বুধবার-২৯ জানুয়ারি ২০২০- সময়: রাত ৪:৫০
গুরুদাসপুরে এক বৃদ্ধা খুন বিরামপুরে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত কাটলা হলি চাইল্ড স্কুল বিরামপুরে মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান দিদউফ বিরামপু‌রে দুস্থ শীতার্ত‌দের মা‌ঝে শীতবস্ত্র বিতরন বিরামপুরে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণ গণনার সূচনা বিরামপুরে ১২ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস খাওয়ানো হয়েছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সীতার কুটুরি গোচারণ ভূমিতে পরিণত কালো জাম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস, কালের পরিক্রমায় প্রতি বছরই হাজির হয় শীত দিনাজপুর হতদরিদ্র শীতার্থ মানুষের পাশে এগিয়ে এসেছে ডিএফএর

Daily Archives: December 26, 2019

বিরামপুরে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত কাটলা হলি চাইল্ড স্কুল

বিরামপুর সংবাদদাতা-বিরামপুর উপজেলার কাটলা হলি চাইল্ড স্কুলের ১৬ জন শিক্ষার্থী এবারের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। জেএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাশের মাধ্যমে অর্জন করেছে আশাতীত সাফল্য।

জানা গেছে, উপজেলার সীমান্তবর্তী কাটলা ইউনিয়নে কলেজের পাশে ২০০১ সালে বেসরকারি ভাবে তৈরী করা হয় কাটলা হলি চাইল্ড স্কুল। প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকায় এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও শিশু শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত এর শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৫০০ জন।

কাটলা হলি চাইল্ড স্কুলের প্রধান শিক্ষক সায়েদ আলী সরকার জানান, ২০১৯ সালে এ স্কুল থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ৩৪জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে। তাদের মধ্যে ২৯জন জিপিএ-৫ এবং বাঁকীরা এ গ্রেডে পাশ করেছে। উপজেলার মেধা তালিকার সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা এ স্কুলের। অর্থাৎ ৫৭৫ থেকে ৫৯০ পর্যন্ত নম্বর প্রাপ্ত ১৬ জন শিক্ষার্থী কাটলা হলি চাইল্ড স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী।

জেএসসি পরীক্ষায় এ স্কুল থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে। তাদের শতভাগ পাশের মধ্যে ৯ জন জিপিএ-৫, ২৯ জন এ গ্রেড, ১জন এ- ও ১জন বি গ্রেডে পাশ করেছে।

আশানুরূপ ফলাফল প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক বলেন, কাটলা হলি চাইল্ড স্কুলের কোন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট বা কোচিং করতে হয়না; ক্লাসের পড়া ক্লাসেই সম্পন্ন করা হয়। শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠা ও শিক্ষার্থীদের আগ্রহে ভাল ফলাফল সম্ভব হয়েছে।

বিরামপুরে মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান

এম আই তানিম, বিরামপুর-মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ শীর্ষক দিন ব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠান করেছে বিরামপুর উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার (১১ জানুঃ) সকালে ঢাকা মোড়ে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় নেতাদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক নিবেদনের মাধ্যমে দিবসের সূচনা করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ, সুধি, সাংবাদিক ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আনন্দ শোভাযাত্রা নিয়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে সমবেত হন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, সহকারী পুলিশ সুপার মিথুন সরকার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেজবাউল ইসলাম ও উম্মে কুলছুম বানু, থানার ওসি মনিরুজ্জামান, অধ্যক্ষ শিশির কুমার সরকার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নাড়ু গোপাল কুন্ডু, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার, যুগ্ম সম্পদক গোলজার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মামুনুর রশীদ, উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী তাহমিনা বেগম নাইস, প্রবীণ রাজনীতিক আব্দুল আজিজ সরকার, প্রেসক্লাবের আহবায়ক একেএম শাহজাহান প্রমূখ। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আতশবাজির আয়োজন করা হয়।

