রবিবার-১৭ নভেম্বর ২০১৯- সময়: সকাল ৬:৩১
৭ কেজি চালের মূল্যে মিলছে ১কেজি পেয়াজ বিরামপুরের বাজারে চিকিৎসা সেবা দিয়ে মানব সেবা করতে চাই-পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হুমায়ুন কবীর বিরামপুরে নেশার ইনজেকশন ও ফেন্সিডিলসহ আটক-৩ হিলি চেকপোস্টে বিজিবি’র গোয়েন্দা সদস্যের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে হয়রাণীর অভিযোগ বিরামপুরে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালিত বিরামপুরে প্রকল্প সমাপনী কর্মশালা গরীব ও অসহায় মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে পারলে আমি শান্তি পাই জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে আজও চালু হয়নি, নবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন “প্রেসিডেন্ট পদক” অর্জন বিরামপুরের কৃতি সন্তান ফায়ার সার্ভিসের গোলাম রওশন ঘোড়াঘাটে বানিজ্যিক ভাবে মাল্টা বাগান করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে

প্রবীন newsdiarybd.com:

নাটোরের প্রতিবন্ধি প্রবীণ দম্পত্তি ভাতা নয়, চায় মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

করিম মৃধা,নাটোর প্রতিনিধি-নাটোর জেলার ছাতনী ইউনিয়নের আগদিঘা গ্রাম। এই গ্রামটি দ্বিতীয় মুজিবনগর নামে অনেকের কাছে পরিচিত। তার কারণ, এই গ্রামের শতভাগ মানুষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে ১৯৭১ সালে দেশ রক্ষায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া সহ বিভিন্নভাবে অবদান রাখেন। পাশাপাশি এই গ্রামের শতভাগ মানুষ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেয় ও ভোটাররা ভোট প্রদান করেন।

৭১ সালে যুদ্ধ শুরু হলে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প স্থাপন করা হয় এই গ্রামের গমীর মন্ডলের বাড়ি। গমীর মন্ডলের স্ত্রী, ৪ ছেলে ও ১মেয়ে সকলেই ক্যাম্পের কমান্ডার, প্রশিক্ষক ও মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীণ দীর্ঘ ৪ মাস রান্না করে খাওয়ানো, আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা করেছিলেন। পাশাপাশি গমীর মন্ডলের ৪ ছেলে সক্রিয়ভাবে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

১৯৮৭ সালে গমীর মন্ডল মারা যাওয়ার ৮ বছর পর মারা যায় তার স্ত্রী রূপজান বেওয়া। তাদের ৪ ছেলের মধ্যে মৃত সাদেক আলী মন্ডল, মৃত নজিরউদ্দিন মন্ডল ও আব্দুস সামাদ মন্ডল মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেও আরেক ছেলে আব্দুস সাত্তার মন্ডলের ভাগ্যে আজও মেলেনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কোন সম্মাননা বা স্বীকৃতি। এদিকে বয়সের ভাড়ে নুয়ে পড়েছেন আব্দুস সাত্তার মন্ডল (৭৮)।

প্রায় ১৫ বছর আগে শিমুল গাছ থেকে তুলা পাড়তে গিয়ে পা পিছলে মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হয় এবং তারপর থেকে কোমড় থেকে নীচ অবধি অচল হয়ে পড়ে তার।

অপরদিকে ১০ বছর আগে চোখের অপারেশন করাতে গিয়ে দুচোখের দৃষ্টি চিরতরে হারান স্ত্রী সোহাগী বেগম (৬৮)। বর্তমানে অসহায় ও প্রতিবন্ধি হয়ে মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন এই দম্পত্তি।

রবিবার সকালে আগদিঘা গ্রামে সরেজমিনে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিত হওয়ার সংবাদ শুনে ছুটে আসেন ওই গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা ছবেদ আলী সেখ, মনিরুদ্দিন সরদার, হাবিবুর রহমান মুসল্লী, জেহের আলী প্রধান, কাইমউদ্দিন খান, আয়ুব আলী হাজরা সহ আশে-পাশের ২২ জন মুক্তিযোদ্ধা।

এ সময় তারা বলেন, আব্দুস সাত্তার মন্ডল ও তার স্ত্রী সহ মৃত গমীর মন্ডলের পরিবারের প্রত্যেক নারী-পুরুষ মুক্তিযুদ্ধে যে অবদান রেখেছিলো তাতে সকলকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া দেশ ও সরকারের মানবিক দায়িত্ব ছিলো। কিন্তু মৃত গমীর মন্ডলের তিন ছেলেকে এই স্বীকৃতি দিলেও কোন এক ভুলে বা সঠিক যোগাযোগ না ঘটায় বাদ পড়ে যায় আব্দুস সাত্তার মন্ডল।

ছাতনী ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন সরকার আক্ষেপের সাথে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আব্দুস সাত্তার মন্ডল সরাসরি অংশ নেন। ৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর তারিখে রাজাকারদের গোপন সভায় হানা দিয়ে ৯ রাজাকারকে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রাখেন ওই আব্দুস সাত্তার মন্ডল সহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা।

