বুধবার-১৩ নভেম্বর ২০১৯- সময়: রাত ১২:১১
ঘোড়াঘাটে বানিজ্যিক ভাবে মাল্টা বাগান করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে নাটোরের প্রতিবন্ধি প্রবীণ দম্পত্তি ভাতা নয়, চায় মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নবাবগঞ্জে ইঁদুর কেটে ফেলছে কাঁচা আমন ধানের রোপা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা কমেছে সময় ও দুর্ঘটনা,ঝালকাঠিতে ১৪ কি.মি মহাসড়ক নির্মাণ, স্বস্তিতে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা রাজাপুরে ব্যক্তি উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রীজ নির্মান, বই ও বেঞ্চ প্রদান মুক্তিযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ প্রসঞ্জী রায়এর পাশে- এমপি গোপাল ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল হাসপাতালে লাইভ ওয়ার্কশপে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় রিং (স্টেন্ট) সফল প্রতিস্থাপন সম্পন্ন ধামইরহাটে তিন ভূয়া ডিবি পুলিশ আটক সম্মানি না পেয়ে চিকিৎসা দিতে এলেন হারবাল এ্যাসিস্টেন্ট!

খুলনা newsdiarybd.com:

যবিপ্রবি,র সহকারী অধ্যাপক ইকবালের বহিষ্কারের দাবি শিক্ষার্থীদের

যশোর প্রতিনিধি- যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৌকা প্রতীক নামিয়ে দেয় সহকারী অধ্যাপক ইকবাল কবির জাহিদ। এ ঘটনায় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তার বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে সহকারী অধ্যাপক ইকবাল কবির জাহিদের বহিষ্কারের দাবি এক বিক্ষোভ মিছিল করে।

এ সময় আগামী শনিবারের মধ্যে তাদের দাবি না মানা হলে রবিবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে বলে আল্টিমেটাম দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়রা আজমিরা এরিন বলেন,খুব পরিকল্পিত ভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অপমান করতেই ক্যাম্পাস থেকে নৌকা অপসারণ করা হয়েছে। বিষয়টা নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রক্টর ড.মিজানুর রহমানের সাথে কথা বলতে গেলে সেখানেও আমাদের অপমান করা হয়। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

তিনি আরও জানান যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে ছাত্রলীগ একটি নৌকা প্রতীক টানানো হয় কিন্তু গত সোমবার হঠাৎ করেই সেটিকে সরিয়ে ফেলেন সহকারী অধ্যাপক ইকবাল কবির জাহিদ। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

যশোরে বন্দুকযুদ্ধে এক হত্যাকারী নিহত

যশোর প্রতিনিধি- যশোর মনিরামপুরে স্কুলছাত্র অপহরণ ও হত্যাকান্ডে জড়িত এক যুবক পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।

বুধবার ভোরে নেহালপুর সড়কের কামালপুর জোড়া ব্র্রিজের কাছে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। পরে অপহৃত স্কুলছাত্র তারিফ ও বিল্লালের মরদেহ উদ্ধার করে যশোর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

বন্দুকযুদ্ধে নিহত বিল্লল হোসেন মণিরামপুরের খেদায়পুর গ্রামের মোস্তফার ছেলে। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন জানান, নিহত বিল্লল গত ৬ জানুয়ারি রোববার মনিরামপুরের গোপালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র তারিফ হোসেনকে অপহরণ করে। এরপর সে তারিফের পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা মঙ্গলবার দুপুরে কেশবপুরের একটি বিকাশের দোকানে আনতে যায় বিল্লাল। এ সময় তারিফের মামা কেশবপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় বিল্লালকে আটক করে। এরপর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রাতে মণিরামপুরের নেহালপুর সড়কের কামালপুর জোড়া ব্রিজের কাছ থেকে তারিফের মরদেহ উদ্ধার করতে যায় পুলিশ।

এ সময় বিল্লালের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। পুলিশও পাল্টা গুলি বর্ষণ করলে বন্দুকযুদ্ধে বিলাল নিহত হয়। পরে ওই ব্রিজের নিচ থেকে তারিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারিফ ও বিল্লালের মরদেহ যশোর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

যশোর সড়কে সেনাবাহিনীর তল্লাশি

যশোর প্রতিনিধি- আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর তল্লাশি শুক্রবার থেকেই যশোর, নড়াইল ও মাগুরার বিভিন্ন সড়কে অভিযান চালায়। এ সময় বিভিন্ন গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করে।

স্থানীয়রা জানায় সেনাবাহিনীর ৩ই বেঙ্গলের সদস্যরা সকাল থেকে যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেয়।

এ সময় প্রতিটি গাড়ির কাগজ পত্র দেখার পাশাপাশি নিরাপত্তা সংক্রান্ত তললশি কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

সেনাবাহিনী থেকে এটিকে নির্বাচন পূর্ববর্তী নিরাপত্তা সংক্রান্ত সাধারণ তল্লাশি ও চেকপোস্ট বলা হচ্ছে। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ২৪ তারিখ থেকে সারাদেশে ২৫ হাজার সেনা মেতায়েন করা হয়েছে।

যশোর-৩ আসনে জাপা প্রার্থী নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন

যশোর প্রতিনিধি- যশোর-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম নৌকার প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

শুক্রবার দুপুরে যশোর শহরের কাজীপাড়ায় কাজী নাবিল আহমেদের বাসভবনে তার হাতে ফুল দিয়ে নিজের সমর্থন জানান লাঙ্গলের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম।

জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম বলেন,‘কোনও চাপ বা হুমকিতে নয়,মহাজোট প্রার্থীকে যশোর সদরে সর্বোচ্চ ভোটে বিজয়ী করতে আমরা কাজী নাবিল আহমেদকে সমর্থন জানিয়েছি। আমরা কাজী নাবিলের পক্ষে কাজ করবো।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টির যশোর জেলা কমিটির সভাপতি শরিফুল ইসলাম সরু চৌধুরী,যুগ্ম সম্পাদক সেকেন্দার আলী,নজরুল ইসলাম,সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল,মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা পারুল নাহার আশা, দফতর সম্পাদক মনিরুজ্জামান হিরণ,সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ,যুব সংহতির সভাপতি আব্দুর রহমান বাদল চাকলাদার,আবু রায়হান খোকা,আবুল কালাম আজাদ,মিজানুর রহমান প্রমুখ।

যশোর-৩ আসনে প্রার্থীতা ঘোষণার অপেক্ষায় সমার্থকদের চায়ের দোকনে আলোচনার ঝড়

আকিদুর রেজা খান- আগামী ৩০ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ আসনের প্রার্থী ও তাদের সমার্থকরা দলের সর্বাচ্চ নীতিনিধারকের ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী বিএনপি জোটের কে প্রার্থী হচ্ছেন।

এ নিয়ে বিভিন্ন সময় চায়ের দোকনে রকমারি আলোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে কোনো কোনো প্রার্থীর প্রার্থীতা নিশ্চিত হয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে আনন্দ উপভোগ করছে সমার্থকরা।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে যশোর-৩ আসনের প্রার্থীর তালিকায় রয়েছে সাংসদ কাজী নাবিল আহম্মেদ,সাবেক সাংসদ খালেদুর রহমান টিটো,জেলা আ:লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার।

অপরদিকে বিএনপি জোটের প্রার্থীর তালিকায় পৌরসভার সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম মারুফ,জেলা সেক্রেটারী এ্যাড:সাবেরুল হক সাবু ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তবে সকল প্রার্থীরা ঢাকার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যশোর-৩ আসনের প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান নেত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ব্যাপক গণসংযোগে ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছে।

সমার্থকরা নিজের নেতার পক্ষে প্রার্থীতা নিশ্চিত হয়েছে এমন খবর পরিবেশন করে চায়ের দোকানের আসর মাথ করতে দেখা যাচ্ছে। নিজের নেতা মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন বলে ফেসবুকসহ স্যোসাল মিডিয়া খবর প্রচার হচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী বিএনপি জোটের সমার্থকরা এ প্রচারণা করছে।

এমনও দেখা যাচ্ছে নিজের প্রার্থীর নাম খাতায় লিখে শতভাগ নিশ্চিত হয়েছে বলে হুংকার দিচ্ছে। অথচ প্রার্থীরা তাকিয়ে রয়েছে কখন প্রাথীর নাম ঘোষণা করবে।

যবিপ্রবিতে ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি আসনে ৪৮জন শিক্ষার্থীও অংশগ্রহণ

যশোর প্রতিনিধি- যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ¯œাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার আসন বিন্যাস করা হয়েছে। এ বছর ৯১৫ আসনের বিপরীতে ৪৪ হাজার ২০৬ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।

২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে যবিপ্রবিতে ‘এ’ ইউনিটে ২৭০টি আসনের বিপরীতে ১৪ হাজার ৪৩২ জন, ‘বি’ ইউনিটে ১৮০টি আসনের বিপরীতে ১২ হাজার ৭২ জন, ‘সি’ ইউনিটে ২৩৫টি আসনের বিপরীতে ১০ হাজার ৬৪৩ জন, ‘ডি’ ইউনিটে ৬০টি আসনের বিপরীতে ৪ হাজার ১৫৫ জন, ‘ই’ ইউনিটে ৩০টি আসনের বিপরীতে ৬১৪ জন এবং ‘এফ’ ইউনিটে ১৪০টি আসনের বিপরীতে ২ হাজার ২৯০ জন ভর্তি পরীক্ষার্থী আবেদন করেছেন।

এ বছর যবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষা আটটি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনে এ ইউনিটের ১১০০০১ রোল নম্বর থেকে ১১৩৭১২, বি ইউনিটের ২১০০০১ থেকে ২১৩৭১২, সি ইউনিটের ৩১০০০১ থেকে ৩১৩৭১২, ডি ইউনিটের ৪১০০০১ থেকে ৪১৩৭১২, ই ইউনিটের ৫১০০০১ থেকে ৫১০৬১৪ এবং এফ ইউনিটের ৬১০০০১ থেকে ৬১২২৯০ রোল পর্যন্ত।

যবিপ্রবির লাইব্রেরি ভবনে এ ইউনিটের ১১৩৭১৩ রোল থেকে ১১৪৫০২, বি ইউনিটের ২১৩৭১৩ থেকে ২১৪৫০২, সি ইউনিটের ৩১৩৭১৩ থেকে ৩১৪৫০২ এবং ডি ইউনিটের ৪১৩৭১৩ এবং ৪১৪১৫৫ রোল নম্বরধারীদের পরীক্ষা হবে।

ক্যান্টনমেন্ট কলেজে এ ইউনিটের ১১৪৫০৩ থেকে ১১৬৯০২, বি ইউনিটের ২১৪৫০৩ থেকে ২১৬৯০২ এবং সি ইউনিটের ৩১৪৫০৩ থেকে ৩১৬৯০২ রোল নম্বর পর্যন্ত।

