রবিবার-১৭ নভেম্বর ২০১৯- সময়: সকাল ৬:৩৭
৭ কেজি চালের মূল্যে মিলছে ১কেজি পেয়াজ বিরামপুরের বাজারে চিকিৎসা সেবা দিয়ে মানব সেবা করতে চাই-পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হুমায়ুন কবীর বিরামপুরে নেশার ইনজেকশন ও ফেন্সিডিলসহ আটক-৩ হিলি চেকপোস্টে বিজিবি’র গোয়েন্দা সদস্যের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে হয়রাণীর অভিযোগ বিরামপুরে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালিত বিরামপুরে প্রকল্প সমাপনী কর্মশালা গরীব ও অসহায় মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে পারলে আমি শান্তি পাই জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে আজও চালু হয়নি, নবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন “প্রেসিডেন্ট পদক” অর্জন বিরামপুরের কৃতি সন্তান ফায়ার সার্ভিসের গোলাম রওশন ঘোড়াঘাটে বানিজ্যিক ভাবে মাল্টা বাগান করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে

রাজশাহী newsdiarybd.com:

নাটোরের প্রতিবন্ধি প্রবীণ দম্পত্তি ভাতা নয়, চায় মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

করিম মৃধা,নাটোর প্রতিনিধি-নাটোর জেলার ছাতনী ইউনিয়নের আগদিঘা গ্রাম। এই গ্রামটি দ্বিতীয় মুজিবনগর নামে অনেকের কাছে পরিচিত। তার কারণ, এই গ্রামের শতভাগ মানুষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে ১৯৭১ সালে দেশ রক্ষায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া সহ বিভিন্নভাবে অবদান রাখেন। পাশাপাশি এই গ্রামের শতভাগ মানুষ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেয় ও ভোটাররা ভোট প্রদান করেন।

৭১ সালে যুদ্ধ শুরু হলে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প স্থাপন করা হয় এই গ্রামের গমীর মন্ডলের বাড়ি। গমীর মন্ডলের স্ত্রী, ৪ ছেলে ও ১মেয়ে সকলেই ক্যাম্পের কমান্ডার, প্রশিক্ষক ও মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীণ দীর্ঘ ৪ মাস রান্না করে খাওয়ানো, আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা করেছিলেন। পাশাপাশি গমীর মন্ডলের ৪ ছেলে সক্রিয়ভাবে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

১৯৮৭ সালে গমীর মন্ডল মারা যাওয়ার ৮ বছর পর মারা যায় তার স্ত্রী রূপজান বেওয়া। তাদের ৪ ছেলের মধ্যে মৃত সাদেক আলী মন্ডল, মৃত নজিরউদ্দিন মন্ডল ও আব্দুস সামাদ মন্ডল মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেও আরেক ছেলে আব্দুস সাত্তার মন্ডলের ভাগ্যে আজও মেলেনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কোন সম্মাননা বা স্বীকৃতি। এদিকে বয়সের ভাড়ে নুয়ে পড়েছেন আব্দুস সাত্তার মন্ডল (৭৮)।

প্রায় ১৫ বছর আগে শিমুল গাছ থেকে তুলা পাড়তে গিয়ে পা পিছলে মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হয় এবং তারপর থেকে কোমড় থেকে নীচ অবধি অচল হয়ে পড়ে তার।

অপরদিকে ১০ বছর আগে চোখের অপারেশন করাতে গিয়ে দুচোখের দৃষ্টি চিরতরে হারান স্ত্রী সোহাগী বেগম (৬৮)। বর্তমানে অসহায় ও প্রতিবন্ধি হয়ে মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন এই দম্পত্তি।

রবিবার সকালে আগদিঘা গ্রামে সরেজমিনে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিত হওয়ার সংবাদ শুনে ছুটে আসেন ওই গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা ছবেদ আলী সেখ, মনিরুদ্দিন সরদার, হাবিবুর রহমান মুসল্লী, জেহের আলী প্রধান, কাইমউদ্দিন খান, আয়ুব আলী হাজরা সহ আশে-পাশের ২২ জন মুক্তিযোদ্ধা।

