বুধবার-১৩ নভেম্বর ২০১৯- সময়: রাত ১:১৩
ঘোড়াঘাটে বানিজ্যিক ভাবে মাল্টা বাগান করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে নাটোরের প্রতিবন্ধি প্রবীণ দম্পত্তি ভাতা নয়, চায় মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নবাবগঞ্জে ইঁদুর কেটে ফেলছে কাঁচা আমন ধানের রোপা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা কমেছে সময় ও দুর্ঘটনা,ঝালকাঠিতে ১৪ কি.মি মহাসড়ক নির্মাণ, স্বস্তিতে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা রাজাপুরে ব্যক্তি উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রীজ নির্মান, বই ও বেঞ্চ প্রদান মুক্তিযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ প্রসঞ্জী রায়এর পাশে- এমপি গোপাল ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল হাসপাতালে লাইভ ওয়ার্কশপে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় রিং (স্টেন্ট) সফল প্রতিস্থাপন সম্পন্ন ধামইরহাটে তিন ভূয়া ডিবি পুলিশ আটক সম্মানি না পেয়ে চিকিৎসা দিতে এলেন হারবাল এ্যাসিস্টেন্ট!

লাইফস্টাইল newsdiarybd.com:

গরমে যা খাবেন, যা খাবেন না!

তাপমাত্রা বেড়েই চলছে। গরমের কারণে শুরু হচ্ছে অস্বস্তি। তীব্র এই গরমে আমাদের শরীর থেকে ঘামের সঙ্গে পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। ফলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এজন্য গরমে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

গরমে যা খাবেন-
তীব্র গরমে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ লিটার বিশুদ্ধ পানি বা পানীয় পান করতে হবে। ওরস্যালাইন ও ডাবের পানি লবণের চাহিদা পূরণ করে।

বাজারে অনেক দেশি ফল আছে। বাঙ্গি, তরমুজ, কাঁকুড়, ডালিম, শসা, পানিসমৃদ্ধ ফল। এগুলো বেশি করে খেতে হবে। গরমে লেবু ও তোকমার শরবত অনেক উপকারী। শিশুরা যেন এসব পানীয় গ্রহণ করে সেদিকে অভিভাবকরা লক্ষ্য রাখুন।

লাউ, শিম, চাল কুমড়ার রান্না করা তরকারি খাবেন। দুপুরে ও রাতে খাবারে সালাদ, টক-মিষ্টি চাটনি খাবেন। প্রতিদিন সম্ভব হলে টকদই খান। প্রস্রাবের রঙ হলুদ, বিবর্ণ বা ঘন হলেই বুঝবেন, দেহে পানিস্বল্পতা হয়েছে। জন্ডিস বা হেপাটাইটিস হলেও প্রস্রাবের এমন রঙ হয়।

যা খাবেন না-
চর্বিযুক্ত, তৈলাক্ত, ভাজা-পোড়া খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহলযুক্ত বেভারেজ পানিস্বল্পতা সৃষ্টি করে থাকে। যারা ঘরের বাইরে রোদে কাজ করেন, তারা বোতলে পানীয়জল রাখবেন। খোলা জায়গায় বা রাস্তার পাশে শরবত পান করবেন না।

গরম চা ও কফি এ সময় এড়িয়ে চলাই ভালো। বিনা প্রয়োজনে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত রোদে বের না হওয়াই ভালো। যারা ক্ষেত-খামারে কাজ করেন, তারা কাজের ফাঁকে ফাঁকে ছায়ায় পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেবেন।

শীতে পালং পাকোড়া

লাইফস্টাইল ডেস্কশীতকাল এসে গেছে। বাজার সয়লাব পালং শাকের মতো শীতের মজার মজার সব শাকে।

এ সময় পালং-চিংড়ি, পালং-পনিরসহ কত খাবারে এই শাক যুক্ত হয় তার ইয়ত্তা নেই। তাহলে পালং শাকের পাকোড়া কেন বাদ যাবে। আজকেই হয়ে যাক পালং পাকোড়া-

