বুধবার-১৩ নভেম্বর ২০১৯- সময়: রাত ১২:১২
ঘোড়াঘাটে বানিজ্যিক ভাবে মাল্টা বাগান করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে নাটোরের প্রতিবন্ধি প্রবীণ দম্পত্তি ভাতা নয়, চায় মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নবাবগঞ্জে ইঁদুর কেটে ফেলছে কাঁচা আমন ধানের রোপা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা কমেছে সময় ও দুর্ঘটনা,ঝালকাঠিতে ১৪ কি.মি মহাসড়ক নির্মাণ, স্বস্তিতে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা রাজাপুরে ব্যক্তি উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রীজ নির্মান, বই ও বেঞ্চ প্রদান মুক্তিযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ প্রসঞ্জী রায়এর পাশে- এমপি গোপাল ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল হাসপাতালে লাইভ ওয়ার্কশপে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় রিং (স্টেন্ট) সফল প্রতিস্থাপন সম্পন্ন ধামইরহাটে তিন ভূয়া ডিবি পুলিশ আটক সম্মানি না পেয়ে চিকিৎসা দিতে এলেন হারবাল এ্যাসিস্টেন্ট!

ইতিহাস ঐতিহ্য newsdiarybd.com:

স্থাপত্যের নিদর্শন সুরা মসজিদ

ইতিহাস-ঐতিহ্য ডেস্ক-দিনাজপুর জেলার স্থাপত্য ঐহিত্যের অপরূপ নিদর্শন সুরা মসজিদ। মসজিদটি ঘোড়াঘাট থেকে প্রায় পাঁচ মাইল পশ্চিমে এবং হিলি থেকে প্রায় ১২ মাইল পূর্বে হিলি-ঘোড়াঘাট সড়কের চোরগছা মৌজায় অবস্থিত।

মসজিদটি সুরা নামক স্থানে নির্মিত বলে এটি সুরা মসজিদ নামে পরিচিত। কেউ কেউ এটিকে সুজা মসজিদ নামেও অভিহিত করেন।

এখানে রাস্তার উত্তর পার্শ্বে একটি প্রাচীন দিঘি রয়েছে। দক্ষিণ পাড়ের মধ্যভাগে একটি প্রশস্ত ঘাট রয়েছে। কারও মতে ঘাটটি প্রায় ৫০ ফুট প্রশস্ত ছিল।

দীঘির ঘাট থেকে প্রায় ১০০ ফুট দক্ষিণ-পশ্চিমে দীঘির দক্ষিণ পাড়ের পশ্চিমাংশের দক্ষিণ দিকে এবং সদর সড়কের উত্তর দিকে প্রায় চার ফুট উঁচু একটি সমতল প্লাটফর্ম রয়েছে। এর পশ্চিম ভাগেই সুলতানী বাংলার অনন্য স্থাপত্য সুরা মসজিদ অবস্থিত।

মসজিদটির একটি বর্গাকার এক গম্বুজ বিশিষ্ট নামাজ কক্ষ এবং পূর্ব ভাগে ছোট তিন গম্বুজ বিশিষ্ট একটি বারান্দা রয়েছে। এরূপ নকশার মসজিদ উত্তর বাংলায় পঞ্চদশ শতকের শেষ দিকে এবং ষোড়শ শতকে খুবই জনপ্রিয় ছিল।

মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণে বাহির দেওয়ালে ব্যবহৃত ইটের সুক্ষ্ণ রিলিফ নকশার সাদৃশ্য পাওয়া যায় ১৫২৩ সালে নির্মিত রাজশাহীর বাঘা জামে মসজিদের সাথে।

মসজিদটি নির্মাণে প্রধানত ইট ব্যবহৃত হলেও মসজিদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ স্থান জুড়ে পাথরের ব্যবহার দেখা যায়। মসজিদের প্রত্যেক প্রবেশ পথে ব্যবহৃত চৌকাঠ পাথরের তৈরি। সিঁড়িতে ব্যবহৃত পাথরগুলোতে মূর্তি উৎকীর্ণ ছিল, যা এখন প্রায় নিশ্চিহ্ণ। এতে মুসলিম স্থাপত্যের হিন্দু স্থাপত্য উপকরণ ব্যবহারের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়।
এর গঠন প্রণালী ও স্থাপত্য কৌশল দেখে একটিকে সুলতানী আমলের মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। মসজিদের সংযুক্ত ছয়টি টাওয়ারে ব্যবহৃত পাথরের আবরণ এবং মিহরাবে বক্রবার পাথরের ব্যবহার কুসুম্বা মসজিদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

নবাবগঞ্জে প্রাচীন স্থাপনার নিদর্শন রক্ষাসহ সংরক্ষন করা প্রয়োজন

মোঃ মতিয়ার রহমান,নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি-দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে প্রাচীন যুগের বেশ কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শনের স্থাপনা।

কোন কোন স্থানে মাটির নিচেও লুকিয়ে আছে এরকম স্থাপনা। রয়েছে অনেক ঢিবি যা খনন করলে কিছু উন্মোচন হতে পারে। এসব স্থাপনা ও ঢিবি গুলো রক্ষা করা সহ সংরক্ষন করা প্রয়োজন বলে প্রতœতত্ব বিদগণ মত পোষন করেন।

