রবিবার-২৬ জানুয়ারি ২০২০- সময়: দুপুর ১২:৩৬
গুরুদাসপুরে এক বৃদ্ধা খুন বিরামপুরে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত কাটলা হলি চাইল্ড স্কুল বিরামপুরে মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান দিদউফ বিরামপু‌রে দুস্থ শীতার্ত‌দের মা‌ঝে শীতবস্ত্র বিতরন বিরামপুরে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণ গণনার সূচনা বিরামপুরে ১২ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস খাওয়ানো হয়েছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সীতার কুটুরি গোচারণ ভূমিতে পরিণত কালো জাম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস, কালের পরিক্রমায় প্রতি বছরই হাজির হয় শীত দিনাজপুর হতদরিদ্র শীতার্থ মানুষের পাশে এগিয়ে এসেছে ডিএফএর

রংপুর newsdiarybd.com:

বিরামপুরে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত কাটলা হলি চাইল্ড স্কুল

বিরামপুর সংবাদদাতা-বিরামপুর উপজেলার কাটলা হলি চাইল্ড স্কুলের ১৬ জন শিক্ষার্থী এবারের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। জেএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাশের মাধ্যমে অর্জন করেছে আশাতীত সাফল্য।

জানা গেছে, উপজেলার সীমান্তবর্তী কাটলা ইউনিয়নে কলেজের পাশে ২০০১ সালে বেসরকারি ভাবে তৈরী করা হয় কাটলা হলি চাইল্ড স্কুল। প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকায় এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও শিশু শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত এর শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৫০০ জন।

কাটলা হলি চাইল্ড স্কুলের প্রধান শিক্ষক সায়েদ আলী সরকার জানান, ২০১৯ সালে এ স্কুল থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ৩৪জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে। তাদের মধ্যে ২৯জন জিপিএ-৫ এবং বাঁকীরা এ গ্রেডে পাশ করেছে। উপজেলার মেধা তালিকার সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা এ স্কুলের। অর্থাৎ ৫৭৫ থেকে ৫৯০ পর্যন্ত নম্বর প্রাপ্ত ১৬ জন শিক্ষার্থী কাটলা হলি চাইল্ড স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী।

জেএসসি পরীক্ষায় এ স্কুল থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে। তাদের শতভাগ পাশের মধ্যে ৯ জন জিপিএ-৫, ২৯ জন এ গ্রেড, ১জন এ- ও ১জন বি গ্রেডে পাশ করেছে।

আশানুরূপ ফলাফল প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক বলেন, কাটলা হলি চাইল্ড স্কুলের কোন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট বা কোচিং করতে হয়না; ক্লাসের পড়া ক্লাসেই সম্পন্ন করা হয়। শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠা ও শিক্ষার্থীদের আগ্রহে ভাল ফলাফল সম্ভব হয়েছে।

বিরামপুরে মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান

এম আই তানিম, বিরামপুর-মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ শীর্ষক দিন ব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠান করেছে বিরামপুর উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার (১১ জানুঃ) সকালে ঢাকা মোড়ে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় নেতাদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক নিবেদনের মাধ্যমে দিবসের সূচনা করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ, সুধি, সাংবাদিক ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আনন্দ শোভাযাত্রা নিয়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে সমবেত হন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, সহকারী পুলিশ সুপার মিথুন সরকার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেজবাউল ইসলাম ও উম্মে কুলছুম বানু, থানার ওসি মনিরুজ্জামান, অধ্যক্ষ শিশির কুমার সরকার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নাড়ু গোপাল কুন্ডু, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার, যুগ্ম সম্পদক গোলজার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মামুনুর রশীদ, উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী তাহমিনা বেগম নাইস, প্রবীণ রাজনীতিক আব্দুল আজিজ সরকার, প্রেসক্লাবের আহবায়ক একেএম শাহজাহান প্রমূখ। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আতশবাজির আয়োজন করা হয়।

দিদউফ বিরামপু‌রে দুস্থ শীতার্ত‌দের মা‌ঝে শীতবস্ত্র বিতরন

দিনাজপুর দ‌ক্ষিণাঞ্চল উন্নয়ন ফোরাম (দিদউফ) এর উ‌দ্যো‌গে অদ্য ১০ জানুয়ারী  শুক্রবার সকাল ১১টায় বিরামপু‌রে দুস্থ শীতার্ত‌দের মা‌ঝে শীত বস্ত্র (কম্বল) বিতরন করা হয়।

উক্ত শীতবস্ত্র বিতরন অনুষ্ঠা‌নে উপ‌স্থিত ছি‌লেন ‘‌দিদউফ’ এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোজা‌ম্মেল হক, বিরামপুর সরকা‌রি ক‌লে‌জের অধ্যক্ষ জনাব মোঃ ফরহাদ হো‌সেন, ‘দিদউফ’ এর নির্বাহী সদস্য মাহমুদুল হক মা‌নিক, শেখ হা‌বিবুর রহমান, রোজ গাডেন হাই স্কুল প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান, রাসেকুল ইসলাম রাশু  প্রমুখ।