উপকরণ: পালং শাক: দুই আটি (মিহি করে কুচনো),

ডিম: ২টি,কাঁচা মরিচ কুচি: ১ কাপ,

ধনেপাতা কুচি: ১ কাপ,পেঁয়াজ কুচি: ১ কাপ,

বেসন আর ময়দা মেশানো: ২-৩ কাপ, লবণ: আন্দাজ মতো,হলুদ: এক চামচ।

পালং পকোড়া বানানোর পদ্ধতি:

মিহি করে কুচনো পালং শাক, ডিম, লবণ, কাঁচা মরিচ কুচি, ধনেপাতা কুচি, হলুদ, পেঁয়াজ কুচি, বেসন আর ময়দা মিশিয়ে দিয়ে ভাল করে মাখুন।

মাখা হয়ে গেলে মিশ্রণটি একটু নরম হওয়ার জন্য কিছুক্ষণ (১৫-২০ মিনিট) রেখে দিতে হবে। ১৫-২০ মিনিট পর একটি পাত্রে তেল গরম করে মিশ্রণ থেকে সমপরিমাণে পালং-মাখা নিয়ে ডুবো তেলে ভাজুন।

এই ভাবে সবটা ভাজা হয়ে গেলে তেতুল কিংবা টমেটো সস দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন মুচমুচে মুখরোচক পালং পাকোড়া।

তুলসীপাতা শরীরে প্রয়োজনীয় ইন্সুলিনের পরিমাণ বৃদ্ধি ও ডায়াবেটিকস রোধ করে

তুলসীপাতাকে ভেষজের রানী বলা হয়। প্রতিদিন তুলসীপাতা সেবন করার অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

সহজলভ্য এই পাতাটি মাথাব্যথা থেকে শুরু করে ক্যানসারের মতো রোগও প্রতিরোধ করে থাকে। প্রতিদিন একটি তুলসী পাতা আপনাকে দূরে রাখবে ৭ টি অসুখ থেকে।

আসুন জেনে নিই তুলসীপাতার স্বাস্থ্য উপকারিতা-
মাথাব্যথা খুব পরিচিত একটা রোগ। এই ব্যথা অল্প থেকে শুরু হলেও তীব্র হতে বেশি সময় লাগে না। তুলসীপাতা এই মাথাব্যথা দূর করতে সাহায্য করে থাকে।

এতে রয়েছে শক্তিশালী প্রাকৃতিক গুণাগুণ যা মাথাব্যথা দূর করে থাকে। এমনকি মাইগ্রেন, সাইনাস, কারণে মাথাব্যথাও দূর হতে পারে কেবল প্রতিদিন একটি তুলসীপাতা খেলে।

দেহের ইনফেকশন দূর করে থাকে তুলসী পাতা। এতে ফাংজিসাইডাল এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান আছে, যা দেহের অভ্যন্তরীন ইনফেকশন দূর করতে সাহায্য করে।

তুলসীপাতা কিডনির পাথর সারাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে তুলসীপাতা খেলে এটি প্রাকৃতিকভাবে কিডনির পাথর দূর করে দিবে।

তুলসী পাতাতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, মিথাইল, ইউজিনল উপাদান আছে। এটি রক্তের সুগারের পরিমাণ কমিয়ে থাকে। আবার শরীরে প্রয়োজনীয় ইন্সুলিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে থাকে। যা ডায়াবেটিকস রোধ করতে সাহায্য করে।

এটা আমরা সবাই জানি তুলসী পাতার রস কাশি দূর করে থাকে। সকালে এক গ্লাস পানির সঙ্গে তুলসীপাতা খান। এতে অ্যান্টিটুসিভ উপাদান যা কফ দূর করতে সাহায্য করবে। এক্সপেকটোরেন্ট উপাদান বুকের শ্লেষ্মাকে বের করে দেবে।