উল্লেখ যোগ্য স্থাপনার মধ্যে রয়েছে উপজেলার গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের সীতাকোর্ট বৌদ্ধ বিহার, মুনিরথান, মাহমুদপুর ইউনিয়নের দারিয়ায় অরুনধাপ বা বেহুলার বাপের বাড়ী ঢিবি, বেহুলার বাসর ঘর ঢিবি,হরিনাথপুর দূর্গ, হলাইজানা তেলিপাড়া মসজিদ, দাউদপুর ইউনিয়নের জিগাগড় দূর্গ, পুটিমারা ইউনিয়নের টঙ্গীর ঢিবি,দলারদগা মঠ ।

দিনাজপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক আঃ কাঃ মোঃ যাকারিয়ার সাহেবের মতে সমগ্র এলাকা ছিল প্রাচীন একটি জনপদ ও বৌদ্ধ ধর্ম সস্কৃতির কেন্দ্র। এখানে একাধিক বৌদ্ধ বিহার ও স্তুপ থাকার সম্ভাবনা আছে তিনি মন্তব্য করেন বলে একটি বই থেকে জানা যায়।

বাংলাদেশ প্রত্ন সম্পদ গ্রন্থের মতে মাহমুদপুর এলাকায় ১৯৬০ সালের আগে মোট ঢিবি ছিল ১০০টি, ১৯৬৭ সালে কমে দাড়ায় ৫১টি। সেগুলোর মধ্যে এখন অনেক ঢিবিই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের পরিক্ষা মূলক খননের পর অরুন ধাপে দেখা গেছে বগুড়ার লখিন্দরের মেড় সদৃশ্য একটি পুরাকীর্তির অস্তিত্ব ঢিবির তলদেশে বিদ্যমান।

দাউদপুর ইউনিয়নের খয়েরগনি নামক স্থানে ২০০৬ সালে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ব বিভাগের খনন দল খনন করে বৌদ্ধ বিহারের স্থাপনার অস্তিত্ব পেয়েছিলেন। ওই সময় অর্থের অভাবে সেটি পুরো খনন করা সম্ভব হয় হয়নি।

বর্তমানে সেটি মাটির নিচে পড়ে রয়েছে। এসব স্থাপনা সংস্কারসহ সংরক্ষন করা গেলে এলাকায় পর্যটকদের আগমন ঘটবে বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।

ঐতিহ্যবাহী কাঁসা-পিতল শিল্প হারিয়ে যাচ্ছে

নবীন চৌধুরী- সময়ের করাল গ্রাসে লোপ পেয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কাঁস-পিতল শিল্প। একসময় কাঁসা-পিতল শিল্পসামগ্রী গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে নিত্য ব্যবহ্নতসামগ্রী হিসেবে দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে আধুনিকতার ছোয়াঁয় এসবের ব্যবহারে ভাটা পড়েছে।

ঢাকা জেলার বৃহওম থানা ধামরাই কাঁসা-পিতল শিল্পের জন্য বিখ্যাত ছিল। শুধু বাংলাদেশে নয়, দেশের বাইরেও এসবের প্রচুর চাহিদা ছিল ।

এছাড়া বিদেশি পর্যটকরা এক সময় কাঁসাপিতলের কারুকাজখচিত জিনিস পত্র নিয়ে যেতেন কিন্তু আজ এই কাঁসা- পিতল শিল্পের ঐতিহ্য নানা সমস্যার কারণে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পের সঙ্গে জড়িত শিল্পী ও ব্যবসায়ীরা আজ অভাব–অনটনের দিন কাটাচ্ছেন । পেশা ছেড়ে চলে গেছেন অনেকেই ।

পৈতৃক পেশা ছেড়ে আজ কাঁসা- পিতল শিল্পে জড়িত শিল্পীরা ভিন্ন পেশায় যেতে বাধ্য হয়েছে । এই শিল্পী ও ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে কখনোই কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ধামরাই থানার শত শত কাঁসা –পিতল ব্যবসায়ী ও শিল্পী পরিবার-ছিল। এ শিল্পের লোকদের নিয়ে কখনো কেউ ভাবে না, কখনো তাদের অভিযোগ কেউ শুনতে চায় না ।

এক সময় তাদের এই কাঁসা –পিতল শিল্প খুবই বিখ্যাত ছিল । তারা বিভিন্ন ধরনের শিল্পকর্ম নকশা করে বিদেশে রফতানি হতো । তাদের তৈরী থালা, কলসি,বাটি, ঘটি ব্যবহারযোগ্য জিনিসপত্র সহ অন্যান্য জিনিসের চাহিদা ,এখন অনেকাংশে কমে গেছে। এসব তৈরি জিনিসের দাম বৃদ্ধির কারণ হলো প্রয়োজনীয় উপকরনের অভাব । বেশিভাগ ক্ষেত্রে শিল্প- ব্যবসয়ীরা ধীরে ধীরে এই পেশার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।

ধামরাইয়ের কাঁসা- পিতলে জড়িত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রকাশ বনিক জানান, তাদের তৈরি জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি খুব একটা । কিন্তু আমদানিকৃত বিভিন্ন উপকররনর দাম বেড়েছে গত ১৪/১৫বছরে প্রায় তিনগুণ।

অপরদিকে ভারতীয় স্টিলের থালা বাটি , চামচ, কাটাচামচসহ বিভিন্ন জিনিসের আধিক্যের কারণে দেশীয় কাঁসা-পিতল শিল্পের জিনিসের চাহিদা যথেস্ট কমে গেছে। এসব কারণে এর সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী ও শিল্পীরা পড়েছেন মহাফাঁপরে। তারা না পারছেন পেশায় টিকে থাকতে, না পারছেন সচ্ছলভাবে সংসার চালাতে।

