রবিবার-১৭ নভেম্বর ২০১৯- সময়: ভোর ৫:৫৪
৭ কেজি চালের মূল্যে মিলছে ১কেজি পেয়াজ বিরামপুরের বাজারে চিকিৎসা সেবা দিয়ে মানব সেবা করতে চাই-পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হুমায়ুন কবীর বিরামপুরে নেশার ইনজেকশন ও ফেন্সিডিলসহ আটক-৩ হিলি চেকপোস্টে বিজিবি’র গোয়েন্দা সদস্যের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে হয়রাণীর অভিযোগ বিরামপুরে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালিত বিরামপুরে প্রকল্প সমাপনী কর্মশালা গরীব ও অসহায় মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে পারলে আমি শান্তি পাই জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে আজও চালু হয়নি, নবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন “প্রেসিডেন্ট পদক” অর্জন বিরামপুরের কৃতি সন্তান ফায়ার সার্ভিসের গোলাম রওশন ঘোড়াঘাটে বানিজ্যিক ভাবে মাল্টা বাগান করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে

কুষি newsdiarybd.com:

ঘোড়াঘাটে বানিজ্যিক ভাবে মাল্টা বাগান করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি-মাল্টা বাগান করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে আবু সাঈদ, তার এই সাফল্য দেখে অনেকেই ইতিমধ্যে বাণিজ্যিক ভাবে মাল্টা বাগান করার উদ্দোগ গ্রহন করেছেন।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার পালশা গ্রামের আবু সাঈদ পেশায় মাছ চাষি হলেও ব্যতিক্রম কিছু করার আসায় তার নিজ উদ্দোগে গড়ে তুলেছেন মাল্টা বাগান।

মাএ এক একর জমিতে মাল্টা বাগান করে পেয়েছেন সাফল্য। তার এই সাফল্যতা দেখে মাল্টা চাষে আগ্রহ হয়ে উঠছেন অনেকে। ইতিমধ্যে এলাকায় ব্যাপক সারা পেয়েছে, আর এরি মধ্যে বাণি্িযক ভাবে মাল্টা চাষে বেশ সারা দেখা দিয়েছে।

ঘোড়াঘাট উপজেলার পালাশা গ্রামের অবু সাঈদ পেশায় মাছ চাষি হলেও সে ব্যতিক্রম কিছু করার আসায় পরিহ্মা মুলক মাল্টা চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সারা পেয়েছেন।

এ বছরে এক একর জমিতে মাল্টা বাগান শুরু করে ব্যাপক সাফল্য পাওয়ায় আগামীতে আরো বেশী বাগান করবেন। তার এক-একটি মাল্টা গাছে ১৫ থেকে ২০টি ফল হয়েছে এবং তা খুব সু-সাদু ও মিষ্টি।

তিনি পরিত্যাক্ত জমিতে মাল্টা বাগান করে বেশ সাফল্য পাওয়ায় তার দেখা দেখি স্থানীয় বেকার যুবকরা ইতিমধ্যে বাণিজ্যিক ভাবে ২৫-৩০টি মাল্টা বাগান করে তারা উত্তরঅঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাল্টার চাহিদা পুরন করবে বলে এমনটি বলছেন এ এলাকার মাল্টা চাষিরা। এ দিকে কৃষি অসির বলেন কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করার প্রত্যায় ব্যক্ত করেছেন।

ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার একলাস হোসেন সরকার  জানান, এ উপজেলায় ২০ থেকে ২৫টি মাল্টা চাষিদেক প্রশিহ্মনসহ সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছেন।

নবাবগঞ্জে ইঁদুর কেটে ফেলছে কাঁচা আমন ধানের রোপা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা

এম.এ সাজেদুল ইসলাম সাগর-চলতি আমন রোপা মৌসুমে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার মাঠে মাঠে আমন রোপা ধানের কাঁচা গাছ কেটে তছনছ করছে ইঁদুর। কাঙ্খিত উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