যশোর সরকারি মহিলা কলেজে এ ইউনিটে ১১৬৯০৩ থেকে ১১৭৮৪২, বি ইউনিটে ২১৬৯০৩ থেকে ২১৭৮৪২ এবং সি ইউনিটে ৩১৬৯০৩ থেকে ৩১৭৮৪২ রোল নম্বর পর্যন্ত। সরকারি এম এম কলেজে এ ইউনিটের ১১৭৮৪৩ থেকে ১২০৯৯০, বি ইউনিটের ২১৭৮৪৩ থেকে ২২০৯৯০ এবং সি ইউনিটের ৩১৭৮৪৩ থেকে ৩২১০১০ রোল নম্বর পর্যন্ত।

যশোর শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ ইউনিটের ১২০৯৯১ থেকে ১২২০৭৯ এবং বি ইউনিটের ২২০৯৯১ থেকে ২২২০৭২ রোল নম্বর পর্যন্ত। যশোর সরকারি সিটি কলেজে এ ইউনিটের ১২২০৮০ থেকে ১২২৯৭৭ রোল নম্বর।

ছাতিয়ানতলা-চুড়ামনকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ইউনিটের ১২২৯৭৮ থেকে ১২৩৪৩৯ রোল নম্বর পর্যন্ত এবং কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজে এ ইউনিটের ১২৩৪৪০ থেকে ১২৪৪৩২ রোল নম্বরধারীদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, বিস্তাতি তথ্যের জন্য ভিজিট করুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট।

আগামী ২২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ৯:৩০-১১.০০টা পর্যন্ত এ ইউনিট, দুপুর ১২:৩০-২.০০ পর্যন্ত বি ইউনিট এবং বিকেল ৩:৩০-৫:০০ পর্যন্ত সি ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

২৩ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ৯:০০-১০:৩০ পর্যন্ত ডি ইউনিট, বেলা ১১.০০-১২:৩০ পর্যন্ত ই ইউনিট এবং ৩:৩০-৫.০০ পর্যন্ত এফ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

ভর্তি পরীক্ষা শেষে আগামী ২৫ নভেম্বরের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে। ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে ১ ডিসেম্বর।

সকল ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সময় পরীক্ষার হলে সব ধরনের ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস যেমন, ক্যালকুলেটর (শুধুমাত্র ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ক্যালকুলেটর আনা যাবে), মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ঘড়ি বা অন্য কোনো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নির্দেশ অমান্যকারীকে হল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

ভর্তি পরীক্ষার সময় কেউ যেন বিশৃঙ্খলা কিংবা অসাধুপায় অবলম্বন করতে না পারে এ জন্য সবকটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। কেউ বিশৃঙ্খলা কিংবা অসাধুপায় অবলম্বন করলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।

যশোরে ওষুধের দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

যশোর প্রতিনিধি- যশোরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তিনটি ওষুধের দোকানে অভিযান চালায়।

এ সময় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করে তা আদায় করে। প্রতিষ্ঠান তিনটি হচ্ছে আশা মেডিকেল হল,ওষুধ বিতান ও শোভন ড্রাগ হাউজ।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার শেখ জালাল উদ্দিন জানান সোমবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ জাকির হাসান আশা মেডিকেল হলে অভিযান চালায়।

এ সময় বিভিন্ন কোম্পানির বিক্রি নিষিদ্ধ (স্যাম্পল) ওষুধ সংরক্ষণ করে তা বাজারজাত করার অপরাধে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক অমলকে দেড় হাজার টাকা জরিমানা করে তা আদায় করেন। ওই দিনপাশের দুটি ফার্মেসি ওষুধ বিতান ও শোভন ড্রাগ হাউজে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কেএম আবু নওশাদ অভিযান চালায়।

এ সময় প্রতিষ্ঠান দুটির মালিক উত্তমকুমার ও অরুপ কুমারকে একই অপরাধে দুই হাজার টাকা করে জরিমানা করে তা আদায় করেন।

সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের স্বরণে প্রেসক্লাব যশোরে দোয়া মাহফিল

যশোর প্রতিনিধি- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার বিকালে জেলা যুবদলের উদ্যোগে প্রেসক্লাব যশোরে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা যুবদলের সভাপতি তমাল আহমেদ।

এ সময় আলোচনা করেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ইসাহক আলী,সহ-সভাপতি গোলাম রেজা দুলু,সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন,সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নরুন্নবী, সাধারণ সম্পাদক কাজী আজম,জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর ও সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাপ্পি প্রমুখ।

আজ ভয়াল ১২ই নভেম্বর ৫ কোটি মানুষ উপকূলবাসী আজও কাঁদে

 এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির-আজ ভয়াল ১২ই নভেম্বর ৫ কোটি মানুষ উপকূলবাসী আজও কাঁদে ।এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গৃহীত পদক্ষেপের কারণে আগের মতো ক্ষয়ক্ষতি হয় না। এটাই হলো বঙ্গবন্ধুর বাংলার স্বাধীনতার সফলতা।

করে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াল ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসে ১০ লক্ষাধিক লোক মৃত্যুবরণ করে। বহু পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল।

বহু পরিবার তাদের আত্মীয়স্বজন, বাবা-মা, ভাই-বোন হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছিল।আজ ভয়াল ১২ই নভেম্বর ১৯৭০ সালের এই দিনে প্রলঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় দেশের উপকূলীয় আঞ্চল।

ভয়াবহ সেদিনের ৪৮ বছর অতিবাহিত হলেও আজো সে দুর্বিসহ স্মৃতি তাড়িয়ে বেড়ায় উপকূলের বাসিন্দাদের। উপকূলের প্রায় ৫ কোটি মানুষ প্রতিনিয়ত বহুমূখী দুর্যোগের সঙ্গে বসবাস করেন। এই ঘূর্ণিঝড় লণ্ডভণ্ড করে দেয় উপকূল। বহু মানুষ প্রাণ হারায়। ঘরবাড়ি হারিয়ে পথে বসেন। এই ঘূর্ণিঝড় গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল।

