শুক্রবার-৩ জুলাই ২০২০- সময়: রাত ১২:৫১
বিরামপুরে পৌর মেয়র সহ ৭ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে বিরামপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী পালিত বিরামপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আটক বিরামপুরে লাখো কণ্ঠে ৭ মার্চের ভাষন পাঠ গুরুদাসপুরে এক বৃদ্ধা খুন বিরামপুরে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত কাটলা হলি চাইল্ড স্কুল বিরামপুরে মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান দিদউফ বিরামপু‌রে দুস্থ শীতার্ত‌দের মা‌ঝে শীতবস্ত্র বিতরন বিরামপুরে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণ গণনার সূচনা বিরামপুরে ১২ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস খাওয়ানো হয়েছে

বাস-ট্রেন newsdiarybd.com:

চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ীর রেল যোগাযোগের কাজ দ্রুত এগিয়ে

তোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু,ডোমার- বাংলাদেশের চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ীর মধ্যে রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

দীর্ঘ ৫৫ বছর এই রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকার পর এই রেলপথ দুই দেশের সরকারের মতানৈক্যের ভিত্তিতে আবার চালু হতে যাচ্ছে এই রেল যোগাযোগ।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের আগে বৃটিশ আমলে এই রেলপথ দিয়ে সরাসরি ভারত থেকে বাংলাদেশ হয়ে পশ্চিম বাংলার কলকাতা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করত।

ভারত পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পরও ট্র্যানজিট পয়েন্ট চিলাহাটিকে ব্যাবহার করে রেল যোগাযোগ ব্যাবস্থা অব্যাহত ছিল। উপরন্ত বাংলাদেশের চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদিবাড়ী পর্যন্ত একটি পাসর্পোট ট্রেন ১৯৫৩ সাল থেকে চলাচল শুরু করে।

১৯৬৫ সালে পাক ভারত যুদ্ধের সময় এই রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও আজ অব্দি কোন সরকার এই রেলপথ চালুর ব্যাবস্থা গ্রহন করে নাই।

বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় এসে রেলের অভাবনীয় উন্নয়নকল্পের সঙ্গে ছিট মহল চুক্তির পর পরে ভারতের সঙ্গে বন্ধ হওয়া বিভিন্ন রেলপথ চালুর প্রক্রিয়া শুরু করে, তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দুই দেশের সরকার ২০১৫ সালে চুক্তি মোতাবেক চিলাহাটি ও হলদিবাড়ীর মধ্যে ১০.০০০ কিলোমিটার রেলপথ যোগাযোগের পুনঃস্থাপনের কাজ শুরু করে।

বাংলাদেশের অংশে ৬.৭২৪ কিলোমিটার রেলের কাজ গত ২২ শে সেপ্টেম্বর রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ও ভারতীয় রাষ্ট্রদূত রীভা গাঙ্গুলির উপস্থিতিতে এই কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

ভারতীয় অংশে সীমান্তের জিরো লাইন পর্যন্ত ৩.২৭৬ কিলোমিটার রেলপথ যোগাযোগের কাজ ইতি মধ্যেই সম্পুর্ণ করেছে।এই রেলপথ নিমার্ণে ৮৪ কোটি টাকা ব্যায়ে ঠিকাধারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্র্যাক্সার কাজ করে চলছে। ইতি মধ্যে ৪০ ভাগ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে বলে জানান ম্যাক্স কোঃ চিলাহাটি দায়িত্বরত ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার সিহাব।

চিলাহাটি স্টেশন মাষ্টার মবিন উদ্দিন জানান যে,কাজ খুব সুন্দর ভাবে চলছে আশা করছি আগামী জুনে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেলযোগাযোগ শুরু হবে।