এ সময় তারা বলেন, আব্দুস সাত্তার মন্ডল ও তার স্ত্রী সহ মৃত গমীর মন্ডলের পরিবারের প্রত্যেক নারী-পুরুষ মুক্তিযুদ্ধে যে অবদান রেখেছিলো তাতে সকলকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া দেশ ও সরকারের মানবিক দায়িত্ব ছিলো। কিন্তু মৃত গমীর মন্ডলের তিন ছেলেকে এই স্বীকৃতি দিলেও কোন এক ভুলে বা সঠিক যোগাযোগ না ঘটায় বাদ পড়ে যায় আব্দুস সাত্তার মন্ডল।

ছাতনী ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন সরকার আক্ষেপের সাথে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আব্দুস সাত্তার মন্ডল সরাসরি অংশ নেন। ৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর তারিখে রাজাকারদের গোপন সভায় হানা দিয়ে ৯ রাজাকারকে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রাখেন ওই আব্দুস সাত্তার মন্ডল সহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা।

রাজাকার হত্যার পর যেনো পাক বাহিনী গ্রামে হামলা করতে না পারে জন্য পাশ^বর্তী হোজা নদীর পারে অস্ত্র নিয়ে দিন-রাত অবস্থান নিয়েছেন ওই আব্দুস সাত্তার মন্ডল সহ সহযোগীরা।

এছাড়া আব্দুস সাত্তার মন্ডলের স্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে যেভাবে রাত-দিন রান্না করা, থালা-বাসন ও কাপড়-চোপড় ধৌত করা এবং খাওয়ানোর কাজ করেছেন তাতে তাকে সহযোগী মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়া দেশের ও সরকারের নৈতিক দায়িত্ব হয়ে পড়েছে।

একই ইউনিয়নের আমহাটি শিবপুর গ্রামে মেয়ের বাড়িতে কথা হয় আব্দুস সাত্তার মন্ডল ও তার স্ত্রীর সাথে। চিরতরে অবশ হয়ে যাওয়া দুটি পা এলিয়ে দিয়ে মেঝেতে বসে থাকা বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার মন্ডল কাঁপা কন্ঠে বলেন, কোন ভাতা নয়, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম’ শুধু এইটুকু স্বীকৃতি রাষ্ট্র আমাকে দিলে আমি মরেও শান্তি পেতাম। স্ত্রী সোহাগী বেগম তখন সেই দীর্ঘ ৪ মাসের কষ্ট ও ত্যাগের স্মৃতিচারণ এবং বয়ে চলা অসায়ত্বের বর্ণনা করতে গিয়ে তার অন্ধ দুই চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে রংহীন পানি।

ধামইরহাটে তিন ভূয়া ডিবি পুলিশ আটক

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি-নওগাঁর ধামইরহাটে ছিনতাইকালে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়দানকারী তিন যুবককে আটক করা হয়েছে। রোববার ভোর ৫ টার দিকে উপজেলার বড়থা বাজারের পাশ থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন উপজেলার দাদনপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে এখলাস হোসেন স¤্রাট (২০) পতœীতলা উপজেলার চকজয়রাম গ্রামের শাহিদ শেখের ছেলে নাহিদ হোসেন (২৫) ও বাবনাবাজ গ্রামের গৌরচন্দ্র মন্ডলের ছেলে বিকাশ চন্দ্র মন্ডল (৩৪)।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, ধামইরহাট উপজেলাধীন ফতেপুর-মাতাজী বাইপাস রাস্তা দিয়ে আড়ানগর ইউনিয়নের দুই সবজি ব্যবসায়ী ভোরবেলা সবজি কেনার উদ্দেশ্যে ইজিবাইকে বদলগাছী উপজেলার দিকে রওনা দেন। পথে কাজিপুর ডাবল ব্রীজের দক্ষিণে বড়থা বাজারের নিকট একটি মোটর সাইকেলে থাকা তিন যুবক ব্যবসায়ীদের ধাওয়া করে। পরে ওই তিন যুবক নিজেদেরকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে কত টাকা আছে জানতে চায়। এতে ব্যবসায়ীদের সন্দেহ হলে তারা চিৎকার শুরু করে। তাদের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে নাহিদ হোসেন ও বিকাশ চন্দ্রকে আটক করে থানার সোর্পদ করে। তবে অপর যুবক স¤্রাট পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর সহায়তায় থানা পুলিশ স¤্রাটকে পলাশবাড়ী গ্রাম থেকে আটক করে।

ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকিরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়রা দুইজনকে আটক করে থানা পুলিশে সোপর্দ করে। একজন পালিয়ে গেলেও পরে তাকে পুলিশ আটক করে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে থানা ছিনতাইয়ের মামলা,ভূয়া পুলিশ পরিচয়ের মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আত্রাইয়ের জনপদ স্ট্রিটলাইটের আলোয় আলোকিত

নাজমুল হক নাহিদ- নওগাঁর আত্রাইয়ের বিভিন্ন জনপদ এখন স্ট্রিটলাইটের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে।

বিভিন্ন সড়ক ও রাস্তার মোড়, হাট-বাজার ও জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্ট্রিটলাইট স্থাপিত হওয়ায় এসব এলাকা এখন আলোকিত হয়ে উঠেছে। সরকারের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) ও গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) প্রকল্পের অর্থ দ্বারা এসব স্ট্রিটলাইট স্থাপন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮ ইউনিয়নে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৫৯লাখ ৮২ হাজার ৫৬৯ টাকা ব্যয়ে ২৮০ টি স্ট্রিটলাইট স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে শাহাগোলা ইউনিয়নে ২৭টি, ভোঁপাড়া ইউনিয়নে ৩৮টি, আহসানগঞ্জ ইউনিয়নে ৩০টি, পাঁচুপুর ইউনিয়নে ৮৭ টি, বিশা ইউনিয়নে ৪৪ টি, মনিয়ারী ইউনিয়নে ২৫ টি, কালিকাপুর ইউনিয়নে ১৪ টি ও হাটকালুপাড়া ইউনিয়নে ১৬ টি স্ট্রিটলাইট স্থাপন করা হয়।

ইডকল প্রতিনিধি সোলার ইনকোম্পানী কর্তৃক সরবারাহকৃত প্রত্যেকটি স্ট্রিটলাইটের প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয়েছে ৫৬ জাহার ৪ শত ৯০ টাকা।

জানা যায়, স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলমের প্রচেষ্টায় আত্রাইয়ের জনপদগুলোকে আলোকিত করতে সরকারের বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব লাইট স্থাপন করা হয়েছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে রয়েছে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তর। এসব লাইট স্থাপন হওয়ায় এলাকা হতে অপরাধ প্রবনতা অনেকটা কমে গেছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

দিনের বেলায় সূর্যের আলো থেকে তাপ গ্রহন করে সন্ধ্যার পর আপনা-আপনি জ¦লে উঠে সারা রাত জ¦লে থাকায় এলাকাগুলো আলোকিত হয়ে থাকছে।

উপজেলার জগদাস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান বলেন, আমাদের জগদাস বাজারে স্ট্রিটলাইট স্থাপন করায় বাজার এখন সারা রাত আলোকিত থাকে।

বাজারের ব্যবসায়ীদের আর দোকানের বাইরে আর বৈদ্যুতিক বাল্ব জ¦ালিয়ে রাখতে হয় না। ফলে একদিকে বিদ্যুতের সাশ্রয় অন্যদিকে চোরের উপদ্রব হতে বাজার মুক্ত হয়েছে। তারাটিয়া গ্রামের ডিএস জাহিদ বলেন, আমাদের ভাবনীপুর-শাহাগোলা রাস্তাটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা।

এ রাস্তা দিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত লোকজন চলাচল করে থাকে। রাতের বেলায় অন্ধকার রাস্তায় অনেকেই নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করতো। তারাটিয়া ব্রিজের মুখে স্ট্রিটলাইট স্থাপন হওয়াতে জনসাধারণ খুব উপকৃত হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা নভেন্দু নারায়ন চৌধুরী বলেন, এমপি মহোদয়ের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্থানে স্ট্রিটলাইটগুলো স্থাপন করা হয়েছে এবং তারই তত্বাবধানে আমরা এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছানাউল ইসলাম বলেন, এলাকা থেকে অপরাধ প্রবনতা কমিয়ে আনতে রাস্তাগুলোকে আলোকিত করা খুবই জরুরী।

আর এ প্রয়োজনীয়তা পুরো করা হচ্ছে এ প্রকল্পের মাধ্যমে। তবে লাইটগুলো স্থাপনের পূর্বে পরীক্ষা নিরীক্ষার সুযোগ উপজেলা পর্যায়ে থাকলে আরও ভাল হত।

নওগাঁয় ধামইরহাটে স্ত্রী হত্যাকারী স্বামী গ্রেফতার

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি- নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার রামরামপুর (তেলীপাড়া) গ্রামে নিজ স্ত্রীকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় একমাত্র পলাতক আসামী ওই গৃহবধুর স্বামী নূর মোহাম্মদ (৪০) কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৫।

