাখা হয়েছে তার অপ্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের পান্ডুলিপি, দিনলিপি, রুপার ফ্রেমে বাঁধানো ছবি, প্রাচীন পদ্ধতিতে লেখার কাজে ব্যবহৃত রাজকন্যার দোয়াত-কলমসহ আরও অনেক কিছুই। যা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

 শুক্রবার (৯ মার্চ) দুপুরে উদ্বোধনকৃত উত্তরা গণভবনের সংগ্রহশালায় শতাধিক দ্রব্যাদি রাখা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এসব দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করেন।

এর আগে সোমবার (৫ মার্চ) সন্ধান মেলে গোপনে তুলে রাখা এই ২৮৫টি পত্রের। পরে নাটোর জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে চাবিহীন একটি ট্রাঙ্ক থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়।

 এছাড়া  আশপাশের গ্রামে গ্রামে মানুষের বাড়িতে মিলেছে রাজবাড়ির সিন্দুক, রাজা-রানীর ছবিসহ অনেক ঐতিহাসিক জিনিসপত্র, আড়ালে থাকা মহামূল্যবান পাথরখচিত রাজমুকুট, রাজপরিধেয় বইসহ আরও অনেক কিছু। জানা যায়, ১৯৫৬ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে এই রাজপরিবার ভারতে চলে যায়।

১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু রাজবাড়িটিকে উত্তরা গণভবন ঘোষণা করেন। তখন থেকে এর পরিচর্যা করত গণপূর্ত বিভাগ। কয়েকবার এখানে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে।

গত অক্টোবর মাসে জেলা প্রশাসন রাজবাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয়ার পর দিঘাপতিয়ার রাজার স্মৃতিচিহ্ন খোঁজা শুরু হয়। জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন জানান, আশপাশের

এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিন্দুক, রাজা-রাণির ছবিসহ অনেক কিছু উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া ট্রেজারিতে মহামূল্যবান পাথরখচিত রাজার মুকুট, জরির জামা, হাতির দাঁতের হাতল লাগানো ছুরি, দামি পাথর কেটে তৈরি রাজবাড়ির থালাবাসনসহ অনেক কিছু পাওয়া যায়।

এরই মধ্যে একটি ছবিও পাওয়া যায়। এটি রুপার ফ্রেমে বাঁধানো। ছবিটির পরিচয় খুঁজতে গিয়ে ফ্রেম খোলা হয়। এরপর দেখা যায়, ফ্রেমে আড়াল হয়েছিল রাজকুমারী ইন্দুপ্রভার নাম।

তিনি বলেন, রাজবংশের চতুর্থ পুরুষ প্রমথনাথের কন্যা ছিলেন ইন্দুপ্রভা। ট্রাঙ্ক থেকে ইন্দুর হাতের লেখা ১০টি ডায়েরি বের করা হয়। এর মধ্যে একটিতে শুধু কবিতা।

অন্যগুলোতে তার আত্মজীবনী। ইন্দুর কাছে বিয়ের আগে ও পরে ২৮৫টি চিঠি লিখেছেন মহেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী। প্রতিটি চিঠির শেষে লেখা রয়েছে, ‘তোমারই মহেন্দ্র’। ইন্দুকে সম্বোধন করা হয়েছে ‘প্রিয়তমে’ হিসেবে। চিঠির পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে মান-অভিমান। ইন্দুপ্রভা কলকাতায় থাকার সময় তাকে তিনটি ঠিকানায় চিঠি দিয়েছেন। আবার ইন্দু যখন রাজবাড়িতে থেকেছেন, তখনো কলকাতা থেকে মহেন্দ্র তাকে চিঠি লিখেছেন।

দিঘাপতিয়া চিঠিপত্রে তার নাম কখনও রাজকুমারী ইন্দুপ্রভা, কখনও শ্রীমতী ইন্দুপ্রভা দেবী আবার কখনাও শ্রীমতী ইন্দুপ্রভা চৌধুরানী লেখা পাওয়া গেছে।

মহেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী ইন্দুপ্রভার স্বামী। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। ছোট্ট ছোট্ট খামে ভরা চিঠিগুলো খুবই যতেœ ভাঁজ করে রাখা। ধারনা করা হচ্ছে প্রায় ১২০ বছর বা তার কাছাকাছি সময় ধরে চিঠিগুলো ওভাবেই খামের ভেতরে রয়েছে। চিঠিগুলো এখনো পড়া যাচ্ছে। একইভাবে ইন্দুর হাতের লেখা কবিতা ও তার আত্মজীবনীও পড়া যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বাংলা ১৩০৪ সালে দিঘাপতিয়া রাজবাড়ির প্রাইভেট সেক্রেটারির প্যাডে মহেন্দ্র কলকাতার ঠিকানায় ইন্দুকে লিখেছেন।

বারবার তাগাদা দিয়ে খাম পাঠিয়েও ইন্দুর চিঠি পেতে দেরি হওয়ায় মহেন্দ্র তার চিঠির শেষ বাক্যে লিখেছেন, ‘একবার কলকাতায় যেতে পারলে বাঁচি’।

তখন যে দোয়াত-কলম ব্যবহৃত হতো সেগুলোও ইন্দুর ট্রাঙ্কে অবিকল ছিল। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ডায়েরির অনেক লেখাই তিনি রাজশাহীতে বসে লিখেছেন।

১৩১১ বঙ্গাব্দের নববর্ষের দিনের কথা লিখেছেন রাজশাহীতে বসে। রাজশাহীকে তখন রামপুর লেখা হতো। প্রতিটি লেখার সাথে তিনি বাংলা ও ইংরেজি তারিখ বারসহ লিখেছেন।

কুশুম্বা মসজিদ কারুকার্য ভরা

মারুফ রুসাফি- কুশুম্বা মসজিদ নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলাধীন ৮ নং কুশুম্বা ইউনিয়নের কুশুম্বা নামক গ্রামে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের পার্শে উপজেলা সদর হতে তিন মাইল দক্ষিন-পূর্ব দিকে অবস্থিত।
নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কে বাসযোগে ৪০ মিনিট সময় লাগে।
কুশুম্বা মসজিদ আত্রাই নদীর দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে এবং মান্দা উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার দুরে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের পশ্চিমে অবস্থিত।
বরেন্দ্র জনপদের নওগাঁ জেলার বৃহত্তম উপজেলা মান্দায় অবস্থিত মসজিদের সন্মুখভাগে রয়েছে ৩টি দরজা। আকারে ২টি বড়, অন্যটি অপেক্ষাকৃত ছোট। দরজাগুলো খিলানযুক্ত মেহরাব আকৃতির। মসজিদের চার কোনায় রয়েছে ৪টি মিনার। মিনারগুলো মসজিদের দেওয়াল পর্যন্ত উঁচু ও আট কোনাকার। ছাদের ওপর রয়েছে মোট ৬টি গুম্বুজ। যা দুইটি সারিতে তৈরি।
দ্বিতীয় সারির গম্বুজগুলো আকৃতির দিক দিয়ে ছোট। ১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পে ৩টি গম্বুজ নষ্ট হয়েছিল। পরে প্রত্নতত্ব বিভাগ মসজিদটি সংস্কার করে।