এই কাজের মধ্যে চিলাহাটি স্টেশনের আশেপাশে পুকুর ও খাল খন্দে প্রায় ৬ একর জমিতে মাটি ভরাটের কাজ, লুপ লাইন ২.৩৬ কিলোমিটার স্থাপন, ৭টি ব্রিজ নির্মাণ, ২টি লেভেল ক্রসিং ,এপ্রোচ রোড ১১০০ মিটার ও ১টি দ্বিতল ভবন রেষ্ট হাউজ, ইমিগ্রেশন ও কাষ্টমস হাউজ, এ্যাটেন্টডেন্ট ব্যারাক, নির্মাণ মেশিন রুম, টিএক্সার অফিসসহ অন্যানা স্থাপনা নির্মাণ করা হবে বলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়।

আগামী ২০২০ সালে জুন মাসে এ কাজ সমাপ্ত হবে বলে জানা গেছে, এবং দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্স মাধ্যমে রেল যোগাযোগ উদ্বোধন করবে বলে রেল সূত্রে জানা গেছে।

চিলাহাটি রেলওয়ে ষ্টেশনে যাত্রীদের দূরবস্থার শেষ নেই

তোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু, ডোমার প্রতিনিধি- নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার সীমান্তে অবস্থিত রেলওয়ে ষ্টেশন চিলাহাটিতে যাত্রীদের আজ দূরবস্থার শেষ নেই। এই রেলওয়ে ষ্টেশনে যাত্রীদের সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশী।

এক সময়ে এই চিলাহাটি ষ্টেশন জমজমাট থাকার পর পাক-ভারতের যুদ্ধের পর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় নাজেহাল অবস্থা হয়ে পড়ে। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অত্র অঞ্চলে মানুষের চলাচলের সবিধার জন্য গত ১৩/১৪ অর্থ বছরে ১৬০ কোটী টাকা ব্যায়ে পার্বর্তীপুর চিলাহাটি ৫৮ কি.মি রেলপথ সংষ্কার করা হয় যাহা ২০১৫ সালে শেষ হয়।

এর পর প্রথমে চিলাহাটি- ঢাকা আন্তনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলাচল শুরু করে। পরবর্তীতে রুপসা ও বরন্দ্রো এক্সপ্রেস সহ মোট ৬ টি ট্রেন চলাচল করে।

বর্তমানে চিলাহাটি রেলষ্টেশনে প্রতিদিন প্রায় কয়েক হাজার যাত্রী যাওয়া আসা করে। সেই অনুপাতে যাত্রী সাধারন সুবিধার চেয়ে অসুবিধা ভোগ করেন বেশী।

প্রথম শ্রেনীর যাত্রীদের ওয়েটিং রুম আছে কিন্তু তা ব্যবহার যোগ্য নয়। পানির ব্যবস্থা নেই, ওয়েটিং রুমে এখন কাথা কম্বল রাখার জায়গা হয়েছে।

যাত্রীদের সবচেয়ে বিপদ জনক ও অসুবিধাটি হল রুপসা/সীমান্ত ট্রেনে যাত্রীদের ওঠা নামা করা। ট্রেন দুইটি প্রতিদিন ২ নম্বর লাইনে এসে ওখান থেকেই ছেড়ে চলে যায়।

যাত্রীদের প্লাটফরম থেকে ৪ ফিট নিচে নেমে ১০ ফিট পেরিয়ে ৬ ফিট উচুতে ট্রেনে উঠতে হয়। যাহা বৃদ্ধা, নারী , শিশু, রোগী এমনকি সুস্থ সবল যাত্রীদেরও ট্রেনে ওঠা নামা বিপদ জনক হয়ে দাড়ায় । যে কোন মুহুত্বে একজন যাত্রী উঠা বা নামার সময় পড়ে গিয়ে আহত হতে পারে।

ইতি পূর্বে এই ভাবে নামতে উঠতে গিয়ে পড়ে গিয়ে কয়েক জনকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। এ ব্যপারে জনগন বহুবার কৃতপক্ষের নিকট আবেদন করেও কোন ফল পায়নি।

