বুধবার-১৩ নভেম্বর ২০১৯- সময়: রাত ১২:৩৩
ঘোড়াঘাটে বানিজ্যিক ভাবে মাল্টা বাগান করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে নাটোরের প্রতিবন্ধি প্রবীণ দম্পত্তি ভাতা নয়, চায় মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নবাবগঞ্জে ইঁদুর কেটে ফেলছে কাঁচা আমন ধানের রোপা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা কমেছে সময় ও দুর্ঘটনা,ঝালকাঠিতে ১৪ কি.মি মহাসড়ক নির্মাণ, স্বস্তিতে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা রাজাপুরে ব্যক্তি উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রীজ নির্মান, বই ও বেঞ্চ প্রদান মুক্তিযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ প্রসঞ্জী রায়এর পাশে- এমপি গোপাল ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল হাসপাতালে লাইভ ওয়ার্কশপে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় রিং (স্টেন্ট) সফল প্রতিস্থাপন সম্পন্ন ধামইরহাটে তিন ভূয়া ডিবি পুলিশ আটক সম্মানি না পেয়ে চিকিৎসা দিতে এলেন হারবাল এ্যাসিস্টেন্ট!

বিনোদন newsdiarybd.com:

বাড়তি আয়ের জন্য নাটকে গান

বাংলা চলচ্চিত্রে গানের ব্যবহার বেশ আগে থেকেই। সংগীতপ্রিয় দর্শকদের জন্যই সিনেমায় গান থাকে। নাটক-টেলিছবিতেও বেশ কিছু বছর ধরে গান থাকছে। ইদানীং এই প্রবণতা বেশ বেড়েছে। গল্পের প্রয়োজনে শুধু নয়, বাড়তি অর্থ আয়ের জন্যও গান থাকছে।

ছোট পর্দার সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নির্মাতা ও প্রযোজক বলছেন, বেশ কয়েক বছর ধরে অনলাইন ও অ্যাপসভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে গানের প্রতি মানুষের আগ্রহের কারণে নাটকে গানের প্রচলন বাড়ছে। এতে নাটকের পরিচালক ও প্রযোজকেরা দুই দিক থেকে সুবিধা পাচ্ছেন।

এক. গানের মাধ্যমে নাটকে প্রেম বা দুঃখের দৃশ্যে পরিবেশটা বোঝানো যায়, একটা আবহ তৈরি হয়। দুই. গানের ভিডিও কোনো ভিডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে বা প্রযোজক নিজের ইউটিউব চ্যানেলে উঠিয়ে কিছু আর্থিক সুবিধা পান। জিপি মিউজিক, ইয়োন্ডার, ভাইবস ও মুঠোফোনের রিংটোন থেকেও গানের অডিওর জন্য অর্থ আসে।

নাট্যপরিচালক মিজানুর রহমান আরিয়ান এ পর্যন্ত প্রায় ৫০টি নাটকে গান ব্যবহার করেছেন। তাঁর মতে, প্রায় ৩০ ভাগ নাটক, টেলিছবিতেই গান ব্যবহার করা হয়। বললেন, ‘আমি গল্পের প্রয়োজনেই নাটকে গান ব্যবহার করি। এটি নাটককে সমৃদ্ধ করে। আবার ইউটিউবে উঠিয়ে গানের ভিডিওর অংশ থেকেও প্রযোজকের কিছু টাকা আসে।’

জানা গেছে, সাধারণত নাটকে জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীরা থাকলে গান জনপ্রিয় হওয়ার সুযোগ থাকে। ভিডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিডি চয়েসের কর্ণধার জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘নাটকের গান ও গানের ভিডিও সাধারণত ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় কিনি। তবে নাটকে জনপ্রিয় নায়ক-নায়িকা থাকলে, ভালো গায়কের গান হলে সেই গান ও গানের ভিডিওর মূল্য এক লাখ টাকা পর্যন্ত আছে।’

আগে বিচ্ছিন্নভাবে নাটক ও টেলিছবিতে গান ব্যবহৃত হলেও বেশ কয়েক বছর আগে থেকে নাটক ও টেলিছবিতে নিয়মিত গান ব্যবহার করেন পরিচালক শিহাব শাহিন। এই পরিচালক বলেন, ‘নাটকে গল্পের প্রয়োজনেই গান ব্যবহার করি। এতে নাটক সমৃদ্ধ হয়। গান থেকে অনেক সময় আয়ও হচ্ছে।’