উইকিপিডিয়ার সূত্র বলছে, এ পর্যন্ত রেকর্ডকৃত ঘূর্ণিঝড় সমূহের মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্নিঝড়। সর্বকালের সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসাবেও এটিকে আখ্যা দেয়া হয়েছে। এটির নাম ছিল ‘ভোলা সাইক্লোন’। এটি সিম্পসন স্কেলে ক্যাটাগরি ৩ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় ছিল। ওই ঘূর্ণিঝড়টি ৮ই নভেম্বর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট হয়। ক্রমশ শক্তিশালী হতে হতে এটি উত্তর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ১১ নভেম্বর এটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ১৮৫ কিলোমিটারে পৌঁছায়। ওই রাতেই উপকূলে আঘাত হানে।

জলোচ্ছ্বাসের কারণে উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপসমূহ প্লাবিত হয়। ওই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় পাঁচ লাখ লোকের প্রাণহানি ঘটে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ছিল ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা। ওই সময়ে সেখানকার ১ লাখ ৬৭ হাজার মানুষের মধ্যে ৭৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। একটি এলাকার প্রায় ৪৬ শতাংশ প্রাণ হারানোর ঘটনা ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।

’৭০-এর ঘূর্ণিঝড়ে মনপুরা উপকূলে প্রায় ৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। এর মধ্যে হাজিরহাট ইউনিয়নের পাটোয়ারী পরিবারে ৫৫ জন স্বজন প্রাণ হারায়। এছাড়াও অধিকাংশ পরিবারে ৭-১০ জন স্বজনের প্রাণ যায়। তখন বেতার ও টেলিভিশনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস শোনার আজকের মতো জোরদার ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি ছিল না কোন আশ্রয়কেন্দ্র।

নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা থাকলেও এত মানুষের প্রাণহানি হত না বলে মন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘূর্ণিঝড়ে বিপর্যস্ত মনপুরাবাসীকে সমবেদনা জানাতে হেলিকাপ্টারে ছুটে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি প্রত্যেকটি পরিবারের স্বজন হারানো মানুষের সাথে দেখা করে সমবেদনা জানান। পরে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক সহযোগিতা দেন।

বাংলাদেশে ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর সংঘটিত ঘূর্ণিঝড়টি পৃথিবীর সর্বকালের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণঘাতী ঝড় হিসেবে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। চলতি বছরের ১৮ মে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) বিশ্বের পাঁচ ধরনের ভয়াবহ প্রাণঘাতী আবহাওয়া ঘটনার শীর্ষ তালিকা প্রকাশ করে। তালিকার শীর্ষ প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এ ঝড়টিকে পৃথিবীর সর্বকালের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণঘাতী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ১৩ নভেম্বর ভোর পর্যন্ত বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) উপকূল অঞ্চলে সর্বকালের ভয়াবহ প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানে। সরকারি হিসেবে এতে তিন থেকে পাঁচ লাখ মানুষ মারা যান। তবে বেসরকারি হিসেবে মৃত্যের সংখ্যা ১০ লাখের বেশি ছিল।

ঘটনা-১

তোফায়েল আহমেদ অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, ১৯৭০-এর ১২ নভেম্বর আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াল ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসে ১০ লক্ষাধিক লোক মৃত্যুবরণ করেছিল। অনেক পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। অনেক পরিবার তাদের আত্মীয়স্বজন, মা-বাবা, ভাই-বোন হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছিল। প্রতি বছর আমাদের জাতীয় জীবনে যখন ১২ নভেম্বর ফিরে আসে, তখন বেদনাবিদুর সেই দিনটির কথা স্মৃতির পাতায় গভীরভাবে ভেসে ওঠে।’৭০-এর ৭ জুন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আওয়ামী লীগে যোগদান করি।১ জানুয়ারি ’৭০-এ রাজনৈতিক তত্পরতার ওপর থেকে বিধি-নিষেধ প্রত্যাহূত হয়। তখন আমি ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ডাকসুর ভিপি। ছাত্রলীগের উদ্যোগে আমার নেতৃত্বে সে দিন প্রথম জনসভা করি পল্টনে। তখনই বঙ্গবন্ধু আমাকে বলেছিলেন, ‘তুই ভোলা যাবি। সকল এরিয়া সফর করবি। আমি তোকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দিবো।’ এই কথাটি ভীষণভাবে আমার হূদয়কে আলোড়িত করে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশমতো ভোলা সফরে যাই এবং ভোলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে তখন রাস্তা-ঘাট, পুল-কালভার্ট কিছুই ছিল না,—ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক তত্পরতা চালাই। বঙ্গবন্ধু ১৭০০ টাকা দিয়ে একটা মোটরবাইক আমাকে কিনে দিয়েছিলেন। এই মোটরবাইক ছিল আমার যানবাহন।

