মঙ্গলবার-১২ নভেম্বর ২০১৯- সময়: রাত ১১:৫৯
ঘোড়াঘাটে বানিজ্যিক ভাবে মাল্টা বাগান করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে নাটোরের প্রতিবন্ধি প্রবীণ দম্পত্তি ভাতা নয়, চায় মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নবাবগঞ্জে ইঁদুর কেটে ফেলছে কাঁচা আমন ধানের রোপা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা কমেছে সময় ও দুর্ঘটনা,ঝালকাঠিতে ১৪ কি.মি মহাসড়ক নির্মাণ, স্বস্তিতে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা রাজাপুরে ব্যক্তি উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রীজ নির্মান, বই ও বেঞ্চ প্রদান মুক্তিযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ প্রসঞ্জী রায়এর পাশে- এমপি গোপাল ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল হাসপাতালে লাইভ ওয়ার্কশপে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় রিং (স্টেন্ট) সফল প্রতিস্থাপন সম্পন্ন ধামইরহাটে তিন ভূয়া ডিবি পুলিশ আটক সম্মানি না পেয়ে চিকিৎসা দিতে এলেন হারবাল এ্যাসিস্টেন্ট!

চট্রগ্রাম newsdiarybd.com:

উপজাতি কর্তৃক ভয়াবহ বাঙ্গালী গণহত্যার এক কালো দিবস ভয়াল ২৯ এপ্রিল

 

মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান অলি, খাগড়াছড়ি থেকে-এক সময়ের পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি সন্ত্রাসী সংগঠন“শান্তিবাহিনী”কর্তৃক অসংখ্য বর্বরোচিত, নারকীয় ও পৈশাচিত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত বাঙ্গালীরা।

১৯৯৭ সালের ০২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) তথা শান্তিবাহিনীর সাথে শান্তি চুক্তি করে। পর্যায়ক্রমে এ অঞ্চলের চারটি স্বশস্ত্র গ্রুপ ইউপিডিএফ (প্রসিত), ইউপিডিএফ (গনতান্ত্রিক), জেএসএস (সন্তু) জেএসএস (সংস্কার) নামে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, চাঁদাবাজি, খুন-জখম-গুম, উচ্ছেদ, অপহরনের মত অপরাধ করে যাচ্ছে। কিন্তু কোন এক অলৌকিক কারণে বাঙ্গালীদের উপর উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের চালানো এসব নির্যাতনের চিত্র প্রচার মাধ্যমে তেমন স্থান পায়নি। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নির্যাতনকারী উপজাতিরা নিজেদের নৃশংসতার স্বরূপকে ঢেকে তিলকে তাল বানিয়ে দেশে-বিদেশে নিজেদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে যাচ্ছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে তারা অত্যাচারিত।

কতিপয় উপজাতি সাইবার এক্টিভিস্ট এবং তথাকথিত সুশীল সমাজ কর্তৃক অর্থের বিনিময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙ্গালীদের উপর সন্তু লারমার শান্তি বাহিনী দ্বারা সংগঠিত এসব গণহত্যার সম্পর্কে বিদেশী ও দেশের মানুষকে ভুল বোঝানো হয়। এতে করে সর্বমহলে ধারণা জন্মেছে যে, পার্বত্য অঞ্চলে আসলেই উপজাতীরাই নির্যাতনের শিকার। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামে বেশিরভাগ গণহত্যা শান্তিবাহিনী দ্বারা সংঘটিত হয়েছে। পরবর্তীতে চারটি স্বশস্ত্র গ্রুপ ইউপিডিএফ (প্রসিত), ইউপিডিএফ (গনতান্ত্রিক), জেএসএস (সন্তু),জেএসএস (সংস্কার) নামে সন্ত্রাসীরাই ঘটাচ্ছে। কিন্তু এই তথ্য এখন বিচ্ছিন্নতাবাদী আঞ্চলিক উপজাতীয় দালালদের কর্তৃক লুকানো হচ্ছে।