গত মঙ্গলবার দিনগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে র‌্যাব-৫, জয়পুরহাট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার একেএম, এনামুল করিমের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার মিঠাপুর পালপাড়া এলাকা থেতে তাকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে ধামইরহাট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা র‌্যাব।

এব্যাপারে ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো.জাকিরুল ইসলাম বলেন,আসামী নুর মোহম্মদ নওগাঁর আমলী আদালত-৯ এর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে ঘাতক মোঃ নুর মোহাম্মদ (৪০) তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন (৩৪) কে হত্যা করে পালিয়ে যায়। সে ওই গ্রামের ওয়াজেদ আলীর পুত্র।

পাঁচবিবিতে মৎস্য সপ্তাহের সমাপণী

আকতার হোসেন বকুল,পাঁচবিবি-পাঁচবিবি সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসের আয়োজনে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের মূল্যায়ন ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে সমাপণী অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার বিকালে উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিবুল আলমের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল শহীদ মুন্না।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন মন্ডল, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ নূর নবী, উপজেলা হিসাবরক্ষন অফিসার রিপন আহম্মেদ, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মিছির উদ্দিন মন্ডল, উপজেলা এনজিও সমন্বয় পরিষদের সভাপতি রফিকুল ইসলাম শাহীন, মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারি আঃ কাদির প্রধান, নিয়ামুল ইসলাম ও সাজেদুর রহমানসহ উপজেলার মৎস্যচাষী।

সমাপণী অনুষ্ঠানে আলোচনা শেষে অতিথিরা দেশের মানুষের জন্য আমিষের চাহিদা মেটাতে অধিক মাছ চাষ করার স্বীকৃতি স্বরুপ উপজেলার ৪ জন শ্রেষ্ঠ মৎস্যচাষীকে ক্রেষ্ঠ প্রদান করেন।

পাঁচবিবি থানা পুলিশের ছেলেধরা আতঙ্ক রোধে লিফলেট বিতরণ

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি- ২৪ জুলাই বর্তমানে সারাদেশে ছেলেধরা আতঙ্ক চলছে আর এ আতঙ্কে অনেক অভিভাবক তাদের ছেলেমেয়েকে স্কুলে পাঠাতে ভয় করছে। এ কারনে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতিও কম ফলে পিছিয়ে পরছে পাঠদান ব্যবস্থা।

সরকারের পক্ষ থেকে এসব গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সবাইকে সজাগ থাকার আহবান জানানো হচ্ছে বিভিন্ন মাধ্যমে। কারন ছেলেধরার মিথ্যা গুজব তুলে নিরীহ মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে।

ছেলেধরা আতঙ্কের গুজব থেকে সবাইকে সচেতন করতে পাঁচবিবি থানার পরির্দশক মনসুর রহমান উপজেলায় মাইকিংয়ের পাশাপাশি লিফলেট বিতরণ করছেন। তিঁনি থানার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে যেখানে অনেক লোকের সমাগম সেখানে গাড়ি থেকে নেমে সবাইকে ডেকে ছেলেধরা আতঙ্কের বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন ও লিফলেট বিতরণ করেন।

বুধবার সকালে উপজেলার শালাইপুর স্কুল এন্ড কলেজে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক মন্ডলী জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে যখন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছিল এমন সময় থানার পরিদর্শক সেখানে গিয়ে হাজির।

জাতীয় সঙ্গীত শেষে পরিদর্শক মনসুর রহমান উপস্থিত ছাত্র-শিক্ষককে ছেলেধরা আতঙ্কের গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেন ও উপস্থিত সবাইকে এ বিষয়ে সজাগ থাকার আহবান জানান, ছাত্র-শিক্ষকদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন। তিঁনি আরো বলেন, এরকম ছেলেধরা কাউকে সন্দেহ হলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে থানা পুলিশের সহায়তা নিন। এসময় শালাইপুর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর মন্ডল ছেলেধরার সুফল-কুফল বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