যারা এই পেশায় আছেন তারা কোনোরকমে টিকে রয়েছেন পেশায়। এক সময় ধামরাই ও সাভার থানার কাঁসা –পিতল শিল্পের সঙ্গে প্রায় ৩০ হাজার শিল্পী ওব্যবাসায়ী জড়িত ছিলেন। বর্তমানে পুরো থানায় কয়েকজনকে খুজেঁ পাওয়া যাবে ।

আগামী আট-দশ বছর পর আর এদেরকে খুজেঁ পাওয়া যাবে না । আগে প্রায় প্রতিটি গ্রামেই কাঁসা- পিতল শিল্পী ও ব্যবসায়ীদের বসবাস ছিল। সে সময়ে কাঁসা- পিতল পরীক্ষা–নিরীক্ষার টুনটান শব্দ বেজে উঠত। কিন্তু এখন সেই শব্দ যেন মিশে গেছে মহাকালের গতিপ্রবাহের সঙ্গে।

কাঁসা পিতল নকশা কাজে জড়িত একজন শিল্পী অরুণ বণিকের কাছে জানা যায়, একটি কাঁসা পিতল থালা বানাতে সময় লাগে চার ঘন্টা। এতে নকশা করতে সময় লাগে ৩/৪ ঘন্টা । থালা সর্বাসাকুল্যে খরচ দাড়াঁয় ১৫০০/১০০০টাকা । ১০০/১৫০ টাকা লাভ পেলেই তারা বিক্রি করে দেন । এতে দেখা যায়, দিনে একজন নকশা শিল্পীর সর্বোচ্চ ১০০/২০০ টাকা আয় হয়্ । ধামরাইয়ের কাঁসা- পিতল সামগ্রীর বিশিষ্ট একজন ব্যবসায়ী বাবুল আক্তার চৌধুরী ।

ধামরাইতে তার মেটাল হ্যান্ডিক্র্যফটস নামে একটি দোকান আছে । বাবুল আক্তার মোশাররফ হোসেনের কারখানা থেকে কাঁসা–পিতলের জিনিস তৈরি করিয়ে বিভিন্ন ন্থানে বিক্রি করেন। তার দোকানে রয়েছে চোখ ধাঁধানো কারুকার্যখচিত কাঁসা-পিতলের সামগ্রী , যা সবাইকে আর্কষন করে ।

মোশাররফ হোসেন কারখানার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন, রাশিদা মোশাররফ । তিনি কয়েকটি দেশে কাঁসা- পিতল সামগ্রী প্রর্দশন করেন। বাবুল আক্তার জানান, সরকারের উচিত কাঁসা- পিতল সামগ্রী রফতানি এবং বিভিন্ন সময় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ব্যবস্থা করা।

ধামরাইয়ের কাঁসা-পিতল সামগ্রীর চাহিদা আছে ইতালি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া ও আমেরিকায় । এমনকি অনেক দেশের রাষ্ট্রদুত ধামরাইয়ে এসে কাঁসা- পিতলের সামগ্রী নিয়ে যান। এসবের মধ্যে থাকে বিভিন্ন ধরনের মুর্তি, খাট, স্মৃতিসৌধ,বিভিন্ন শিল্পকর্মের ছবি, জীবজন্তুর ছবিসহ বিভিন্ন জিনিস ।

এসব তৈরি হয় মোশাররফ হোসেন কারখানায় । এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদুত ড্যান মজিনা সহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রদুত এসেছে প্রতিনিধি দল ধামরাই ঐতিহ্যবাহী কাসাঁ-পিতল শিল্প সামগ্রী সুকান্ত বনিকের দোকানে এবং কাসাঁ পিতলের জিনিস কিনে নিয়ে যায়। এছাড়া তারা কাসাঁ-পিতল শিল্পকে কারুকাজ দেখে প্রশংসা করেন।

এছাড়া সুকান্ত বনিকের কাসাঁ পিতলের দোকানে এ পর্যন্ত বিভিন্ন্ দেশের রাষ্ট্রদুতরা এসেছে এবং কাসাঁ পিতলের জিনিস কিনে নিয়ে গেছে।

কাঁসা- পিতল শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা কোনো ঋণ পান না। যদি সরকারএবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহযোগিতায় এগিয়ে আসত তাহলে কাঁসা–পিতল সামাগ্রী বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হতো।

ধামরাইয়ের কাসাঁ-পিতল বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সুকান্ত বণিক বলেন, একটি কথা বলতেই হয় দেশের ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে বাচাঁতে হলে এগিয়ে আসতে হবে সরকারকে এবং সহজ শর্তে করতে হবে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা করা।

বরেন্দ্র অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি-নওগাঁর ধামইরহাটে বরেন্দ্র অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

শনিবার বিকেল ৩টায় উপজেলার চকময়রাম মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বরেন্দ্র চর্চা কেন্দ্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বরেন্দ্র ভূমি চর্চার অংশ হিসেবে ধামইরহাট-পত্নীতলা ইতিহাস ও ঐতিহ্য শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

এ গ্রন্থেও মোড়ক উন্মোচন করেন, বরেন্দ্র চর্চা কেন্দ্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আহবায়ক প্রফেসর ড.মুহম্মদ নুরল আমিন। জাতীয় সংসদের হুইপ নওগাঁ-২ আসনের এমপি মো.শহীদুজ্জামান সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় গবেষণামূলক এ গ্রন্থ সংকলন করা হয়।

