সোমবার-৯ ডিসেম্বর ২০১৯- সময়: সকাল ৮:০২
চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ীর রেল যোগাযোগের কাজ দ্রুত এগিয়ে ঘোড়াঘাটে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা নবাবগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা ধামইরহাটে জমি জমা সংক্রান্ত সংঘর্ষে নিহত-১ জাকারিয়া মন্ডলের পাহাড়ের ভাঁজে মহাকাব্য বিরামপুর মুক্ত দিবস উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা বিরামপুরে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ শুরু মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিরামপুরে রক্তদান কর্মসূচি বিরামপুরে অসহায় ও দরিদ্রদের বিনামূল্যে চোখের অপারেশন বিরামপুরে সাংবাদিকের বাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় আটক-১

Daily Archives: November 17, 2019

গরীব ও অসহায় মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে পারলে আমি শান্তি পাই

জাকিরুল ইসলাম, বিরামপুর-দিনাজপুরের বিরামপুরে দিনব্যাপী ফ্রি স্বাস্থ্য সেবা “হেলথ ক্যাম্প” অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১১ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় উপজেলার ব্রাক হেলথ সেন্টারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ সরকার মামুনুর রশীদ দিনব্যাপী এই স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেন।
এসময় ডাঃ সরকার মামুনুর রশীদ প্রতিবেদক’কে জানান, “কিভাবে যেন এখানকার দরিদ্র মানুষগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছি টেরই পাইনি”। মানুষকে সেবা প্রদান করা পৃথিবীর সব মানুষেরই নৈতিক দায়িত্ব। সুবিধাবঞ্চিত, গরীব ও অসহায় মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে পারলে আমি শান্তি পাই।
তিনি আরও জানান, ডাক্তার হওয়ার পর থেকেই আমার ভাবনা ছিলো যত বেশী পারা যায় গরীব ও অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবা করা। এজন্যই যখন কেউ আমাকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলেন সেখানেই আমি ছুটে চলে যাই।
এসময় চিকিৎসা সেবা প্রদানকালে ক্যাম্পটি ঘুরে দেখা যায়, তিনি রোগী দেখছেন পরম যত্নে, মায়া মমতায়, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে। যেন মানুষগুলোর মধ্যে একাত্ম হয়ে উঠেছেন।
কয়েকজন রোগী জানান, বরাবরই তিনি গরীব ও অসহায় রোগীদের প্রাধান্য দেন, অত্র এলাকার দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবার শেষ আশ্রয়স্থল ডাঃ সরকার মামুনুর রশীদ। মানবসেবায় ডাঃ সরকার মামুনুর রশীদ এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে আজও চালু হয়নি, নবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন

নিউজ ডায়েরী ডেস্ক-দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে নয়টি ইউনিয়নে বসবাস করে দুই লাখের বেশি মানুষ। বিপুল জনগোষ্ঠীর এ উপজেলায় অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজের জন্য একটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে উপজেলা সদরে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে আজও সেটি চালু করা যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নবাবগঞ্জ সদরের খয়েরগনি গ্রামে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নির্মাণ শুরু হয় ২০১৫ সালের ২৭ জুলাই। এক বছরের মধ্যেই এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। এরপর তিন বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও স্টেশনটিতে একজন নৈশপ্রহরী ছাড়া অন্য কোনো জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি।

সরবরাহ করা হয়নি উদ্ধারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। এ অবস্থায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন থাকলেও অগ্নিকাণ্ড ও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় সেটির সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলাবাসী। অন্য এলাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল আসতে আসতে বেড়ে যাচ্ছে ক্ষতির পরিমাণ।

স্থানীয়রা জানায়, চার বছর আগে নবাবগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এক বছরের মধ্যে এ কাজ শেষ হওয়ায় তারা আশান্বিতও হয়েছিলেন। ভেবেছিলেন, অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনায় দ্রুত জরুরি সেবা পাবেন। কিন্তু নির্মাণের তিন বছর অতিবাহিত হলেও স্টেশনটি চালু করা হয়নি। প্রায়ই এটি চালু হবে বলে খবর এলেও বাস্তবে তা ঘটছে না।

লুত্ফর রহমান ও মাহবুব হোসেন নামে দুজন বলেন, স্টেশনটি আদৌ চালু হবে কিনা, আমরা বুঝতে পারছি না।