পাঁচবিবি থানার পরিদর্শক বজলার রহমান বলেন, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে আমি মিথ্যা ছেলেধরা আতঙ্ক থেকে সবাইকে সচেতন ও সজাগ থাকার জন্য মাইকিংয়ের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জনসচেতনা বৃদ্ধির লক্ষে লিফলেট প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি। এবং এলাকার সচেতন ব্যক্তি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, গ্রাম্য পুলিশ এমনকি থানার সকল পুলিশ সদস্যদের মুঠোফোনে ও স্বাক্ষাতে বলেছি নিজ অবস্থান থেকে এবিষয়ে সবাইকে অবগত করতে।

ধামইরহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যানের মৃত্যু


ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি-নওগাঁর ধামইরহাটে বিদ্যুৎম্পৃষ্টে এক পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান মারা গেছে।

জানা গেছে,নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ ধামইরহাট জোনাল অফিসের লাইনম্যান দেলোয়ার হোসেন (৪৫) মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় মঙ্গলবাড়ী-কাজীপাড়ার রাস্তার বাগমারী হটাৎপাড়া নামকস্থানে লাইন মেরামতের যায়।

ফিডার ৫/ই লাইনের ক্রটিমুক্ত করার জন্য সে পোলে ওঠে। ওই লাইনটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে মর্মে সে কোমরের বেল্ট না বেঁধে পোলে ওঠে। বিদ্যুৎ সঞ্চালন তার পিটে স্পর্শ করলে ঝাঁকুনি খেয়ে সে মাটিতে পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। এক সন্তানের জনক দেলোয়ার হোসেন জয়পুরহাট সদর উপজেলার দাদরা গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে।

এব্যাপারে ধামইরহাট পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম বলেন,পল্লী বিদ্যুতের কোন লাইনে কাজ করতে হলে কন্ট্রোলরুম থেকে ওই লাইনের সার্ট ডাউন নিতে হয়।

দেলোয়ার হোসেন কন্ট্রোলরুম থেকে সার্ট ডাউন না নিয়ে পোলে চড়ে কাজ করার চেষ্টা করায় এ দূর্ঘটনা ঘটে। ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো.জাকিরুল ইসলাম বলেন,লাশের সুরত হাল রির্পোট করার পর আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ধামইরহাটে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি-নওগাঁর ধামইরহাটে স্বামীর হাতে খুন হয়েছে এক গৃহবধু। পারিবারিক কলহের কারণে স্ত্রী সাবিনাকে ধারালো বটি দিয়ে পিটে সজোরে কোপ মারে মাদকাসক্ত স্বামী নুর মোহম্মদ। পরে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। নিহত সাবিনার ছোট ভাই বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। ঘাতক স্বামী নুর মোহম্মদ পালিয়ে গেছে।

জানা গেছে,উপজেলার ধামইরহাট ইউনিয়নের অন্তর্গত রামরামপুর তেলিপাড়া গ্রামের নুর মোহাম্মদ(৩৯) প্রায় ৫ বছর পূর্বে রাজশাহী কাঁটাখালী এলাকার বাখরাবাজ ইমামপাড়া গ্রামের মৃত নুরুল হুদার মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিন (৩৪) কে দ্বিতীয় বিয়ে করে। তাদের পরিবারে কোন সন্তান নেই। গত সোমবার রাত পৌনে ৯টা দিকে নুর মোহম্মদ বাড়ীতে ফিরে তার স্ত্রীকে দেখতে না পেয়ে সাবিনা বলে চিৎকার করতে থাকে।

এসময় সাবিনা পার্শে ননদ মলিদা বেগমের বাড়ীতে ছিল। চিৎতার শুনে সে বাড়ীতে এলে নুর মোহম্মদ জিজ্ঞাসা করে ভাতের সাথে কি তরকারী রান্না করা হয়েছে। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথাকাটির এক পর্যায়ে নুর মোহম্মদ ধারালো বটি দিয়ে সাবিনার পিটের ডানপার্শে সজোরে কোপ মাপে। এতে সাবিনার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। একই বাড়ীর অন্য ঘরে অবস্থানরত নুর মোহম্মদের মা খাতিজা বেগম বিষয়টি টের পেয়ে মেরে ফেললো বলে চিৎকার করতে থাকে। তাৎক্ষনিক প্রতিবেশি ও তার মেয়ে মলিদা বেগম ছুটে আসে।