উ‌ল্লেখ্য‌যে, দিনাজপুর দ‌ক্ষিণাঞ্চল উন্নয়ন ফোরাম (দিদউফ) এর উ‌দ্যো‌গে হা‌কিমপুর, ঘোড়াঘাট ও নবাবগঞ্জ উপ‌জেলা‌তেও শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরন করা হ‌য়ে‌ছে।

বিরামপুরে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণ গণনার সূচনা

মোঃ সামিউল আলম, বিরামপুর-জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপনের ক্ষণ গননা ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দিনাজপুরের বিরামপুরে নানা কর্মসূচী পালন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার “অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ”-শীর্ষক একটি র‌্যালী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের ঢাকামোড় হতে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে, শুক্রবার বিকেলে দেশব্যাপী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষণ গননার উদ্বোধনের সাথে সাথে বিরামপুর উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে ক্ষণ গননার উদ্বোধন করা হয়।

এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিথুন সরকার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেজবাউল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নাড়ু গোপাল কুন্ডু, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক গোলজার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন, থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান মনির, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, শিক্ষার্থীবৃন্দ, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ ও সুধীবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

বিরামপুরে ১২ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস খাওয়ানো হয়েছে

এম আই তানিম-বিরামপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ১৬৯টি কেন্দ্রের মাধ্যমে শনিবার (১১ জানুঃ) উৎসব মূখর পরিবেশে প্রায় ১২ হাজার ৩৪৫জন শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপস্যুল খাওয়ানো হয়েছে।

সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা খাওয়ানোর উদ্বোধন করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সোলায়মান হোসেন মেহেদী।

এসময় হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ আহসান আলী সরকার, ডাঃ মোহাম্মদ আলী হোসেন শাহ, এমটিইপিআই মাসুদ রানা সহ চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সীতার কুটুরি গোচারণ ভূমিতে পরিণত

এম. এ সাজেদুল ইসলাম সাগর-দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক নিদর্শন সীতার কুঠুরি  বৌদ্ধ বিহার অবহেলায়, অযত্নে সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে বিলুপ্ত হতে চলেছে।

পর্যটন কেন্দ্রের অপার সম্ভাবনাময় এই স্থানটি সীমানা বেষ্টুনী না থাকায় গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, ঐতিহাসিক এই নিদর্শনের কক্ষগুলির বেশ কিছু স্থান ভেঙ্গে গেছে। বিহারের মূল ফটকটিতে গরু ছাগলের ছড়াছড়ি। দেখার কেউ নেই।

নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যানের শালবনের সংলগ্ন এই নিদর্শনকে ঘিরে রামের পত্নী সীতাকে নিয়ে যুগ যুগ ধরে এলাকায় চলে আসছিল কল্পকাহিনী। সীতাকে পঞ্চবটীর বনের গভীরে বনবাস দিয়ে তার থাকার জন্যে তৈরী করে দেয়া হয়েছিল একটি কুঠুরি। যা কিনা সীতার কুঠুরি নামে খ্যাত। কিন্তু  ১৯৬৮ সালে প্রত্মতত্ত্ব বিভাগের অনুসন্ধানকারী নিদর্শনের আংশিক অংশ খননের পর নিশ্চিত হয় এটা একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।

নবাবগঞ্জ উপজেলার সদর থেকে পশ্চিম দিকে বিরামপুর-নবাবগঞ্জ রাস্তার উত্তর পার্শ্বে গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের ফতেপুর মাড়াষ মৌজার প্রায় ১ একর ভুমির উপর অবস্থিত এ বিহারটি। এই বিহার পূর্ব পশ্চিমে লম্বা ২২৪ ফুট, উত্তর দক্ষিণ প্রস্ত ২১২ ফুট।

বিহারটিতে ছোট বড় কক্ষের সংখ্যা ৪১টি। বিহারের ভিতরে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে একটি কুপ ছিল। বর্তমানে কুপটি ভরাট হয়ে গেছে। বিহারের বাইরে পুর্ব-দক্ষিণ দিকে পাশাপাশি অবস্থিত ৫টি কুটির দেখা যায়।