তবে শিহাব শাহিন মনে করেন, ইদানীং নাটকে গান ব্যবহারের ফর্মুলা বানিয়ে ফেলেছেন অনেকে। অপ্রয়োজনীয় হলেও ৪০ মিনিটের নাটকে কোনো কোনো পরিচালক পাঁচ মিনিটের গান ব্যবহার করছেন। অনেক সময় ৪০ মিনিটে গল্পই বলা যায় না। তার মধ্যে আবার গান! এভাবে চলতে থাকলে নাটকের জন্য ক্ষতি হতে পারে।

নাটকে গানের বিষয়ে প্রযোজক আলী বশির বলেন, বর্তমান সময়ে নাটক নির্মাণে খচর বেড়েছে। কিন্তু নাটকের দাম কমেছে। নাটকের মধ্যে একটা গান থাকলে তা থেকে অল্প পরিমাণে হলেও আর্থিক সহযোগিতা আছে।

কুড়িগ্রামে সুপ্ত প্রতিভা অন্বেষণের গ্রান্ড ফিনালে

প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি-‘শেকড়ের টানে ছুটে চল…’ এমন শ্লোগানের মধ্যদিয়ে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ‘সুপ্ত প্রতিভা অন্বেষণ’ সংগীত প্রতিযোগিতার গ্রান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সন্ধ্যায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে ভুরুঙ্গামারী মুক্ত মঞ্চে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে গ্রান্ড ফিনালের উদ্বোধন করেন, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন।

এ সময় ইউএনও এস.এইচ.এম মাগফিুরুল হাসান আব্বাসীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র তথ্য অফিসার মো: হুমায়ূন কবীর, উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুন্নবী চৌধুরী খোকন, ভুরুঙ্গামারী শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক, সরকার রকীব আহমেদ জুয়েল, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলমগীর প্রমূখ।

প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক মাঈদুল ইসলাম মুকুল জানান, ‘শেকড়ের টানে ছুটে চল…’ এ শ্লোগানের মধ্যদিয়ে ২মাস আগে সুপ্ত প্রতিভা অন্বেষন প্রতিযোগিতা- ২০১৮ শুরু হয়।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে প্রায় ২শতাধিক শিল্পী এই গানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। ৪টি রাউন্ড শেষে গ্রান্ড ফিনালেতে ওঠে সেরা ১২জন প্রতিযোগি।

গ্রান্ড ফিনালে প্রতিযোগিতা শেষে চ্যাম্পিয়ান হয় হান্নান সরকার, ১ম রানারআপ রাজু আহমেদ এবং ২য় রানারআপ নির্বাচিত হয় মিজানুর রহমান।

এই প্রতিযোগিতায় প্রধান বিচারক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন ভুরুঙ্গামারী শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক সরকার রকীব আহমেদ জুয়েল।

অন্যান্য বিচারক মধ্যে ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান বাবু, সংগীতজ্ঞ নিশাত আহমেদ, চৌধুরী শারমিন শামস মনি ও মাসুদ আল করিম।

১২জন শিল্পীর গানের আগে তাদের নিয়ে ইউসুফ আলমগীরের নির্মিত বিশেষ তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

উল্লেখ্য সেরা ১২জনের মধ্যে বিশেষ পুরস্কারপ্রাপ্ত বাকি শিল্পীরা হলেন আমজাদ হোসেন, হাফিজুল ইসলাম, মিলন মাহমুদ জয়, ইসরাত জাহান মিম, স্বপন রহমান, লাবব শাহরিয়ার সিয়াম, মনিকা আক্তার মৌ, রোকনুজ্জামান রোকন ও আনিকা নাওয়ার অন্বয়ী।

বড়াইগ্রামে লালন স্মরণ উৎসব

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি- শত দর্শকের অনুরোধে ‘এমন মানব জনম অার কি হবে, করিমনা কাম ছাড়েনা মদনে, অামার অঙ্গ জ্বলে রে ৷’ একের পর এক সাঁইজি লালনের গান গেয়ে মঞ্চ মাতিয়ে গেলেন ঢাকা থেকে অাগত লালন শিল্পী সঞ্চিতা পাল ৷ সঞ্চিতা পাল লালনের ধরাধাম কুষ্টিয়ার মেয়ে ৷