মসজিদের ভেতর ২টি পিলার রয়েছে। উত্তর দিকের মেহরাবের সামনে পাথরের পিলারের ওপর তৈরি করা হয়েছিল একটি দোতলা ঘর। এই ঘরটিকে বলা হতো জেনান গ্যালারি বা মহিলাদের নামাজের ঘর এখানে মহিলারা পৃথকভাবে নামাজ পড়তেন।

অনেকে বলেন মসজিদের এই আসনে বসেই কাজী/বিচারক বিচার কার্য পরিচালনা করতেন বলে ধারনা করা হয় ।

মসজিদের ভেতর পশ্চিমের দেয়ালে রয়েছে ৩টি চমৎকার মেহরাবের আঙ্গুরগুচ্ছ ও লতাপাতার নকশা খোদিত রয়েছে। এ কারুকার্যগুলো খুব উন্নত মানের। দক্ষিণ দিকের মেহরাব ২টি আকারে বড়। উত্তর দিকের মেহরাবটি ছোট।

মসজিদটির উত্তর-দক্ষিণ দিকে দুটি করে দরজা ছিল। মসজিদটির সম্মূখে ২৫.৮৩ একের আয়তনের একটি বিশাল জলাশয় রয়েছে আর মসজিদের সন্মুখভাগে রয়েছে খোলা প্রাঙ্গণ ও পাথর বসানো সিঁড়ি। যা দিঘিতে গিয়ে নেমেছে।

মসজিদে যাওয়ার সময় পথের ‌ডান পাশে বাক্স আকৃতির একখণ্ড কালো পাথর দেখা যায়। এটিকে অনেকে কবর বলে মনে করেন।
জানা যায়, জনৈক কৃষক হাল চাষের সময় তার জমিতে পাথরটির সন্ধান পায়। সম্ভবত তার প্রচেষ্টায় পাথরটি জমি থেকে তুলে এনে রাস্তার পাশে রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়।

মসজিদে ঘুরতে আসা ফারজানা বলেন, পাঁচ টাকার নোটের উপর ছবি দেখে অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল এখানে বেড়াতে আসার।

সোহেল রানা নামের অপর এক দর্শনার্থী বলেন, বিপুল সম্ভবনা থাকার পরও প্রয়োজনীয় নজরদারির অভাবে নওগাঁর এই ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদ আকর্ষনীয় স্পট হিসাবে গড়ে উঠছে না।

কুসম্বা মসজিদটি নওগাঁর ঐতিহাসিক স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী আসেন মসজিদটি দেখার জন্য। দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধার জন্য অযু ও গোসলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাছাড়াও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে।

ঘুরে আসুন পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার থেকে

বিশেষ প্রতিনিধি-সুদীর্ঘ সমুদ্র , দিগন্ত বিস্তৃত নীল সমুদ্র, আকাশছোঁয়া পাহাড়, বৌদ্ধ মন্দির আর প্যাগোডা আরো নানান আকর্ষণ নিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্রের শেষ প্রান্তে বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে এদেশের পর্যটন রাজধানী।  ইংরেজ লেফটেন্যান্ট হিরাম কক্স এর নামানুসারেই এর নাম হয় কক্সবাজার।

এ জেলার বিভিন্ন অংশ জুড়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি সমুদ্র সৈকত আর ভ্রমণ স্থান।

এ জায়গাগুলোতে ভ্রমণের উপযুক্ত সময় এখনই অর্থাৎ শীত মৌসুম। কক্সবাজার ও এর আশপাশের বিভিন্ন মনোহরা ভ্রমণ কেন্দ্র নিয়ে কড়চার এবারের বেড়ানো।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত-কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতবিস্তীর্ণ বেলাভূমি, সারি সারি ঝাউবন, সৈকতে আছড়ে পড়া বিশাল ঢেউ।  সকালবেলা দিগন্তে জলরাশি ভেদকরে রক্তবর্ণের থালার মতো সূর্য।  অস্তের সময় দিগন্তের চারিদিকে আরো বেশি স্বপ্নিল রঙ মেখে সে বিদায় জানায়। এসব সৌন্দর্যের পসরা নিয়েই বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে রচনা করেছে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার।  প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী বলা হয় এ জায়গাটিকে।

সড়কপথে ঢাকা থেকে প্রায় সাড়ে চারশ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম থেকে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরে রয়েছে নয়নাভিরাম এ সমুদ্র সৈকত।  এখানকার সমুদ্রের পানিতে গোসল, সূর্যাস্তের মনোহারা দৃশ্য দেখেও ভালো লাগবে।

কক্সবাজার সৈকত ভ্রমণের শুরুটা হতে পারে লাবনী পয়েন্ট থেকে।  লাবনী বিচ ধরে হেঁটে হেঁটে পূর্ব দিকে সোজা চলে যাওয়া যায় হিমছড়ির দিকে।  যতোই সামনে এগুবেন ততোই সুন্দর এ সৈকত।

সকাল বেলা বের হলে এ সৌন্দর্যের সাথে বাড়তি পাওনা হবে নানান বয়সী জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য।  শুধু সমুদ্র সৈকতই নয়, কক্সবাজার শহরের বৌদ্ধ মন্দির, বার্মিজ মার্কেট, হিলটপ রেস্টহাউস ইত্যাদি কক্সবাজার ভ্রমণের অন্যতম দ্রষ্টব্য স্থান।  কক্সবাজার শহরের জাদি পাহাড়ের উপরে রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির।

শহরের যে কোন জায়গা থেকেই রিকশায় আসা যায় এখানে।  সান বাঁধানো সিঁড়ি ভেঙ্গে জাদির পাহাড়ের উপরে উঠলে সাদা রঙের এসব বৌদ্ধ প্যাগোডা দেখে ভালো লাগবে।  এই পাহাড়ের উপর থেকে কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন স্থান দেখতে পাওয়া যায়।   কাঠের তৈরি প্রাচীন এ বৌদ্ধ মন্দিরটি দেখে আসতে ভুলবেন না।  কক্সবাজারে থাকার জন্য এখন অনেক আধুনিক হোটেল মোটেল রয়েছে।

হিমছড়ি-কক্সবাজার শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে এক সমুদ্র সৈকত, হিমছড়ি।  এখানকার সৈকতের চেয়েও আকর্ষণীয় হলো এর ভ্রমণ পথ।  সৈকত লাগোয়া আকাশ ছোঁয়া পাহাড় এখানের অন্যতম আকর্ষণ।

হিমছড়ির পাহাড়ের হিম শীতল ঝরণাও বেশ আকর্ষণীয়।  কক্সবাজার সৈকত থেকে সবসময়ই খোলা জীপ ছাড়ে হিমছড়ির উদ্দেশ্যে।  জনপ্রতি ভাড়া ৫০-৭০ টাকা।  আর রিজার্ভ নিলে লাগবে ১২০০-১৫০০ টাকা।