গ্রন্থটি সম্পাদনা করেন প্রফেসর আতাউল হক সিদ্দিকী ও প্রফেসর ড.মুহম্মদ নুরল আমিন। এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা বরেন্দ্র ভূমির কৃতি সন্তান অধ্যাপক আতাউল হক সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড.এমএকে আজাদ, প্রফেসর ড.কাজি মোস্তাফিজুর রহমান, প্রফেসর ড.গোলাম কবির, প্রফেসর দীপেকেন্দ্রনাথ দাস, প্রফেসর ড.মুর্তুজা খালেদ, ড.সাবরিনা নাজ, ইতিহাসবিদ খসবর আলী, ইতিহাসবিদ মাহবুব সিদ্দিকী, নওগাঁ সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ শরীফুল ইসলাম খান, ধামইরহাট এম এম সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব দেলদার হোসেন, চকময়রাম মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম খেলাল-ই-রব্বানী প্রমুখ। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপজেলার কলেজ,উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার প্রধান ও সুধীবৃন্দ অংশ গ্রহণ করেন।

ঐতিহ্যবাহী চরক মেলা

মেহেদী হাসান উজ্জল-দিনাজপুরের ফুলবাড়ী চাাঁদপাড়া মন্দির চত্বরে দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী চরক মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে ধারন ও বহন করতে প্রতি বছরের ন্যায় পৌর এলাকার চাাঁদপাড়া মন্দির কমিটির আয়োজনে গত ২১শে এপ্রিল শনিবার ঐতিহ্যবাহী এই চরক মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেলে মেলার মাঠে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা চরক পুঁজা ও বিভিন্ন নিয়মাবলীর মাধ্যমে চরক মেলার আনুষ্ঠকিতা শুরু হয়। এ চরক পুজাকে কন্দ্রে করে সখোনে মেলা বসানো হয়।

মেলায় চরক গাছে জীবন্ত মানুষকে পিঠে লোহার কল ফুড়িয়ে বাঁশের চরকিতে বেধেঁ ঘুরানো হয়। স্থানীয় ভাষায় এ মেলাকে বলা হয় পিঠফোড়া মেলা। চরক খেলোয়াড় হিসেবে এবার অংশগ্রহন করেন অরবিন্দু রায়।

ঐতিহ্যবাহী এই মেলা পরিদর্শন করেন, ফুলবাড়ী পৌর মেয়র মুরতুজা সরকার মানিক ও সংস্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়েজ উদ্দিন মন্ডল মেলা পরির্দশনের সময় পৌর মেয়র বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য রক্ষা করতে মন্দির কমিটি এ মেলার আয়োজন করেছে তা অত্যন্ত প্রসংশোনিয়।

মেলা কমিটির সভাপতি সুরজিৎ কুমার দাস জানান, এই চরক মেলা প্রায় ২০বছর ধরে মন্দির কমিটি’র উদ্যোগে আযোজন করে আসছে।

প্রতিবছর হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা বাংলা সনের চৈত্র সংক্রান্তির মাঝামাঝি সময় শতবছর ধরে এই চরক পুজাঁ ও মেলার আয়োজন করে। তারই অংশ হিসেবে এই চরক মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

মেলা উপভোগ করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থীদের ভিড় জমতে দেখা গেছে, সেই সাথে চরক মেলাকে কেন্দ্র করে মেলায় রকোমারী দোকান বসতে দেখা গেছে যা শিশু ও কিশোর কিশোরীদের আকর্ষণ করে।

রাজকন্যা ইন্দুপ্রভার ২৮৫ চিঠি এখন সংগ্রহশালায় দিঘাপতিয়া নাটোরে

মাহমুদুল হক, নাটোর ফিরে-প্রায় ১২০ বছর আগে কলকাতা থেকে নাটোরের দিঘাপতিয়ার রাজবংশের চতুর্থ পুরুষ প্রমথনাথের কন্যা ইন্দুপ্রভার কাছে বিয়ের আগে ও পরে মহেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরীর লেখা ২৮৫টি চিঠি এখন উত্তরা গণভবনের সংগ্রহশালায় রাখা হয়েছে।

একই সাথে রাখা হয়েছে তার অপ্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের পান্ডুলিপি, দিনলিপি, রুপার ফ্রেমে বাঁধানো ছবি, প্রাচীন পদ্ধতিতে লেখার কাজে ব্যবহৃত রাজকন্যার দোয়াত-কলমসহ আরও অনেক কিছুই। যা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

 শুক্রবার (৯ মার্চ) দুপুরে উদ্বোধনকৃত উত্তরা গণভবনের সংগ্রহশালায় শতাধিক দ্রব্যাদি রাখা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এসব দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করেন।

এর আগে সোমবার (৫ মার্চ) সন্ধান মেলে গোপনে তুলে রাখা এই ২৮৫টি পত্রের। পরে নাটোর জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে চাবিহীন একটি ট্রাঙ্ক থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়।

 এছাড়া  আশপাশের গ্রামে গ্রামে মানুষের বাড়িতে মিলেছে রাজবাড়ির সিন্দুক, রাজা-রানীর ছবিসহ অনেক ঐতিহাসিক জিনিসপত্র, আড়ালে থাকা মহামূল্যবান পাথরখচিত রাজমুকুট, রাজপরিধেয় বইসহ আরও অনেক কিছু। জানা যায়, ১৯৫৬ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে এই রাজপরিবার ভারতে চলে যায়।

১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু রাজবাড়িটিকে উত্তরা গণভবন ঘোষণা করেন। তখন থেকে এর পরিচর্যা করত গণপূর্ত বিভাগ। কয়েকবার এখানে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে।