দিদউফ বিরামপু‌রে দুস্থ শীতার্ত‌দের মা‌ঝে শীতবস্ত্র বিতরন

দিনাজপুর দ‌ক্ষিণাঞ্চল উন্নয়ন ফোরাম (দিদউফ) এর উ‌দ্যো‌গে অদ্য ১০ জানুয়ারী  শুক্রবার সকাল ১১টায় বিরামপু‌রে দুস্থ শীতার্ত‌দের মা‌ঝে শীত বস্ত্র (কম্বল) বিতরন করা হয়।

উক্ত শীতবস্ত্র বিতরন অনুষ্ঠা‌নে উপ‌স্থিত ছি‌লেন ‘‌দিদউফ’ এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোজা‌ম্মেল হক, বিরামপুর সরকা‌রি ক‌লে‌জের অধ্যক্ষ জনাব মোঃ ফরহাদ হো‌সেন, ‘দিদউফ’ এর নির্বাহী সদস্য মাহমুদুল হক মা‌নিক, শেখ হা‌বিবুর রহমান, রোজ গাডেন হাই স্কুল প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান, রাসেকুল ইসলাম রাশু  প্রমুখ।

উ‌ল্লেখ্য‌যে, দিনাজপুর দ‌ক্ষিণাঞ্চল উন্নয়ন ফোরাম (দিদউফ) এর উ‌দ্যো‌গে হা‌কিমপুর, ঘোড়াঘাট ও নবাবগঞ্জ উপ‌জেলা‌তেও শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরন করা হ‌য়ে‌ছে।

বিরামপুরে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণ গণনার সূচনা

মোঃ সামিউল আলম, বিরামপুর-জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপনের ক্ষণ গননা ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দিনাজপুরের বিরামপুরে নানা কর্মসূচী পালন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার “অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ”-শীর্ষক একটি র‌্যালী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের ঢাকামোড় হতে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে, শুক্রবার বিকেলে দেশব্যাপী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষণ গননার উদ্বোধনের সাথে সাথে বিরামপুর উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে ক্ষণ গননার উদ্বোধন করা হয়।

এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিথুন সরকার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেজবাউল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নাড়ু গোপাল কুন্ডু, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক গোলজার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন, থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান মনির, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, শিক্ষার্থীবৃন্দ, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ ও সুধীবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

বিরামপুরে ১২ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস খাওয়ানো হয়েছে

এম আই তানিম-বিরামপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ১৬৯টি কেন্দ্রের মাধ্যমে শনিবার (১১ জানুঃ) উৎসব মূখর পরিবেশে প্রায় ১২ হাজার ৩৪৫জন শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপস্যুল খাওয়ানো হয়েছে।

সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা খাওয়ানোর উদ্বোধন করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সোলায়মান হোসেন মেহেদী।

এসময় হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ আহসান আলী সরকার, ডাঃ মোহাম্মদ আলী হোসেন শাহ, এমটিইপিআই মাসুদ রানা সহ চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সীতার কুটুরি গোচারণ ভূমিতে পরিণত

এম. এ সাজেদুল ইসলাম সাগর-দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক নিদর্শন সীতার কুঠুরি  বৌদ্ধ বিহার অবহেলায়, অযত্নে সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে বিলুপ্ত হতে চলেছে।

পর্যটন কেন্দ্রের অপার সম্ভাবনাময় এই স্থানটি সীমানা বেষ্টুনী না থাকায় গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, ঐতিহাসিক এই নিদর্শনের কক্ষগুলির বেশ কিছু স্থান ভেঙ্গে গেছে। বিহারের মূল ফটকটিতে গরু ছাগলের ছড়াছড়ি। দেখার কেউ নেই।

নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যানের শালবনের সংলগ্ন এই নিদর্শনকে ঘিরে রামের পত্নী সীতাকে নিয়ে যুগ যুগ ধরে এলাকায় চলে আসছিল কল্পকাহিনী। সীতাকে পঞ্চবটীর বনের গভীরে বনবাস দিয়ে তার থাকার জন্যে তৈরী করে দেয়া হয়েছিল একটি কুঠুরি। যা কিনা সীতার কুঠুরি নামে খ্যাত। কিন্তু  ১৯৬৮ সালে প্রত্মতত্ত্ব বিভাগের অনুসন্ধানকারী নিদর্শনের আংশিক অংশ খননের পর নিশ্চিত হয় এটা একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।