এলাকার উৎপাদনের সাথে জড়িত থাকা কৃষকেরা জানায়, এ বছরে এত পরিমাণ ধানের জমিতে ইঁদুরের উৎপাৎ দেখা দিয়েছে তা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। কৃষকেরা আমন মৌসুমে প্রথমের দিকে অতিরিক্ত সেচ দিয়ে রোপন করেছে আমন ধান। মাঠে মাঠে ফসলের রোপা কেটে ক্ষতি করছে ইঁদুর।

কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শ নিয়ে ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ ডিলারদের নিকট থেকে ইঁদুর নিধনের ঔধুষ ক্রয় করে জমিতে প্রয়োগ করলেও ইঁদুরের উপদ্রব কোনভাবেই কমছে না।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলার ৭নং দাউদপুর ইউনিয়নের দাউদপুর ব্লকের কৃষ নাজিমুদ্দিন দুঃখ ও আক্ষেপ করে জানান, অতিকষ্টে আমন ধান রোপন করেছে। অতিরিক্ত সেচও দিতে হয়েছে। যে পরিমাণ খরচ হয়েছে তা ফসলে উঠবে কিনা তা নিয়ে সংশয় তো রয়েছেই অপরদিকে ইঁদুরের আক্রমণ। মাঠে যেতে মন চায় না।

জমির যেদিকে তাকাই শুধু কাচা তাজা গাছ বিনষ্ট করছে ইঁদুর। কেটে ফেলা ধানের গাছ বস্তা ভর্তি করে বাড়িতে এনে গরু খেতে দিতে হচ্ছে। উৎপাদন ব্যহত হওয়ার আশংকা করছেন নাজিমুদ্দিনসহ আরোও অনেক কৃষক।

এদিকে, উপজেলার ৩নং গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের শওগুনখোলা গ্রামের কৃষক আমিরুল ইসলাম, ২নং বিনোদনগর ইউনিয়নের চাকপাড়া গ্রামের আবুল কাশেম তারা জানান, এখনই ইঁদুর নিধনের ব্যবস্থা নিতে না পারলে পরবর্তী ইরি বোরো আবাদে আরোও সমস্যার আকার ধারণ করতে পারে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু রেজা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, আমরা বিষ টোপ দিয়ে জমিতে ইঁদুর নিধনের কার্যকারী ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দিচ্ছি। উঁচু শ্রেনীর জমিতে পানি না থাকায় সেখানেই ইঁদুরের উপদ্রব দেখা যাচ্ছে। আর ইঁদুর দিনের বেলায় কাটে না রাতেই কেটে থাকে। কৃষকদের সার্বক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়াসহ পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

৭নং দাউদপুর ইউনের দোমাইল ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফাত্তাউজ্জামান জানান, ইতোমধ্যেই মাঠে গিয়ে বাস্তব অবস্থা দেখে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। এদিকে কৃষিবিদগণ জানান- ইঁদুর সবার কাছে পরিচিত স্তন্যপায়ী মেরুদণ্ডী বালাই যা মানুষের সাথে নিবিঢ়ভাবে সহাবস্থান করে।

এ প্রাণী প্রতিনিয়তই কৃষকের কষ্টার্জিত ফসলের ক্ষতিসাধন করছে যেমন- মাঠের শস্য কেটেকুটে নষ্ট করে, খায় এবং গর্তে জমা করে। মাঠের ফসল উৎপাদন ও গুদামজাত শস্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ইঁদুর এক বিরাট সমস্যা।

ইঁদুর বেড়িবাঁধ ও বিভিন্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে গর্ত করে এবং মাটি সরিয়ে বাঁধ দুর্বল করে ফেলে। ফলে বাঁধ ভেঙে পানি দ্বারা প্লাবিত হয়ে বাড়িঘর, ফসলাদি ও গবাদিপশুর যে ক্ষতি সাধন করে তার আর্থিক মূল্য বিবেচনা করলে ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যাবে।

ইঁদুর দ্বারা প্রাথমিক ক্ষতি হয় ধান, গম, বাদাম ও নারিকেল ফসলে। বিভিন্ন ধরনের ইঁদুরের মধ্যে কালো ইঁদুর, মাঠের বড় কালো ইঁদুর, নরম পশমযুক্ত মাঠের ইঁদুর ও ছোট লেজযুক্ত ইঁদুর ধানের ক্ষতি করে। এদের মধ্যে কালো ইঁদুর মাঠে ও গুদামে এবং মাঠের বড় কালো ইঁদুর নিচু ভূমির জমিতে বেশি আক্রমণ করে। ইঁদুর যে কোনো পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়ে দ্রুত বংশ বিস্তার করতে পারে।