রাজাকার হত্যার পর যেনো পাক বাহিনী গ্রামে হামলা করতে না পারে জন্য পাশ^বর্তী হোজা নদীর পারে অস্ত্র নিয়ে দিন-রাত অবস্থান নিয়েছেন ওই আব্দুস সাত্তার মন্ডল সহ সহযোগীরা।

এছাড়া আব্দুস সাত্তার মন্ডলের স্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে যেভাবে রাত-দিন রান্না করা, থালা-বাসন ও কাপড়-চোপড় ধৌত করা এবং খাওয়ানোর কাজ করেছেন তাতে তাকে সহযোগী মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়া দেশের ও সরকারের নৈতিক দায়িত্ব হয়ে পড়েছে।

একই ইউনিয়নের আমহাটি শিবপুর গ্রামে মেয়ের বাড়িতে কথা হয় আব্দুস সাত্তার মন্ডল ও তার স্ত্রীর সাথে। চিরতরে অবশ হয়ে যাওয়া দুটি পা এলিয়ে দিয়ে মেঝেতে বসে থাকা বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার মন্ডল কাঁপা কন্ঠে বলেন, কোন ভাতা নয়, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম’ শুধু এইটুকু স্বীকৃতি রাষ্ট্র আমাকে দিলে আমি মরেও শান্তি পেতাম। স্ত্রী সোহাগী বেগম তখন সেই দীর্ঘ ৪ মাসের কষ্ট ও ত্যাগের স্মৃতিচারণ এবং বয়ে চলা অসায়ত্বের বর্ণনা করতে গিয়ে তার অন্ধ দুই চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে রংহীন পানি।

পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন

বিয়ের পরই ছেলেদের ‘পাল্টে’ যাওয়ার অভিযোগ বেশিরভাগ মা-বাবার। এজন্য দায়ী করা হয় ছেলের বউদের।

দেখা গেছে, স্বার্থের টানাপড়েনে নাড়িছেঁড়া সন্তান অসহায় মা-বাবাকে বের করে দিচ্ছে বাড়ি থেকে, রাখছে গরু-ছাগলের সঙ্গে গোয়ালঘরে। আর চাকরি বা অন্য কোনো কারণে ছেলে দূরে থাকে এমন মা-বাবাদের দুর্দশার যেন অন্ত নেই।

শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা তো দূরের কথা, ঠিকমতো খাবার না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে অনেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে। শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা না করার এই মনোভাব পাল্টাতে হবে স্বামী দূরে থাকা স্ত্রীদের। ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ’ বিধিমালার খসড়ায় স্পষ্ট করে মা-বাবার উপযুক্ত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে স্ত্রী ও তাদের সন্তানদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

২০১৩ সালে পাস হওয়া পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনের আওতায় বিধিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। খসড়া বিধিমালার ১৮ ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তানকে তার পিতা-মাতার যথোপযুক্ত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। সন্তান নিজে উপস্থিত থাকতে না পারলে তার স্ত্রী, সন্তান বা পরিবারের অন্য সদস্যদের দিয়ে মা-বাবার উপযুক্ত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। পরিচর্যা বলতে কোন ধরনের সেবা দিতে হবে, তা-ও সুনির্দিষ্ট করা আছে।

পরিচর্যা বলতে যত্ন সহকারে শারীরিক পরিচ্ছন্নতা, শৌচকার্য, সময়মতো ওষুধ-পথ্য ও খাবার খাওয়ানো, প্রয়োজনমতো বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে সকাল-বিকেল হাঁটানো বা ব্যায়াম করানোকে বোঝাবে।

খসড়া বিধিমালা চূড়ান্ত করতে গত ১০ এপ্রিল সমাজকল্যাণমন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জুয়েনা আজিজের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। জুয়েনা আজিজ বলেন, খসড়া চূড়ান্ত করে বিধিমালা জারি করা হবে। এ বিষয়ে কাজ চলছে।

চূড়ান্ত হওয়া খসড়া বিধিমালায় বলা হয়েছে, কোনো মা-বাবার একমাত্র ছেলে সস্ত্রীক চাকরি নিয়ে দূরে বা প্রবাসে থাকলে ‘উপযুক্ত প্রতিনিধির’ মাধ্যমে তাদের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। উপযুক্ত প্রতিনিধি বলতে সন্তানের কোনো নিকটাত্মীয় চাচা, চাচি, ফুপা, ফুপু, মামা, মামি, খালা, খালু, ভাই, ভাবি, ভগ্নি, ভগ্নিপতি, শ্যালক, শ্যালিকা বা এ ধরনের রক্ত সম্পর্কীয় কেউ, বিশ্বস্ত কর্মী বা প্রতিবেশীকে বোঝানো হয়েছে।

পিতা-মাতার ভরণপোষণের ন্যূনতম মানদ- নির্ধারণ করে খসড়া বিধিমালার ১১ ধারায় বলা হয়েছে, ‘ভরণপোষণের ন্যূনতম মানদ-ের ভিত্তি হইবে সন্তানের সামর্থ্য ও পিতা-মাতার যৌক্তিক প্রয়োজন সমন্বয়ের মাধ্যমে তাহাদের জন্য পর্যাপ্ত জীবনমান।’ এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তান মা-বাবাকে সঙ্গে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। একাধিক সন্তান থাকলে মা-বাবা কোন সন্তানের সঙ্গে বসবাস করবেন, তা তাদের ইচ্ছানুযায়ী হবে।