মঞ্চে পর পর ১০-১৫ টি লালনের গান গাইলেন সঞ্চিতা পাল, যে গানের প্রতি দর্শকের তৃষ্ণা অফুরন্ত ৷ স্থানীয় শিল্পীদের মুখেও একে একে সাঁইজি লালনের গানের ঢেউ উঠতে দেখা গেল ৷

নাটোর জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন গাইলেন ‘গুরু চরণ অমূল্য ধন বাঁধো ভক্তি রসে ৷’ প্রখ্যাত লালন শিল্পী মিজান শাহ ভুট্রু গাইলেন ‘ কারে দিবো দোষ, নাহি পরের দোষ ৷’

দর্শক যখন এলোপাথারী ঠিক সে মুহূর্তে শিশু শিল্পী টুনটুনি মঞ্চে এলো, মনের মাধুরী মিশিয়ে গাইলেন ‘বাড়ির পাশে অারশি নগর সেথায় এক পড়শী বসত করে ৷ ‘
বাউল খাইরুল গাইলেন ‘ চাতক বাঁচী কেমনে ও না জানি ভাব নদীর কেমনও বাধা ৷

 শুক্রবার বিকেলে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া ডিগ্রী কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে লালন স্মরণ উৎসব-২০১৮ ৷
বনপাড়া পৌর মেয়র কে এম জাকির এর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে  লালন উৎসবটি চলতে থাকে সারারাত অবধি ৷

বনপাড়া রুপরেখা লালন একাডেমীর সভাপতি সরদার সুলতান অাহমেদ এর সভাপতিত্বে উক্ত লালন উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নাটোর জেলা প্রকাশক শাহিনা খাতুন ৷

এছাড়াও প্রধান অালোচক হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী,
অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, লালন গবেষক মাসুম রানা, কাউন্সিলর শিরিন অাক্তার, নিওরেক্স ক্যাবল ইন্ডাস্ট্রিজ প্রতিনিধি অাব্দুল কাদের, সাংবাদিক সাইফুর রহমান, রেজাউল করিম মৃধা ও সাংবাদিক সাঈদ সিদ্দিক ৷

শ্রীদেবীর শেষ বিজ্ঞাপন ভাইরাল!

এটি সত্যিই একটি যুগের শেষ। এখনো অবিশ্বাস্য লাগছে শ্রীদেবী আর নেই। মাত্র কয়েকদিন আগে তাকে নাচতে দেখা গিয়েছিল ভাগ্নে মোহিত মারওয়ার বিয়ের অনুষ্ঠানে। তার মৃত্যুর খবর বিশ্বাস করাটাই অনেকের কাছে কষ্টকর ছিল।

কিন্তু সত্যিটা হল শ্রীদেবী সবাইকে ছেড়ে চলে গেছেন। তাকে শেষবার বড় পর্দায় দেখা যাবে শাহরুখ খানের ‘জিরো’ ছবিতে। এতে অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

মৃত্যুর পর শ্রীদেবীর করা শেষ বিজ্ঞাপনটি প্রচারিত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এরইমধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে সেটি। বাড়ির চিরচেনা লক্ষী মা শ্রীদেবীকে এখানে নাচতে, গাইতে দেখা গেছে।

‘প্রেম আমার-টু’তে নতুন জুটি পূজা-আদৃত

ওপার বাংলার সুপারহিট সিনেমা ‘প্রেম আমার’। রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ও সোহম চক্রবর্তী অভিনীত এ সিনেমাটি ২০০৯ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। মুক্তির নয় বছর পর নির্মিত হচ্ছে সিনেমাটির সিক্যুয়েল। তবে ‘প্রেম আমার-টু’ সিনেমায় থাকছেন না সোহম-পায়েল। এতে অভিনয় করবেন নতুন জুটি পূজা চেরি ও আদৃত।

যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হবে সিনেমাটি। এর প্রযোজনায় রয়েছে বাংলাদেশের জাজ মাল্টিমিডিয়া ও ভারতের রাজ চক্রবর্তী প্রোডাকশন। এটি নির্মাণ করছেন রাজ চক্রবর্তীর সহকারী বিদুলা ভট্টাচার্য্য।