এই বিচ্ছিন্নবাদীরা দেশে-বিদেশে সর্বত্র পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয়দের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করে। স্বাভাবিকভাবে মানুষ সংখ্যালঘুদের কথা করে এবং ভাবে যে সংখ্যালঘুদের বাঙ্গালীরা নির্যাতন করছে। কিন্তু বাস্তবতা হল, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি ক্ষেত্রে এখানকার বাঙ্গালীরাই উপজাতি সন্ত্রাসীদের দ্বারা নির্যাতিত এবং অত্যাচারিত।

১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর শান্তিচুক্তি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) তথা শান্তিবাহিনীর সদস্যদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষনা করা হলেও আজও পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি আসেনি, বন্ধ হয়নি হত্যাকান্ড। কাগজ-কলমে শান্তিবাহিনী না থাকলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সংগঠন গুলোর দৌরাত্ম কমেনি, বরং তাদের হাতে বাঙ্গালিরা যেমন হত্যার শিকার হচ্ছে, তেমনি নিহত হচ্ছে উপজাতি জন গোষ্ঠির সাধারণ মানুষজন।

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির অন্বেষায় সরকার শান্তিচুক্তি করলেও সন্তু লারমার শান্তিবাহিনীর বিকল্প জেএসএস (সন্তু), জেএসএস (সংস্কার), ইউপিডিএফ (প্রসীত) এবং ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নামক চারটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠিত হয়েছে। এই চার সংগঠন এখন পাহাড়ের সকল জনগোষ্ঠীকে কোণঠাসা করে রেখেছে। তারা পাহাড়ের সাধারণ মানুষের কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক। কখন কার উপর তারা যমদূতের মতো আবির্ভূত হয় তা নিয়ে শঙ্কিত থাকে পাহাড়ের মানুষ।

শান্তিচুক্তির পূর্বে পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতীয় স্বশস্ত্র সংগঠন শান্তিবাহিনী কর্তৃক অসংখ্য গণহত্যা চালানো হয়। তাদের এইসব গণহত্যার শিকার পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙ্গালি ও উপজাতি জনগোষ্ঠীর মানুষগুলো। এমনকি শান্তিবাহিনীর বর্বর হত্যাকান্ড থেকে রেহায় পায়নি পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও।

বিভিন্ন স্থানে সংঘঠিত অসংখ্য হত্যাকান্ডের মধ্যে অন্যতম হল ১৯৮৬ সালের ২৯ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ৯টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত একযোগে বাঙ্গালীদের বসতভিটায় চালানো হয় পানছড়ি গণহত্যা, দিঘীনালা গণহত্যা ও মাটিরাঙ্গা গণহত্যা।

এদিকে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার লোগাং বাজার,শান্তি নগর, ফাতেমানগর,চেঙ্গীর চিকনছড়া,পানছড়ি ছনটিলা,কালানাল, উল্টাছড়ির বাঙ্গালি গ্রামে, দিঘীনালা উপজেলার মেরুং, বোয়ালখালী, কবাখালী, দিঘীনালা, বাবুছড়ার প্রত্যেকটি বাঙ্গালি গ্রামে এবং মাটিরাঙ্গা উপজেলার তাইন্দং, তবলছড়ি, বর্ণাল, বেলছড়ি, আমতলি, গোমতি, মাটিরাঙ্গা, গুইমারার প্রত্যেকটি বাঙ্গালি গ্রামে অগ্নিসংযোগ সহ লুটতরাজ, হত্যা, বাঙ্গালি নারীদের গণধর্ষণ ও পরে হত্যা করে নারকীয়তা সৃষ্টি করেছিলো সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) এর সশস্ত্র সন্ত্রাসী শান্তিবাহিনী।