এছাড়া রিকশা করেও যাওয়া যায় হিমছড়িতে।  যাওয়া আসার ভাড়া লাগবে ১৫০-২৫০ টাকা।  আর ব্যাটারি চালিত রিকশায় গেলে যাওয়া আসার ভাড়া পড়বে ৪০০-৬০০ টাকা।

ইনানী সমুদ্র সৈকত-হিমছড়ি ছাড়িয়ে প্রায় আট কিলোমিটার পুবে আরেক আকর্ষণীয় সৈকত ইনানী।  এখানে রয়েছে বিস্তীর্ণ পাথুরে সৈকত।  সমুদ্র থেকে ভেসে এসে এখানকার ভেলাভূমিতে জমা হয়েছে প্রচুর প্রবাল পাথর।  এখানে এলে মিল খুঁজে পাওয়া যায় সেন্টমার্টিন সমুদ্র সৈকতের সঙ্গে।  রিজার্ভ জীপ নিলে লাগবে ১৮০০-২৫০০ টাকা।  একটি জীপে ১০-১৫জন অনায়াসেই ঘুরে আসা যায়।  দু তিন জন হলে ব্যাটারি চালিত রিকশা নিয়েও যেতে পারেন।  সারাদিনের জন্য সে ক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে ৮০০-১০০০টাকা।

সোনাদিয়া দ্বীপ-কক্সবাজারের বিপরীতে আরেকটি আকর্ষণীয় দ্বীপ সোনাদিয়া।  শীতে প্রচুর অতিথি পাখির দেখা মেলে এখানে।  প্রায় ৪৬৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ দ্বীপটিতে কক্সবাজার থেকে গিয়ে আবার সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসা সম্ভব।  আর যেতে হবে ইঞ্জিন বোটে। সমূদ্র বেষ্টিত কুতুবদিয়া দ্বীপ

কুতুবদিয়া-কক্সবাজার জেলার আরেকটি দর্শনীয় স্থান কুতুবদিয়া দ্বীপ।  প্রায় ২১৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ দ্বীপে দর্শনীয় স্থান হলো প্রাচীন বাতিঘর, কালারমা মসজিদ এবং কুতুব আউলিয়ার মাজার।  কক্সবাজারের কস্তুরী ঘাট থেকে ইঞ্জিন বোট কিংবা স্পিড বোটে কুতুবদিয়া যাওয়া যায়।  স্পিড বোটে সময় লাগে ৪৫ মিনিট আর ভাড়া ১৫০-২০০ টাকা।  আর ইঞ্জিন বোটে সময় লাগে ২ ঘন্টার মতো আর ভাড়া ৫০-৭০ টাকা।

রামু-কক্সবাজার শহরের পার্শ্ববর্তী একটি থানা রামু।  এখানে রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বেশ কিছু কেয়াং ও প্যাগোডা।  এসবের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো লামারপাড়ার বৌদ্ধ কেয়াং, রামকোট হিন্দু মন্দির বৌদ্ধ কেয়াং। কক্সবাজারের কলাতলী থেকে জিপে কিংবা মাইক্রোবাসে এখানে আসতে পারেন।  ভাড়া পড়বে ৩৫-৪০ টাকা।

টেকনাফ-পাহাড়, নদী আর সমুদ্রের অনন্য এক মিলনস্থল বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের ভূমি টেকনাফ।  কক্সবাজার থেকে সড়কপথে এ জায়গাটির দূরত্ব প্রায় ৮৫ কিলোমিটার।  নাফ নদী বাংলাদেশ ও মায়ানমারকে এখানেই পৃথক করেছে।  পাহাড়ের উপর থেকে নাফ নদীর অপরূপ সৌন্দর্য বিরল দৃশ্য।  টেকনাফের সমুদ্র সৈকতটিও খুবই সুন্দর।

বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন সৈকত বলা যায় এটিকে।  এছাড়া এখানকার ঐতিহাসিক মাথিনের কূপ,শাহ পরীর দ্বীপ, কুদুম গুহা, টেকনাফ নেচার পার্ক উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান।  কক্সবাজার থেকে বাস ও মাইক্রোবাসে টেকনাফ আসা যায়।  বাসে এখানকার ভাড়া ৮০-১২০ টাকা।  আর মাইক্রোবাসে ১০০-১৫০ টাকা।

কক্সবাজার থেকে টেকনাফের বাস ছাড়ে আন্তজিলা বাস টার্মিনাল থেকে আর মাইক্রোবাসগুলো শহরের কলাতলী এবং টেকনাফ বাইপাস মোড় থেকে ছাড়ে।  থাকার জন্য পর্যটন মোটেল নে টং ছাড়া এখানে আছে সাধারণ মানের কয়েকটি হোটেল।  নে টং এ প্রতিদিনের রুম ভাড়া ১০০০-১৫০০টাকা।  আর অন্যান্য সাধারণ মানের হোটেলে ৩০০-৫০০ টাকায় থাকার ব্যবস্থা আছে।

কীভাবে যাবেন-সড়কপথে ও আকাশ পথে সরাসরি কক্সবাজার আসা যায়।  এ পথে এস আলম, সৌদিয়া, শ্যামলী, ইউনিক ইত্যাদি পরিবহনের নন এসি বাসে ভাড়া ৫০০-৬৫০ টাকা।  গ্রীন লাইন, সোহাগ, সৌদিয়া এস আলম ইত্যাদি পরিবহনের এসি বাসে ভাড়া ৯৫০-১২৫০ টাকা।  এছাড়া ঢাকা থেকে বাংলাদেশ বিমান, ইউনাইটেড এয়ার ও জিএমজি এয়ারের বিমানে সরাসরি যেতে পারেন কক্সবাজার।

কোথায় থাকবেন-কক্সবাজারে থাকার জন্য এখন প্রচুর হোটেল রয়েছে।  ধরন অনুযায়ী এ সব হোটেলের প্রতি দিনের রুম ভাড়া ৩০০- ৫০০০ টাকা।  পাঠকদের সুবিধার জন্য নিচে কয়েকটি হোটেলের ফোন নম্বর দেয়া হলো।

কক্সবাজারে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের রয়েছে হোটেল শৈবাল, ফোন- ৬৩২৭৪।  মোটেল উপল, ফোন- ৬৪২৫৮।  মোটেল প্রবাল, ফোন- ৬৩২১১।  মোটেল লাবনী, ফোন- ৬৪৭০৩।

পর্যটন করপোরেশনের ঢাকাস্থ হেড অফিস থেকেও এসব হোটেলের বুকিং দেয়া যায়।  যোগাযোগ: ৮৩-৮৮, মহাখালী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা।  ফোন- ৯৮৯৯২৮৮-৯১।