গত অক্টোবর মাসে জেলা প্রশাসন রাজবাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয়ার পর দিঘাপতিয়ার রাজার স্মৃতিচিহ্ন খোঁজা শুরু হয়। জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন জানান, আশপাশের

এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিন্দুক, রাজা-রাণির ছবিসহ অনেক কিছু উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া ট্রেজারিতে মহামূল্যবান পাথরখচিত রাজার মুকুট, জরির জামা, হাতির দাঁতের হাতল লাগানো ছুরি, দামি পাথর কেটে তৈরি রাজবাড়ির থালাবাসনসহ অনেক কিছু পাওয়া যায়।

এরই মধ্যে একটি ছবিও পাওয়া যায়। এটি রুপার ফ্রেমে বাঁধানো। ছবিটির পরিচয় খুঁজতে গিয়ে ফ্রেম খোলা হয়। এরপর দেখা যায়, ফ্রেমে আড়াল হয়েছিল রাজকুমারী ইন্দুপ্রভার নাম।

তিনি বলেন, রাজবংশের চতুর্থ পুরুষ প্রমথনাথের কন্যা ছিলেন ইন্দুপ্রভা। ট্রাঙ্ক থেকে ইন্দুর হাতের লেখা ১০টি ডায়েরি বের করা হয়। এর মধ্যে একটিতে শুধু কবিতা।

অন্যগুলোতে তার আত্মজীবনী। ইন্দুর কাছে বিয়ের আগে ও পরে ২৮৫টি চিঠি লিখেছেন মহেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী। প্রতিটি চিঠির শেষে লেখা রয়েছে, ‘তোমারই মহেন্দ্র’। ইন্দুকে সম্বোধন করা হয়েছে ‘প্রিয়তমে’ হিসেবে। চিঠির পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে মান-অভিমান। ইন্দুপ্রভা কলকাতায় থাকার সময় তাকে তিনটি ঠিকানায় চিঠি দিয়েছেন। আবার ইন্দু যখন রাজবাড়িতে থেকেছেন, তখনো কলকাতা থেকে মহেন্দ্র তাকে চিঠি লিখেছেন।

দিঘাপতিয়া চিঠিপত্রে তার নাম কখনও রাজকুমারী ইন্দুপ্রভা, কখনও শ্রীমতী ইন্দুপ্রভা দেবী আবার কখনাও শ্রীমতী ইন্দুপ্রভা চৌধুরানী লেখা পাওয়া গেছে।

মহেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী ইন্দুপ্রভার স্বামী। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। ছোট্ট ছোট্ট খামে ভরা চিঠিগুলো খুবই যতেœ ভাঁজ করে রাখা। ধারনা করা হচ্ছে প্রায় ১২০ বছর বা তার কাছাকাছি সময় ধরে চিঠিগুলো ওভাবেই খামের ভেতরে রয়েছে। চিঠিগুলো এখনো পড়া যাচ্ছে। একইভাবে ইন্দুর হাতের লেখা কবিতা ও তার আত্মজীবনীও পড়া যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বাংলা ১৩০৪ সালে দিঘাপতিয়া রাজবাড়ির প্রাইভেট সেক্রেটারির প্যাডে মহেন্দ্র কলকাতার ঠিকানায় ইন্দুকে লিখেছেন।

বারবার তাগাদা দিয়ে খাম পাঠিয়েও ইন্দুর চিঠি পেতে দেরি হওয়ায় মহেন্দ্র তার চিঠির শেষ বাক্যে লিখেছেন, ‘একবার কলকাতায় যেতে পারলে বাঁচি’।

তখন যে দোয়াত-কলম ব্যবহৃত হতো সেগুলোও ইন্দুর ট্রাঙ্কে অবিকল ছিল। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ডায়েরির অনেক লেখাই তিনি রাজশাহীতে বসে লিখেছেন।

১৩১১ বঙ্গাব্দের নববর্ষের দিনের কথা লিখেছেন রাজশাহীতে বসে। রাজশাহীকে তখন রামপুর লেখা হতো। প্রতিটি লেখার সাথে তিনি বাংলা ও ইংরেজি তারিখ বারসহ লিখেছেন।

হরিপুরে এক কাতার গায়েবি মসজিদ

ঠাকুরগাঁয়ের হরিপুর উপজেলার মেদনীসাগর গ্রামে অবস্থিত প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন এক কাতারের গায়েবি মসজিদ।

মসজিদটির অবস্থান হরিপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিঃমিঃ দূরে মন্নাটুলী চৌরাস্তা থেকে বনগাঁওগামী পাঁকা সড়কের ডান পার্শ্বে মেদনীসাগর গ্রামে।

এলাকার প্রবীণদের মতে, মসজিদটি সুলতানি আমলেরও আগে নির্মিত হতে পারে।

এ মসজিদ নিয়ে রয়েছে নানান রূপকথা ও অলৌকিক গল্প কাহিনী।

মসজিদটির নির্মাণ কাজ নিয়ে সঠিক কোন তথ্য না জানা গেলেও গ্রামবাসী ও এলাকার প্রবীণদের মতে এটি প্রায় ১৫০০ থেকে ১৬০০ শতকে নির্মাণ হতে পারে।