২৯ এপ্রিল ১৯৮৬ সালে তিন সন্তান হারানো গুলিবিদ্ধ মা ছালেহা বেগম ও স্ত্রী-সন্তান হারানো আরেক পিতা ইসমাইল মৃধা বলেন, ৩২ বছর পাড় হলেও আজও বিচার হয়নি সেদিনের খুনিদের। সেদিন মাত্র কয়েক ঘন্টা সময়ের মধ্যে পানছড়ি এলাকায় ৮৫০ জন ,দিঘীনালা এলাকায় ৮৯৮ জন এবং মাটিরা্গংায় ৬৮৯ জন নিরস্ত্র নিরীহ বাঙ্গালী নারী শিশু,আবাল-বৃদ্ধ বনিতাকে হাত পা বেধে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে,দা দিয়ে কুপিয়ে ,আগুনে পুড়িয়ে, নানা কষ্ট দিয়ে অসহায় বাঙ্গালী জনগনকে হত্যা করা হয়েছে।

প্রতিটি লাশকেই বিকৃত করে সেদিন চরম অমানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল খুনি সন্তু বাহিনী। সেদিনের ঘটনায় পানছড়ি এলাকায় পাঁচ শতাধিক বাঙ্গালী আহত হয়।  বাড়ীতে লুটতরাজ করে আগুনে পূড়ে দেওয়া হয়।

দিঘনিানালায় ১২ শতের অধিক আহত হয়। ৭৩০৪ পরিবারে আগুন মাটিরাঙ্গায় আট শেেতর অধিক আহত, ৯০৪৮ পবিবারের ঘড় বাড়ী আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

প্রতিটি এলাকাতেই অপহরণ ও গুমের শিকার হয় কয়েক হাজার বাঙ্গালী। সেদিন কিছু সংখ্যক বাঙ্গালী প্রানে বেঁচে গেলেও গৃহহীন হয়ে পরে। ঘটনার স্বাক্ষী আজো কিছু বেঁেচে আছে । কিন্তু বিভৎসতার কথা পনে পরলে আজ চোখে মুখে আতঙ্ক ফুটে উঠে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের এই গণহত্যা ও বাঙ্গালী নিধনের কথা আজ ইতিহাসের কোন বই ছাপা না হলেও ঢাকা পড়ে আছে সুবিধাভোগীদের কাছে।

পানছড়িতে লাশ উদ্ধার-১ গুলিবিদ্ধ-১

মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান অলি, খাগড়াছড়ি থেকে-খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় ২১ এপ্রিল রাতে নদী থেকে লাশ ও ২২/১৮ এপ্রিল সকালে মরাটিলায় একজন গুলিবিদ্ধ হয়।

সরজমিনে জানা যায়, শিবু সাওতাল সিলেট থেকে ১৫ বছর পূর্বে লোগাং তারাবন ছড়া এলাকা আসে । তার আত্মীয় স্বজন স্ত্রী পুত্র কেউ না থাকায়, সেখানে সে অন্যের গরু চড়িযে ও দিনমজুর দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো।

গত ২১ মার্চ  বিকালে তার লাশ চেংগী নদীতে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ রাত পৌণে দশটায় লাশ উদ্ধার করে। ২২ এপ্রিল লাশ পোস্ট মর্টেমের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপালে পাঠিয়েছে। পানছড়ি থানা ইনচার্জ জানান, এ বিষয়ে এলাকার কেউ বাদী হয়নি।

অপর দিকে ২২ এপ্রিল রবিবার সকাল পৌণে ১১ টার দিকে উল্টাছড়ি ইউনিয়নের মরাটিলা এলাকায় একজন গুলিবিদ্ধ হয়। মরাটিলা এলাকার বাদশা কুমার কার্বারীর জামাই নির্মল চাকমা জানায়,ইউপিডিএফ (প্রসিত) ইউপিডিএফ (গনতন্ত্র)-এর অভ্যন্তরীরণ কোন্দলের সময় পদ্মিনী পাড়ার ইউপিডিএফ যুব ফোরাম কর্মী অনন্ত ত্রিপুরা (২৯), পিতা -সত্য রঞ্জন ত্রিপুরা উরুতে গুলিবিদ্ধ হয়।