সন্তান বা তার স্ত্রী-সন্তান মা-বাবার সেবা ঠিকমতো করছে কি না তা যাচাই করতে সারা দেশের ওয়ার্ড পর্যায়ে সহায়ক কমিটি থাকবে। এ ছাড়া ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা, সিটি করপোরেশন ও জাতীয় পর্যায়েও কমিটি থাকবে। কোনো মা-বাবার একজন মাত্র সন্তান থাকলে এবং কোনো উপযুক্ত কারণে একত্রে বসবাস না করলে ওই মা-বাবার ভরণপোষণের জন্য কী পরিমাণ অর্থ সন্তানকে দিতে হবে তা নির্ধারণ করে দেবে সহায়ক কমিটি।

নির্ধারিত অর্থ সন্তান মা-বাবার জন্য ব্যয় করবে বা সরাসরি অথবা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠাবে। একাধিক সন্তান থাকলে এবং সন্তানরা একত্রে বাস না করলে মা-বাবার দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ নির্ধারণ করে প্রত্যেক সন্তান সম্মিলিতভাবে নির্ধারিত অর্থ মা-বাবাকে দেবে। তবে মা-বাবা যে সন্তানের সঙ্গে থাকবে, সে সন্তানের আয় বিভাজন করে নগদ টাকা দিতে হবে না। মা-বাবার জন্য সন্তানরা শুধু টাকা দিলেই হবে না, বছরে কমপক্ষে দু’বার সাক্ষাৎ করতে হবে।

অনেক সন্তান বা তার স্ত্রী মা-বাবার আচার-আচরণের সমালোচনা করেন। সন্তান মা-বাবার কথা শুনবে, নাকি স্ত্রীর কথা শুনবেÑ তা নিয়ে বিরোধ হয় বউ-শাশুড়ির মধ্যে। এই বিরোধ দূর করতে মা-বাবার আচরণবিধি নির্ধারণ করা হয়েছে খসড়া বিধিমালায়। বলা হয়েছে, মা-বাবা তাদের প্রয়োজন বা অনুভূতির কথা সন্তানদের একত্রে বা আলাদাভাবে জানাবেন। যেকোনো সংকটের কথা সন্তানদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

আলোচনা করে সংকটের সুরাহা না হলে পরিবারের অন্য সদস্য বা স্থানীয় ভরণপোষণ সহায়ক কমিটির সহায়তা নেবেন। মা-বাবা পরিবারের সবার প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করবেন এবং শিশুসহ সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকার চেষ্টা করবেন। মা-বাবার কোনো প্রয়োজন সন্তান তাৎক্ষণিকভাবে মেটাতে না পারলে বা দেরি হলে যথাসম্ভব ধৈর্য ধারণ করবেন। শারীরিক সামর্থ্য অনুযায়ী নিজেদের সেবাযত্ন নিজেরাই নেওয়ার চেষ্টা করবেন। তাদের নিজস্ব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ সুরক্ষার চেষ্টা করবেন।

মা-বাবার সঙ্গে সন্তানের আচরণ কেমন হবে তা উল্লেখ করে খসড়া বিধিমালার ১৩ ধারায় বলা হয়েছে, মা-বাবার সঙ্গে সর্বাবস্থায় মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করতে হবে, যত্নসহকারে তাদের দেখভাল করতে হবে। তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। মা-বাবার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যগত বিষয়ে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

প্রয়োজনীয় সেবা শুশ্রƒষা, পথ্য ও অন্যান্য উপকরণ যথাসম্ভব দ্রুত সরবরাহ করতে হবে। কোনো প্রকার ছলচাতুরীর মাধ্যমে মা-বাবার সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার করবে না। মা-বাবার সম্পদে অন্য উত্তরাধিকারীদের অংশ আত্মসাতের চেষ্টা করবে না। মা-বাবার নিজস্ব কোনো সম্পদ না থাকলেও তাদের কোনোরূপ দোষারোপ করা যাবে না। পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে পিতা-মাতার অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।

মা-বাবার জন্য খাদ্য প্রসঙ্গে খসড়া বিধিমালার ১৪ ধারায় বলা হয়েছে, ‘পিতা-মাতার জন্য দৈনিক ন্যূনতম তিনবার বা পিতা-মাতার প্রয়োজন অনুসারে খাদ্য সরবরাহ করিবে : তবে শর্ত থাকে যে, পিতা-মাতার বয়স, অসুস্থতা বা প্রতিবন্ধিতা বিবেচনায় আনিয়া, প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুসারে নির্ধারিত পুষ্টিমান নিশ্চিত করিতে হইবে। বিশেষ অনুষ্ঠান বা উৎসবে পিতা-মাতার জন্য চিকিৎসকের বিধি-নিষেধ অনুসরণপূর্বক উন্নতমানের খাবার সরবরাহ করিতে হইবে।’