উপযুক্ত এবং অনুকূল পরিবেশে একজোড়া প্রাপ্ত বয়স্ক ইঁদুর বছরে প্রায় ২০০০টি বংশধর সৃষ্টি করতে পারে। বাচ্চা প্রসবের পর ২ দিনের মধ্যেই স্ত্রী ইঁদুর পুনরায় গর্ভধারণ করতে পারে। এদের গর্ভধারণকাল প্রজাতিভেদে ১৮-২২ দিন হয়। সারা বছরই বাচ্চা দিতে পারে। মাঠ ফসলের শতকরা ৫ থেকে ৭ ভাগ এবং গুদামজাত শস্যের ৩ থেকে ৫ ভাগ ইঁদুরের দ্বারা ক্ষতি হয়।

ইঁদুর শুধু আমাদের খাদ্য শস্য খেয়ে নষ্ট করে তাই নয় বরং এদের মলমূত্র, লোম খাদ্যদ্রব্যের সাথে মিশে টাইফয়েড জন্ডিস, প্লেগ, চর্মরোগ ও ক্রিমিরোগসহ প্রায় ৬০ ধরনের রোগ ছড়াতে পারে।

বিরামপুরে শীতের সবজি,তোড়া পিঁয়াজ বাজারে উঠতে শুরু করেছে

ডা. নুরল হক, বিরামপুর-বিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা এখন আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত। শীতের আগাম সবজি বাজারে চাহিদার কারনে এবং দাম ভাল পাওয়ায় কৃসকরা সবজি চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছেন। পিঁয়াজ, ফুলকপি, বাধা কপি বেগুন ক্ষেত এখন বাহারী সবুজের সমারোহ।
অস্থিতিশীল পিঁয়াজের বাজারে বালুপাড়া গ্রামের আজমল বেশী দামের আশায় পিঁয়াজ ক্ষেতে কৃষাণীসহ পরিচর্ষ্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। আগাম পিঁয়াজ বাজারে তুলতে পারলে দাম বেশী পাবেন বলে সে জানায়। সে কাটা পিঁয়াজ ( তোড়া পেঁয়াজ ) ক্ষেতে রোপন করেছেন।
তোড়া পিঁয়াজ পাতা সহ ব্যবহার করা যায়। ১৫/২০ দিন পর পিঁয়াজ বাজারে তুলতে পারবেন বলে সে আশা ব্যক্ত করছেন। ইতো মধ্যে বিরামপুর বাজারে নুতন তোড়া পিয়াঁজ উঠতে শুরু করেছে। প্রতি কেজি পিঁয়াজ ৮০ টাকা হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, আগাম ফুলকপি চাষে লাখপতি হওয়ার স্বপ্নে ক্ষেত পরিচর্ষ্যায় ব্যস্ত একই গ্রামের নাহিদ ইসলাম। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহায়তায় তিনি এ কাজে উৎসাহিত হয়েছেন।
এ বছর সে প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন। তিনি জানান, বিঘা প্রতি তার খরচ হয়েছে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। সে আশা করছেন প্রতিবিঘা খরচ বাদে তার লাভ হবে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।
হরেকৃষ্টপুর (নাপিত পাড়া) গ্রামের জাহিদুল ইসলাম বিরামপুর কৃষি সস্প্রসারন অধিদপ্তরের সহয়োগীতায় পরিবেশ বান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পে ২০ শতক জমিতে বেগুন চাষ করেছের। তার বেগুন গাছে কোন প্রকার বালাই নাশক (বিষ) প্রয়োগ করা হয় নাই। ফলে এই বেগুনের চাহিদা বাজারে বেশী। ২০ শতক জমিতে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে সে জানায়।