তাকে পানছড়ি সরকারী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে কাঠান ত্রিপুরা নামে অপর একজন গুলিবিদ্ধ হলেও তাকে পাওয়া যায় নি। পানছড়ি থানা ইনচার্জ মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

পাহাড়ে ‘ বৈ-সা-বি-ন ’ উপলক্ষে তিনদিন ব্যাপী আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে

মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান অলি-

মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা ,

অগ্নি-স্নাণে শুচি হোক ধরা।

পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি বাঙ্গালী-পাহাড়ী ঘরে ঘরে চলছে পুরাতন বছরকে বিদায় নতুন বছর ১৪২৫ বঙ্গাব্দ বরণ করার উৎসব বৈসাবিন-এর প্রস্তুতি।

সকল সম্প্রদায়ের ধনী-গরীব সবাই মিলে বৈসাবিন-এর তিনদিন আনন্দে মেতে উঠে।

পার্বত্যঞ্চলে সব চেয়ে বৈচিত্রপূর্ণ পার্বত্য অঞ্চলে যুগ যুগ ধরে নানা ধর্ম-বর্ণ আর সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষায় ত্রিপুরাদের বৈসুক, মার্মাদের সাংগ্রাই, তঞ্চঙ্গা-চাকমা সম্প্রদায়ের বিঝু ও বাঙ্গালীর বাঙ্গালীয়ানায় নববর্ষ অভিহিত করে থাকে। তবে সব সম্প্রদায়ের উৎসব উদযাপনের রীতি প্রায় একই।

চৈত্র মাস আসতে না আসতেই বাঙ্গালী ব্যবসায়ীরা বাংলা নববর্ষ উৎসব পালনের জন্য হালখাতা (সারা বছরের বকেয়া) হিসাব নতুন ভাবে সাজাতে এবং উপজাতি সম্প্রদায়ের বৈসাবি-র আগাম বার্তা নিয়ে হাজির হয় “বিঝু পাখি”। সেই বিঝু পাখিটি পার্বত্য অঞ্চলের সবুজ পাহাড়ে গাছ-গাছারিতে বসে মধুর সুরে ডাকে। উপজাতীয়রা একে বিঝু পাখি বলেই ডাকে।

এ পাখির ডাক শুনলেই উপজাতি সম্প্রদায় বৈসাবীর প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বাংলা বছর শেষের দু’দিন আর বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিনকে নিয়ে পাহাড়ীরা এ উৎসব পালন করে থাকে।

” বৈসাবিন” উৎসবকে পার্বত্য অঞ্চলের সবচেযে বড় উৎসব বলা যায়। বিভিন্ন পর্যটক এ উৎসবকে বাস্তবে উপভোগ করার জন্য খাগড়াছড়ি,রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের গ্রাম-গঞ্জে ছুটে আসে। তাই এ উৎসবকে ঐক্য. সাম্য আর সংহতির উৎসব বলা যায়।

যেভাবে বৈসাবিন-এর উৎপত্তি -পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত বাঙ্গালী-পাহাড়ীদের বর্ষবরণ ও বিদায এ উৎসবটি এখন পার্বত্য অঞ্চলে আর সমতলে “বৈ-সা-বি” নামে পরিচিত। ত্রিপুরাদের ” বৈসুক”, মার্মাদের সাংগ্রাই, তঞ্চঙ্গা ও চাকমাদের ” বিঝ”ু নামের প্রথম আদ্যাক্ষরে নিয়ে হয়েছে “বৈ-সা-বি”।

১৪২৪ বঙ্গাব্দে পার্বত্য অঞ্চলের একদল তরুন শিক্ষক-সংবাদকর্মী বাঙ্গালীর ঐতিহ্য বাংলা নববর্ষ থেকে ” ন” যুক্ত করে ” বৈসাবিন ” নামকরণ করে।