সম্ভাবত এগুলো শৌচাগার হিসেবে ব্যবহার হত। মূল মন্দির ছিল দক্ষিণ দিকের মাঝখানে। নিপুন  হাতের গাঁথুনী ইমারতের লম্বা, মধ্যম ও ছোট ইট এবং চুন সূরকী দ্বারা বিহারটি নির্মিত।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়  বিহারের উত্তর দিকে মাড়াষ গ্রামের মহিরউদ্দিনের পুত্র  মোঃ তালেব আলী বিহারের পার্শ্বে জমি চাষ করতে গিয়ে জরাজীর্ণ একটি  ধারালো অস্ত্র (বাইশ) কুড়িয়ে পান। এ অস্ত্র দিয়ে ১/২ কোপে বনের বড় বড় শাল গাছ কাটা যেত।

বিষয়টি বন বিভাগের লোকজন টের পেয়ে তালেব আলীকে জিজ্ঞাবাদ করলে তালেব আলী বন বিভাগের লোককে ওই অস্ত্রটি প্রদান করে। বন বিভাগের কর্মকর্তা অস্ত্রটি পরীক্ষার জন্য উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান। পরে জানা যায় অস্ত্রটি  ছিল হীরার তৈরী।

বিষয়টি জানাজানি হলে আরও মুল্যবান প্রতœতত্ত্ব মিলতে পারে বলে তৎকালীন দিনাজপুর জেলা পরিষদ নিজস্ব অর্থে বিহারটি খননের উদ্যোগ গ্রহণ করে। চাকরি দেয়া হয় তালেব আলীকে ওই বিহার পাহারা দেয়ার।

কয়েক বছর পুর্বে তালেব আলী মারা যায়। বর্তমানে তালেব আলীর পুত্র ঐ তার পিতার দায়িত্ব পালন করছে। খননের পর সে সময় বিহারের কিছু অংশ সংস্কার করা হয়। এর পরে আর কোন সংস্কার না হওয়ায় অযতেœ ও অবহেলায় বিহারটি বিলুপ্তির পথে যাচ্ছে।

বিহারের জায়গা অনেকে জবর দখল করে বাড়ী ঘর নির্মাণ করেছে বলেও এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। তবে যারা বাড়ী ঘর করে আছে তারা নিজেদের জমি বলে দাবি করছে।  নয়নাভিরাম বৌদ্ধ বিহারটি সংস্কার করে দর্শনীয় স্থান হিসাবে গড়ে তোলা  হলে সেখানে হতে পারে জনপ্রিয় পিকনিক কর্ণার এবং পর্যটন কেন্দ্র । যা থেকে আসতে পারে সরকারের ব্যাপক রাজস্ব আয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা মো. মাহাবুবুর আলম জানান, বিহারটি সংস্কারসহ আধুনিকায়ন করা হলে বিহারের ঐতিহ্য ফিরে আসবে এবং দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আগমন ঘটবে। উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. পারুল বেগম জানান, ঐতিহ্য ধরে রেখেছে বিহার। তিনিও সংস্কারসহ মেরামতের দাবি জানান।

দিনাজপুর হতদরিদ্র শীতার্থ মানুষের পাশে এগিয়ে এসেছে ডিএফএর

দিনাজপুর প্রতিনিধি- শীত নিবারনে হতদরিদ্র শীতার্থ মানুষের পাশে এগিয়ে এসেছে দিনাজপুর ফুটবল এসোসিয়েশন।

দিনাজপুর জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনরে পক্ষ থেকে শীতার্থ মানুষের মাঝে কম্বল বিতরন করা হলো।

২৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে শীতে কষ্ট পাওয়া বয়স্ক নারী পুরুষের মাঝে কম্বল তুলে দেন দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল।

এসময় ডিএফএর কর্মকতা আব্দুস সাত্তার, আবু ইবনে রজব, মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল, মাহফুজার রহমান, মোঃ মাসুদ রানা, মোঃ শহীদুল হক সেন্টু, মোঃ ফিরোজ হাসান, মোঃ তাজুল ইসলাম তাজু , ফেরদ্দৌস জাহাঙ্গীর মানিক, সেক্রেটারী।

চিরিরবন্দরে দিনব্যাপী পিঠা উৎসব

মোহাম্মাদ মানিক হোসেন-শীত-কুয়াশায় জমবে মেলা, পিঠা উৎসব সারাবেলা’ এই স্লোগানে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পিঠা শতবর্ষ উদযাপন কমিটির আয়োজনে বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপী এক পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পিঠা উৎসবে ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রী-শিক্ষিকা ও এলাকাবাসীর তৈরি করা ৬৫ পদের পিঠা প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ফিতা কেটে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা সিদ্দীকা। তিনি এ উৎসবে নানা পদের পিঠার সমাহারে সংশ্লিষ্ট ছাত্র-ছাত্রীদের ধন্যবাদ জানান।

এ সময় বিশেষ অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ( ভূমি) মো. মেজবাউল করিম, এবি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ডা. আমজাদ হোসেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এজিএম সারোয়ার প্রমূখ।

এছাড়া পিঠা উৎসবে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে উৎসবে চিরিরবন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শীতের কাপড় বিতরন করা হয়।