ইরেশ যাকের-মিম রশিদ বিয়ে করলেন

বিনোদন ডেস্ক-রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানী গুলশানের স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন, বাংলাদেশের মঞ্চনাটক ও বিজ্ঞাপন শিল্পের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, মুক্তিযোদ্ধা আলী যাকের-সারা যাকের দম্পতির একমাত্র ছেলে অভিনেতা ইরেশ যাকের।

ইরেশ যাকেরের স্ত্রী মিম রশিদ, অভিনেত্রী ও কণ্ঠশিল্পী মিথিলার বোন। মিম রশিদ নিজেও মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত, তবে তিনি কাজ করেন ক্যামেরার পেছনে।

বর্তমানে তিনি নির্মাতা রেদওয়ান রনির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান পপকর্ণ এন্টারটেইনমেন্টে এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার হিসেবে কর্মরত আছেন।

ইরেশ-মিমের বিয়ের কথা পাকাপাকি করতে দুই পরিবার একত্রিত হয়েছিলেন গত জানুয়ারি মাসের ২৭ তারিখ। আংটি বদল শেষে, বিয়ের দিন হিসেবে আজকের দিনটিকে ধার্য করেন বর ও কনের পরিবার।

২ ফেব্রুয়ারি ইরেশের বনানীর বাড়িতে ‘গায়ে হলুদ ও মেহেদী’ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানটি খুবই গোপনীয়তা বজায় রেখে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ইরেশ যাকেরের এটি প্রথম বিয়ে হলেও, মিম রশিদ ২০১৪ সালে বিয়ে করেছিলেন নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরীকে। গত বছর তাহসান-মিথিলার বিবাহবিচ্ছেদের খবর প্রকাশিত হওয়ার কিছু দিন পর অমিতাভ-মিমের বিচ্ছেদের কথাও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

পরীমনি ফেসবুকে শীর্ষে

বিনোদন ডেস্ক-বর্তমানে রুপালি ভুবনের প্রিয় তারকার বিষয়ে জানার জন্য ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে রাখেন ভক্তরা। স্বাভাবিকভাবেই যার যত লাইক তার তত ভক্ত।

বাংলাদেশে শোবিজ তারকাদের মধ্যে চিত্রনায়িকা পরীমনির ফেসবুক পেজে লাইক এখন পর্যন্ত সবার চেয়ে বেশি।

বর্তমানে তার ফেসবুক পেজের লাইক সংখ্যা ৮৭ লাখ ছাড়িয়েছে। পরীমনির অফিসিয়াল পেজে যেকোনো ছবি আর স্ট্যাটাসে হাজার হাজার লাইক ও কমেন্টস দিচ্ছেন ভক্তরা।

চিত্রনায়িকা পরীমনি নজরকাড়া গ্ল্যামার আর মিষ্টি হাসির জাদুতে মন কেড়েছেন চলচ্চিত্রপ্রেমীদের। চলচ্চিত্রে পা রেখেই একটার পর একটা সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে আলোচিত হয়েছেন পরীমনি।

এছাড়া বিভিন্ন কর্মকান্ডের জন্য হয়েছেন বিভিন্ন সময় আলোচিত। পরী অভিনীত বেশ কিছু সিনেমা ইতিমধ্যেই মুক্তি পেয়েছে। সর্বশেষ ২০১৭ সালে পরীমনি অভিনীত পাঁচটি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।

সংগীতশিল্পী শাম্মী আক্তার আর নেই

দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শাম্মী আক্তার আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ মঙ্গলবার বিকেলে বাসা থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।

শাম্মী আক্তারের স্বামী সংগীতশিল্পী আকরামুল ইসলাম বলেন, শাম্মী আক্তার ৬ বছর ধরে ব্রেস্ট ক্যানসারে ভুগছিলেন।

আজ বাসায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু পথেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

শাম্মী আক্তারের গানে হাতে খড়ি বরিশালের ওস্তাদ গৌর এর কাছে। চলচ্চিত্রের গানে শাম্মী আখতারের যাত্রা শুরু আজিজুর রহমান পরিচালিত ‘অশিক্ষিত’ চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে।

এ চলচ্চিত্রে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা ‘আমি যেমন আছি তেমন রব বউ হবো না রে’ও ‘ঢাকা শহর আইসা আমার আশা পুরাইছে’ গান দুটি জনপ্রিয়তা পায়।