আগাম সবজি হিসেবে ইতো মধ্যে ২০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছেন এবং আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার বেগুন বিক্রির আশা ব্যক্ত করেছেন। সে জানায়, যেহেতু বেগুনে কোন প্রকার বিষ ব্যবহার করা হয় নাই ফলে বেগুন বাজারে চাহিদা ও মুল্য বেশী।
বিরামপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, বিরামপুর উপজেলায় পিঁয়াজ ১০হেক্টোর, বেগুন ৫০ হেক্টোর, বাধাকপি ৫০হেক্টোর, ফুলকপি ৫০ হেক্টোর অন্যান্যসহ মোট ১ হাজার ২শত হেক্টোর জমিতে শাখ-সবজি চাষ হয়েছে।
এলাকার কৃষকরা জানান, ধান, গম চাষ করে তারা বেশী একটা লাভবান হতে পারেনি। ফলন ভালো হলেও ধানের বাজারে ধস নামে। ন্যাষ্য মুল্য থেকে বঞ্চিত হয় কৃষকরা। ফলে
ধানের চাষ করে লোকশান গুনতে হচ্ছে। তাই এ এলাকার কৃষকরা আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।

বিরামপুরে আগর চাষে সম্ভাবনার হাতছানি

আঃ রাজ্জাক,বিশেষ প্রতিনিধি-আগরগাছ আগরবাতি ও সুগন্ধি উৎপাদনকারী গাছ। এই আগরের চাষ হচ্ছে উত্তরের জেলা দিনাজপুরের বিরামপুরে।

উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের কালিশহর শালবন এলাকায় ৪ হেক্টর জুড়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চাষ হচ্ছে আগর বাগান।

জ্বালানি কাজে ব্যবহার ছাড়াও আগর কাঠ থেকে পারফিউম, তেল, আতর, সুগন্ধি, আগরবাতি, ওষুধ তৈরি হয়। অনেকেই তরল সোনা হিসেবেও বিবেচনা করেন সুগন্ধি ছড়ানো আতরকে। পরিত্যক্ত জমিতে বাড়ির আঙিনায়, রাস্তার দু’পাশে, পতিত জমি, টিলায় এগাছ লাগানোর উপযোগী।

সরেজমিনে দেখা যায়, শাখা-প্রশাখাবিহীন সোজা লম্বা দেখতে গাছটি এবং আকার আকৃতিতে অনেকটা শাল বা গজারি গাছের মতো। এ গাছে সাদা রঙের ফুল এবং ফল ক্যাপসুল আকৃতির হয়। আগর গাছের পাতা দেখতে অনেকটা লিচু বা বকুল গাছের পাতার মতো।

চরকাই ফরেষ্ট রেঞ্জের বীট কর্মকর্তা আব্দুল বারিক বলেন, পরিপূর্ণ বয়সে গাছ শুকিয়ে গেলে প্রায় ৬০-৭০ ফুট উচ্চতা হলে গাছটি কেটে ছোট ছোট টুকরা করে তা কিছু দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। এরপর কারখানায় বিশেষভাবে নির্মিত চুল্লিতে রেখে তাপ দেওয়া হয়। তাপ দেওয়ার পর বিশেষ ব্যবস্থায় আগর থেকে আগর অয়েল পাওয়া যায়। যা পরবর্তী সময় আতরসহ সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে গাছের টুকরো থেকে সলিড আগর পাওয়া যায়।

চরকাই ফরেষ্ট রেঞ্জ অফিস সূত্রে জানা যায়, এই অঞ্চলে এটি একটি পরীক্ষামূলক বাগান। মহামূল্যবান এ গাছে ফুল আসে বর্ষা মৌসুমে ও ফল আসে তার ৩ মাস পরে। বালি ভর্তি প্যাকেটে বীজ বপন করে বীজতলা থেকে চারা জন্মানো হয়।

আগরকাঠ সংগ্রহ করতে প্রায় ৩০ বছর বা বেশী সময় লাগে। অনেক সময় কৃত্রিম উপায়ে ১০ বছর পরে কাঠ সংগ্রহের উপযোগী করা হয়। আগরের গাছে আগর সংগ্রহ করার জন্য সারা গাছে লোহার পেরেক ঢুকিয়ে রেখে দেওয়া হয়।

উৎপাদিত আগরের সবচেয়ে বড় বাজার এখন মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে।এছাড়াও ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপানেও আগর রপ্তানি হয়।

বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিকছন চন্দ্র পাল আগর পরিচর্যা বিষয়ে বলেন, আগর বাগানে ভার্মি কম্পোস্ট, কেঁচো সার, আইএসপি, এমডিএফ, ইউরিয়া, জিংক সার ব্যবহার করা যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, আগর বাগানে সাধারণত শাকসবজি ও ডাল জাতীয় ফসল চাষ করা যায়। আদা এবং হলুদও চাষ করা হয়। তাছাড়া সুপারি, কফি, রাবার, এলাচ, পামগাছসহ অধিকাংশ বনজ গাছ আগর গাছের সাথে মিশ্র ফসল হিসেবে চাষ করা যায়।

৩নং খানপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলি বলেন, প্রায় ১২ বছর আগে আমাদের ৬ জনের সহযোগিতায় সামাজিক বনায়নের আওতাভূক্ত চরকাই সদর বীটে এই আগরবাগান তৈরি হয়।

রপ্তানিমুখী এ শিল্পের বিকাশে আগর গাছের উপর গবেষণা জোরদার, চাষ সম্প্রসারণ ও ব্যবস্থাপনাসহ প্রক্রিয়াজাতকরণে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে আধুনিকায়ন করার উদ্যোগগুলো গ্রহণ করলে শিল্পের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে, ফলে দেশের সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহায়ক হবে। এই অঞ্চলে শ্রমের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে ফলে গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে।

বিরামপুরে জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযান শুরু

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি-উপজেলার কৃষক ও কিষাণীদের সমাবেশের মাধ্যমে মঙ্গলবার (২৯ অক্টোঃ) বিরামপুর উপজেলায় জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযান শুরু করা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা কন্ফারেন্স হলে অভিযানের উদ্বোধন করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান।

এ উপলক্ষ্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিকছন চন্দ্র পালের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, ইউএনও তৌহিদুর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেজবাউল ইসলাম ও উম্মে কুলসুম বানু, এসএপিপিও মাহবুবুর রহমান, উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আশিষ কুমার পাল, ইঁদুর নিধনে নতুন যন্ত্র তৈরিকারক কৃষক শাহজাহান আলী প্রমূখ।

এতে উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার নেতৃস্থানীয় কৃষক ও কৃষাণীরা অংশ গ্রহণ করেন।

বিরামপুরে সবজি পরিচর্ষ্যায় ব্যস্ত কৃষক ঘুরে দাড়ানোর স্বপ্ন আগাম শাক-সবজি চাষ


ডাঃ নরুল হক-জেলার বিরামপুর উপজেলায় বিভিন্ন হাট-বাজারে শীতের আগাম সবজি উঠতে শুরু করেছে। এসব সবজি ভ্যান, রিকশা ভটভটি যোগে সরাসরি বাজারে উঠতে শুরু করেছে। দামও ভাল।

কৃষকেরা আগাম লাউ বেগুন, শীম, মুলা, ফুলকপি, বাধাকপি, শসা সহ বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন। ধান চাষ করে বড় ধরনের লোকসান গুনে শীতের আগাম সবজি চাষ করে তা পুষিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন কৃষকেরা।

বিরামপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা নিকসন চন্দ্র জানান, বিরামপুর উপজেলায় চলতি খরিপ-১ মৌসুমে ১ হাজার ২শত হেক্টোর জমিতে শাখ-সবজি চাষাবাদের সম্ভবনা রয়েছে। এর মধ্যে শীতের আগাম সবজি চাষ হয়েছে ১ শত ৫০ হেক্টোর ।

চলতি অক্টোবর মাসের ১ম সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে রবি মৌসুম। মৌসুমের শুরুতেই সবজি রোপন ও পরিচর্ষ্যার কাজ করছেন কুষকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার শাখা যমুনা নদীর চরে মাহমুদ পুর, জোতবানী, ভেলার পাড় , পলিপ্রয়াগ পুর, চকবসন্তপুর, হওেকৃষ্টপুর, হাবিবপুর এলাকায় শীতের আগাম সবজি মুলা, বাধাকপি, ফুলকপি, বেগুন , পাটাশাখ, লাল শাখ, শীম, লাউশাখ প্রভৃতি শাখ-সবজিতে খেত ভরে গেছে। চাষিরা সবজি পরিচর্ষ্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে।