ঋতু বিবেচনায় নিয়ে মা-বাবার পছন্দ ও শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনায় তাদের জন্য আরামদায়ক পোশাক নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে এতে বলা হয়েছে, বছরে যেকোনো একটি উৎসবে অতিরিক্ত এক সেট নতুন পোশাক সরবরাহ করতে হবে। সন্তানের আর্থিক সঙ্গতি অনুসারে তাদের পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কক্ষে রাখতে হবে। কক্ষটি সমতল জায়গা হতে হবে। তাদের জন্য বিছানাপত্র ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র রাখতে হবে। তাদের শৌচকাজ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নির্বিঘ্ন করার জন্য প্রবীণবান্ধব ব্যবস্থা থাকতে হবে।

কোনো সন্তান বা তার স্ত্রী মা-বাবার উপযুক্ত ভরণপোষণ ও সেবা নিশ্চিত না করলে সে বিষয়ে সহায়ক কমিটির কাছে অভিযোগ করতে পারবেন মা-বাবা। অভিযোগ পাওয়ার পর কমিটি সরেজমিনে গিয়ে মা-বাবা ও সন্তানদের সঙ্গে আলোচনা করবে।

আলোচনার ভিত্তিতে তা সুরাহা না হলে কমিটি মা-বাবাকে অভিযোগ দাখিল করতে বলবে। ওই অভিযোগ আমলে নিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আদালত তা নিষ্পত্তি করবে। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ৩০ দিনের মধ্যে জেলা ও দায়রা জজ বা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আপিল করতে পারবে।

‘পিতা-মাতার মৃত্যুতে করণীয়’ শিরোনামে খসড়া বিধিমালার ২১ ধারায় বলা হয়েছে, ‘পিতা-মাতা মৃত্যুবরণ করিলে প্রত্যেক সন্তানকে সশরীরে উপস্থিত থেকে তাহাদের দাফন-কাফন বা সৎকারসহ পিতা-মাতার দায়দেনা পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করিতে হইবে। তবে শর্ত থাকে যে, কোনো সন্তান প্রবাসজীবন বা অন্যকোনো কারণে পিতা-মাতার মৃত্যুর অব্যবহিত পরে সংবাদ পাইয়া উপস্থিত থাকিতে না পারিলে তাকে উপযুক্ত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দাফন-কাফন বা সৎকারের ব্যয়ভার বহনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করিতে হইবে।’

পিতা-মাতার ভরণপোষণে সবাইকে উৎসাহিত করতে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ অবদানের জন্য একটি নীতিমালার ভিত্তিতে বার্ষিক সম্মাননা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে খসড়া বিধিমালায়।

ঘোড়াঘাটে রিক সংস্থা কর্তৃক প্রবীনদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি-দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলা রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) সংস্থার আয়োজনে উপজেলার শতাধিক প্রবীনদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।

শনিবার বেলা ১১টায় রিক সংস্থা ঘোড়াঘাট রাণীগঞ্জ শাখা অফিসে এরিয়া ম্যানেজার মোঃ কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিরুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঘোড়াঘট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাফে খন্দকার সাহানশা, ৩নং সিংড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মন্ডল ও রিক সংস্থার জোনাল ম্যানেজার মোঃ আব্দুল আলিম।

আরও উপস্থিত ছিলেন, রিক সংস্থার বি,এম মোঃ মুঞ্জুরুল হক, বি,এ,ও হাফিজুল ইসলাম, সি,ও ওয়াজেদ আলী, রবিউল ইসলাম, আমজাদ হোসেন, সাংবাকিদ একরামুল হক, মজিবর রহমান, ইফতেখার আহম্মেদ খান বাবু ও ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ।

বিরামপুরে প্রবীণদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

ড়াঃ আঃ রশিদ, বিরামপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা-রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) প্রবীণ কল্যাণ কর্মসূচির আওতায় মঙ্গলবার (২৯ জানুঃ) বিরামপুর উপজেলার শতাধিক প্রবীণের মাঝে উন্নত মানের কম্বল বিতরণ করেছে।

সংস্থার বিরামপুর শাখা অফিস চত্বরে কম্বল বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, উপজেলা চেয়ারম্যান পারভেজ কবীর ও থানার ওসি (তদন্ত) সোহেল রানা।

এসময় তাদের সাথে ছিলেন, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আহসান রেজা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ আহবায়ক মেজবাউল ইসলাম মেজবা, রিক এরিয়া ম্যানেজার কামরুল হাসান, শাখা ম্যানেজার গোলাপ মিয়া, হিসাব রক্ষক আসাদুজ্জামান, মাঠ কর্মকর্তা আবু হোসেন, সামিউল ইসলাম, আব্দুল খালেক, সাহেলা খাতুন প্রমূখ।

বিরামপুরে প্রবীন, প্রতিবন্দী ও মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে দেওয়া হলো কম্বল