এছাড়া ‘চিঠি দিও প্রতিদিন’, ‘ঐ রাত ডাকে ঐ চাঁদ ডাকে’, —এ রকম আরো অসংখ্য জনপ্রিয় গানের শিল্পী শাম্মী আক্তার। ১৯৭০ সালের দিকে জীবনের প্রথম বেতারের গানে কণ্ঠ দেন তিনি। গানটি ছিল নজরুলের ‘এ কি অপরূপ রূপে মা তোমায়…।

উল্লেখ, দীর্ঘ সময় ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন গুণী এই সংগীতশিল্পী। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার চেক দিয়েছেন শাম্মী আক্তারকে।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই গায়িকার উন্নত চিকিৎসার জন্য কিছুদিন আগে বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহযোগিতার আবেদন করেছিল।

বিশেষ শ্রেণির মানুষের অনুভূতিতে আঘাতের দায়ে সালমান-শিল্পার বিরুদ্ধে সমন জারি

ভারত বলে কথা, ধর্ম কিংবা জাতিগত বিষয়ে অতিরক্ষণশীলতার বিষয়টি প্রায় দেখা যায় সেখানে। তার চাক্ষুষ প্রমাণ ‘পদ্মাবতী’ সিনেমা। এবার সালমান খান ও শিল্পা শেঠির বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে।

রাজস্থানের চুরু জেলার ডেপুটি এসপি হুকুম সিং এ সমন জারি করেছেন। চলচ্চিত্র বিশ্লেষক কমল মেহতাকেও এ বিষয়ে তলব করা হয়েছে। কেন এই সমন জারি!

গত ডিসেম্বরে ‘ভাঙ্গি’ শব্দ ব্যবহার করায় সালমান ও শিল্পার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে বাল্মীকি সম্প্রদায়। বর্ণ বৈষম্যমূলক মন্তব্য করে একটি বিশেষ শ্রেণির মানুষের অনুভূতিতে আঘাতের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ দায়ের করা হয়।

এ ছাড়া ভারতের তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় এবং দিল্লি ও মুম্বাই পুলিশ কমিশনারের কাছে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানায় ন্যাশনাল কমিশন ফর শিডিউলড কাস্টস (এনসিএসসি)। এ জন্যই এ সমন জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এক সাক্ষাৎকারে ‘ভাঙ্গি’ (নিচু সম্প্রদায়) শব্দটি ব্যবহার করেন শিল্পা। বাড়িতে তাকে কেমন দেখায় তার উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাকে ভাঙ্গির মতো দেখায়।’

এর পরই তার বিরুদ্ধে থানায় এ অভিযোগ করা হয়। অভিনেতা সালমান খানের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ ওঠে। টাইগার জিন্দা হ্যায় সিনেমার প্রচারণায় এক টিভি অনুষ্ঠানে ‘ভাঙ্গি’ শব্দটি ব্যবহার করেন সালমান। নিজের নাচের দক্ষতা বোঝাতে গিয়ে শব্দটি ব্যবহার করেন তিনি। পরে অবশ্য ক্ষমা চান শিল্পা শেঠি। বলিউড লাইফ। -সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

স্বপ্নপুরী স্বপ্নময় রাজ্য নবাবগঞ্জে

লেখক,এম এ মোমেন-বিনোদন ও পিকনিকের জন্য এক অসাধারণ ও অনির্বাচনীয় কেন্দ্র স্বপ্নপুরী। সেখানে এরকবার গেলে বার বার যেতে মন ছটফট করে।

দিনাজপুর জেলা সদর থেকে ৫২ কিলোমিটার এবং ফুলবাড়ি উপজেলা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার পূর্বে নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জ এলাকার প্রত্যন্ত পল্লী অঞ্চলের গহীন বনজঙ্গল ও মজা পুকুর সংস্কার করে প্রায় ১শ’ একর জমির উপর নির্মিত উত্তরবঙ্গের মনোরম ছিমছাম ভ্রমণ কেন্দ্র স্বপ্নপুরী।

নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, সাংস্কৃতিক ও প্রকৃতি প্রেমিক দেলোয়ার হোসেনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি পিকনিক কর্ণার গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে ১৯৮৯ সালে কাজ শুরু করেন। ১৯৯০ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে স্বপ্নপুরী।
এই বিনোদন কেন্দ্রে রয়েছে শিশু পার্ক, চিড়িয়াখানা যেখানে রয়েছে বাঘ, ভল্লুক, অজগর, মদন, শকুন, বানর, হরিণ, বাহারি কবুতর, পাঁচ পায়ের গরু প্রভৃতি প্রাণি।

কৃত্রিম চিড়িয়াখানা, ঝর্ণাধারা, মিউজিয়াম, নৌবিহার, সবুজ গাছের ছায়া বিশ্রামাগার, দেশি- বিদেশি হাজারো ফুলের বাগান, সারি সারি দেবদরু গাছ, মাটিতে নেমে আসা কৃত্রিম রংধনু, শতাধিক পিকনিক কর্ণার, মাটি ও দালানের তৈরি আকর্ষণীয় কটেজ বা রেষ্টহাউস।

এছাড়া ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আন্দোলন ও সংগ্রামের চিত্র আর্টিফিসিয়ালের মাধ্যমে নতুন প্রজম্মকে জানানোর জন্য দেয়ালে দেয়ালে বা দর্শণীয় স্থানে মোরাল চিত্র তৈরি করা হয়। এসব তদারকির জন্য সার্বক্ষণিকভাবে দিবারাত্রি আগত ভ্রমনকারী মেহমানদের নিরাপত্তাসহ সার্বিক কাজ করে যাচ্ছেন শ্রমিক ও কর্মচারিরা।
এই স্বপ্নপুরী পিকনিক কর্ণারটি ইতোমধ্যে উত্তরাঞ্চলের মানুষের পাশাপাশি সমগ্র দেশবাসীর কাছে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থ’ানে পরিণত হয়েছে। বছরের প্রতিটি দিনই শত শত মানুষ এখানে পরিবার- পরিজন নিয়ে আসে বিনোদনের জন্য।

তবে শীত মওসুম শুরুর সাথে সাথে পুরোদমে শুরু হয় পিকনিক পার্টির ভিড়। বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, কার- মোটর সাইকেল, বাইসাইকেল, রিকশা ভ্যান, টেম্পো এমনক পায়ে হেঁটেও বিনোদন প্রিয় মানুষ আসেন এখানে। স্বপ্নপুরীকে মানুষের কাছে স্বপ্নের মতো সাজানোর পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের দীর্ঘমেয়াদী।

ইতোমধ্যে ২০/২৫টি চলচ্চিত্র, নাটক ও মিউজিক ভিডিওর স্যুটিং হয়েছে এখানে। এছাড়া দেশ ও বিদেশের অনেক গুণী রাজনৈতিক, বুদ্ধিজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব স্বপ্নপুরী ঘুরে গেছেন।

এ পিকনিক স্পটে শীত মওসুমে প্রতিদিন ৫শ’ অধিক পিকনিক পার্টি আসে। শীত মওসুম ছাড়াও সারা বছর জুড়ে লোকজন এখানে বেড়াতে আসেন।

যাতায়াত ও প্রবেশ মূল্য-
রাজধানী ঢাকা থেকে দুরপাল্লার কোচে নবাবগঞ্জ ও ফুলবাড়ি উপজেলায় নেমে স্বপ্নপুরীতে যাওয়া যায়। এছাড়া আন্তঃনগর নীলসাগর, একতা, তিস্তা এক্সপ্রেসে পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশনে নেমে এখানে আসা যায়।

স্বপ্নপুরীর ভিতরে প্রবেশ করতে বাস-ট্রাক ১ হাজার ৫শ’ টাকা, মাইক্রোবাস ৫শ’ টাকা, কার-জীপ ২শ’ টাকা, পিকআপ- মিনিট্রাক ৮শ’ টাকা, চার্জার ইজিবাইক ৩শ’ টাকা,নছিমন ও শ্যালো চালিত গাড়ি ৮শ’ টাকা, টেম্পু ৩শ’ টাকা, রিকশা ভ্যান ১০ টাকা, মোটর সাইকেল শুধুমাত্র পার্কিং ২০ টাকা, বাইসাইকেল ১০ টাকা এবং জনপ্রতি ৫০ টাকা গুণতে হয়।