এছাড়া অন্যান্য হোটেল হলো-হোটেল সি গাল, (পাঁচ তারা), ফোন- ৬২৪৮০-৯১, ঢাকা অফিস ৮৩২২৯৭৩-৬।  হোটেল সায়মন, ফোন-৬৩২৩৫, ঢাকা অফিস ৮৬১৪৫৬৫।  হোটেল সি কুইন, ফোন- ৬৩৭৮৯, ৬৩৮৭৮।  হোটেল সাগর গাঁও লি. ফোন- ৬৩৪৪৫, ৬৩৪২৮।  সুগন্ধা গেস্ট হাউস, ফোন- ৬২৪৬৬।  জিয়া গেস্ট ইন, ফোন- ৬৩৯২৫।  হোটেল সি হার্ট, ফোন- ৬২২৯৮।  হোটেল ডায়মন্ড প্লেস এন্ড গেস্ট হাউস, ফোন- ৬৩৬৪২।  গেস্ট কেয়ার লি. ফোন- ৬৩৯৩০।  হোটেল প্যানওয়া লি ফোন- ৬৪৪৩০।  কক্সবাজারের এনডব্লিউডি কোড-০৩৪১।

দার্জিলিং সৌন্দর্যের লীলাভূমি

পর্যটন ডেস্ক- প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি দার্জিলিং। মানুষ আর প্রকৃতি মিলেমিশে যেন একাকার। এখানকার পাহাড়ের গায়ে গায়ে গড়ে উঠেছে জনপদ।

চারদিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। হিমালয়ের কোলে অসাধারণ সৌন্দর্যের মেঘের দেশ পাহাড়কন্যা দার্জিলিং।

ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার ফুট ওপরে দার্জিলিং শহরটি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ, প্রাচুর্যেভরা, পশু-পাখি, অপরূপ পাহাড়ি অঞ্চল, চা বাগান, পাহাড়ের গায়ে ছোট ছোট ঝরনা।

পাহাড়ের চারদিকে অসংখ্য ঘরবাড়ি। শহরের রাস্তা কোথাও উঁচু, আবার কোথাও নিচু। মেঘের কণা ভেদ করে আঁকাবাঁকা পথের ধারে পুরো দার্জিলিং শহর।

অপরূপ সৌন্দর্যের একটি অসাধারণ প্রাকৃতিক লীলাভূমি- সবকিছুতেই মুগ্ধতা, এ যেন পৃথিবীর বুকে এক টুকরো স্বর্গ। ভারত বর্ষের ঐতিহাসিক এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত, পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুর মধ্যে অন্যতম দার্জিলিং। ভারতের উত্তর-পূর্ব অংশের দার্জিলিং পাহাড়ি চূড়ায় ৬ হাজার ৯৮০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত- হিমালয়ের পাদদেশে মেঘের চাদরে আবৃত স্বপ্নময় এক শহর।

 

প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক দার্জিলিংয়ে ছুটে আসেন। শহরের আবহাওয়া একটু ব্যতিক্রম। শহরটিতে বেশিরভাগ সময়ই বিরাজ করে কনকনে শীত ও ঠাণ্ডা বাতাস।

বছরের ৯ মাসই থাকে ঠাণ্ডা। মনে হবে মেঘাচ্ছন্ন পরিবেশে নিজহাতে ছোঁয়া যাবে মেঘমালাকে। দার্জিলিং শহরের টাইগার হিল থেকে খুব কাছে কাঞ্চনজঙ্ঘা চোখে পড়ে। কাঞ্চনজঙ্ঘা মন কারে হাজারও পর্যটকের। শহরে চোখে পড়ে নারীদের পসরা সাজিয়ে বসার দৃশ্য। বিক্রি হচ্ছে কাশ্মীরি শাল চাদর। কেনাকাটায় ব্যস্ত পর্যটকরা।

 

শহরের দর্শনীয় স্থানের মধ্যে অন্যতম টাইগার হিল, রক গার্ডেন, চিড়িয়াখানা, বাতাসিয়া লুপ, মহাকাল মন্দির, টয় ট্রেন, ঘুম রেল স্টেশন ও নেপালি কবি ভানু ভক্তের মূর্তি।

পৃথিবীর অন্যতম উঁচু রেল স্টেশন ঘুম। তার উচ্চতা ৬ হাজার ৯শ’ ফুট। এখান থেকে দেখা যায় পুরো দার্জিলিং শহর। শহরের টয় ট্রেনে চরে দার্জিলিং শহরের আট কিলোমিটার ঘুরতে পারেন পর্যটকরা।

 

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে দার্জিলিংয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা কবিরুল ইসলাম (৪০) বলেন, ‘ঢাকা শহরের শত ব্যস্ততা কাটাতে একা দার্জিলিং শহরে ছুটে এসেছি। শহরের দর্শনীয় স্থান ঘুরে ঘুরে দেখব।’

রংপুর শহরের ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির (৪৫) বলেন, ‘ব্যবসায়িক কাজে কলকাতা এসেছি। কাজ শেষে দার্জিলিং শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য এসেছি।’

দার্জিলিং শহরের স্থানীয় টাটা সেমু ড্রাইভার সুদিব (২৫) বলেন, ‘আগের তুলনায় বর্তমানে পর্যটকের সংখ্যা কম। শীতের পর পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছি। পর্যটকের ওপরে আমাদের নির্ভর করতে হয়।’

শীতে ঘুরে আসুন রাঙ্গামাটি

শীতকালকে পাহাড় ভ্রমণের আদর্শ সময় বলা হয়। তাই শীতকালে রাঙ্গামাটি হাজার পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। এ শীতে সৌন্দর্যের রানি রাঙ্গামাটি আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। সুতরাং আর দেরি নয়, এখনি ঘুরে আসুন।

শুভলং
পর্বতপ্রেমীরা যেতে পারেন শুভলং। কিন্তু শীত মৌসুমে ঘুমিয়ে থাকে এখানকার পাহাড়ি ঝর্ণাগুলো। রিজার্ভ বাজার থেকে জাহাজে করে শুভলং যেতে হবে। শুভলংয়ের পাহাড়ের উপরে উঠে রাঙ্গামাটির প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে পারেন।

ঝুলন্ত ব্রিজ
নয়নাভিরাম ঝুলন্ত সেতুটি দুটি পাহাড়ের মধ্যে গড়ে দিয়েছে সম্পর্ক। পারাপারের সময় কাঁপুনি আপনাকে এনে দেবে ভিন্ন দ্যোতনা। এখানে দাঁড়িয়ে কাপ্তাই হ্রদের মনোরম দৃশ্য দেখতে পারবেন। ওপারেই রয়েছে আদিবাসী গ্রাম।

বীরশ্রেষ্ঠের সমাধি
এখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ। শহর থেকে জলপথে একঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত বুড়িঘাটে এ সমাধি অবস্থিত। ইতিহাস সচেতনরা বীরের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পাবেন অপূর্ব এই সুযোগ।

রাজবাড়ী
রাঙ্গামাটি এসে চাকমা রাজবাড়ী দেখতে পাবেন। চাকমা রাজার পুরনো বাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখবেন।