বিরামপুর থেকে মাহমুদুল হক মানিক- সীমান্তবর্তী ও কৃষি নির্ভর উপজেলা বিরামপুরে প্রবীন,প্রতিবন্দী, মুক্তিযোদ্ধাদের শীত বস্ত্র হিসেবে ঢাকাস্থ অফিসারস ক্লাব উদ্দ্যেগে কল্যান ও সেবা উপকমিটি শনিবার ২৬ জানুয়ারী দুপুরে উপজেলা অডিটরিয়ামে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান প্রবীন, প্রতিবন্দী ও মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে কম্বল তুলে দিলেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লুৎফর রহমান শাহ্ বিরামপুর ম্যাটসের পরিচালক হারুনুর রশিদ, নুর-ই-আলম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ, সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামন, সাবেক পৌর কমিশনার আব্দুল কালাম আজাদ, বিরামপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহমুদুল হক মানিক প্রমুখ।

বিরামপুরে চমক ক্লাব ও পাঠাগার প্রবীনদের হাতে দিল শীতবস্ত্র

বিরামপুর থেকে- দিনাজপুর জেলার কৃষি নির্ভরশীল ও সিমান্তবর্তী উপজেলা বিরামপুরের দিওড় ইউনিয়নের কিছু উদ্দ্যেগী তরুন গড়ে তুলেছে দিওড় চমক ক্লাব ও পাঠাগার, নানামুখী আয়োজনে এবারে ছিল হতদরিদ্র ও প্রবীনদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ।

গতকাল বিকেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা নিয়ামুল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ পারভেজ কবীর, এসময় উপস্থিত ছিলেন ৪নং দিওড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান, সাবেক প্রধান শিক্ষক জিন্নাত আলী , ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী সহ সংগঠনের নেত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এবার বর্জন নয়, নির্বাচন

বাংলাদেশে নির্বাচন বর্জন ও নির্বাচনে অর্জন এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। দূর অতীতের কথা না বললেও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘটনা-দূর্ঘটনা ও দূরবস্থার কথা সবার স্মরণে রয়েছে।

গত ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সনে প্রায় ৩ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ও তাদের সঙ্গীরা বাদে বিএনপি-জামাত ও তাদের সঙ্গীরা ৫ জানুয়ারি ২০১৪ এ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু বর্জন করেছে বললে অসম্পন্ন বলা হবে। দেশে উক্ত নির্বাচন যাতে না হয় তার জন্য তারা কী অপচেষ্টায় না করেছেন! জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন এটাই স্বাভাবিক।

নির্বাচন সুষ্ঠু, সবার অংশগ্রহণ ও স্বতস্ফুর্ত হওয়ার কথা। দলগত বা ব্যক্তি বিশেষে কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা বা ভোট প্রদান করা বা না করার অধিকার সকল জনগণের রয়েছে। কিন্তু ২০১৪ সনের নির্বাচন শুধু বয়কট নয়, বরং নির্বাচনকে দেশে-বিদেশে কালিমাময় ও সর্বসাধারণকে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য এমন কোন অস্ত্র নাই যা বিএনপি-জামাত জোট প্রয়োগ করেননি। দিনের পর দিন এমনকি মাসের পর মাস তারা ক্ষমতাসীন সরকারকে ধর্মঘট, হরতাল শুধু নয়, জনমানুষের মৌলিক অধিকার সমূহে হস্তক্ষেপ করেছেন। রাস্তা বন্ধ, আতঙ্ক সৃষ্টি, গাড়ী ভাঙ্গা, নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও গাড়ী সমূহে অগ্নিসংযোগ করাসহ রাস্তা সমূহ ও রাস্তার পাশ্ববর্তী গাছাপালাসমূহ কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। শুধু তাই নয়, নির্বাচন পূর্ব ও নির্বাচনকালীন সময় ব্যালট পেপার সমূহ ছিনতাই, পুড়ে ফেলা, কেন্দ্র সমূহে মরনাস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা, আতঙ্ক সৃষ্টি শুধু নয়, নির্বাচনী কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যাও করেছন। ফলে বিতর্কিত এক নির্বাচন স্বল্প সংখ্যক ভোটারের ভোট দেয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। অধিকাংশ সংসদ সদস্য বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়ে পড়েন।

অপরদিকে হেফাজত-এ-ইসলামি নামক বিশাল ধর্মান্ধগোষ্ঠীর বিরোধীতায় আওয়ামী লীগ ও বামভাবাপন্ন রাজনৈতিক দল আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়ে। তাদের অভিযান চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। অনেক ধ্বংসলীলা ও আতঙ্কের মধ্যে সময় কাটাতে হয়। যাই হোক এবার সেই পরিস্থিতি নাই। মূলত হেফাজত-এ-ইসলামের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে কওমী মাদরাসার শিক্ষায় ‘‘দাওরায় হাদিসের’’ স্বীকৃতি অর্থাৎ মাস্টার্স পর্যায়ের সমতুল্য ডিগ্রী প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ ও ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটাতে পেরেছেন শেখ হাসিনার সরকার। শুধু তাই নয় তারা এ বিষয়ে শুকরানা আদায়, প্রকান্তরে রাজনৈতিক না হোক মানসিক প্রশান্তি প্রকাশ করেছেন। এক বাক্যে বলা যায়, ২০১৮ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বড় রকমের বাধা সৃষ্টির উপযোগী ব্যবস্থাসমূহ একরূপ সুপ্ত বা অনুপস্থিত। উপরন্ত বিএনপি’র ঘনিষ্ঠ সহযোগী জামাতে ইসলামী নামে দলের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। যদিও তারা অভ্যন্তরীনভাবে এখনও সংগঠিত।