ঐতিহ্য ও বৈচিত্রময় আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত তিনদিন ব্যাপী ‘বৈ-সা-বি-ন’ উৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পার্বত্যবাসী।

জেলার প্রতিটি গ্রামের মাঠে প্রান্তরে ও উপজাতীদের মন্দির মাঠে এ উৎসব হবে। এ লক্ষে ঐতিহাসিক মাচাং ঘর তোলাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতির কাজ চলছে।

মেলায় আদিবাসীদের চাকমা সম্প্রদায়ের গেংকুলি (পালাগান) গীত, মার্মা সম্প্রদায়ের পানি খেলা, বলি খেলাসহ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন করা হয়েছে।

আগামী ১২ এপ্রিল সকালে উপজাতীয় সম্প্রদায়ের সকলেই ফুল বিঝু উপলক্ষে প্রভাতে নদী-ছড়ায় ঐতিহ্য রক্ষায় ফুল ভাসাবে এবং বিভিন্ন খেলা-ধুলা শুরু হবে।

১৩ এপ্রিল মূল বৈসাবি উপলক্ষে সকালে ‘বৈ-সা-বি-ন’ এর শোভাযাত্রা হবে। ১৪ এপ্রিল উপজাতীয়দের গজ্জেপোজ্জে বিজু ও বাঙ্গালীর ঐতিহ্যবাহী পান্তা ইলিশের সাথে শোভাযাত্রা। এছাড়াও বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্টান হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মং সার্কেল চীফ মং প্রু সেইন সম্মাননা ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান অলি, খাগড়াছড়ি থেকে-খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আয়োজনে মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মং সার্কেল চীফ মং প্রু সেইন সম্মাননা-শিক্ষাবৃত্তি প্রবর্তন, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের জন্য ৪০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শনিবার খাগড়াছড়ি টাউন হলে বৃত্তি প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেন, বীর মুক্তি যোদ্ধা মং সার্কেল চীফ মং প্রু সেইন ১৯৭১ সালে নিজেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের সম্পদ-অস্ত্র ও নিজেকেই বিলিয়ে দিয়েছেন।

তিনি মং সার্কেলে বসবাসকারী সকল ধর্মের লোকদের জন্য গ্রহন যোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি মুসলমানদের মসজিদ-মাদ্রাসা, হিন্দুদের মন্দির, বৌদ্ধদের কেয়াং ঘর নির্মানে অকাতরে সাহায্য করতেন। রাজা মং প্রু সেইন একাধারে একজন দক্ষ শাসক এবং কর্মঠ ব্যক্তি ছিলেন।

রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল আব্দুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যেশ্য করে বলেন, তোমরা শিক্ষার জন্য শিখ। তোমার আলোয় বিকশিত হোক তোমার পৃথিবী। তোমরা সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সম্প্রীতির খাগড়াছড়ি গড়ে তোল।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, জেলা প্রশাসক রাশেদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আলী আহাম্মেদ খান, রাজপুত্র সাচিং প্রু চৌধুরী, পৌর মেয়র রফিকুল আলম, খাগড়াছড়ি ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেেেজর অধ্যক্ষ লেঃ কর্ণেল আব্দুল্লাহ আল সাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ দোস্ত মোহাম্মদ চৌধূরী, রাজ জামাতা রাজিব রায় প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক কর্মকর্তাগন, বীর মুক্তি যোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্ধ, কৃতি ছাত্র-ছাত্রী-অভিভাবক, সুশীল সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন।

পানছড়িতে দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ উপলক্ষে মানববন্ধন, র‌্যালি ও আলোচনা সভা

মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান অলি ,খাগড়াছড়ি থেকে-“বন্ধ হলে দুর্নীতি -উন্নয়নে আসবে গতি” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে যথাযোগ্য মর্যাদায় পানছড়িতে ২৮ মার্চ দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ পালিত হয়েছে।