উপজেলার কাঠলা গ্রামের আবু সাঈদ, পারভবানী পুর গ্রামের রইচউদ্দিন বলেন, পর পর দুই বছর ধান চাষ করে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন ।

কেশবপুর গ্রামের নওশাদ বলেন, বিগত বছর ৩ শত টাকা মন দরে ধান বিক্রি করে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন বলে এবার জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন।

সফল চাষি আবু সাঈদ জানান, ধান গম চাষ করে আমরা খুব একটা লাভবান হতে পারিনি। ধান চাষ করে লোকসান গুনতে হয়। তাই শীতের শুরুতে শীতকালীন সবজি বাজারে তুলতে পারলে দাম ভালো পাওয়া যায় এবং অর্থনৈতিক ভাবে বেশ লাভ হয়।

এবার আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করে দাম ভাল পাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। কৃষকরা বিগত দুই বছরের ধান আবাদের ক্ষতির হিসেব পুষিয়ে ঘুরে দাড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন।

বিরামপুরে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস পালিত

মোঃ নজরুল ইসলাম,বিরামপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা-বিরামপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উপলক্ষ্যে বুধবার (২ অক্টোঃ) বিরামপুর উপজেলা কন্ফারেন্স রুমে আলোচনা সভা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে উৎপাদনশীলতায় সাফল্য ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান উম্মে কুলছুম বানু, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিকছন চন্দ্র পাল, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাওছার আলী, সাব-রেজিষ্ট্রার মাসুদ রানা প্রমূখ।

গাছ ও বই মানুষের বন্ধু বিরামপুরে বৃক্ষমেলায় জেলা প্রশাসক দিনাজপুর

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি-বিরামপুর উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা চত্বরে মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) তিনদিন ব্যাপি ফলদ বৃক্ষ মেলা উদ্বোধন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলদ চারা বিতরণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনী র‌্যালি শেষে উপজেলা অডিটরিয়ামে ইউএনও তৌহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম।


বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান খায়রুল আলম রাজু, ভাইস চেয়ারম্যান মেজবাউল ইসলাম, উম্মে কুলসুম বানু, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিক্সন চন্দ্র পাল, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ মোসফিকুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সিরাজুল ইসলাম প্রমূখ।

ধামইরহাটের বরেন্দ্র অঞ্চলে মাল্টা চাষে সফল নারী উদ্যোক্তা রিনা আক্তার

মো.হারুন আল রশীদ,ধামইরহাট প্রতিনিধি-নওগাঁর ধামইরহাটের বরেন্দ্র অঞ্চলে মাল্টা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন নারী উদ্যোক্তা রিনা আক্তার। তিনি একর জমিতে মাল্টা রোপন করে এখন তার বাগান ফলে ফলে ভরে গেছে। বাজারে ভালো দাম পেলে তিনি অনেক মুনাফা লাভের স্বপ্ন দেখছেন।

জানা গেছে,উপজেলার ধামইরহাট ইউনিয়নের অন্তর্গত আঙ্গরত তেলিপাড়া গ্রামের পাকা রাস্তার পার্শে মায়া কানন (বায়ো এগ্রি ফার্ম) নামে একটি নার্সারী গড়ে তোলা হয় নারী উদ্যোক্তা রিনা আক্তার।

কৃষিবিদ পরিবারে বেড়ে ওঠা রিনা আক্তার ছোট বেলা থেকে কৃষির প্রতি তার বিশেষ আগ্রাহ ছিল। বিশেষ করে ফল বাগান গড়ে তোলা তার স্বপ্ন ছিল। গ্রাজুয়েশন করার পর চাকুরী না হওয়ায় তিনি হতাশ না হয়ে নেমে পড়েন ফল বাগান করতে। তার নিজ হাতে গড়ে তোলেন মায়া কানন।

এব্যাপারে রিনা আক্তার বলেন,ধামইরহাট উপজেলার সাবেক কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড.মো.জামাল উদ্দিন ও বর্তমান কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.সেলিম রেজার সার্বিক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় আমি ৫০শতাংশ জমিতে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ১ বছর বয়সী উন্নত মানের মাল্টা চাষ শুরু করি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ১০ ফুট পর পর চারা গাছ রোপন করা হয়।