এ ব্যাপারে মলিদা বেগম বলেন,ঘটনাস্থল বাড়ীতে এসে দেখেন সাবিনার পিটের ক্ষত স্থান থেকে প্রচুর রক্তপাত হচ্ছে। তাৎক্ষনিক তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার প্রস্তুতি সময় সে মারা যায়। ঘটনার পর থেকে তার ভাই পলাতক রয়েছে। তিনি আরও বলেন,তার ভাই নেশাগ্রস্ত ছিল। পাশের আঙ্গরত গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো.জাকারিয়া হোসেন বলেন,নুর মোহম্মদ মাঝে মধ্যে কৃষি কাজ করতো। তবে সে বেশিভাগ সময় নেশাগ্রস্ত থাকতো।

এব্যাপারে ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো.জাকিরুল ইসলাম বলেন,খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ধামইরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.কামরুজ্জামানসহ পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে যায়।

লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নিহতের ছোট ভাই বুলবুল হোসেন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। তবে আসামী নুর মোহম্মদ পলাতক রয়েছে।

ধামইরহাটের বরেন্দ্র অঞ্চলে মাল্টা চাষে সফল নারী উদ্যোক্তা রিনা আক্তার

মো.হারুন আল রশীদ,ধামইরহাট প্রতিনিধি-নওগাঁর ধামইরহাটের বরেন্দ্র অঞ্চলে মাল্টা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন নারী উদ্যোক্তা রিনা আক্তার। তিনি একর জমিতে মাল্টা রোপন করে এখন তার বাগান ফলে ফলে ভরে গেছে। বাজারে ভালো দাম পেলে তিনি অনেক মুনাফা লাভের স্বপ্ন দেখছেন।

জানা গেছে,উপজেলার ধামইরহাট ইউনিয়নের অন্তর্গত আঙ্গরত তেলিপাড়া গ্রামের পাকা রাস্তার পার্শে মায়া কানন (বায়ো এগ্রি ফার্ম) নামে একটি নার্সারী গড়ে তোলা হয় নারী উদ্যোক্তা রিনা আক্তার।

কৃষিবিদ পরিবারে বেড়ে ওঠা রিনা আক্তার ছোট বেলা থেকে কৃষির প্রতি তার বিশেষ আগ্রাহ ছিল। বিশেষ করে ফল বাগান গড়ে তোলা তার স্বপ্ন ছিল। গ্রাজুয়েশন করার পর চাকুরী না হওয়ায় তিনি হতাশ না হয়ে নেমে পড়েন ফল বাগান করতে। তার নিজ হাতে গড়ে তোলেন মায়া কানন।

এব্যাপারে রিনা আক্তার বলেন,ধামইরহাট উপজেলার সাবেক কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড.মো.জামাল উদ্দিন ও বর্তমান কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.সেলিম রেজার সার্বিক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় আমি ৫০শতাংশ জমিতে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ১ বছর বয়সী উন্নত মানের মাল্টা চাষ শুরু করি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ১০ ফুট পর পর চারা গাছ রোপন করা হয়।

মোট ১৩৬টি চারা গাছ রোপন করেন। পরের বছর গাছে ফুল আসলেও তা ভেঙ্গে দেয়া হয়। এবছর গাছে পর্যাপ্ত ফুল আসে এবং অসংখ্য ফল ধরে। বর্তমানে প্রতি গাছে প্রচুর পরিমাণে ফল ধরেছে। আশা করা যাচ্ছে প্রতি গাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া যাবে।

আগামী আগষ্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে গাছ থেকে ফল নামানো শুরু হবে। বাজারে বর্তমানে পাইকারী মাল্টা ১শত থেকে ১শত ২০ টাকা দরে কেনা বেচা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী ১শত টাকা কেজি হলে প্রতি গাছ থেকে প্রায় ১০ কেজি মাল্টা পাওয়া যাবে যার দাম হবে ১ হাজার টাকা। সেই হিসেবে ১৩৬টি গাছ থেকে ১ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যদি কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হয় তবে এবার মাল্টা বিক্রি করে লাভের আশা দেখছেন। রিনা আক্তার আরও বলেন, প্রতিটি চারা গাছ তিনি ১৫০ টাকা দর হিসেবে ২০ হাজার ৪শত টাকায় কিনেছেন।

এছাড়া শ্রমিকের মজুরী ও অন্যান্য বাবদ মোট ৫০হাজার টাকা খরচ করেছেন। তিনি মাল্টা বাগান গড়ে তুলতে প্রায় ৭০হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। তিনি আশা করছেন এবছর তিনি ১ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা মাল্টা বিক্রি করবেন। পরে বছর দ্বিগুন লাভের আশা করছেন। ধামইরহাট উপজেলার সাবেক কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড.মো.জামাল উদ্দিন বলেন,ধামইরহাটের মাটি যে কোন ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগি।