২৮মার্চ বুধবার পানছড়ি উপজেলা পরিষদ,উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির ও সততা সংঘের আয়োজনে মানব বন্ধন, র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এই দূর্নীতি বিরোধী বিভিন্ন ধরনের ফেস্টুন নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচীতে উপজেলা চেয়ারম্যান সর্বোত্তম চাকমা,উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যগন, পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা,পানছড়ি মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়,পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও পূজগাং মূখ উচ্চ বিদ্যালয়ের সততা সংঘের সদস্য ও সাংবাদিকগণ সুশীল সমাজ অংশ গ্রহন করেন।

উপজেলা পরিষদ মাঠে সততা সংঘের সদস্যগন “বন্ধ হলে দুর্নীতি – উন্নয়নে আসবে গতি” এর আলোকে শপথ পাঠ করে। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন , পানছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সর্বোত্তম চাকমা, পানছড়ি উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বকুল চন্দ্র চাকমা,সাধারণ সম্পাদক ডাঃ ছৈয়দ আহাম্মদ প্রমূখ।

খাগড়াছড়িতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত

মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান অলি, খাগড়াছড়ি থেকে-খাগড়াছড়িতে প্রত্যুষে ৩১ বার তোপ ধ্বনির মধ্য দিয়ে ৪৭ তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সূচনা হয়।

বর্ণাঢ্য আয়োজনে শহিদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন- টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী ও কর্মকর্তাগন, জেলা প্রশাসক মোঃ রাশেদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আলী আহাম্মেদ খান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, জেলা আওয়ামিলীগ ও অংগ সংগঠন, জেলা বিএনপি ও অংগ সংগঠন, পৌর মেয়র রকিকুল আলম ও পৌর কর্মকর্তাগন, প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন, জাতীয় পার্টি, উজ্জীবক ফোরাম, রেড ক্রিসেন্ট ও যুব রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী ও সামাজিক সংগঠন সমূহ।

সকাল ৮ঘটিকায় জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের জাতীয় সংগীতের সুরে সুরে একই সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পুলিশ -আনসার বাহিনী ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের কুচ-কাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে কুঁচ-কাওয়াজে সালাম গ্রহন করেন, জেলা প্রশাসক মোঃ রাশেদুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার আলী আহাম্মেদ খান। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসটি নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে।

পানছড়িতে বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যান সংসদের মতবিনিময় ও কৃতি ছাত্র সংবর্ধধনা

মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান অলি, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি-জেলার পানছড়িতে বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যান সংসদের আয়োজনে শুক্রবার ২৩ মার্চ  ত্রিপুরা জন গোষ্টির উন্নয়নের লক্ষে এক মত বিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সুর্য কিরণ ত্রিপুরার সঞ্চালনায় মুনিন্দ্র লাল ত্রিপুরার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যান সংসদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি নলেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।

মতবিনিয়য় সভায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ত্রিপুরা জনগোষ্টী পাহাড়ের গহিনে বসবাস করায় শিক্ষা-চিকিৎসা সেবা হতে বঞ্চিত। এখন প্রতিটি এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে।

আমাদের ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের উচিত, নিজেদের সন্তানদের সুশিক্ষিত করে গনসচেনতা সৃস্টি করা। অন্নান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দয়া মনি ত্রিপুরা, সুবিন্দ্র লাল ত্রিপুরা, বরেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, ভূমিধর রোয়াজা, রবিন্দ্র লাল ত্রিপুরা, নজয় কান্তি ত্রিপুরা, নিরঞ্জন ত্রিপুরা, অমর বিকাশ ত্রিপুরা, বিপ্লব ত্রিপুরা প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণীতে ভাল ফলাফল করায় কৃতি শিক্ষার্থী অবনি ত্রিপুরাকে মেধা উপহার দেওয়া হয়।