এবার নির্বাচন পূর্ব সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো দুইটি বৃহৎ ও পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়া, বিশেষ করে বিএনপি’র পক্ষ থেকে কয়েকবছর ধরে সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে সংলাপ -সংযোগের কথা বলা হচ্ছিল। অপরদিকে জামাত ও বিএনপিকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে হত্যা ও খুনের অভিযোগে সংলাপ প্রত্যাখান করা হয়েছিল। বিএনপি গত নির্বাচন বিমুখতা তাদের বিশাল কর্মীবাহিনীকে জনগণ থেকে একরূপ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিল। যদিও বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সমূহে অংশগ্রহণ করে বেশ সফলতাও পেয়েছে।

বিএনপি ও তাদের সহযোগীরা মনে করে তারা এক ধাক্কায় ক্ষমতার অধিকারী হবে। ক্ষমতার বাহিরে তাদের থাকা মানায় না। উপরন্ত আওয়ামী লীগ মূলত দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। তাই যে করেই হোক তারা আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সাধ গ্রহণ করবে। দেশ ও জাতির জন্য কে কার চেয়ে ভালো, যোগ্য এবং দেশ পরিচালনা ও উন্নয়ন করবে তার চেয়ে কে বিরোধী পক্ষকে নিশ্চি‎হ্ন ও নিগ্রহ করবে সেই প্রতিযোগিতা দেখা যায়। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের মূল আদর্শ ছিল বঞ্চিত জনগণের প্রত্যাশা পূরণ। যা রাষ্ট্রের মূল নীতিতে উল্লেখ রয়েছে তা বাস্তবায়িত হবে। যাই হোক বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে বলা যায়, বিতর্কিত নেতৃত্বের হাত থেকে খানিকটা দূরে অবস্থান করে ড. কামাল হোসেন ঐক্যফ্রন্ট গড়ে তুলেছেন। যদিও তিনি জোটের হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে পত্র লিখেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তড়িৎ উত্তর প্রদান করে সংলাপের ব্যবস্থা করেছেন।

সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবী না মানার কথা বলা হচ্ছে এবং আইনগত কিছু বাধ্যবাধকতা ব্যতিত অধিকাংশ দাবী মানা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তবে আমরা যা দেখছি, দেশে নির্বাচনী একটা পরিবেশ ফিরে এসেছে। দুই পক্ষই মনোনয়ন ও ভোটের প্রতিযোগিতার দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। যতদূর লক্ষ করা যায়, পুরাতন বা গায়েবী মামলা মোকদ্দমা নিয়ে বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের হয়রানী করা হচ্ছে। নির্বাচনকালীন সময়ে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব অনেক বৃদ্ধি পাওয়ার কথা এবং সাংবিধানিক ভাবে তা আরও জোরদার করার ব্যবস্থা করা উচিত বলে প্রতীয়মান হয়।

নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনকালীন সার্বভৌম ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে বটে। তবে চলমান সরকারের প্রশাসন-পুলিশ ও অন্যান্য বিভাগের প্রতি প্রয়োজনে চড়াও হওয়া বেশ কঠিন বলে প্রতীয়মান হয়। যদি সংসদ বহাল না থাকত বা সরকার অল্প কয়েক ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে গঠিত হতো বা রাষ্ট্রপতিকে সার্বিক দায়িত্ব প্রদান করা হতো তাহলে সমতল মাঠ নিয়ে নির্বাচন ব্যবস্থায় হয়তো কথা উঠতো না।

ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে নির্বাচন ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করা হয়েছে। সামরিক শাসনের যাতাকল থেকে বেরিয়ে আসতেও জাতিকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট জয়ী হয়েও তৎকালীন প্রাদেশিক সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেননি। তবে পশ্চিমা বিমুখতা বাঙ্গালিদের পেয়ে বসে। ১৯৬৯ এর গণঅভুত্থান এবং ১৯৭০ এর নির্বাচন বাঙ্গালীদের স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার তাগিদ দেয়। ১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশে সামরিক শাসন পূনরায় ভর করে। ১৯৯০ এ সামরিক শাসনকে সম্মিলিতভাবে ‘না’ বলা সম্ভব হয়। তবুও মাঝেমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর দলাদলি, নেত্রীবৃন্দের অযোগ্যতা, হিংসা, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির দখলদারিত্ব, অবৈধভাবে অর্থলিপ্সা গণতান্ত্রিক ও সুশাসনের জন্য প্রতিষ্ঠানসমূহে হস্তক্ষেপ ইত্যাদি সুচিন্তিত ও সাধারণ জনগণকে পীড়া দেয়।

বাংলাদেশের কোন সরকার সুশাসন ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মনিয়োগ করেছেন বলে প্রতীয়মান হয় না। বিএনপির শাসনের সময়ে দেশে জঙ্গীবাদের উত্থান ঘটে, তাদের মদদ দেওয়া হয় জাতির জনকের হত্যাচারীদের পদোন্নতি ও বিশেষ সুবিধা ও ইনডেমনিটি আইন তৈরি করা হয়। যদিও বিএনপি অমূলক দাবী করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য তাদের অবদান অনস্বীকার্য। তবে একথা স্বীকার করতে হবে যে বিএনপি একটি বিপুল সমর্থিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ।