তুলসী পাতাতে এ্যান্টি অক্সিডেণ্ট উপাদান আছে যা স্তন ক্যানসার এবং ওরাল ক্যানসার প্রতিরোধ করে। তুলসীপাতার রস রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখে যা টিউমার হওয়া প্রতিরোধ করে থাকে।

তুলসীপাতার মধ্যে পলিফেনল উপাদান আছে যা রক্তাধিক্যজনিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। যা ফুসফুসকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

বেশি ঘুমালে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি

লাইফস্টাইল ডেস্কসাপ্তাহিক ছুটি বা অন্যান্য ছুটির দিনে কর্মজীবী মানুষেরা অধিক ঘুমাতে অভ্যস্ত। এটাকে অনেকে মনে করেন সপ্তাহের ৫ বা ৬ দিন পরিশ্রম করার পর শরীরের সব এলোমেলো হয়ে যায়। আর এজন্য প্রয়োজন বাড়তি ঘুম, বাড়তি রেস্ট।

অনেকে আবার ছুটির দিনে দেরি করে ঘুমাতে যান এবং সকালে দেরিতে ঘুম থেকে উঠেন। এমনকি অনেকের ঘুমানোর অভ্যাস এমন যে ঘুম থেকে উঠতে লাঞ্চটাইমও পার হয়ে যায়।

আর ছুটির দিনের বেশি ঘুমানো সম্পর্কে বিশেষজ্ঞগণ একটি উদ্বেগজনক তথ্য দিয়েছেন। আর তা হচ্ছে, ছুটির দিনে বেশি ঘুমালে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রাইনোলজি এন্ড মেটাবলিজম এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
গবেষণায় প্রতীয়মান হয়েছে শতকরা ৮৫ ভাগ মানুষ ছুটির দিনে বেশিক্ষণ ঘুমাতে অভ্যস্ত। ফলে স্লিপ প্যাটার্ন বা ঘুমের অভ্যাসের ব্যাপক তারতম্য ঘটে। যার ফলে শরীরে মেটাবলিক সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, রক্তের ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএল  হ্রাস পায়, ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে যায়।
রক্তে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ে, শরীরের বডি মাস ইনডেক্স বেশি হয়। আর যদি এর সঙ্গে ফিজিক্যাল অ্যাকটিভিটি কমে যায়, খাবার দাবারেরও কোনো নিয়ম থাকে, অ্যালকোহল পান ইত্যাদি নানা ফ্যাক্টরে শারীরিক সমস্যা আরও বাড়ে।
তবে গবেষণার লিড অথার পিটসবার্গ ইউনিভার্সিটির গবেষক প্যার্টিসিয়া এম অং মনে করেন কর্ম দিবসের এবং ছুটির দিনে ঘুমের অভ্যাসের তারতম্যের কারণে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কিনা তা ভেবে দেখতে হবে। তবে এই নবীন বিশেষজ্ঞ মনে করেন সুস্থ থাকতে মানব দেহের সবকিছু চলে একটা ঘড়ির কাটার মতো।
এসব হঠাৎ করে বদলে দিলেই স্বাস্থ্য সমস্যা হয়। তাই এই বিশেষজ্ঞের মতে কর্ম দিবস এবং ছুটির দিনে ঘুম, আহার অন্যান্য রুটিনের ক্ষেত্রে ব্যাপক তারতম্য হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। লেখক :- চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ

১৩ টাকায় গার্লফ্রেন্ড ভাড়া

শপিং মলে গেলে মিলবে গার্লফ্রেন্ড। তার সঙ্গে একসঙ্গে ঘোরা, খাওয়াদাওয়া, আড্ডা, সেলফি তোলার সুযোগ পাওয়া যাবে। শপিং মলে ক্রেতা টানতে এমনই অফার দিয়েছে দক্ষিণ চীনের হিউয়ান শহরের ভাইটালিটি সিটি নামে একটি শপিং মল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এ জানা গেছে।
 প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা গার্লফ্রেন্ড হিসেবে থাকবেন, তারা সবাই মডেল। সেখান থেকে যে কোনো একজনকে পছন্দ করে তার সঙ্গে ঘোরার সুযোগ থাকবে ২০ মিনিটের জন্য। ২০ মিনিটের জন্য গ্রাহকদের চীনা মুদ্রায় ১ আরএমবি ভাড়া দিতে হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা কমবেশি সাড়ে ১৩ টাকার সমান। বিশেষ বারকোডের মাধ্যমে এই টাকা পে করতে হবে। ২০ মিনিট ঘোরা হয়ে গেলে ওই মডেলকে আগের জায়গায় এনে ছেড়ে দিতে হবে। যদি কোনো গ্রাহক আরো বেশি সময় ওই নারীর সঙ্গে কাটাতে চান, তাহলে তাকে অতিরিক্ত ২০ মিনিটের জন্য একই পরিমাণ টাকা দিতে হবে।
তবে মডেলদের গার্লফ্রেন্ড বানানোর জন্য বিশেষ নিয়মকানুন আছে। শপিং মলের বাইরে কোনোভাবেই নিয়ে যাওয়া যাবে না। পাশাপাশি ওই ২০ মিনিট তাকে স্পর্শ করতে পারবেন না গ্রাহকরা।
ইতিমধ্যে ওই শপিং মলটি ওই এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছে। সবাই বুঝছেন এটা বিপণন কৌশল। আকর্ষণ বাড়ানোর জন্যই ওই শপিং মল এমন অফার দিচ্ছে। তবে ইতিমধ্যে এমন অফারে হাসি ফুটেছে সেখানকার সিঙ্গলদের মুখে।

গরমে স্বস্তি, ঝটপট তৈরি করুন ‘বোরহানি’

লাইফস্টাইল ডেস্কবোরহানি, নামটা কি প্রথম শুনলেন? এখনও চেখে দেখেননি এটি? তাহলে প্রথমেই জানিয়ে রাখি এই বোরহানি হল এক বিশেষ পানীয় গরমে আরাম দিতে বা বেশি খাওয়ার পরে শরীরে স্বস্তি এনে দিতে অতুলনীয়৷

এটি বিভিন্নভাবে তৈরি করে থাকেন অনেকে৷ অনেকেই নিজের মতো করে এক্সপেরিমেন্টও করেন৷ তবে এককথায় বলাই যায়, এটি অত্যন্ত সহজে তৈরি করা যায়৷ কিভাবে?

উপকরণ-১. টক দই আধা কিলো
২. ঠাণ্ডা পানি ২ কাপ, ৩. বোরহানি মসলা প্যাকেট (যা অর্ধেকটা প্রয়োজন)
৪. পুদিনাপাতা ১/৪ কাপ নিয়ে কুচিয়ে নিতে হবে, ৫. ধনেপাতা কুচানো কিছুটা
৬. চিনি ৩ থেকে ৪ টেবিল চামচ,৭. টমেটো সস ৩ থেকে ৪ টেবিল চামচ
৮. কাঁচা মরিচ অর্ধেকটা,৯. বরফ টুকরো পরিমাণ মতো


পদ্ধতি-বরফ এবং চিনি বাদ দিয়ে পুদিনা পাতা, ধনেপাতা ও বাকি সব উপকরণ দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন।

এরপর এতে পরিমাণ মতো চিনি যোগ করুন৷ মিষ্টি বেশি খেতে চাইলে চিনির পরিমাণ বাড়াতে পারেন। এরপর এই মিশ্রণটি ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে নিন।

পরিবেশন-পরিবেশনের আগে বাহারি গ্লাসে বরফকুচি দিয়ে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা পরিবেশন করুন বোরহানি৷

ফিটকিরির আজব কিছু গুণ

লাইফস্টাইল ডেস্কফিটকিরি একটি রাসায়নিক যৌগ। ফিটকিরি ইংরেজি নাম এলাম। দাড়ি কাটতে গিয়ে ব্লেডে গালটা আচমকা কেটে গেলে, স্যাভলন বা কোনো আফটারসেভের খোঁজ পড়ত না।