রাজবন বিহার
রাজবাড়ী সংলগ্ন রাজবনবিহার দেখতে মোটেও ভুলবেন না। রাজবন বিহারের মনমুগ্ধকর নির্মাণশৈলী আপনাকে অবাক করে দেবে।

বৌদ্ধ ভিক্ষু
এখানে ধ্যানমগ্ন বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দেখা পাবেন। গেরুয়া রঙের কাপড় পরিহিত নির্জন প্রিয় ভিক্ষুদের জীবনাচরণ সত্যিই অনুসরণ করার মতো।

যেভাবে যাবেন
বাংলাদেশের যেকোন প্রান্ত থেকেই রাঙ্গামাটি যাওয়া যায়। রাঙ্গামাটি বাস টারমিনালে নেমে আধা ঘণ্টার ব্যবধানে পাবেন পাহাড়িকা বা লোকাল বাস।

আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য আছে বিলাসবহুল সার্ভিস।

এছাড়া নিজস্ব গাড়ি বা ভাড়া করা মাইক্রো, কার, ক্যাব নিয়েও যেতে পারেন।

যেখানে থাকবেন
পর্যটকদের থাকার জন্য ভালো মানের কিছু হোটেল আছে।

কড়াই বিল একটি দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র দিনাজপুরে

লেখক, রিয়াজুল ইসলাম-অতিথি পাখিদের মুখরিত কলতান ও জলকেলির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে করাইবিল ভ্রমনে। শীতের শুরুতে সূদুর সাইবেরিয়াসহ শীত প্রধান দেশের অথিতি পাখিরা এসেছে। এসব পাখির মধ্যে প্রধানত বালি হাঁস, পানকৌড়ি, সরলিসহ বিভিন্ন জাতের পাখির সমাগম অন্যতম। বিলের গাছপালাসহ জলাশয়ে বিভিন্ন জাতের অথিতি পাখির কিচির-মিচির শব্দে এলাকা মুখরিত। কিন্ত এবার শীতে পাখির আগমন কম হলেও থেমে নেই প্রতিদিন প্রকৃতি প্রেমি নারী-পুরুষসহ নানা বয়সের দর্শণাথীদের আগমন। বিলের পাড়ের ছায়া ঘেরা পরিবেশে শীত উপেক্ষা করেও অথিতি পাখির উড়া উড়ি , কিচির-মিচির শব্দ ও জলকেলির দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয় তারা।
বিলের চারপাশে বিভিন্ন ধরনের সবুজ গাছ-গাছালি রয়েছে। ঐ বিলের পাড় দিয়ে যেতে যেতে চোখে পড়বে পাড়ের পাশ্বে সারিবদ্ধ টুল-চেয়ার। এগুলোতে বসে  পর্যটকরা কড়াই বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করে। এছাড়া বিলের পাড় দিয়ে যেতে যেতে পাশে দেখতে পাবে টোমেট, কুমড়া, ধনেয়াপাতা ও নানান ধরনে ওষধী ও ফুলের গাছ।
দিনাজপুরের জেলাশহর থেকে ৮ কি:মি: পশ্চিমে বিরল উপজেলা। আর বিরলের পশ্চিমে মাত্র ১ কিলোমিটার পশ্চিমে নাড়াবাড়ী রোর্ড সংলগ্ন হুসনা গ্রামের নীরিবিলি পরিবেশে অবস্থিত বিরলের মুক্তিযোদ্ধা সমিতির কড়াইবিল। পুরো কড়াইবিল জুড়ে রয়েছে প্রাকৃতিক দৃশ্য চোখে পড়ার মত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য এবং মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাবলম্বী করার কারণে কড়াইবিল কতৃপক্ষ ইতিমধ্যে বিলটি সরকার কতৃক স্বর্ণপদকে ভূষিত হয়েছে। কড়াই বিলের মুল জলাশয় বিলের পাড়সহ ১৮ একর। এছাড়াও পাশেই রয়েছে প্রায় ৫৬ একর খাস আবাদি জমি। পুরসম্পত্তিটাই স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সরকার কড়াইবিল সমবায় সমিতিকে দান করে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে ১৬ ই এপ্রিল এটি তৎকালীন সরকার বিরল থানা মুক্তি যোদ্ধাদের রেজিষ্টি করে দেন। রেজিঃ নং ৭৭১। তারা বিরল থানা মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতি লিঃ গঠন করে দর্শনীয় স্থান কড়াই বিল প্রকল্প তৈরি করেছেন। বিরল থানার মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতির সভাপতি প্রমথ আব্দুল কাশেম (অরু) ও সাধারন সম্পাদক আব্দুল রহমান আলী। মোট ১৫০ জন এই সমিতির সদস্য রয়েছে তারা কড়াই বিল পরিচালনা করে। শিশু আকাশমনি দেশীকড়াই, আমলকি, মেহেগুনি, আম, কাঠাঁল, জাম, বেল সব মিলিয়ে ১.৫০০ গাছ রয়েছে। এখানে গেষ্ট হাউস নির্মানের কাজ চলছে।

বেড়িয়ে আসুন নিঝুম দ্বীপ

পর্যটন ডেস্ক-নিঝুম দ্বীপ বাংলাদেশের দক্ষিণে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অর্ন্তগত ছোট একটি দ্বীপ। সবাই এটিকে দ্বীপ হিসেবে উল্লেখ করলেও এটি আসলে সাগরের মোহনার অবস্থিত একটি চর। নোয়াখালীর দক্ষিণে মূল হাতিয়া পেরিয়ে এ দ্বীপে পৌঁছাতে পাড়ি দিতে হয় প্রমত্তা মেঘনা নদী।

বঙ্গোপসাগরের কোলে উত্তর ও পশ্চিমে মেঘনার শাখা নদী, আর দক্ষিণ এবং পূর্বে সৈকত ও সমুদ্র বালুচর বেষ্টিত ছোট্ট সবুজ ভূখণ্ড নিঝুম দ্বীপ অতি অল্প সময়ের মধ্যেই পর্যটকদের নিকট দর্শনীয় স্থান হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। নিঝুম দ্বীপ সত্যিই নিঝুম। এখানে নেই পর্যটনের চাকচিক্য, বাতির ঝলক কিংবা যান্ত্রিক কোনো বাহনের বিকট শব্দ।

ইতিহাস থেকে যতদূর জানা যায়, নিঝুম দ্বীপের পূর্ব নাম ছিলো চর ওসমান। ওসমান নামের একজন বাথানিয়া তার মহিষের বাথান নিয়ে প্রথম নিঝুম দ্বীপে বসতি গড়েন। তখন তার নামেই এই দ্বীপটির নামকরণ করা হয়। পরবর্তীতে হাতিয়ার একজন সাংসদ এই নাম বদলে দ্বীপটির নাম নিঝুম দ্বীপ রাখেন।

স্থানীয় বনবিভাগের মতে, ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে প্রায় ১৪,০০০ একরের এই চরটি জেগে ওঠে। ১৯৭০ সালের আগে পর্যন্ত এখানে লোকজনের বসবাস ছিলো না। ১৯৭০ সালে বনবিভাগ এই দ্বীপে তাদের কার্যক্রম শুরু করে চার জোড়া হরিণ অবমুক্ত করণের মাধ্যমে।

পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে এক হরিণশুমারীতে পাওয়া তথ্যে জানা যায় সেই ১৯৭০-১৯৯৬ এই ২৬ বছরে হরিণের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ২২,০০০ এ। সেই থেকে এই দ্বীপটিকে হরিণের অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বর্তমানেও অসংখ্য হরিণ রয়েছে দ্বীপটিতে।

অন্য আরেকটি সূত্র হতে জানা যায়, ১৯৪০-এর দশকে এ দ্বীপটি বঙ্গোপসাগর হতে জেগে ওঠা শুরু করে। চর গঠনের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে ৪০-এর দশকের শেষদিকে নিঝুম দ্বীপ তৃণচর বা গোচারণের উপযুক্ত হয়ে ওঠে। মাছ ধরতে গিয়ে হাতিয়ার জেলেরা নিঝুম দ্বীপ আবিষ্কার করে। ৫০-এর দশকের মাঝামাঝি নিঝুম দ্বীপে জনবসতি শুরু হয়। মূলত হাতিয়ার জাহাজমারা ইউনিয়ন থেকে কিছু জেলে পরিবার প্রথম নিঝুম দ্বীপে আসে। নিঝুম দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় প্রচুর ইছা মাছ (চিংড়ি মাছ) ধরা পড়ত বিধায় জেলেরা এ দ্বীপের নাম দেয় ‘ইছামতির দ্বীপ’।

এ দ্বীপটিতে মাঝে মাঝে বালির ঢিবি বা টিলার মতো ছিল বিধায় স্থানীয় লোকজন এ দ্বীপকে বাইল্যার ডেইল বলেও ডাকত। কালক্রমে ইছামতি দ্বীপ নামটি হারিয়ে গেলেও স্থানীয় লোকেরা এখনো এ দ্বীপকে বাইল্যার ডেইল বলেই সম্বোধন করে।

---

দ্বীপটির নৈগর্গিক সৌন্দর্য সমুদ্রের বুকে হেলে পড়ে অস্তগামী সূর্য, পাখির কলতান যেনো হাজার বছরের নিস্তব্ধতাকেও জাগিয়ে তুলতে সক্ষম। ঝাকে ঝাকে মায়াবী হরিনের পদচারনায় মুখরিত এই জনপদ। যেদিকে চোখ যায় যতদূর চোখ যায় কেবল সারি সারি কেওড়া গাছ আর তার কোল ঘেষে বয়ে চলা নদী মুহুর্তেই মায়াবী জাদুর বন্ধনে বেধে ফেলে পর্যটকদের মন। সমুদ্রের বুক থেকে শুরু হয়ে সরু খাল ধরে গহীন বনের বুক চিরে এই দ্বীপটি অবস্থিত। চারিপাশে সবুজের বিচরণ। সেই সাথে রয়েছে সমুদ্রের স্বচ্ছ নোনা জল। চলতি পথে পানির নিচের সবুজ দৃশ্য ও মাছেদের ছুটোছুটির দৃশ্য দেখে পর্যটকদেরকে বারবার পানিতে ঝাপিয়ে পড়ার ইচ্ছে জাগিয়ে তোলে।

নিঝুম দ্বীপে পর্যটকদের জন্য ওয়েলকাম ড্রিংকস হিসেবে রয়েছে কচি ডাবের পানি। তবে এখানে ডাব বিক্রির জন্য কোনো হকার নেই। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে গাছ থেকে ডাব পাড়িয়ে খেতে হয়।

---

নিঝুম দ্বীপে পৌছে প্রথমেই পর্যটকরা হরিণ দর্শনের জন্য ছুটে যায় স্থানীয় কেওড়াবনের দিকে। হাজার হাজার হরিণের পদচারণায় মুখরিত থাকে এই বনটি। হরিণ দর্শনের জন্য এখানে রয়েছে ইঞ্জিন চালিত নৌকার ব্যবস্থা। নৌকায় করে সাগরের মোহনা থেকে সরু খাল ধরে বনের ভেতর যতদূর যাওয়া যায় শুধু সবুজ আর সবুজ, সেই সাথে গাছের ফাকে ফাকে দেখা মিলবে ঝাকে ঝাকে হরিণের পালের। সবল সতেজ হরিনের ছুটে চলা সে এক অপরূপ দৃশ্য। যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কষ্টকর।

উল্লেখ্য এই দ্বীপটির কোথাও বালুর তেমন দেখা না মিললে আশ্চর্য হবার কোনো কারণ নেই। কেননা ভৌগোলিক কারণেই পুরো দ্বীপটাই কর্দমাক্ত মাটি দিয়ে গঠিত। বর্ষার সময় তা আরও প্রকট আকার ধারণ করে।

নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণের সবচাইতে উপযুক্ত সময় হলো শীতকাল। বর্ষাকালে গেলে কাদায় গোসল করার ১০০% সম্ভাবনা রয়েছে। আর গ্রীষ্মকালে গেলে মোকাবেলা করার সম্ভাবনা রয়েছে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের। সবদিক বিবেচনা করে শীতকালটাই নিঝুম দ্বীপ ভ্রসমণের জন্য সবচাইতে উপযুক্ত সময়।

তবে এই দ্বীপ এলাকায় জলদস্যুদের কিছুটা ভয় রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তারা বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করে থাকে। অবশ্য এই সমস্যা সব সময় হয় না। বর্তমানে প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টির কারণে জলদস্যুদের প্রকোপ অনেকটাই কমে গিয়েছে।

যাতায়াত ব্যবস্থা

ঢাকা থেকে নিঝুম দ্বীপে যাওয়ার সবচাইতে সহজ মাধ্যম হলো লঞ্চ। ঢাকার সদরঘাট থেকে এমভি পানামা-২ (০১৯২৪-০০৪৬০৮) ও এমভি টিপু-৫ (০১৭১১৩৪৮৮১৩) লঞ্চ দুটি ঢাকা-হাতিয়া রুটে চলাচল করে।

ঢাকা থেকে ছাড়ে বিকাল ৫ টায় এবং হাতিয়ার তমরুদ্দি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ে দুপুর সাড়ে বারোটায়। লঞ্চে যেতে মোটামুটি খরচ হয় এরকম ভাড়া ডেক ২০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ৭০০ টাকা, ডাবল কেবিন ১২০০ টাকা এবং ভিআইপি কেবিন ১৬০০ টাকা।

সদরঘাট থেকে লঞ্চযোগে তমরুদ্দি ঘাটে নামতে হয়। সেখান থেকে নিঝুম দ্বীপে যাওয়ার জন্য ইঞ্জিন চালিত ট্রলার রয়েছে। নিঝুম দ্বীপে দুটি ঘাট রয়েছে। একটি হচ্ছে নামার ঘাট এবং অন্যটি বন্দরটিলা ঘাট। নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণে গেলে নামার ঘাটে নামাই সুবিধাজনক। কেননা এখানে রিসোর্ট রয়েছে। তমরুদ্দি লঞ্চ ঘাট থেকে নামার ঘাটে যেতে সময় লাগে ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট থেকে ২ ঘন্টা ৪৫ মিনিটের মতো।