অবরোধে খাগড়াছড়ি-মানিকছড়ি-লক্ষীছড়িতে গাড়ী ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ পর্যটকসহ আহত ৫ গুলিবিদ্ধ ১

 

মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান অলি, খাগড়াছড়ি থেকে-ট্রাক,জীপ,প্রাইভেট কার ভাংচুর-অগ্নি সংযোগ, চালক ও যাত্রীকে মারধোর সহ রাস্তায় টায়ার জ¦ালিয়ে, গাছ ফেলে পিকেটিংয়ের মধ্যে আঞ্চলিক উপজাতীয় সংগঠন ইউপিডিএফ সমর্থিত তিন উপজাতীয় সংগঠনের ডাকে খাগড়াছড়িতে সকাল সন্ধ্যা সড়ক অবরোধে আহত ৫ গুলিবিদ্ধ ১।

প্রতিপক্ষ উপজাতীয় সংগঠন কর্তৃক অপহৃত হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদিকা মন্টি চাকমা ও রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাধারন সম্পাদিকা দয়া সোনা চাকমার মুক্তির দাবিতে খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটিতে ইউপিডিএফ সমর্থিত তিন উপজাতীয় সংগঠনের ডাকে সকাল সন্ধ্যা সড়ক অবরোধের কারণে,সকালে পুলিশ প্রহরায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নৈশ কোচগুলো শহরে প্রবেশ করে।

পরবর্তী সময়েই উপজাতীয় পিকেটিংকারীরা খাগড়াছড়ি সদরের পেরাছড়া নামক স্থানে পর্যটনে ভ্রমনে আসা মেরিন সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার আবুল হাসানাত মোঃ মাসুদ তাঁর স্ত্রী ও চালককে মারধোর করে প্রাইভেট কারে অগ্নি সংযোগ করে।

বর্তমানে তিনি এমডিএসএ চিকিৎসাধীন আছেন। সকাল পৌনে ছয়টার দিকে মানিকছড়ির জামতলা (পিচলা তলা) এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে আসা বিআরটিসি-র চট্টমেট্টো-ট -১১-১৩৫২ ট্রাক উপজাতি সন্ত্রাসীরা ভাংচুর করে চালককে মারধোর করলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মানিকছড়ি হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আহত চালক মোঃ আবুল কাশেম (৪৫)জানায়, গাড়ী নিয়ে খাগড়াছড়ির উদ্্েযশ্যে রওনা হলে জামতলায় উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা ইট পাথর মারতে থাকে।

এসময় গাড়ী দাড় করালে পিকেটিংকারী সন্ত্রাসীরা গাড়ী ভাংচুর সহ আমাকে মারধোর করে আহত করে।

মানিকছড়ি থানা ইনচার্জ মোঃ আব্দুর রশিদ জানান, ট্রাকটি চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়িতে সরকারী খাদ্যশষ্য-চাউল নিয়ে যাওয়ার পথে উপজাতি সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন।

অপরদিকে লক্ষীছড়ি উপজেলার মংহ্লাপাড়া এলাকায় অবরোধকারীরা টায়ার জ¦ালিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেট তৈরী করে একটি জীপ ভাংচুর করে।

রামগড় উপজেলার পাতাছড়া এলাকায় দুপুরে ইউপিডিএফ এলাকা আতংকিত করার জন্য রাস্তার দিকে এলোপাথারী গুলি ছোড়ে। এতে রামগড় উপজেলার নাকাপা মধুপুরের বাসিন্দা মমিনুল হকের ছেলে স্কুল ছাত্র শরীফুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

১৮ মার্চ, রবিবার রাঙ্গামাটি সদরের কুদুকছড়ি থেকে দুই নারী নেত্রী হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রিয় সাধারন সম্পাদিকা মন্টি চাকমা ও রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাধারন সম্পাদিকা দয়া সোনা চাকমাকে উপজাতীয় প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী সংগঠন অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে।