হাতের কাছে থাকা ফিটকিরির ডেলা গালে ঘষে নিতেন। ব্যস, রক্ত বন্ধ। আমদের নিত্যদিনের প্রয়োজনে ফিটকিরির নানা বিধি ব্যবহার রয়েছে।
জেনে নিন এই ফিটকিরির আজব কিছু গুণ-
হঠাৎ রক্ত : দাড়ি কাটতে গিয়ে গালটা কেটে গেলে, সেলুনে এখনো ফিটকিরি ঘষে দেয়। যদি, গাল কাটাই নয়, যে কোনো আঘাতে রক্তপাত হলে, সেখানে ফিটকিরি চূর্ণ করে দিয়ে দিন। কিছুক্ষণের মধ্যেই রক্ত বেরোনো বন্ধ হবে।
সর্বঘটের কাঁঠালি কলা : তা আপনি বলতেই পারেন। আগে তো বাড়ির মেয়েরা রূপচর্চা করতেও ফিটকিরি ব্যবহার করতেন। তার কারণ, বলিরেখা পড়তে দেয় না। তা ছাড়া, যেহেতু অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, তাই দাঁতের রোগেও কিন্তু ফিটকিরি ভালো কাজ দেয়।
টনসিলে আরাম : ঠান্ডা লেগে গলায় ব্যথা হলে বা গ্ল্যান্ড ফুললে, গরম জলে এক চিমটে নুন ও ফিটকিরি চূর্ণ মিশিয়ে, দিনে কয়েকবার গার্গেল করুন। স্বস্তি পাবেন।
আঙুলে হাজা : অতিরিক্ত জল ঘাঁটার কারণে হাতে হাজা হলে, বা, পায়ের পাতা ফুললে, নিশ্চিন্তে ফিটকিরি ব্যবহার করতে পারেন। এক টুকরো ফিটকিরি জলে ফেলে, জলটা ভালো করে গরম করে নিন। ঠান্ডা হয়ে গেলে, পা চুবিয়ে রাখুন। দুরন্ত আরাম পাবেন।
ব্রণ-ফুসকুড়ি: মুখে ব্রণ-ফুসকুড়ি হচ্ছে? মুখ ড্রাই হয়ে, চামড়া কুঁচকে যাচ্ছে? চিন্তা করবেন না। ভালো করে মুখ ধুয়ে নিয়ে, সারা মুখে অনেকক্ষণ ধরে ফিটকিরি ঘষুন। বা ফিটকিরি চূর্ণ জলে গুলে, মুখে মাখুন। শুকিয়ে গেলে, কিছুক্ষণ পর মুখটা ধুয়ে ফেলুন। এভাবে কিছু দিন করলে, মুখে ঊজ্জ্বলতা ফিরবে। ব্রণ-ফুসকুড়ির হাত থেকেও মুক্তি পাবেন।
দাঁতে যন্ত্রণা : দাঁতের যন্ত্রণায় ভুগেছেন? বা, মুখ দিয়ে দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে? সব মাজনে চেষ্টা করেও, মুখের গন্ধ যাচ্ছে না? তাই কী করবেন, বুঝে উঠতে পারছেন না? আপনাকে এই সমস্যার হাত থেকে মুক্তি দিতে পারে ফিটকিরি।
গরম জলে ফিটকিরি গুলে নিয়ে, কুলকুচি করুন। আপনি দাঁতের যন্ত্রণার হাত থেকে নিশ্চিতভাবেই মুক্তি পাবেন। মুখের দুর্গন্ধ নিয়ে লজ্জায় পড়তে হবে না।

মাশরুম ডায়াবেটিস, ব্লাডপ্রেসার, কিডনি ও এলার্জি, যৌনরোগ নিরাময়ক

মাশরুমে আমিষ, শর্করা, চর্বি, মিনারেল ও ভিটামিন (সব), চর্বি ও শর্করা (স্বল্প), ফলিক অ্যাসিড, লৌহ-প্রভৃতি ওষুধি গুণাগুণ ও উপাদান থাকায় এটি মানব শরীরে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বর্ধনপূর্বক ডায়াবেটিস, ব্লাডপ্রেসার, কিডনি ও এলার্জি, যৌনরোগ ও অক্ষমতা, আলসার, বাতের ব্যথা প্রভৃতি জটিল ও কঠিন দুরারোগ্য ব্যাধি মুক্ত করে নিরাময়কের মহাভূমিকা পালন করে থাকে।