এ ব্যপারে চিলাহাটি ষ্টেশন মাষ্টার হারুন রশিদ সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন যে, যেহেতু ট্রেনটি খুলনা থেকে চিলাহাটি আসার পর ৪৫ মিনিট সময় থাকে ছেড়ে যাওয়ার এ সময়ের মধ্যে ট্রেনটিকে ওয়াস ফিটে নিয়ে গিয়ে আবার ১ নম্বর লাইন থেকে ছেড়ে যাওয়ার সময় সংকুলন হয়না।

তাই ট্রেনটি ২ নম্বর লাইনে দাড়ানো অবস্থায় ওয়াসফিট করে ওখান থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। যাত্রীদের অনেক সময় অসুবিধা হয় তাই এ ব্যপারে আমি উধ্বর্তন কৃতপক্ষকে জানিয়েছি।

ঢাকা-খুলনা-কলকাতার মধ্যে সরাসরি সৌহার্দ বাস সার্ভিস উদ্বোধনের জন্য প্রতিনিধি দল বেনাপোল দিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে

আশানুর রহমান আশা,বেনাপোল-বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সৌহার্দ সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরো সূদৃঢ় করতে শনিবার থেকে ঢাকা-খুলনা-কলকাতা রুটে সরাসরি সৌহার্দ বাস সার্ভিস চালু হচ্ছে।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) শ্যামলী পরিবহনের পাশাপাশি সৌহার্দর আর একটি বাস সার্ভিস এবার বাংলাদেশের গ্রিন লাইন পরিবহন পরিচালনা করবে।

শনিবার দুপুরে কলকাতার সল্টলেক আন্তর্জাতিক বাস টার্মিনাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দিল্লি থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে ২২ সদস্যের প্রতিনিধি দল শুক্রবার বিকেলে বেনাপোল দিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।

বেনাপোল চেকপোস্টে গ্রিন লাইনের এ বাসটি পৌঁছালে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম, বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলামসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা প্রতিনিধি দলকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব চন্দন কুমার দে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ভারত আমাদের পরম বন্ধু রাষ্ট্র। ১৯৭১ সালে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধকালে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়ে রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। তা আমরা ভুলি কি করে।

এ বাস চলাচলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষ উপকৃত হবেন। রোগী ও বৃদ্ধরা সরাসরি বাসে করে কলকাতায় চিকিৎসাসহ সব কাজের সুবিধা পাবেন। এবার বিআরটিসির পক্ষে আন্তর্জাতিক এ রুটটি গ্রিন লাইন পরিবহনকে পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন।

খুলনা থেকে মৈত্রী এক্সপ্রেস-২ কলকাতার পথে

নিউজ ডায়েরী ডেস্ক-আন্তর্দেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন মৈত্রী এক্সপ্রেস-২ কলকাতার উদ্দেশে খুলনা ছেড়েছে। আজ শনিবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে খুলনা স্টেশন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেনটি ছাড়া হয়।

 খুলনা রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার কাজী আমিরুল ইসলাম জানান, ৫টি বগি ও একটি ইঞ্জিন নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে ট্রেনটি সকাল ৮টা ১০ মিনিটে খুলনা ছেড়েছে। সকাল ১০টায় ট্রেনটি বেনাপোল পৌঁছাবে। এরপর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর সেখান থেকে সীমানা পাড়ি দিয়ে কলকাতা যাবে। ট্রেনে কোনো সাধারণ যাত্রী ওঠেনি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অতিথিরা ট্রেনটির যাত্রী হয়েছেন। আগামীকাল রোববার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে কলকাতা থেকে ট্রেনটি আবার দেশের উদ্দেশে রওনা দেবে।
 রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে খুলনা থেকে কলকাতা ট্রেন সার্ভিস ছিল। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের পর সেই ট্রেন সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। ৫২ বছর পর এ রুটে আবার ট্রেন চালু হলো।