নবাবগঞ্জ উপজেলার সদর থেকে পশ্চিম দিকে বিরামপুর-নবাবগঞ্জ রাস্তার উত্তর পার্শ্বে গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের ফতেপুর মাড়াষ মৌজার প্রায় ১ একর ভুমির উপর অবস্থিত এ বিহারটি। এই বিহার পূর্ব পশ্চিমে লম্বা ২২৪ ফুট, উত্তর দক্ষিণ প্রস্ত ২১২ ফুট।

বিহারটিতে ছোট বড় কক্ষের সংখ্যা ৪১টি। বিহারের ভিতরে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে একটি কুপ ছিল। বর্তমানে কুপটি ভরাট হয়ে গেছে। বিহারের বাইরে পুর্ব-দক্ষিণ দিকে পাশাপাশি অবস্থিত ৫টি কুটির দেখা যায়।

সম্ভাবত এগুলো শৌচাগার হিসেবে ব্যবহার হত। মূল মন্দির ছিল দক্ষিণ দিকের মাঝখানে। নিপুন  হাতের গাঁথুনী ইমারতের লম্বা, মধ্যম ও ছোট ইট এবং চুন সূরকী দ্বারা বিহারটি নির্মিত।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়  বিহারের উত্তর দিকে মাড়াষ গ্রামের মহিরউদ্দিনের পুত্র  মোঃ তালেব আলী বিহারের পার্শ্বে জমি চাষ করতে গিয়ে জরাজীর্ণ একটি  ধারালো অস্ত্র (বাইশ) কুড়িয়ে পান। এ অস্ত্র দিয়ে ১/২ কোপে বনের বড় বড় শাল গাছ কাটা যেত।

বিষয়টি বন বিভাগের লোকজন টের পেয়ে তালেব আলীকে জিজ্ঞাবাদ করলে তালেব আলী বন বিভাগের লোককে ওই অস্ত্রটি প্রদান করে। বন বিভাগের কর্মকর্তা অস্ত্রটি পরীক্ষার জন্য উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান। পরে জানা যায় অস্ত্রটি  ছিল হীরার তৈরী।

বিষয়টি জানাজানি হলে আরও মুল্যবান প্রতœতত্ত্ব মিলতে পারে বলে তৎকালীন দিনাজপুর জেলা পরিষদ নিজস্ব অর্থে বিহারটি খননের উদ্যোগ গ্রহণ করে। চাকরি দেয়া হয় তালেব আলীকে ওই বিহার পাহারা দেয়ার।

কয়েক বছর পুর্বে তালেব আলী মারা যায়। বর্তমানে তালেব আলীর পুত্র ঐ তার পিতার দায়িত্ব পালন করছে। খননের পর সে সময় বিহারের কিছু অংশ সংস্কার করা হয়। এর পরে আর কোন সংস্কার না হওয়ায় অযতেœ ও অবহেলায় বিহারটি বিলুপ্তির পথে যাচ্ছে।

বিহারের জায়গা অনেকে জবর দখল করে বাড়ী ঘর নির্মাণ করেছে বলেও এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। তবে যারা বাড়ী ঘর করে আছে তারা নিজেদের জমি বলে দাবি করছে।  নয়নাভিরাম বৌদ্ধ বিহারটি সংস্কার করে দর্শনীয় স্থান হিসাবে গড়ে তোলা  হলে সেখানে হতে পারে জনপ্রিয় পিকনিক কর্ণার এবং পর্যটন কেন্দ্র । যা থেকে আসতে পারে সরকারের ব্যাপক রাজস্ব আয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা মো. মাহাবুবুর আলম জানান, বিহারটি সংস্কারসহ আধুনিকায়ন করা হলে বিহারের ঐতিহ্য ফিরে আসবে এবং দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আগমন ঘটবে। উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. পারুল বেগম জানান, ঐতিহ্য ধরে রেখেছে বিহার। তিনিও সংস্কারসহ মেরামতের দাবি জানান।