এ আয় থেকে পিকনিক কর্ণারে কর্মরত কর্মচারিদের বেতনভাতা মটিয়ে বাকি রণাবেন এবং সংস্কার কাজে ব্যয় করা হয়। এই প্রবেশমূল্য ছাড়াও দর্শনার্থীদের রাইডের জন্য আলাদা আলাদা টাকা গুণতে হয়।

স্বপ্নপুরীর বুকিং ও কটেজ ভাড়া-
পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের থাকার জন্য কর্তৃপক্ষ মনোরম ও আকর্ষণীয় কটেজ বা রেষ্টহাউস তৈরি করেছেন। নীলপরী, রজনীগন্ধা, নিশিপদ্ম, চাঁদনী, সন্ধ্যতারা ও রংধনু নামে এসব কটেজ ভাড়ায় রাত্রী যাপন করা যায়। ডাবল, সিঙ্গেল ও তিন রুমসহ এসব কটেজ বুকিং ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য ম্যানেজার’র যোগাযোগ করা যেতে পারে। স্বপ্নপুরী কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এখানে একটি অত্যাধুনিক হোটেল, চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট, মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে স্বতন্ত্র স্পট, পাখির রাজ্য, মাছের রাজ্য, রেলকার, রোপকার, মানবিক চৈতণ্যের ভাস্কর্য শিল্প ইত্যাদি নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে এিেগয়ে যাচ্ছে।

স্বপ্নপুরীর সফল বাস্তবায়নে যিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, তিনি হচ্ছেন প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থ’াপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন। নেপথ্যে রয়েছেন তারই সহোদর সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজার রহমান ফিজু। বর্তমানে প্রতিষ্ঠাতার ভাতিজা ও শিবলি সাদিক এমপিও সহযোগিতা করে চলেছেন।

স্বপ্নপুরীর বিল্ডিং ডিজাইন করেছেন দিনাজপুর হোম প্লানের ইঞ্জিনিয়ার দেবাশীষ। শিল্পীর তুলির আঁচড়ে স্বপ্নপুরীর সকল ছবি হয়েছে প্রাণবন্ত। এদের মধ্যে রয়েছেন জয়পুরহাটের আজাদ হোসেন (আজাদ), বগুড়ার শিল্পী সাহেবুর রহমান (ফটন) ও নূরন্নবী প্রমুখ।

শেষ কথা-
ভৌগলিক অবস্থানগতভাবে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে সোনালী সম্ভাবণাময় এবং বিগত বছরগুলোতে এ শিল্পের যথেষ্ট উন্নতি ও অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। স্বপ্নপুরী উত্তরবঙ্গ তথা সমগ্র বাংলাদেশে একটি আকর্ষণীয় পিকনিক বা ভ্রমণ স্পট হিসাবে খ্যাতি লাভ করেছে। স্বপ্নপুরীর প্রবেশদ্বারে দন্ডায়মান বিশাল আকৃতির দুটি পরীর প্রতিকৃতি। ওরা পর্যটকদের স্বাগত জানাতে সদা প্রস্তত।

ছায়া আচ্ছদিত স্থানে রয়েছে মুসল্লীদের নামাজের সুব্যবস্থা। রয়েছে স্বপ্নপুরীর মুক্তমঞ্চ। মঞ্চে ভাস্কর্য নৃত্যরত তরুণ-তরুণী সৃষ্টি করেছে স্বপ্নীল ও সাংস্কৃতিক আবহ। সময় যেন এখানে এসে থেমে দাঁড়ায়। হারিয়ে ফেলে চলার গতি। শিশু পার্ক, ঘোড়ার গাড়ি চড়ার আনন্দ, রবীন্দ্র- নজরুলসহ বিভিন্ন ভাস্কর্য, জীবন্ত চিড়িয়াখানা, সৌরজগত, নভোথিয়েটার, স্বপ্নপুরী মালিকের আলিশান বাংলো, বিভিন্ন প্রজাতির গাছ- গাছালি স্বপ্নপুরীতে সৃষ্টি করেছে নতুন মাত্রা।

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে স্বপ্নপুরীকে একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা যেতে পারে। এছাড়া এখানে অবস্থান করে ফুলবাড়ি কয়লাখনি, কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্প ঘুরে এ এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। তবে এসব প্রবেশে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি লাগবে।