মাশরুমের পুষ্টিমান তুলনামূলকভাবে অত্যধিক এবং এই প্রোটিন অতি উন্নতমানের এবং মানবদেহের জন্য অতিশয় উপকারী। একটি পরিপূর্ণ প্রোটিনের পূর্বশর্ত হলো মানবদেহের অত্যাবশ্যকীয় ৯টি অ্যাসিডের পরিমাণের উপস্থিতি। মাশরুমে অতীব প্রয়োজনীয় এই ৯টি এমাইনো অ্যাসিড বিদ্যমান।

অন্যান্য প্রাণিজ আমিশ যেমন-মাছ, গোশত, ডিম অতি নামী-দামি খাবার হলেও এতে চর্বি সম্পৃক্ত অবস্থায় থাকায় তা অতি মাত্রায় গ্রহণ করলে শরীরে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করে, যার ফলে মেদ-ভুঁড়ির সৃষ্টি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ প্রভৃতি জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

মাশরুমের প্রোটিনে-ফ্যাট এবং কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ অতি স্বল্প এবং কোলেস্টেরল ভাঙার উপাদান-লোভস্ট্রাটিন, এন্টাডেনিন, ইরিটাডেনিন ও নায়াসিন থাকায় শরীরের কোলেস্টেরল জমতে পারে না বরং মাশরুম খেলে শরীরে বহু দিনের জমানো কোলেস্টেরল ধীরে ধীরে বিনষ্ট হয়ে যায় এবং শরীর হালকা-পাতলা হয়ে রোগমুক্ত হয়।

১০০ গ্রাম শুকনো মাশরুমে ২৫-৩৫ গ্রাম প্রোটিন রয়েছে। পক্ষান্তরে আমরা যা অতি নামী-দামি খাবার হিসেবে মাছ, গোশত, ডিম খেয়ে থাকি তার মধ্যে ১০০ গ্রাম মাছ, গোশত ও ডিমে প্রোটিনের পরিমাণ হলো ১৬-২২ গ্রাম, ২২-২৫ গ্রাম ও ১৩ গ্রাম মাত্র।

মানবদেহের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা সৃষ্টি করাই ভিটামিন ও মিনারেলের প্রধান কাজ। শরীরের চাহিদামতো প্রতিদিন ভিটামিন ও মিনারেল খেতে না পারলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা ক্রমশ দুর্বল হয়ে নানারূপ জটিল রোগে আক্রান্ত হতে হয়। প্রাকৃতিকভাবে মাশরুমেই সবচেয়ে বেশি ভিটামিন ও মিনারেল বিদ্যমান।

বাতের বাথা,হাঁপানি, চুলকানি ও চর্মরোগ সারাতে থানকুনি পাতা

লাইফস্টাইল ডেস্কথানকুনি পাতা দেশের সব জায়গায়ই পাওয়া যায়। এটি আমাদের দেশের খুব পরিচিত একটি ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ। অনেক রোগের উপশম মেলে এর ভেষজ গুণ থেকে।

অঞ্চলভেদে থানকুনি পাতাকে টেয়া, মানকি, তিতুরা, থানকুনি, আদামনি, ঢোলামানি, থুলকুড়ি, মানামানি, ধূলাবেগুন, আদাগুনগুনি নামে ডাকা হয়। এই হলো থানকুনি পাতার প্রাথমিক পরিচিতি।

থানকুনির ভেষজ গুণাবলি ছাড়াও অনেকে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এটি রোপণ করে। থানকুনির নানা ভেষজ গুণ রয়েছে।