অনেকের মতে দিল্লীর সুলতান ফিরোজ শাহ’র শাসন আমলে তার কমান্ডার খান গাজী ও হযরত শাহ জালালসহ ৩৬০ জন আউলিয়ার প্রচেষ্টায় সিলেট জয়ের পর সিলেটের শাসক গৌর গোবিন্দকে পরাজিত করে পুত্র হযরত শাহ জালাল (রহঃ) সিলেট থেকে ইসলাম প্রচারের কাজ শুরু করে এ সময় তারা ইসলাম প্রচারের জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থান করে।

তাই এ সময়ও নির্মাণ হতে পারে এই মসজিদটি। তবে এটি যে সঠিক তা নাও হতে পারে। এলাকার সবার কাছে এটি গায়েবি ও এক কাতার মসজিদ নামে পরিচিত।

মসজিদটির আকর্ষণ হচ্ছে বিশেষ ডিজাইনে তৈরি ৩টি গম্বুজ ও চার কোণায় ৮টি মিনার সদৃশ্য গম্বুজ। গম্বুজ ৩টি ছাদ থেকে প্রায় ১০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট এবং ২ ফুট লম্ব চুড়া।

ভূমি থেকে প্রতিটি গম্বুজের উচ্চতা ১০ ফুট সুলতানি আমলের মিনারের মত। মসজিদটিতে একসাথে এক কাতারেই ৩০ জন মুসলিম নামাজ আদায় করতে পারে। বর্তমানে আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ এখানে নামাজ পড়ে।

মসজিদে জায়গার অভাবে মসজিদের মূল ভবনের সামনের অংশের সাথে সংযুক্ত করে নতুন ভবন সম্প্রসারিত করা হয়েছে। মাটি খুড়ার সময় মসজিদের মূল ভবনের সামনে ৩-৪ ফুট নিচের দিকে ছাই, ইট, পাথর ও কয়লা পাথর পাওয়া যায়। এটির কাজ সম্পন্ন করা হলে এক সাথে প্রায় ২০০ জন মুসলিম নামাজ আদায় করতে পারবে।

মসজিদে নামাজ পড়তে আসা আব্দুল্লাহিল বাকি বলেন, আমার বয়স ৩০ বছর আমার বাপ-দাদারাও বলতে পারে না এটি কে কবে তৈরি করেছিল। এবং কি তাদের পূর্ব পুরুষরাও বলতে পারতো না এ মসজিদটির রহস্য। তাই আমরা এলাকার অনেকে গায়েবি এক কাতার মসজিদ বলেই জানি।

জফুর চেয়ারম্যান (১০০) বলেন, আমার ধারণা মতে আমাদের পূর্ব পুরুষদের নিকট শুনেছি এতে মনে হয় যে, এই মসজিদটির বয়স প্রায় ৪-৫ শত বছর হতে পারে। এটি একটি প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন। আমরা গ্রামবাসী সকলে মিলে এর দেখভাল করি এবং মেরামত করে নামাজ পড়ি।

সংশ্লিষ্ট বর্তমান ১নং গেদুড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বলেন আমিও শুনেছি এটি গায়েবি মসজিদ। এর ইতিহাস কেউ বলতে পারে না। এটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতœতত্ত্ব বিভাগের সংরক্ষণ করা উচিত।-জে.ইতি,  হরিপুর-

কুশুম্বা মসজিদ কারুকার্য ভরা

মারুফ রুসাফি- কুশুম্বা মসজিদ নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলাধীন ৮ নং কুশুম্বা ইউনিয়নের কুশুম্বা নামক গ্রামে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের পার্শে উপজেলা সদর হতে তিন মাইল দক্ষিন-পূর্ব দিকে অবস্থিত।
নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কে বাসযোগে ৪০ মিনিট সময় লাগে।
কুশুম্বা মসজিদ আত্রাই নদীর দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে এবং মান্দা উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার দুরে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের পশ্চিমে অবস্থিত।
বরেন্দ্র জনপদের নওগাঁ জেলার বৃহত্তম উপজেলা মান্দায় অবস্থিত মসজিদের সন্মুখভাগে রয়েছে ৩টি দরজা। আকারে ২টি বড়, অন্যটি অপেক্ষাকৃত ছোট। দরজাগুলো খিলানযুক্ত মেহরাব আকৃতির। মসজিদের চার কোনায় রয়েছে ৪টি মিনার। মিনারগুলো মসজিদের দেওয়াল পর্যন্ত উঁচু ও আট কোনাকার। ছাদের ওপর রয়েছে মোট ৬টি গুম্বুজ। যা দুইটি সারিতে তৈরি।
দ্বিতীয় সারির গম্বুজগুলো আকৃতির দিক দিয়ে ছোট। ১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পে ৩টি গম্বুজ নষ্ট হয়েছিল। পরে প্রত্নতত্ব বিভাগ মসজিদটি সংস্কার করে।

মসজিদের ভেতর ২টি পিলার রয়েছে। উত্তর দিকের মেহরাবের সামনে পাথরের পিলারের ওপর তৈরি করা হয়েছিল একটি দোতলা ঘর। এই ঘরটিকে বলা হতো জেনান গ্যালারি বা মহিলাদের নামাজের ঘর এখানে মহিলারা পৃথকভাবে নামাজ পড়তেন।

অনেকে বলেন মসজিদের এই আসনে বসেই কাজী/বিচারক বিচার কার্য পরিচালনা করতেন বলে ধারনা করা হয় ।

মসজিদের ভেতর পশ্চিমের দেয়ালে রয়েছে ৩টি চমৎকার মেহরাবের আঙ্গুরগুচ্ছ ও লতাপাতার নকশা খোদিত রয়েছে। এ কারুকার্যগুলো খুব উন্নত মানের। দক্ষিণ দিকের মেহরাব ২টি আকারে বড়। উত্তর দিকের মেহরাবটি ছোট।