এদিকে আওয়ামী লীগের গত ১০ বছরের শাসনে অনেক দৃশ্যমান অগ্রগতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। আবার সুশাসনের ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধাচারনে কিছু দোষে দোষী বলা যায়। বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণভাবে বিশেষ করে নিম্ন আদালতকে উচ্চ আদালতের আয়ত্ত্ব থেকে আলাদা রাখা হয়েছে। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির (এস. কে সিনহা) বিরুদ্ধে অযাচিত অভিযোগ আনয়ন করা হয়। এমনকি দেশের অনেক গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে তুচ্ছ জ্ঞান করে গালমন্দ করা হয়। নোবেল বিজয়ী ড. ইউনুসের বিরুদ্ধাচারণ এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

শুধু ক্ষমতার মসনদ বা রাজনৈতিক দখলদারিত্বের জন্য দেশ ও জাতি নয়। এই উপলব্ধি থেকে সম্মিলিত ভাবে দেশ পরিচালনার হওয়ার কথা। শুধু নির্বাচন গণতন্ত্র নয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রান্তিক জনগণকে ক্ষমতায়ন করতে হবে, শিক্ষার হার বৃদ্ধি ও সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সুষ্ঠু জাতি গঠনের জন্য জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচনসমূহ যথেষ্ঠ অর্থবহ। সুস্থ্য, স্বাভাবিক, নির্ভেজাল নির্বাচন একটি জাতির উন্নয়নের পূর্বশর্ত। কারচুপি বা রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন পীড়নের মাধ্যমে তথাকতিথত নির্বাচনে মিছামিছি জনপ্রতিনিধি হওয়ার মাধ্যমে কোন তৃপ্তি বা শান্তি-স্বস্থি নেই।

পাশাপাশি সরকার বিরোধী বা রাজনৈতিকভাবে নিপীড়িত দল বা গোষ্ঠীকে বুঝতে হবে। রাতারাতি বা অতি শীঘ্রই পট বদলানো যাবে না। বদলাতে হবে গণমানুষের মানসিকতা এবং সেজন্য তাদের নৈকট্য লাভ করতে হবে, বিশ্বস্ত হতে হবে। তৃতীয় শক্তির উপর ভর করে নয় বা দেশকে দুর্বিপাকে ফেলে বাধ্য করে নয়। যেন জনপ্রতিনিধির যোগ্যতা অর্জন করে জয়ী হওয়া যায়, সরকার গঠন করা যায়। এজন্য জাতীয় সংসদে যোগ্যতর সরকারী ও বিরোধী দলের প্রতিনিধি সংখ্যায় যত কম বা বেশি হোক অতি প্রয়োজনীয়। ৭ মার্চ’৭১ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের একটি বাক্য মনে রাখার মতো। ১৯৭০ সনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে যখন ঢাকায় প্রথম জাতীয় সংসদ অধিবেশন বসার কথা, বঙ্গবন্ধু পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিনিধিদের অভয় দিয়ে বলেছেন। আপনাদের সংখ্যালঘু সদস্যদের শুধু নয়, একজনও যদি ন্যায্য কথা বা দাবী তোলেন আমরা তা মেনে নিব।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, বর্তমান প্রশাসন ও পুলিশকে রাজনৈতিক দল বা সরকারের আজ্ঞাবহ করা হয়েছে। পুলিশ বাহিনীকে হয়ত ভূতে পেয়েছে। ছোটবেলায় একটি বাক্য গ্রামে গঞ্জে খুব প্রচলিত হতে শুনেছি, যে কোন অকারণ বা উটকো ঘটনা ঘটলে মুরব্বীরা ছোটদের বলতেন, ভূতের হাতে খন্তি (শাবল) তুলে দিলে এমন ই হয়। বর্তমান সরকার মনে হয়, পুলিশের হাতে খুন্তি তুলে দিয়েছেন। তাই তারা যা ইচ্ছা করছেন। এই খুন্তি কেড়ে নেওয়ার ব্যবস্থা না করলে ভূতুড়ে কাণ্ড বন্ধ হবে বলে মনে হয় না। পুলিশি রাষ্ট্র নয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং সুশাসনের জন্য এর বিকল্প নাই। গণতন্ত্র ও সুশাসন ধীরে ধীরে হলেও প্রতিষ্ঠা লাভে অগ্রগতি হোক, এটাই দেশবাসীর আশা।

যাই হোক ২০০৮ এর নির্বাচন এর অনুকরণ এবার নয়। দুই পক্ষ এবার নির্বাচনমুখী দেশ ও জাতির কল্যাণে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একটি মাইলফলক রূপে চি‎িহ্নত হোক ২০১৮ এর নির্বাচন এই প্রত্যশা ও অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।-

ডাঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্

আজীবন সদস্য

প্রবীণ হিতৈষী সংঘ, দিনাজপুর।

সভাপতি, শহীদ আসাদুল্লাহ স্মৃতি সংসদ

এবং মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদ স্মৃতি সংগ্রহ কমিটি।

মোবাঃ ০১৭৭৩২৩৮২৫২

ফুলবাড়ীতে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি- দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে প্রবীণদের সুরক্ষার দাবি নিয়ে ফুলবাড়ী প্রবীণ কল্যাণ সংঘের উদ্যোগে র‌্যালী ও আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে আন্তর্জাতিক প্রবীন দিবস পালিত হয়েছে।

গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষ্যে স্থানীয় ঢাকা মোড়স্থ ফুলবাড়ী প্রবীণ কল্যাণ সংঘ কার্যালয়ে থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়।

র‌্যালী শেষে ফুলবাড়ী প্রবীণ কল্যাণ সংঘের সভাপতি প্রবীণ শিক্ষক আলহাজ্ব মো.দছিম উদ্দিন মন্ডলের সভাপতিত্বে স্থানীয় ঢাকা মোড়স্থ কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম চৌধুরী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা কৃষি অফিসার এটিএম হামিম আশরাফ, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার আখতারুজ্জামান। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সহ-সভাপতি ডা: মো. আব্দুল মান্নান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সাবেক জেলা নির্বাচন অফিসার আলহাজ্ব মো. মোকলেছুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপ-পরিচালক (বি আর ডি বি) আলহাজ্ব মো. মোজাফ্ফর রহমান, কোষাধ্যক্ষ আলহাজ্ব মো. আবু হানিফ সরকারসহ সংগঠনের সকল সদস্য বৃন্দ।

প্রবীনের যুক্তি আর নবীনদের শক্তি-দুইয়ে মিলে হবে সমাজের মুক্তি-জেলা প্রশাসক

স্টাফ রির্পোটার, দিনাজপুর- ১ অক্টোবর সোমবার আন্তর্জাতিক প্রবীন দিবস উপলক্ষে প্রবীন হিতৈষী সংঘ দিনাজপুর আয়োজিত এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বর্ণাঢ্য র‌্যালী, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

“মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায়-প্রবীনদের স্মরণ পরম শ্রদ্ধায়” এবারের প্রতিবাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে সকাল ১০টায় দিনাজপুর ইন্সটিটিউট প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে সমাপ্ত হয়।

জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে প্রবীন হিতৈষী সংঘের সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক স্টিফেন মুর্মু।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন, প্রবীন হিতৈষী সংঘের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ চৌধুরী মোসাদ্দেকুল ইজদানী। বক্তারা বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবী প্রবীন কল্যাণ বিষয়ক স্বতন্ত্র একটি মন্ত্রণালয় স্থাপন করা। এই দাবী পুরণ হলে প্রবীনদের সকল প্রকার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। জাতীয় প্রবীন নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে সরকার ও জনগণকে আরো আন্তরিক হতে হবে।

বার্ধক্য এখন একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং একে মোতাবেলা করতে হবে বৈশ্বিকভাবে। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ডাঃ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ। মুক্ত আলোচনা করেন মোঃ শফিকুল ইসলাম, সামসুদ্দিন আহম্মেদ, অধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেন, নুর ছাবা বেগম।

আলোচনা সভা শেষে কেন্দ্রীয় ভাবে মমতাময়ী পুরস্কার প্রদান করা হয় সিদ্দিকা সাঈদ আখভতার ও মমতাময় হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করা হয় এ্যাডঃ আশরাফ সিদ্দিকীকে এবং স্থানীয়ভাবে প্রবীন হিতৈষী সম্মাননা-২০১৮ প্রদান করা হয় রতœগর্ভা, প্রবীন স্বকৃতী স্বরূপ আলহাজ্ব নাজমা রহিমকে মমতাময়ী মা সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

এছাড়া স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দিনব্যাপী কর্মসূচীর মধ্যে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ডাঃ সাহাব উদ্দিন, ডাঃ এস এম আব্দুল হাই ও ডাঃ ডিসি রায় এর নেতৃত্বে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, দুপুরে রাজবাড়ী শান্তি নিবাসে বৃদ্ধাদের মাঝে মধ্যাহ্ন ভোজের ব্যবস্থা।

বিরামপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত

আকরাম হোসেন, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি-মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রবীণদের শ্রদ্ধা স্মরণে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও উন্নত খাবার বিতরণের মাধ্যমে বিরামপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালন করা হয়েছে।

সকালে রির্সোস ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) অফিস থেকে প্রবীণদের র‌্যালি উপজেলা চত্বরে মিলিত হয়।

উপজেলা কনফারেন্স রুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, প্রবীণ রাজনীতিবীদ আঃ আজিজ সরকার, বিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আকরাম হোসেন, প্রভাষক মশিহুর রহমান, সমাজসেবা কর্মকর্তা আছাদুজ্জামান, রিক’র এরিয়া ম্যানেজার কামরুল হাসান, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার গোপাল মিয়া, নওশা মিয়া, মঞ্জুরুল হক ও ফরিদুল বশির, হিসাব রক্ষক আসাদুজ্জামান প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে রিক অফিসে থেকে প্রবীণদের মাঝে উন্নত খাবার বিতরণ করা হয়।