অপহরণ কালে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের রাঙ্গামাটি জেলা আহবায়ক ধর্মশিং চাকমাকে পায়ে গুলিবিদ্ধ করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রসীত খীসা নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ সমর্থিত তিন সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ যৌথ ভাবে অবরোধ ঘোষনা করে।

ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপ অপহরনের ঘটনার জন্য ইউপিডিএফ (গনতান্ত্রিক) নেতৃত্বকে দায়ী করলেও ইউপিডিএফ -গনতান্ত্রিকের আহবায়ক তপন জ্যোতি চাকমা বর্মা ও সদস্য সচিব জলেয়া চাকমা তরু এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রসীত গ্রুপের অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারনেই এ ঘটনা ঘটেছে।

খাগড়াছড়ি জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূর পাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বর্তমানে টহল দিচ্ছে।

খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলায় সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ

মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান অলি, খাগড়াছড়ি থেকে-রাঙ্গামাটি জেলার কুদুকছড়িতে অগ্নি সংযোগ, যুব নেতাকে গুলির প্রতিবাদে ও এইচ ডব্লিউএফ -এর অপহৃত দুই নেত্রীকে উদ্ধারের দাবীতে ২১ মার্চ বুধবার খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলায় সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে ইউপিডিএফ সর্মথিত ছাত্র সংগঠন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ।

মঙ্গলবার বিকাল তিনটায় খাগড়াছড়ি স্বনির্ভর এলাকা থেকে ইউপিডিএফ সমর্থিত পিসিপি, এইচডব্লিউ এফ-এর এক প্রতিবাদ মিছিল বের করে চেঙ্গী স্কোয়ার হয়ে মিছিলটি পুনরায় স্বনির্ভর বাজারে ইউপিডিএফ কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের মাঝে শেষ হয়।

খাগড়াছড়ি জেলা পিসিপির সাধারণ সম্পাদক অমল ত্রিপুরার নেতৃত্বে সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সেনাবাহিনীর পৃষ্টপোষকতায় উপজাতীয় সন্ত্রাসী কর্তৃক কুদুকছড়িতে অগ্নি সংযোগ ও যুব নেতাকে গুলির করা হয়েছে এবং এইচডব্লিউএফ -এর দুই নেত্রী মন্টি চাকমা ও দয়া সোনা চাকমাকে অপহরণ করা হয়েছে।

তারই প্রতিবাদে ও অপহৃত দুই নেত্রীকে উদ্ধারের দাবীতে আগামী ২১ মার্চ /১৮ খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলায় সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ থাকবে।

পানছড়িতে ভ্রাম্যমান আদালতে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায়, বালু উত্তোলন মেশিন জব্দ

মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান অলি, খাগড়াছড়ি থেকে-জেলার পানছড়ির জোতিন্দ্র কার্বারী পাড়া (তালতলা) এলাকা থেকে ১৮ মার্চ রবিবার দুপুরে অবৈধভাবে ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের সময় মেশিনসহ ২ জন আটক করে ভ্রামমান আদালত।

সরজমিনে এলাকাবাসীদের পক্ষে মনিন্দ্র চাকমা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে লংগদু-পানছড়ি ডিসি আর আই ডি পি সি এইচ টি -২ প্রকল্পের রাস্তায় কাজের জন্য লতিবান ছড়া থেকে মাটি-বালু উত্তোলন করে আসছিল।

এতে ছড়ার পাড় ভেংগে পরে। গত কয়েকদিন সাংবাদিকরা এলাকায় মাটি বালু উত্তোলনের ছবি নিয়ে যায়। রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজে এসে আটক করেন।

পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবুল হাসেম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবৈধ ভাবে লতিবান ছড়া থেকে মাটি-বালু উত্তোলনের সংবাদ পেয়ে, ভ্রাম্যমান আদালতে বালু উত্তোলনের মেশিন সহ দুইজনকে আটক করি। প্রত্যেকে ৩০ হাজার টাকা করে দু’জনে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। মেশিন থানায় জব্দ করা আছে।