ভাড়া ভ্রমণকরীর সংখ্যার উপর নির্ভর করে। যেমন – ১৫ থেকে ২০ জন লোক একসাথে একটি ট্রলার রিজার্ভ করলে আপডাউন ভাড়া পড়ে ৬,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকার মতো।

আবার ২০ থেকে ৩০ জন লোক একসাথে একটি ট্রলার রিজার্ভ করলে আপডাউন ভাড়া পড়ে ৮,০০০ থেকে ৯,০০০ টাকার মতো। এছাড়া তমরুদ্দি ঘাট থেকে সড়ক পথে নিঝুম দ্বীপে যাওয়া যায়।

এছাড়া সড়কপথে তমরদ্দী লঞ্চঘাট থেকে নিঝুম দ্বীপ যেতে চাইলে, তমরদ্দী বাজার থেকে টেম্পুতে জাল্যাখালী (জালিয়াখালী) ঘাট অথবা বাসে করে জাহাজমারা ঘাটে এবং সেখান থেকে রিক্সাতে জাল্যাখালী (জালিয়াখালী) ঘাটে যেতে হবে। জাহাজমারা ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে সোজা বন্দরটিলা ঘাট।

আগেই বলেছি নিঝুম দ্বীপের ঘাট দুইটি। এবং মূল ঘাট হচ্ছে নামার বাজার ঘাট। তাই বন্দরটিলা ঘাট থেকে যেতে হবে নামার বাজার। ভাড়া ১৫০ টাকার মতো পড়ে।

এছাড়া যারা ঢাকা থেকে সড়ক পথে যেতে চান তাদের জন্য ঢাকার যাত্রাবাড়ী তথা সায়েদাবাদ থেকে রয়েছে নোয়াখালীর বাস। ঢাকা থেকে প্রথমে যেতে হয় মাইজদী সোনাপুর। সোনাপুর থেকে যেতে হবে চেয়ারম্যান ঘাট। সোনাপুর থেকে চেয়ারম্যান ঘাটের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। যানবাহন হিসেবে রয়েছে বাস, টেম্পু ও টু-স্ট্রোক বেবিট্যাক্সি। সোনাপুর থেকে থেকে চেয়ারম্যান ঘাট যেতে বেবিতে ভাড়া পড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মতো।

চেয়ারম্যান ঘাট পৌছে সেখান থেকে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার অথবা সী ট্রাকে করে প্রথমে হাতিয়া চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যেতে হয় হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে। তারপর নলচিরা ঘাট থেকে যেতে হয় দক্ষিণদিকে জাহাজমারা নামক ঘাটে।

সময় লাগে ৩০ মিনিটের মতো। আবার জাহাজমারা থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় করে যেতে হয় নিঝুম দ্বীপে। তবে, দলবেধে গেলে সরাসরি চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ট্রলার রিজার্ভ করে নিঝুম দ্বীপে যাওয়া যায়। উল্লেখ্য এই পথে নিঝুম দ্বীপে যাওয়ার সময় জোয়ারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

ট্রেনে করে যেতে চাইলে প্রথমে কমলাপুর রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে নোয়াখালী রেলওয়ে ষ্টেশন যেতে হবে। এরপর বাসে নোয়াখালী চেয়ারম্যান ঘাট হয়ে উপরের রুট অনুযায়ী নিঝুম দ্বীপে যাওয়া যায়। এ ছাড়া বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সদরঘাট থেকেও সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে চট্টগ্রাম থেকে একটি জাহাজ হাতিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

থাকার ব্যবস্থা

নিঝুম দ্বীপে ভ্রমণে যাওয়ার আগে ঢাকা থেকেই সেখানে থাকার ব্যবস্থা ঠিক করে যাওয়া ভালো। নাহলে পরবর্তীতে সেখানে গিয়ে নানা ধরনের বিপত্তিতে পড়তে হয়। পর্যটকদের থাকার জন্য নিঝুম দ্বীপে নিঝুম রিসোর্ট নামে একটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এখানে ৯টি দুই ও তিন বেডের রুম রয়েছে।

এছাড়া ২২ বেড বিশিষ্ট ৩টি ডরমিটরি রয়েছে। এখানে থাকতে হলে ঢাকায় অবকাশ পর্যটন লি: এ যোগাযোগ করতে হয়। এই অফিসটি ঢাকার ১৭ নিউ ইস্কাটন রোডের আলহাজ্জ সামসুদ্দিন ম্যানশন এর নবম তলায় অবস্থিত। ফোন: ০১৫৫২৩৭২২৬৯, ৮৩৫৮৪৮৫, ৯৩৪২৩৫১, ৯৩৫৯২৩০।

নিঝুম রিসোর্টে প্রতিটি দুই বেডের রুমের ভাড়া ১,০০০ টাকা এবং প্রতিটি ৩ বেডের ফ্যামিলি রুমের ভাড়া ২,০০০ টাকা। আর ১২ বেডের ডরমিটরি রুমের ভাড়া ২,৪০০ টাকা এবং ৫ বেডের ডরমিটরি রুমের ভাড়া ১,২০০ টাকা। উল্লেখ্য প্রতি রুমে একজন করে থাকতে পারে। রুম সংকট হলে সর্বোচ্চ দুই জন থাকতে পারে এবং সেজন্য অতিরিক্ত ১০০ টাকা পরিশোধ করতে হয়।

এছাড়া সরাসরি নিঝুম রিসোর্টেও যোগাযোগ করতে পারেন। নিঝুম রিসোর্টে যোগাযোগের ফোন নম্বর ০১৭২৪-১৪৫৮৬৪।এছাড়া মসজিদ বোর্ডিং নামে আরও একটি বোর্ডিং রয়েছে। এখানে সিঙ্গেল ও ডাবল মিলিয়ে ৮টি রুম রয়েছে। নিঝুম রিসোর্টে জেনারেটর ও এটাচর্ড বাথরুমের ব্যবস্থা থাকলেও এখানে জেনারেটর ও এটার্চড বাথরুমের কোনো ব্যবস্থা নেই।

মসজিদ বোর্ডিং এ যোগাযোগের ফোন নম্বর ০১৭২৭-৯৫৮৮৭৯।এখানে প্রতিটি সিঙ্গেল রুমের ভাড়া ১২০/১৫০ টাকা এবং ডাবল রুমের ভাড়া ২০০/২৫০ টাকা।

এছাড়াও এখানকার স্থানীয় বাজারে খুব সস্তায় অল্প দামে তিন-চারটি আবাসিক বোডিং রয়েছে। আরও রয়েছে বন বিভাগের একটি চমৎকার বাংলো। পাশেই আছে জেলা প্রশাসকের ডাক বাংলো। এগুলোতে আগে থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে থাকার ব্যবস্থা করা যায়।