বন্ধের পর হিলি স্থলবন্দরে আবারও আমদানি-রপ্তানি শুরু

মোসলেম উদ্দিন,হিলি-দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে খ্রীস্টান ধর্মাম্বলীদের বড়দিন উপলক্ষে ১দিন বন্ধের পর আবারও আমদানি-রপ্তানির সকল কার্য্যক্রম শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বন্দরের সকল কার্য্যক্রম শুরু হয়েছে হিলি পানামা পোর্ট লিংকের গনসংযোগ কর্মকর্তা সোহারাফ হোসেন প্রতাব মল্লিক এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান,খ্রীস্টান ধর্মাম্বলীদের বড়দিন উপলক্ষে গতকাল বুধবার বন্দরের সকল প্রকার কার্য্যক্রম বন্ধ ছিলো। ১দিন বন্দের পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে স্থলবন্দরে যথারীতি সকল প্রকার আমদানি-রপ্তানির কার্য্যক্রম শুরু হয়েছে। বন্দরে ভারতীয় ট্রাক আনলোডসহ দেশী ট্রাকগুলো লোড হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেড়ে যাওয়া শুরু করেছে

এদিকে, হিলি ইমিগ্রেশন পুলিশ কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান জানিয়েছেন, বুধবার একদিন বন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও হিলি চেকপোষ্ট দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্টেধারী যাত্রী যাতায়াত স্বাভাবিক ছিলো।বৃহস্পতিবারও স্বাভাবিক রয়েছে।

শিক্ষানগরী হিসেবে গড়ে উঠেছে বীরগঞ্জ সুবর্ণ জয়ন্তীতে- মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি

ফজিবর রহমান বাবু- জাতীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল বলেছেন, বর্তমান বিজ্ঞান ভিত্তিক যুগে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা যাতে বিশ্ব মানের লেখাপড়া শিখতে পারে ও তাদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগ্রহ বাড়ে এ জন্য তিনি বিদ্যালয়গুলোতে নতুন নতুন ভবন নির্মান করে দিচ্ছেন।

দিনাজপুরের কাহারোল-বীরগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যালয় গুলোতে নতুন ভবন নির্মান করা হয়েছে। পাশাপাশি লেখাপড়ার মানও বেড়েছে।

বীরগঞ্জ-কাহারোল উপজেলা থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যাপিঠে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে। আর মেধাবী যারা অর্থের অভাবে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে না তাদের আমরা অর্থ সহায়তা দিয়ে ভর্তির সুযোগ করে দিচ্ছি। বীরগঞ্জ উপজেলা এখন শিক্ষানগরী হিসেবে গড়ে উঠেছে। এই উপজেলায় দুটি সরকারি স্কুলে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ তলা বিশিষ্ট দুটি একাডেমিক ভবনের ভিত্তি প্রস্তরের স্থাপন করা হয়েছে।

২৬ ডিসেম্বর ২০১৯ বীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০ টায় জাতীয় সংগীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন ফেস্টুন উড়িয়ে সুবর্ণ জয়ন্তীর উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি। এরপর বিশাল শোভাযাত্রা স্কুলের সামনে থেকে বের হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদিক্ষণ করে।

শোভাযাত্রায় এমপি গোপালসহ পাইলট স্কুলের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ গ্রহণ করে।

সুনামধন্য এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে (২৫ ও ২৬ ডিসেম্বর) দুই দিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে পুরো বিদ্যালয়টি সাজানো হয়। পুরনো শিক্ষার্থীর একত্রে মিলে ব্যাচ ব্যাচ মিছিল করে। বিভিন্ন বয়সের নতুন ও পুরাতন সকল শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে বিদ্যালয় চত্বরটি যেন মিলন মেলায় পরিনত হয়।

সূবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতপূর্ব অধ্যাপক বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও সমাজচিন্ততক অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক।

আলোচনা সভায় সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব জাকারিয়া জাকার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইয়ামিন হোসেন, বীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোঃ মোশাররফ হোসেন, জেলা শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম, বীরগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ খয়রুল ইসলাম চৌধুরী।

আলোচনা সভা শেষে ডকুমেন্টারি ও থিম সংগীত পরিবেশন করা হয়। আলোচনা সভা শেষে সংবর্ধনা ও স্মৃতিচারণ, সংগীতানুষ্ঠান এবং আতশবাজীর মাধ্যামে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের সমাপনী ঘোষনা করা হয়।

পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, ১৯৮২ ব্যাচের শিক্ষার্থী সুভাষ দাস।

উল্লেখ্য, বীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় স্কুলের নাম ছিল বীরগঞ্জ পাইলট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। পরে ১৯৮৫ সালে স্কুলটি সরকারি করণ করা হয়।