থানকুনি পাতা কুচি কুচি করে কেতে মরিচ, রসুন, লবণ মিশিয়ে বাটায় বেটে নিলেই ভর্তা প্রস্তুত হয়। থানকুনি পাতা শাক হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে। ভর্তা করে বা কাঁচা পাতা সালাদ হিসেবেও খাওয়া যায়। থানকুনিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ।

থানকুনি পাতা সকল ধরনের পেটের রোগের মহৌষধ। পাতা বেটে ভর্তা করে বা ঝোল করে খেলে বদহজম, ডায়রিয়া, আমাশয় ও পেটব্যথা সেরে যায়।

আলসার এগজিমা, হাঁপানি, চুলকানি ও অন্যান্য চর্মরোগ সারাতে থানকুনি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

থানকুনি পাতার নানা ভেষজ গুণ আছে। নিয়মিত থানকুনির রস খেলে ত্বক ও চুল সুন্দর থাকে। জ্বর পেটের পিড়া, আমাশয়য়, আলসার, বাতের বাথা বিভিন্ন অসুখের ওষুধ হিসেবে এটির ব্যাবহার রয়েছে।

থানকুনি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। সংবহনতন্ত্রের স্থায়ীভাবে স্ফীত ও বর্ধিত শিরা কমাতে সহায়তা করে।

থানকুনি পাতা চামড়া মসৃণ করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে পুণর্গঠনে সাহায্য করে।

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার জন্য পেটে ব্যথা হলে পুদিনাপাতা