সেদিন আমি ছিলাম জন্মস্থান ভোলায়। বঙ্গবন্ধু আমাকে আসন্ন নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে ব্যস্ত ছিলাম আমার নির্বাচনী এলাকায়। কয়েকদিন ধরেই গুমোট আবহাওয়া ছিল। বৃষ্টি আর সেই সঙ্গে ছিল ঝড়ো বাতাস। এরকম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শামসুদ্দীন আহমেদ মিয়া, মাওলানা মমতাজুল করিম, মোস্তাফিজুর রহমান মিয়া এবং অন্য নেতাদের নিয়ে আমার নির্বাচনী এলাকাসহ ভোলায় ব্যাপক গণসংযোগ করি। আমার নির্বাচনী এলাকা ছিল ভোলা থানা, দৌলত খাঁ থানা, তজমুদ্দি থানা। তখন মনপুরা থানা হয়নি। কিন্তু মনপুরার তিনটি ইউনিয়নও আমার নির্বাচনী এলাকার অন্তর্ভুক্ত ছিল। আর একটি এলাকা ছিল বোরাহানউদ্দিন, লালমোহন এবং চরফ্যাশন। আমার নির্বাচনী এলাকাটি বড় ছিল। এই নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু যখন আমাকে প্রস্তুতির নির্দেশ দেন তখন আমার বয়স মাত্র ২৬।বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ঘূর্ণিঝড় দুর্গত-অসহায় মানুষের জন্য এলাকায় এলাকায় ক্যাম্প করে যে ব্যাপক ত্রাণকার্য সেদিন আমি পরিচালনা করেছি তা আমার বাকি জীবনে চলার পথের পাথেয় হয়ে আছে। জাতীয় চার নেতার অন্যতম শ্রদ্ধেয় নেতা তাজউদ্দীন ভাই এক বিরাট লঞ্চভর্তি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে ভোলা এসেছিলেন ত্রাণকার্যে। তার থেকে কিছু তিনি বিলি করতে পেরেছেন বাকিগুলো রেখে এসেছিলেন আমার কাছে। সেগুলো আমি বিলি-বণ্টন করেছি। খাবার পানি, মুড়ি, চিঁড়া, ওষুধ-পথ্য বিলি করেছি দুর্গত এলাকায়।

ঘটনা-২

সেদিনের স্মৃতির কথা তুলে ধরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ ইলিয়াছ (৬৫) বলছিলেন, ‘আগের দিন সন্ধ্যায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মাঝে হঠাৎ কালো মেঘের সৃষ্টি। মাইক ও রেডিওতে প্রচার হয়েছে ১০ নম্বর বিপদ সংকেত। রাতেই ৮-১০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে নেয় বাড়িঘরের প্রয়োজনীয় মালামালসহ জমিতে উৎপাদিত ধানগুলো, মধ্যরাতে হঠাৎ মুহূর্তের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আক্রমণ করলে মারা যায় আমার মামাতো ভাই।

ওই সময়ে ধ্বংসস্তুপের মাঝে বেঁচে থাকা খুব কঠিন ছিলো’। কমলনগরের আরো একজন আবদুল করিম (৭২) বলেন, ‘৭০ এর ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ফেনী নদী ও ভূলুয়া নদী থেকে আসা পানি ও ঘূর্ণিঝড়ে মরে যাওয়া বহু মানুষ ভেসে ভেসে চলে গেছেন, তাদের কবর দেওয়া কোনভাবেই সম্ভব হয়নি।’

ঘটনা-৩

ভোলার দৌলতখান পৌর এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান ’৭০-র ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘সেদিন ছিল মেঘাচ্ছন্ন। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। রাতের বেলা দোকান বন্ধ করে ঘরে এসে ঘুমাতে যাই। এমন সময় দোকানের কর্মচারীরা নীচে ঘুমাচ্ছিল। তারা অনুভব করে বিছানা ভিজতে শুরু করেছে।

অল্প কিছুক্ষনের মধ্যে প্রবলবেগে পানি আসতে দেখে তারা তাড়াতাড়ি বাড়িতে এসে এই খবর দেয়। তখন পরিবারের সকল সদস্যদেরকে নিয়ে ঘরের দোতলায় অবস্থান নেই। পরে যখন পানি কমে যায়, তখন চারদিকে শুধু আর পানি পানি দেখতে পাই। কোন ঘর-বাড়ির চিহ্ন ছিল না।

ঘটনা-৪

ভোলা সদরের আলীনগর ইউনিয়নের সাচিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আলমগীর মাঝি ’৭০-র ঘূর্ণিঝড়ের কথা বলতে গিয়ে বলেন, ওই বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। বাড়ি একটু দূরে থাকায় তিনি দৌলতখান বাজারের একটি দোকান ঘরের মধ্যে থেকে পড়ালেখা করছিলেন। রাতে দেখেন প্রবলবেগে পানি আসছে। সেই সাথে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল।

এসময় তিনি একাকী কি করবেন ভেবে আশ-পাশের দোকানগুলোতে কোন মানুষের অবস্থান আছে কিনা, তা বুঝতে চেষ্টা করলেন। তার পাশের একটি দোকানের মধ্যে লোকজনের কথা শুনতে পেয়ে সেখানে যেতে মনস্থির করলেন। নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলেন যে পানির চাপ প্রচণ্ড। এর মধ্যে অনেক সময় অতিবাহিত হয়ে গেল। উপায়ন্তর না দেখে তিনি ওই পানির মধ্যে ঝাঁপ দিয়ে পাশের দোকানের বেড়াটি ধরলেন।

পরে তিনি দোকানের উপরে থাকা লোকজনকে ডাক দিলে তারা তাকে উপরে তোলেন। সকালবেলা তিনি বাড়িতে গিয়ে দেখেন, ঘরগুলো বন্যায় ভেঙে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। যাওয়ার সময় তিনি পথে পথে হাজারো লোকের মরাদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন।

ঘটনা-৫

মনপুরা উপকূলের সবার মত ’৭০ সালের ২৭ বছরের গর্ভবতী রাহেলা তার স্বামী, ৩ সন্তান, পরিবার-পরিজন নিয়ে গাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ততক্ষনে উপকূল জুড়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হয়েছিল। রাত বাড়ার সাথে সাথে ঘূর্ণিঝড় প্রকট আকার ধারণ করে। গাছ থেকে পড়ে যায় রাহেলা। খেজুর গাছের পাতা ধরে বন্যার পানি থেকে বাঁচতে লড়াই করেছিলেন রাহেলা।