এ অঞ্চলের মানুষ শুধু ধান চাষে ব্যস্ত থাকে। বর্তমানে ধান চাষে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে এলাকার চাষীদেরকে লাভ জনক ফল বাগানে চাষে উদ্বৃদ্ধ করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.সেলিম রেজা বলেন,রিনা আক্তারকে মাল্টা ও ড্রাগন চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তার বাগানে মাল্টার প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে।

এছাড়া উন্নতমানের মাল্টা চারা বারি-১ সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত তাকে পরামর্শ দেয়া হয়। এ অঞ্চলের মাটি যে কোন ফল চাষের জন্য উপযোগি।

এ অঞ্চলে মাল্টা ও ড্রাফন ফলের মিষ্টতা ও গুনাগুন অন্যান্য অঞ্চল থেকে ভালো। তাছাড়া বাজারে মাল্টা এবং ড্রাফন ফলের দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

এলাকার বেকার যুবকরা ওই বাগান দেখে ইতোমধ্যে অনেকে ফল বাগান চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। আগামীতে এ অঞ্চল ফলের এলাকা হিসেবে পরিচিতি পাবে।

ধামইরহাটে মারপিট করে লক্ষাধিক টাকা লুট করেছে দুর্বৃত্তরা

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি-নওগাঁর ধামইরহাটে দিনের বেলা মারপিট করে লক্ষাধিক টাকা লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। বাড়ীর গৃহকর্তার মুখে কাপড় গুজে বেধড় পিটিয়ে গরু ব্যবসার প্রায় লক্ষাধিক টাকা লুট করেছে। সুবিচারের আশায় গৃহকর্তা আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।

ধামইরহাট থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে,উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত কোকিল আবুল মাস্টারপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের সাথে জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল একই গ্রামের আব্দুল আজিজ এর সাথে। এর জের ধরে গত রবিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে আজিজ গংরা আনোয়ার হোসেনের বাড়ীতে প্রবেশ করে তাকে একা পেয়ে এলোপাথাড়ী মারপিট করে। আনোয়ার হোসেনের পিটে অসংখ্য আঘাত ও তার স্ত্রী মুক্তা বেগমের মাথায় আঘাতের চিহৃ রয়েছে।

বর্তমানে আনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী মুক্তা বেগম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। এব্যাপারে আনোয়ার হোসেন বলেন,আমার প্রতিবেশী আব্দুল আজিজ গংদের সাথে আমার দখলীয় ২ একর মাঠের জমি নিয়ে গত ৫/৬ বছর ধরে বিরোধ চলছে।

বিয়ষটি স্থানীয় জাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে বিচার দেয়া হলেও চেয়ারম্যানের বিচার মানেনি আজিজ গং। ওইদিন আব্দুল আজিজ ও তার ছেলে আলিম,সালাম,সাত্তার তার মেয়ে জামাই জিল্লুর ও মফিজুল ইসলাম বিকেলে আকস্মিক আমার বাড়ীতে প্রবেশ করে মুখে কাপড় দিয়ে মুখ বন্ধ করে মাটিতে ফেলে উপুর করে লাঠি দিয়ে পিটে এবং হাতে মারপিট করতে থাকে।

এ সময় বাড়ীতে কেউ ছিলনা। পরবর্তীতে আমার স্ত্রী মুক্তা বেগম (২৮) বিষয়টি জানতে পেয়ে আমাকে বাঁচার জন্য বাড়ীতে এলে তাকেও মাথাসহ বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে। দুর্বৃত্তরা এ সময় আমার স্ত্রীর প্রায় ৫০ হাজার টাকার সোনার গহনা ও গরু ব্যবসার নগদ ১লক্ষ ৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

এব্যাপারে জাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.ওসমান আলী বলেন,জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে আমি দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেছি। আনোয়ার হোসেনের কাগজপত্র সঠিক রয়েছে। তারপরও আব্দুল আজিজ গংরা গায়ের জোরে আনোয়ার হোসেনে দখলীয় জমি দখল করতে চায়।

এব্যাপারে ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো.জাকিরুল ইসলাম বলেন, দুই্ পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি মিমাংসার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।