পুদিনাপাতা হলো সমগ্র উদ্ভিদ জগতের মাঝে অন্যরকম এক আশ্চর্যজনক এবং দারুণ উপাদান, যার বহুমাত্রিক গুণের যেন শেষ নেই! এই পাতার দারুণ মিষ্টি গন্ধ যেমন বাগানে ভালো পোকা আকৃষ্ট করার জন্যে দরকারি তেমন ঠাণ্ডার সমস্যা দূর করার জন্যও উপকারী।
চাটনি থেকে শুরু করে শরবত কিংবা যেকোন রান্নাতেও অল্প কয়েকটি পুদিনাপাতা যেন খাবারে অসাধারণ স্বাদ এনে দেয়। তবে এই পাতা শুধুই খাবার জন্যে অথবা বাগানের জন্যে উপকারী তা কিন্তু নয়।
এই পাতায় থাকা বিশেষ উপাদানের জন্য পুদিনাপাতা আপনার শরীরের নানা সমস্যাতেও চমৎকার কাজের একটি জিনিস। জেনে নিন পুদিনাপাতার এমনই অজানা এবং দারুণ কিছু ব্যবহার-
ক্ষতিকারক পোকামাকড়কে দূরে রাখে-পুদিনাপাতা একদিনে যেমন ভালো পোকামাকড়কে আকৃষ্ট করে, তেমনই ক্ষতিকর পোকা এবং পিঁপড়াকে দূরে রাখতেও সাহায্য করে। পুদিনাপাতার এসেনশিয়াল অয়েল পানিতে মিশিয়ে ঘরের দরজা এবং জানালাতে স্প্রে করে দিলেই দারুণ কাজে দেবে।
উপকারী পোকামাকড়কে আকৃষ্ট করে-ঘরের ভেতরে অথবা উঠানে আপনার শখের বাগানের ফুল এবং ফলের ফলন বাড়াতে চাইলে বাগানের মাঝে পুদিনাপাতার চারা লাগানোটা হবে খুবই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ পুদিনাপাতার মাঝে ফুলের মধু এবং রেণু উভয়েও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। পুদিনাপাতার ছোট ফুলের গুচ্ছ খুব সহজেই গাছের জন্য উপকারী পোকা এবং পতঙ্গকে আকৃষ্ট করে থাকে।
ঘরের বাজে গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে-ঘরের যে কোনো বাজে গন্ধ দূর করে ঘরকে একদম সুবাসিত করে তোলার জন্য পুদিনাপাতা অথবা পুদিনা পাতার এসেনশিয়াল অয়েলের যেন জুড়ি নেই। ঘরে কিছু পুদিনাপাতা থাকলে কুচি করে কেটে নিয়ে এরপর পানিতে ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে স্প্রে বোলতে ভরে ঘরের কোনায় কোনায় স্প্রে দিন।
মুখের দুর্গন্ধ দূর করুন নিমিষেই-মুখের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য কোন লজেন্স কিংবা চুইংগামের জন্য অপেক্ষা করে থাকতে হবে না আপনাকে। কয়েকটা পুদিনাপাতা চিবিয়েপানি দিয়ে খেয়ে ফেললেই দেখবেন ম্যাজিক!
পেটের সমস্যা সমাধানে পুদিনাপাতা-খাদ্য সঠিকভাবে পরিপাক না হওয়ার জন্য পেটে ব্যথা অথবা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার জন্য পেটে ব্যথা হলে পুদিনাপাতা সেক্ষেত্রে পুদিনাপাতার শরবত অথবা পুদিনাপাতার চা খুব দারুণ কাজে দেবে।
হেঁচকি বন্ধে সাহায্য করে- একবার হেঁচকি ওঠা শুরু করলে অনেক সময় দেখা যায় সহজে সেটা আর বন্ধই হতে চায় না। বেশী করে পানি খেয়ে, নাক বন্ধ করে রেখে অথবা চিনি খেয়েও অনেক সময় কোন কাজই হতে চায় না। সেক্ষেত্রে পুদিনাপাতাই আপনার শেষ ভরসা হতে পারে। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস, এক চিমটি লবণ এবং কয়েকটি পুদিনাপাতা কুঁচি করে দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। দেখবেন কিছুক্ষণের মাঝে হেঁচকি ওঠা বন্ধ হয়ে গেছে।
রোদে পোড়াভাব দূর করুতে সাহায্য করবে-পুদিনা পাতার দারুণ রিফ্রেশিং ভাব রোদে পোড়াভাব কমাতে সাহায্য করে খুব দারুনভাবে। রোদে পুড়ে যাওয়া অংশে কিছু পুদিনাপাতা ঘষে নিন মোলায়েমভাবে, দেখবেন চমৎকার কাজে দেবে। অথবা পানিতে কিছু পরিমাণে পুদিনাপাতার এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিয়ে, রোদে পোড়া অংশে লাগালেও কাজে দেবে।
নাকবন্ধ ভাব দূর করবে সহজেই-ঠান্ডার কারণে নাকবন্ধ ভাব হলে একটা বড় বাটিতে খুব সাবধানে গরম পানি নিয়ে তাতে কয়েক ফোঁটা পুদিনাপাতার এসেনশিয়াল অয়েল অথবা কয়েকটি ফ্রেশ পুদিনাপাতা ছিঁড়ে দিয়ে দিন। এরপর বাটির উপরে ঝুঁকে গরম ভাপটা নাক দিয়ে টেনে নিতে থাকুন। কিছুক্ষণের মাঝেই দেখবেন নাকবন্ধ ভাব অনেকটাই কমে গেছে।
মাথাব্যথা ভালো করতে সাহায্য করে-পুদিনাপাতায় থাকা পিপারমিন্ট ব্যথা কমাতে সাহায্য করে বলে মাথাব্যথা কমাতে সেটা খুব দারুনভাবে সাহায্য করে। পুদিনাপাতার ঠাণ্ডা করার উপাদান ত্বকের এবং পেশীতে আরাম প্রদান করে বলে রক্ত প্রবাহ বেড়ে যায়, যা মাথাব্যথা কমাতে কাজ করে থাকে।
এলার্জির সমস্যা কমিয়ে দেয় অনেক-পুদিনাপাতাতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহ-বিরোধী উপাদান রোসম্যারিনিক এসিড। সাম্প্রতিক সময়ের গবেষণা থেকে পাওয়া গিয়েছে যা মৌসুমি এলার্জির সমস্যা থেকে রেহায় দিতে পারে।