মসজিদটির উত্তর-দক্ষিণ দিকে দুটি করে দরজা ছিল। মসজিদটির সম্মূখে ২৫.৮৩ একের আয়তনের একটি বিশাল জলাশয় রয়েছে আর মসজিদের সন্মুখভাগে রয়েছে খোলা প্রাঙ্গণ ও পাথর বসানো সিঁড়ি। যা দিঘিতে গিয়ে নেমেছে।

মসজিদে যাওয়ার সময় পথের ‌ডান পাশে বাক্স আকৃতির একখণ্ড কালো পাথর দেখা যায়। এটিকে অনেকে কবর বলে মনে করেন।
জানা যায়, জনৈক কৃষক হাল চাষের সময় তার জমিতে পাথরটির সন্ধান পায়। সম্ভবত তার প্রচেষ্টায় পাথরটি জমি থেকে তুলে এনে রাস্তার পাশে রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়।

মসজিদে ঘুরতে আসা ফারজানা বলেন, পাঁচ টাকার নোটের উপর ছবি দেখে অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল এখানে বেড়াতে আসার।

সোহেল রানা নামের অপর এক দর্শনার্থী বলেন, বিপুল সম্ভবনা থাকার পরও প্রয়োজনীয় নজরদারির অভাবে নওগাঁর এই ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদ আকর্ষনীয় স্পট হিসাবে গড়ে উঠছে না।

কুসম্বা মসজিদটি নওগাঁর ঐতিহাসিক স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী আসেন মসজিদটি দেখার জন্য। দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধার জন্য অযু ও গোসলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাছাড়াও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে।

ঘুরে আসুন একবার পঞ্চগড় স্টোন মিউজিয়াম

ইতিহাস-ঐতিহ্য ডেস্ক-উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে বছরজুড়ে থাকে দেশীয় এবং ভিনদেশি পর্যটকদের আনাগোণা। তাই প্রতিবছর শীতের শুরুতে পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে যায়। জেলার বিভিন্ন ঐতিহাসিক এবং দর্শনীয় স্থান ঘুরে পর্যটকদের চোখ আটকে যায় দৃষ্টি নন্দন পাথরের জাদুঘরে।

পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজে ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের একমাত্র এ পাথরের জাদুঘর।

এখানে রয়েছে নতুন এবং পুরনো পাথরের রকমারি সমাহার। তবে নামকরণ এবং পরিচয়ে পাথরের এ জাদুঘর ‘রকস্ মিউজিয়াম’ নামেই পরিচিত।

চলতি মৌসুমেও প্রায় প্রতিদিনই পাথরের জাদুঘরে ভিড় করছেন পর্যটকরা। তারা পাথরের গায়ে লেখা ইতিহাস থেকে পরিচিত হচ্ছেন ঐতিহ্যের সঙ্গে।

পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের একটি কক্ষে ১৯৯৭ সালে রকস্ মিউজিয়ামটি প্রতিষ্ঠা করেন কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ ড. নাজমুল হক। এ মিউজিয়ামে রয়েছে হাজার বছরের নানান আকৃতির পাথরসহ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।

প্রত্যেকটি পাথরের পাশে লেখা রয়েছে কোথা থেকে এবং কারা সংগ্রহ করেছেন এ মূল্যবান প্রত্নসম্পদ। এখানে রয়েছে আগ্নেয় শিলা, পাললিক শিলা, নুড়ি পাথর, সিলিকা নুড়ি ও সিলিকা বালি, হলুদ ও গাঢ় হলুদ বালি, কাঁচবালি, খনিজবালি, লাইমস্টোন, পলি ও কুমোর মাটি এবং কঠিন শিলাসহ আরও অনেক প্রত্নসম্পদ।

পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের মূলফটক পার হলে ডান পাশে দেখা যায় ছোটবড় পাথরে সাজানো মাঠের একাংশ। পাথরের এ জাদুঘরের সামনে গোল চক্করের অবয়বে বেশ কয়েকটি বড় আকারের পাথর বসানো রয়েছে। এসব পাথরের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছর। এর বর্ণনা রয়েছে পাশের ছোট্ট নাম ফলকে।

দুই প্রকার গ্যালারি নিয়েই এ পাথরের জাদুঘর। ঘরের ভেতরের গ্যালারিতে রয়েছে বিভিন্ন আকৃতি ও বৈশিষ্ট্যের আগ্নেয় শিলা, পাললিক শিলা, তরঙ্গায়িত চ্যাপ্টা পাথর, লাইমস্টোন এবং কঠিন শিলা।

রয়েছে আদিবাসীদের ব্যবহৃত পণ্য সামগ্রী, নদীর নিচে ও ভূগর্ভে পাওয়া অশ্মীভূত কাঠ, প্রায় দুই হাজার বছরের পুরনো ইমারতের ইট-পাথরের মূর্তি।

রয়েছে পোড়ামাটির নকশা। পাথরের এ জাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণ আস্ত শাল গাছের বিশাল আকৃতির একটি ঐতিহ্যবাহী ডিঙ্গি নৌকা। প্রায় হাজার বছরের পুরোনো ২৫ ফুট দৈর্ঘ ডিঙ্গি নৌকাটি ১০৯৯ সালে সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের চাওয়াই নদীর মাহানতের ঘাটের ৮ ফুট নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

এটি একটি আস্ত শালগাছ খোদাই করে নির্মাণ করা হয়। প্রাচীনকালে আদিবাসীরা এই নৌকাটি ব্যবহার করতেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।