খাওয়া-দাওয়া

স্থানীয় নামার বাজারে পর্যটকদের খাবার-দাবারের সব রকমের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে সকালের নাস্তা, দুপুর ও রাতের খাবার, চা, বিস্কুট সবকিছুই পাওয়া যায়।

ফুলবাড়ীতে র‌্যালী ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি-দিনাজপুর ফুলবাড়ীতে যথাযথ মর্যাদায় বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন করা হয়।

রোকেয়া দিবস উপলক্ষে ফুলবাড়ী উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে র‌্যালি ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

ফুলবাড়ী উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে শনিবার ০৯ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুস সালাম এর নেতৃত্বে উপজেলা চত্ত্বরে থেকে র‌্যালী বের করা হয়।

র‌্যালী শেষে উপজেলা চত্ত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রিতা মন্ডল এর সভাপতিত্বে আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুস সালাম চৌধুরী।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এটিএম হামিম আশরাফ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলাম,উপজেলা সমাজকল্যান অফিসার মোঃ আক্তারুজ্জামান,মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সমশের আলী মন্ডল,প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাফিউল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) শহিদুজ্জামান,এলুয়াড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মওলানা নবিউল ইসলাম, উপজেলা দূনীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোঃ নাজিমুদ্দিন মন্ডল মাস্টার,উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ স¤পাদক এম.এ কাইয়ুমসহ বিভিন্ন স্কুল/কলেজের শিক্ষক শিক্ষিকা,সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

সীতার কুঠুরি সংস্কারসহ আধুনিকীকরণ করা হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমণ ঘটবে

এম,এ সাজেদুল ইসলাম সাগর-দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক নিদর্শন সীতার কুঠুরি বৌদ্ধ বিহার অবহেলায়, অযতেœ সংরক্ষন ও সংস্কারের অভাবে বিলুপ্ত হতে চলেছে । পর্যটন কেন্দ্রের অপার সম্ভাবনাময় এই স্থানটি সীমানা বেষ্টুনী না থাকায় গোচারন ভূমিতে পরিনত হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ঐতিহাসিক এই নির্দশনের কক্ষগুলির বেশ কিছু স্থান ভেঙ্গে গেছে। বিহারের মুল ফটকটিতে গরু ছাগলের ছড়াছড়ি। দেখার যেন কেউ নেই।

নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যানের শালবনের সংলগ্ন এই নিদর্শনকে ঘিরে রামের পতœী সীতাকে নিয়ে যুগ যুগ ধরে এলাকায় চলে আসছিল গল্পকাহিনী। সীতাকে পঞ্চবটীর বনের গভীরে বনবাস দিয়ে তার থাকার জন্যে তৈরী করে দেয়া হয়েছিল একটি কুঠুরি। যা কিনা সীতার কুঠুরি নামে খ্যাত। কিন্তু ১৯৬৮ সালে প্রত্মতত্ত্ব বিভাগের অনুসন্ধানকারী নির্দশনের আংশিক অংশ খননের পর নিশ্চিত হয় এটা একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।

নবাবগঞ্জ উপজেলার সদর থেকে পশ্চিম দিকে বিরামপুর-নবাবগঞ্জ রাস্তার উত্তর পার্শ্বে গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের ফতেপুর মাড়াষ মৌজার প্রায় ২ একর ভুমির উপর অবস্থিত এ বিহারটি। এই বিহার পূর্ব পশ্চিমে লম্বা ২২৪ ফুট, উত্তর দক্ষিন প্রস্ত ২১২ ফুট। বিহারটিতে ছোট বড় কক্ষের সংখ্যা ৪১টি।

বিহারের ভিতরে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে একটি কুপ ছিল। বর্তমানে কুপটি ভরাট হয়ে গেছে। বিহারের বাইরে পুর্ব-দক্ষিণ দিকে পাশাপাশি অবস্থিত ৫টি কুটির দেখা যায়। সম্ভাবত এগুলো শৌচাগার হিসেবে ব্যবহার হত। মূল মন্দির ছিল দক্ষিণ দিকের মাঝখানে। নিপুন হাতের গাঁথুনী ইমারতের লম্বা, মধ্যম ও ছোট ইট এবং চুন সূরকী দ্বারা বিহারটি নির্মিত।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায় বিহারের উত্তর দিকে মাড়াষ গ্রামের মহিরউদ্দিনের পুত্র মোঃ তালেব আলী বিহারের পার্শ্বে জমি চাষ করতে গিয়ে জরাজীর্ণ একটি ধারালো অস্ত্র (বাইশ) কুড়িয়ে পান।

এ অস্ত্র দিয়ে ১/২ কোপে বনের বড় বড় শাল গাছ কাটা যেত। বিষয়টি বন বিভাগের লোকজন টের পেয়ে তালেব আলীকে জিজ্ঞাবাদ করলে তালেব আলী বন বিভাগের লোককে ওই অস্ত্রটি প্রদান করে। বন বিভাগের কর্মকর্তা অস্ত্রটি পরীক্ষার জন্য উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান। পরে জানা যায় অস্ত্রটি ছিল হীরার তৈরী।

বিষয়টি জানাজানি হলে আরও মুল্যবান প্রতœ তত্ত্ব মিলতে পারে বলে তৎকালীন দিনাজপুর জেলা পরিষদ নিজস্ব অর্থে বিহারটি খননের উদ্যোগ গ্রহন করে। চাকুরী দেয়া হয় তালেব আলীকে ওই বিহার পাহারা দেয়ার। কয়েক বছর পুর্বে তালেব আলী মারা যায়।

বর্তমানে তালেব আলীর পুত্র ঐ তার পিতার দায়িত্ব পালন করছে। খননের পর সে সময় বিহারের কিছু অংশ সংস্কার করা হয়। এর পরে আর কোন সংস্কার না হওয়ায় অযতেœ ও অবহেলায় বিহারটি বিলুপ্তির পথে যাচ্ছে।

বিহারের জায়গা অনেকে জবর দখল করে বাড়ী ঘর নির্মান করেছে বলেও এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। তবে যারা বাড়ী ঘর করে আছে তারা নিজেদের জমি বলে দাবী করছে। নয়নাভিরাম বৌদ্ধ বিহারটি সংস্কার করে দর্শনীয় স্থান হিসাবে গড়ে তোলা হলে সেখানে হতে পারে জনপ্রিয় পিকনিক কর্ণার এবং পর্যটন কেন্দ্র । যা থেকে আসতে পারে সরকারের ব্যাপক রাজস্ব আয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা মো. মাহাবুবুর আলম জানান, বিহারটি সংস্কারসহ আধুনিকায়ন করা হলে বিহারের ঐতিহ্য ফিরে আসবে এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমণ ঘটবে। উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. পারুল বেগম জানান, ঐতিহ্য ধরে রেখেছে বিহার। তিনিও সংস্কারসহ মেরামতের দাবি জানান।