এ এলাকায় আগুন লাগলে কিংবা দুর্ঘটনা ঘটলে আশপাশের উপজেলার অগ্নিনির্বাপক দলের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়। বেশ কয়েকবারই দেখা গেছে, উদ্ধারকারী দল আসার আগেই সব পুড়ে গেছে। এ অবস্থায় আমাদের দাবি, দ্রুত লোকবল নিয়োগ ও সরঞ্জামের ব্যবস্থা করে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি চালু করা হোক।

নবাবগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের নৈশপ্রহরী আলাউদ্দিন বলেন, তিনি তিন বছর ধরে এখানে নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত। এখানে তিনি ছাড়া অন্য কোনো কর্মচারী নেই। কবে নাগাদ এ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন চালু হবে, সে বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই।

নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের দাবির পর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি নির্মাণ করা হলেও সেটি উপজেলাবাসীর কোনো কাজে আসছে না।

নির্মাণের পর তিন বছর ধরে এটি বন্ধ পড়ে আছে। আমি স্টেশনটি চালু করার জন্য জেলা সমন্বয় কমিটির বৈঠকসহ বিভিন্ন দপ্তরে কথা বলেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

তিনি আরো বলেন, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। সম্প্রতি নবাবগঞ্জের পর্যটন স্পট আশুরার বিলে নৌকাডুবিতে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী মারা যান। ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি চালু থাকলে তাদের উদ্ধারে হয়তো আরো দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া যেত।

এ বিষয়ে দিনাজপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এডি আজিজুল ইসলাম বলেন, একটি প্রকল্পের আওতায় নবাবগঞ্জসহ মোট ছয়টি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের নির্মাণ করা হয়েছিল। বাকি পাঁচটি স্টেশন এরই মধ্যে চালু করা হয়েছে।

তবে নবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এখনো স্টেশন ভবন হস্তান্তর করেনি। তাই সেটি চালুও করা যাচ্ছে না। তবে ওই প্রতিষ্ঠানকে এক মাসের মধ্যে পুরো কাজ বুঝিয়ে দেয়ার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। আশা করছি, ভবন বুঝে পেলে দ্রুত লোকবল নিয়োগের মধ্য দিয়ে স্টেশনটি চালু করা সম্ভব হবে।

দিনাজপুর ৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার চারটি উপজেলার মধ্যে দুটিতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন চালু রয়েছে। অন্য দুটিতে লোকবল সংকটের কারণে এ স্টেশন চালু করা যাচ্ছে না।

তবে আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, অচিরেই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। এর পরই বাকি দুটি বিশেষ করে নবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি সচল করা হবে।

“প্রেসিডেন্ট পদক” অর্জন বিরামপুরের কৃতি সন্তান ফায়ার সার্ভিসের গোলাম রওশন

মোঃ সামিউল আলম, বিরামপুর-বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পদক (প্রেসিডেন্ট পদক) অর্জন করলেন দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কৃতি সন্তান মোঃ গোলাম রওশন।
ফায়ার সার্ভিসের সুরক্ষা সেবা সপ্তাহ–২০১৯ উপলক্ষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ন কাজে সাহসিকতা ও সফলতার পুরস্কার স্বরূপ দক্ষ সদস্যদের নির্বাচন করে তাদেরকে ‘পদক’ পরিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়। আর এই পদকে ভূষিত হলেন বরিশাল নদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এর ডুবুরি গোলাম রওশন।
দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার খাঁনপুর ইউনিয়নে তাঁর জন্ম। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনিই বড়। বাবার নাম মোকছেদুল ইসলাম।
২০১৬ সালের এপ্রিলে তিনি বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে যোগদান করেন। খুব অল্প সময়েই সাহসিকতা, সুরক্ষা সেবা ও সফলতায় “প্রেসিডেন্ট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স পদক-২০১৮” অর্জন করে নিলেন এই সাহসী তরুন সৈনিক।
গত মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ফায়ার সার্ভিস স্টেশন হেডকোয়ার্টারে সুরক্ষা সেবা সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠানে তাকে এই পদক পরিয়ে দেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সাজ্জাদ হোসাইন এবং প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মোঃ শহিদুজ্জামান।
এই সময় ফায়ার সার্ভিসের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রেসিডেন্ট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স পদক অর্জন করায় তাকে শুভেচ্ছা জানান, বরিশাল নদী ফায়ার স্টেশনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
রওশন আপন জানান, মহান আল্লাহর অশেষ করুণা এবং পরিবারের ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণায় আজ আমার এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিনি আরো বলেন, নিজের সবটুকু দিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে সর্বদা কাজ করে যেতে চাই। তার এই কাজে দেশবাসীর নিকট দোয়া কামনা করেন তিনি।