আর বাইরের গ্যালারিতে রয়েছে বড় আকারের বেলে পাথর, গ্রানাইট পাথর, কোয়ার্জাহিট, ব্যাসল্ট, শেল, সিলিকায়িত কাঠ বা গাছ থেকে রুপান্তরিত পাথর। এসব পাথরের কোনোটি গোলাকার, আবার কোনো কোনোটি চেপ্টা অথবা লম্বাকার। পাথরের গায়ে আঁকা রয়েছে নানা রকমের সাংকেতিক চিহ্ন।

জাদুঘরের বিভিন্ন দেয়ালে শোভা পাচ্ছে আদিযুগে ব্যবহৃত দা, কাচি, কদালসহ ঐতিহাসিক নানান নিদর্শন।

দেশ বিদেশের ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা পঞ্চগড়ে ছুটে যান উত্তরের শেষ সীমান্ত তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা। বাংলাবান্ধার জিরোপয়েন্ট, স্থলবন্দর, তেঁতুলিয়ার চা বাগান ঘুড়ে তারা দেখতে আসেন দেশের একমাত্র পাথরের জাদুঘর ‘পঞ্চগড় রকস্ মিউজিয়াম’। খুটে খুটে তারা পাথর দেখেন।

গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ তেঁতুলিয়ার চা বাগান ঘুরে দেখতে এসেছিল এই পাথরের জাদুঘর। কথা হয় ওই দলের সদস্য ফরিদপুরের চরভদ্রাসন এলাকার উৎপল চন্দ্রের সঙ্গে।

তিনি জানালেন, অনেক আগেই রকস্ মিউজিয়ামের কথা শুনেছি। দীর্ঘদিন পর হলেও দেখে এবং এর ইতিহাস জেনে ভালো লাগলো। একই দলের সদস্য আরিফ রেজা বলেন, মাটির নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া পাথর দেখলাম। এগুলো কত বছর আগে আরও সঠিকভাবে জানা প্রয়োজন। তবে গাছের গুড়ি যে এক পর্যায়ে পাথরে পরিণত হয়, এটা জানা ছিল না। যতই দেখছি, অবাক হচ্ছি।

পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া বলেন, তৎকালীন কলেজের অধ্যক্ষ ড. নাজমুল হক তার একক প্রচেষ্টায় এই রকস্ মিউজিয়াম স্থাপন করেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নস্থান থেকে উদ্ধার হওয়া এসব নিদর্শন সংগ্রহ করেছিলেন।

মূলত ভূখণ্ডের বয়স নির্ণয়, ভূ-বৈশিষ্ট্য অনুসন্ধান, ঐতিহাসিক নমুনা সংগ্রহ, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং নৃ-তাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই পাথরের জাদুঘর বা রকস্ মিউজিয়াম স্থাপন করা হয়।

ঘোড়াঘাটের প্রাচিন ইতিহাস

ঘোড়াঘাট-প্রতিনিধি-আইন-ই আকবারীর মতে-তৎকালিন সুবে বাংলার ১৯টি সরকার এবং জেলা ও বিভাগের মধ্যে আকার ও আয়েতন ছিল ঘোড়াঘাট সরকার।

শক্তি ও সম্পদের অধিকারী,৮৩টি পরগোনা নিয়ে গঠিত হয়।

এ সরকারের বার্ষিক আদায় ২০,২০.৭৭০ টাকা,৫০টি রনহ¯তী এবং ২২৬টি পদাতিক।

মুগল বাহিনির প্রচন্ড আক্রমনে রাজমহলের যুদ্ধে ১৫৭৬ সালে কুরবান বংশের শেষ স্বাধীন সুলতান দাউদ খান। তিনি ধংসর পরিনতি বুকে নিয়ে ঘোড়াঘাট নগরের দুঃখময় ইতিহাস তারই প্রমান।

রাজনৈতিক ভাঙ্গাগড়ার এই ঘোড়াঘাট উজ্জল দিনের চেহারার অধিকার অর্জন করেছে। এই নগরে একদা সমাগত পীর-আউলিয়াদের আধ্যাতিক সাধনা ও সিদ্ধির উজ্জল আলোকে উদ্ভাসিত নামগুলি যেন যাদুঘরে জনশ্রিতি চিরস্মান হয়ে রয়েছে।

তাদের জীবনি ও অবদান এবং পরিচয় দেয়া হলো- ১/পীর শাহ-ইসমাইল-গাজী (রঃ) ২/কাজী সদরউদ্দীন (রঃ),৩/ মৌলানা বদরে আরেফিন (রঃ),৪/ মৌলানা নুরুদ্দীন(রঃ),৫/শাহ-দরিয়া বোখারী (রঃ)।

এ ছাড়াও দেওয়ান পীর,পানি পীর,সটা পীর,এর অবতরন করেন। দিনাজপুর অঞ্চলে মুসলমানী আমলের অন্যতম প্রশাসনিক এলাকার নাম ছিল বরকাবাদ।

গৌড়ী সুলতান রুকনউদ্দিন বরকাশাহের নামে গঠিত এই সরকার দিনাজপুরের হুদয়স্থলে ঘোড়াঘাট থেকে পশ্চিম দিগšেত অবস্থিত। উলেলখিত সীমানার মধ্যে অনেক জেলার নাম উলেলখ থাকলেও দিনাজপুরের নাম প্রধান ভুখন্ডে লেখা আছে। ৩য় পর্বে আরো ইতিহাস থাকছে।