মোট ১৩৬টি চারা গাছ রোপন করেন। পরের বছর গাছে ফুল আসলেও তা ভেঙ্গে দেয়া হয়। এবছর গাছে পর্যাপ্ত ফুল আসে এবং অসংখ্য ফল ধরে। বর্তমানে প্রতি গাছে প্রচুর পরিমাণে ফল ধরেছে। আশা করা যাচ্ছে প্রতি গাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া যাবে।

আগামী আগষ্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে গাছ থেকে ফল নামানো শুরু হবে। বাজারে বর্তমানে পাইকারী মাল্টা ১শত থেকে ১শত ২০ টাকা দরে কেনা বেচা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী ১শত টাকা কেজি হলে প্রতি গাছ থেকে প্রায় ১০ কেজি মাল্টা পাওয়া যাবে যার দাম হবে ১ হাজার টাকা। সেই হিসেবে ১৩৬টি গাছ থেকে ১ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যদি কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হয় তবে এবার মাল্টা বিক্রি করে লাভের আশা দেখছেন। রিনা আক্তার আরও বলেন, প্রতিটি চারা গাছ তিনি ১৫০ টাকা দর হিসেবে ২০ হাজার ৪শত টাকায় কিনেছেন।

এছাড়া শ্রমিকের মজুরী ও অন্যান্য বাবদ মোট ৫০হাজার টাকা খরচ করেছেন। তিনি মাল্টা বাগান গড়ে তুলতে প্রায় ৭০হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। তিনি আশা করছেন এবছর তিনি ১ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা মাল্টা বিক্রি করবেন। পরে বছর দ্বিগুন লাভের আশা করছেন। ধামইরহাট উপজেলার সাবেক কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড.মো.জামাল উদ্দিন বলেন,ধামইরহাটের মাটি যে কোন ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগি।

এ অঞ্চলের মানুষ শুধু ধান চাষে ব্যস্ত থাকে। বর্তমানে ধান চাষে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে এলাকার চাষীদেরকে লাভ জনক ফল বাগানে চাষে উদ্বৃদ্ধ করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.সেলিম রেজা বলেন,রিনা আক্তারকে মাল্টা ও ড্রাগন চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তার বাগানে মাল্টার প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে।

এছাড়া উন্নতমানের মাল্টা চারা বারি-১ সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত তাকে পরামর্শ দেয়া হয়। এ অঞ্চলের মাটি যে কোন ফল চাষের জন্য উপযোগি।

এ অঞ্চলে মাল্টা ও ড্রাফন ফলের মিষ্টতা ও গুনাগুন অন্যান্য অঞ্চল থেকে ভালো। তাছাড়া বাজারে মাল্টা এবং ড্রাফন ফলের দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

এলাকার বেকার যুবকরা ওই বাগান দেখে ইতোমধ্যে অনেকে ফল বাগান চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। আগামীতে এ অঞ্চল ফলের এলাকা হিসেবে পরিচিতি পাবে।

বিরামপুরে ইরির লক্ষমাত্রা অর্জন


আব্দুল হাকিম, বিরামপুর- চলতি মৌসুমে বিরাপুরে ইরি ফসলের লক্ষমাত্রা ছিল ১৬,১৬৫ হেক্টর জমি।

উৎপাদিত হয়েছে ১৬,২০০ হেক্টর জমিতে। ফসল উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ছিল ৬৬,০৫৫ মেঃ টন সম্ভাব্য উৎপাদন ৬৮,০৪০ মেঃ টন।

কৃষকের বিঘা প্রতি জমিতে সম্ভাব্য চাষ খরচ হয়েছে পানিসেচ ১৩০০টাকা, বীজ ৮০০ টাকা, সার ২৫০০ টাকা, শ্রমিক ১২০০ টাকা, ধান কর্তন করা ৩৮০০ টাকা, মোট ৯,৬০০ টাকা।

যদিও সরকারি ভাবে ধানের কেজি প্রতি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ টাকা। কিন্তু কৃষক পাচ্ছে বাজারে কেজি প্রতি সম্ভাব্য ১২ টাকা ।