এক পর্যায়ে রাহেলা অচেনা এক পুরুষের সাথে কাঠের আলমারী ধরে বাঁচার চেষ্টা করেন। ততক্ষণে স্রোতের টানে রাহেলাসহ অচেনা পুরুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় বঙ্গোপসাগরে। ৬ দিন সাগরে ভাসার পর ভারতীয় জাহাজ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম দিয়ে যায়। টানা ১ মাস চট্টগ্রামের হাসপাতালে চিকিৎসা শেষ করে বরিশাল হয়ে মনপুরা আসেন। ঘূর্ণিঝড়ে রাহেলা তার তিন সন্তানকে হারিয়েছেন।

প্রলয়ংকরী ‘ভোলা সাইক্লোন’-এর আগে এবং পরেও উপকূলের উপর দিয়ে অনেকগুলো ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে। কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির বিচারে ১৯৭০-এর ১২ নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড় সবচেয়ে ভয়ংকর বলে প্রমাণিত। স্বল্প পরিসরে হলেও এত বছর পরেও ওই দিবসটি পালিত হয়। দিনটিকে স্মরণ করে গণমাধ্যমসমূহ।

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ’৭০-এর আগে ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে ‘বাকেরগঞ্জ সাইক্লোন’-এ প্রায় ২ লাখ লোক প্রাণ হারিয়েছিল। এরমধ্যে এক লাখ লোকের মৃত্যু ঘটে দুর্ভিক্ষ ও মহামারীতে। ১৫৮২ খ্রীষ্টাব্দে বাকেরগঞ্জ তথা বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে আরেকটি ঘূর্ণিঝড়ের কথা জানা যায়। ওই ঘূর্ণিঝড়েও ২ লাখ লোক প্রাণ হারান।

১৯৭০-এর পরের ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড় ছিল ভয়াবহ। এতে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডর, ২০০৮ সালের ৩ মে নার্গিস, ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলা, ২০১৩ সালের ১৬ মে মহাসেন, ২০১৪ সালের ২৮ অক্টোবর নিলোফার, ২০১৬ সালের ২১ মে রোয়ানুসহ বেশকিছু ছোটবড় ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানে। তবে ’৭০-এর ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা অন্যকোন ঝড় অতিক্রম করতে পারেনি।

১২ নভেম্বর উপকূল দিবসের দাবি

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগবে, এত দিবসের ভিড়ে কেন আবার ‘উপকূল দিবসের’ দাবি? আমার প্রশ্নটা ঠিক এর বিপরীত। এত দিবস থাকা সত্বেও ‘উপকূল দিবস’ নেই কেন? সমগ্র উপকূল অঞ্চল ঘুরে খবরের খোঁজ করতে গিয়ে এই প্রশ্নটা মাথায় ঘুরছিল কয়েক বছর আগে থেকেই।

খবর লেখার মধ্যদিয়ে আমি প্রতিদিন উপকূলের কথা বলি। কিন্তু একটি দিবস থাকলে অন্তত সবাই মিলে একযোগে উপকূলের কথা বলার সুযোগ পাই! দিন ঠিক করার আগে নিজের কাছে নিজের আরেকটা প্রশ্ন, কেন উপকূল দিবস চাই?

যেকোন দিবস দাবির পেছনে রয়েছে অনেক যৌক্তিকতা। দিবস কোন সুনির্দিষ্ট বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে পারে, দিবস অধিকার আদায়ের কথা বলতে পারে, দিবস পারে জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর জোরালো করতে। কেন উপকূল দিবস চাই- প্রশ্নটির সহজ জবাব হলো, উপকূলের মানুষের কণ্ঠস্বর জোরদার করার মধ্যদিয়ে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করা, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

একই সঙ্গে প্রতিবছর একটি সুনির্দিষ্ট দিনে উপকূল দিবস পালিত হলে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের মাঝে সতেনতা বাড়বে। তথ্য আদান-প্রদান, তথ্য অধিকারের বিষয়গুলো নিশ্চিত হবে। কেন্দ্রের কাছে পৌঁছাবে উপকূলের কণ্ঠস্বর।

উপকূলের প্রায় ৫ কোটি মানুষ প্রতিনিয়ত বহুমূখী দুর্যোগের সঙ্গে বসবাস করেন। কেবল দুর্যোগ এলেই এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর খবরাখবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। কিন্তু স্বাভাবিক সময়েও তাদের জীবন যে কতটা অস্বাভাবিক, সে বিষয়ে খুব একটা খোঁজ রাখা হয় না। উপকূলের প্রান্তিকের তথ্য যেমন কেন্দ্রে পৌঁছায় না, ঠিক তেমনি কেন্দ্রের মাঠে পৌঁছাচ্ছে না বহুমূখী কারণে।

উপকূলের দিকে গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারকদের নজর বাড়িয়ে উপকূলবাসীর জীবনমান উন্নয়ন ঘটানোই উপকূলের জন্য একটি দিবস প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য। মোটামুটি এগুলোই উপকূল দিবস প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি।

এবারের চিন্তা দিন নিয়ে- কোন দিনটিকে ‘উপকূল দিবস’ প্রস্তাব করা যায়! খুঁজে পাই ১২ নভেম্বরকে। এটাই উপকূলবাসীর কাছে সবচেয়ে বেশি স্মরণীয়। কারণ, ’৭০ সালের এই দিনে উপকূলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল গোটা উপকূল।

এদিন বাংলাদেশের উপকূলের উপর দিয়ে বয়ে যায় সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ভোলা সাইক্লোন’। এই ঘূর্ণিঝড় লণ্ডভণ্ড করে দেয় উপকূল। বহু মানুষ প্রাণ হারান। ঘরবাড়ি হারিয়ে পথে বসেন। এই ঘূর্ণিঝড় গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। এটি সিম্পসন স্কেলে ক্যাটাগরি ৩ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় ছিল। ঘূর্ণিঝড়টি ৮ই নভেম্বর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট হয়। ক্রমশ শক্তিশালী হতে হতে এটি উত্তর দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

১১ নভেম্বর এটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ১৮৫ কিলোমিটারে পৌঁছায়। ওই রাতেই উপকূলে আঘাত হানে। জলোচ্ছ্বাসের কারণে উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপসমূহ প্লাবিত হয়। ওই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় পাঁচ লাখ লোকের প্রাণহানি ঘটেছে বলে বলা হলেও বেসরকারি হিসাবে প্রায় দশ লাখ।

ভাবি, এই দিনটিকেই উপকূল দিবস প্রস্তাব করা যায়। পত্রপত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমে ২০১৬ সালে এই দিবসের প্রস্তাব তুলে জনমত গঠণের চেষ্টা করি। লেখার শিরোনাম ছিল- ‘১২ নভেম্বর হোক উপকূল দিবস’। সমগ্র উপকূল থেকেই ব্যাপক সাড়া পাই।

এরই ধারাবাহিকতায় এবার ২০১৭ সালে প্রথমবারের মত ১২ নভেম্বর বেসরকারিভাবে ‘উপকূল দিবস’ হিসাবে পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৭১০ কিলোমিটার সমুদ্ররেখা পূর্বে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে পশ্চিমে সাতক্ষীরার শ্যামনগর পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলের সর্বত্র ১২ নভেম্বর উপকূল দিবসের আওয়াজ।আর ’৭০-এর ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস যখন আমরা ছিলাম ‘অসহায়’। বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছিলেন তার মূল লক্ষ্য ছিল শোষণহীন অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। সেই দায়িত্বটা এখন বর্তেছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার স্কন্ধে। তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে চলেছেন। ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসে আগে প্রতি বছর বাংলাদেশে লাখ লাখ লোক মৃত্যুবরণ করত, ঘরবাড়ি হারাত। সেসব এখন আর নেই।

ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টে বাংলাদেশের ভূমিকা আন্তর্জাতিক বিশ্বে প্রশংসনীয়। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করার যে ব্যবস্থা আমরা গড়ে তুলেছি তা এখন সারা বিশ্বের জন্য মডেল হয়েছে।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ আমাদের অনুসরণ-অনুকরণ করতে পারে। বাংলাদেশে এখনো প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস হয়, কিন্তু যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি আগে হতো এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গৃহীত পদক্ষেপের কারণে আগের মতো ক্ষয়ক্ষতি হয় না। এটাই হলো বঙ্গবন্ধুর বাংলার স্বাধীনতার সফলতা।কিন্তু একটি দিবস থাকলে অন্তত সবাই মিলে একযোগে উপকূলের কথা বলার সুযোগ পাই! দিন ঠিক করার আগে নিজের কাছে নিজের আরেকটা প্রশ্ন, কেন উপকূল দিবস চাই?

যেকোন দিবস দাবির পেছনে রয়েছে অনেক যৌক্তিকতা। দিবস কোন সুনির্দিষ্ট বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে পারে, দিবস অধিকার আদায়ের কথা বলতে পারে, দিবস পারে জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর জোরালো করতে। কেন উপকূল দিবস চাই- প্রশ্নটির সহজ জবাব হলো, উপকূলের মানুষের কণ্ঠস্বর জোরদার করার মধ্যদিয়ে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করা, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

একই সঙ্গে প্রতিবছর একটি সুনির্দিষ্ট দিনে উপকূল দিবস পালিত হলে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের মাঝে সতেনতা বাড়বে। তথ্য আদান-প্রদান, তথ্য অধিকারের বিষয়গুলো নিশ্চিত হবে। কেন্দ্রের কাছে পৌঁছাবে উপকূলের কণ্ঠস্বর।

উপকূলের প্রায় ৫ কোটি মানুষ প্রতিনিয়ত বহুমূখী দুর্যোগের সঙ্গে বসবাস করেন। কেবল দুর্যোগ এলেই এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর খবরাখবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। কিন্তু স্বাভাবিক সময়েও তাদের জীবন যে কতটা অস্বাভাবিক, সে বিষয়ে খুব একটা খোঁজ রাখা হয় না। উপকূলের প্রান্তিকের তথ্য যেমন কেন্দ্রে পৌঁছায় না, ঠিক তেমনি কেন্দ্রের মাঠে পৌঁছাচ্ছে না বহুমূখী কারণে।

উপকূলের দিকে গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারকদের নজর বাড়িয়ে উপকূলবাসীর জীবনমান উন্নয়ন ঘটানোই উপকূলের জন্য একটি দিবস প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য। মোটামুটি এগুলোই উপকূল দিবস প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি।

এবারের চিন্তা দিন নিয়ে- কোন দিনটিকে ‘উপকূল দিবস’ প্রস্তাব করা যায়! খুঁজে পাই ১২ নভেম্বরকে। এটাই উপকূলবাসীর কাছে সবচেয়ে বেশি স্মরণীয়। কারণ, ’৭০ সালের এই দিনে উপকূলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল গোটা উপকূল।

এদিন বাংলাদেশের উপকূলের উপর দিয়ে বয়ে যায় সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ভোলা সাইক্লোন’। এই ঘূর্ণিঝড় লণ্ডভণ্ড করে দেয় উপকূল। বহু মানুষ প্রাণ হারান। ঘরবাড়ি হারিয়ে পথে বসেন। এই ঘূর্ণিঝড় গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। এটি সিম্পসন স্কেলে ক্যাটাগরি ৩ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় ছিল। ঘূর্ণিঝড়টি ৮ই নভেম্বর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট হয়। ক্রমশ শক্তিশালী হতে হতে এটি উত্তর দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

১১ নভেম্বর এটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ১৮৫ কিলোমিটারে পৌঁছায়। ওই রাতেই উপকূলে আঘাত হানে। জলোচ্ছ্বাসের কারণে উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপসমূহ প্লাবিত হয়। ওই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় পাঁচ লাখ লোকের প্রাণহানি ঘটেছে বলে বলা হলেও বেসরকারি হিসাবে প্রায় দশ লাখ।

ভাবি, এই দিনটিকেই উপকূল দিবস প্রস্তাব করা যায়। পত্রপত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমে ২০১৬ সালে এই দিবসের প্রস্তাব তুলে জনমত গঠণের চেষ্টা করি। লেখার শিরোনাম ছিল- ‘১২ নভেম্বর হোক উপকূল দিবস’। সমগ্র উপকূল থেকেই ব্যাপক সাড়া পাই।

এরই ধারাবাহিকতায় এবার ২০১৭ সালে প্রথমবারের মত ১২ নভেম্বর বেসরকারিভাবে ‘উপকূল দিবস’ হিসাবে পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৭১০ কিলোমিটার সমুদ্ররেখা পূর্বে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে পশ্চিমে সাতক্ষীরার শ্যামনগর পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলের সর্বত্র ১২ নভেম্বর উপকূল দিবসের আওয়াজ।আর ’৭০-এর ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস যখন আমরা ছিলাম ‘অসহায়’।

বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছিলেন তার মূল লক্ষ্য ছিল শোষণহীন অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। সেই দায়িত্বটা এখন বর্তেছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার স্কন্ধে। তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে চলেছেন। ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসে আগে প্রতি বছর বাংলাদেশে লাখ লাখ লোক মৃত্যুবরণ করত, ঘরবাড়ি হারাত। সেসব এখন আর নেই।

ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টে বাংলাদেশের ভূমিকা আন্তর্জাতিক বিশ্বে প্রশংসনীয়। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করার যে ব্যবস্থা আমরা গড়ে তুলেছি তা এখন সারা বিশ্বের জন্য মডেল হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ আমাদের অনুসরণ-অনুকরণ করতে পারে। বাংলাদেশে এখনো প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস হয়, কিন্তু যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি আগে হতো এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গৃহীত পদক্ষেপের কারণে আগের মতো ক্ষয়ক্ষতি হয় না। এটাই হলো বঙ্গবন্ধুর বাংলার স্বাধীনতার সফলতা।

এরই ধারাবাহিকতায় এবার ২০১৭ সালে প্রথমবারের মত ১২ নভেম্বর বেসরকারিভাবে ‘উপকূল দিবস’ হিসাবে পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৭১০ কিলোমিটার সমুদ্ররেখা পূর্বে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে পশ্চিমে সাতক্ষীরার শ্যামনগর পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলের সর্বত্র ১২ নভেম্বর উপকূল দিবসের আওয়াজ।

যশোরে উন্নয়ন লিফলেট বিতরণ আ:লীগের

যশোর পতিনিধি- যশোর জেলা আওয়ামী লীগ, মহিলা লীগ ও যুব মহিলা লীগের উদ্যোগে বাংলাদেশের আত্মসামাজিক অবস্থার লিফলেট ও প্রচারণা চালায়। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের পক্ষে উন্নয়ন লিফলেট বিতরণ করে দলীয় নেতাকমীরা।

বৃহস্পতিবার বিকালে দলীয় কার্যলয়ের সামনে থেকে যশোর আওয়ামী লীগ,শহর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকমীরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমান সরকারের উন্নয়ন চিত্র সাধারণ মানুষের কাছে বিতরণ শুরু করে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি একেএম খয়রাত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর জহুরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ হাসান বিপু, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মনি, শহর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইমাম হাসান লাল, শহর আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর হোসেন, ইউসূফ সাঈদ,জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল,সাবেক সহ-সভাপতি নিয়ামত উল্যাহ,সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির শিপলু,সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী,সাধারণ সম্পাদক ছালছাবিল আহমেদ জিসান,পৌর ছাত্রলীগের আহবায়ক মেহেদী হাসান রনি, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক তসলিমুজ্জামান আকাশ,এমএম কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান,সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত তরুণ প্রমুখ।

অপরদিকে বিতরণ কাজে উপস্থিত ছিলেন, জেলা মহিলা লীগের সভাপতি নূরজাহান ইসলাম নিরা,সদর উপজেলা মহিলা লীগের সভাপতি আনোয়ারা বেগম,শহর মহিলা লীগের সভাপতি মাহফুজা আক্তার গিনি,সাধারণ সম্পাদক রেহেনা খাতুন,জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি মঞ্জুন্নাহার নাজনীন সোনালী,সাধারণ সম্পাদক শেখ রোকেয়া পারভীন ডলি,সহ-সভাপতি মাসুমা আক্তার জলি,সদর উপজেলা যুব মহিলা লীগের আহবায়ক মাসুরা খাতুন হাসি,যুগ্ম-আহবায়ক শেখ সাদিয়া মৌরিন প্রমুখ।