রবিবার-১৭ নভেম্বর ২০১৯- সময়: সকাল ৬:১৯
৭ কেজি চালের মূল্যে মিলছে ১কেজি পেয়াজ বিরামপুরের বাজারে চিকিৎসা সেবা দিয়ে মানব সেবা করতে চাই-পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হুমায়ুন কবীর বিরামপুরে নেশার ইনজেকশন ও ফেন্সিডিলসহ আটক-৩ হিলি চেকপোস্টে বিজিবি’র গোয়েন্দা সদস্যের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে হয়রাণীর অভিযোগ বিরামপুরে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালিত বিরামপুরে প্রকল্প সমাপনী কর্মশালা গরীব ও অসহায় মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে পারলে আমি শান্তি পাই জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে আজও চালু হয়নি, নবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন “প্রেসিডেন্ট পদক” অর্জন বিরামপুরের কৃতি সন্তান ফায়ার সার্ভিসের গোলাম রওশন ঘোড়াঘাটে বানিজ্যিক ভাবে মাল্টা বাগান করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে

Daily Archives: November 10, 2019

সম্মানি না পেয়ে চিকিৎসা দিতে এলেন হারবাল এ্যাসিস্টেন্ট!

মো.মাহাবুর রহমান-দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর শহরের চাঁদপুর মাদ্রাসায় চলমান জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা কেন্দ্রে ফাহিমা খাতুন নামের এক ছাত্রী অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। পরে, ওই কেন্দ্রের নিয়োগকৃত (অন-কল) ডাক্তার না গিয়ে ছাত্রীর চিকিৎসার জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রে আসলেন হাসপাতালের হারবাল এ্যাসিস্টেন্ট আতাউর রহমান। ডাক্তার না এসে হারবাল এ্যাসিস্টেন্ট আসায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।

চাঁদপুর মাদ্রাসাকেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ আ.ছ.ম. হুমায়ুন কবীর জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) বাংলাদেশ ও বিশ^ পরিচয় বিষয়ে পরীক্ষা চলছিল।

তিনি জানান, বেলা ১১টার দিকে কানিকাটাল দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার ছাত্রী ফাহিমা খাতুন মাথা ঘুরে পড়ে যায়। এসময় পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়োগকৃত (অন-কল) হাসপাতালের ডাক্তার মশিউর রহমানকে ফোনে ডাকা হয়।

তখন ডাঃ মশিউর রহমান পরীক্ষা কেন্দ্রে আসতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, আপনি অনারিয়াম দেননা, তাই আপনার কেন্দ্রে যাওয়া যাবেনা; অসুস্থ্য ছাত্রীকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

পরীক্ষা চলাকালিন ছাত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার খবর শুনে কেন্দ্র সচিব ও উপস্থিত শিক্ষকগণ দিশেহারা হয়ে পড়েন। তারা তড়িঘড়ি করে মাদ্রাসার পাশের এক স্থানীয় চিকিৎসককে ডেকে এনে ছাত্রীর চিকিৎসা করালে কিছুক্ষণ পর ছাত্রী সুস্থ্য হয়ে পুনরায় পরীক্ষা দিতে বসে।

তিনি আরো জানান, অসুস্থ্য ছাত্রীটি সুস্থ্য হবার অনেক পরে পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত হাসপাতালের সেই চিকিৎসক ডাঃ মশিউর রহমান কেন্দ্রে না গিয়ে হাসপাতালের হারবাল এ্যাসিস্টেন্ট আতাউর রহমানকে ঐ ছাত্রীটির চিকিৎসা দিতে পাঠান।

জানতে চাইলে ডাঃ মশিউর রহমান বলেন, বিগত পরীক্ষাগুলোতে দায়িত্বে থাকার পরও কেন্দ্র সচিব আমাকে কোন সম্মানি দেন নাই। একারণে পরীক্ষা কেন্দ্রে না গিয়ে হাসপাতালের হারবাল এ্যাসিস্টেন্ট আতাউর রহমানকে চিকিৎসা দিতে পাঠানো হয়েছে।

ওই পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা নূর হোসেন মিয়া জানান,ডাক্তারের এই আচরণে আসি হকবম্ব হয়েছি। আমার মতে ডাক্তার কাজটি ঠিক করেন নাই।

বিরামপুর হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সিরাজুল ইসলাম জানান, সম্মানি না পাওয়ার কারণে অসুস্থ্য ছাত্রীকে চিকিৎসা দিতে না যাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক।আমি এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীকে চিকিৎসা দিতে না যাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিয়ের কাগজ নিয়ে তালবাহানা, কারাগারে কাজী!

মো.মাহাবুর রহমান-দিনাজপুরের বিরামপুরে মফেজ উদ্দিন নামের এক কাজীর বিরুদ্ধে বিয়ে নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে উঠেছে। এই ঘটনায় ভূক্তভোগী সৈয়দ রাশেদুজ্জামান (২৬) নামের এক ব্যক্তি ওই কাজির বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দাখিল করেছেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কাজী মফেজ উদ্দিনকে গ্রেফতার করে দিনাজপুর কারাগারে পাঠিয়েছেন।

গ্রেফতার কৃত কাজী মফেজ উদ্দিন সরকার উপজেলার জোতবানি ইউনিয়নের কেটরাপাড়া গ্রামের ফয়েজ উদ্দিন সরকারের ছেলে। বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো.মনিরুজ্জামান মনির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

থানার এজাহার সূত্রে জানাযায়, বিরামপুর উপজেলার বিনাইল ইউনিয়নের অচিন্তপুর গ্রামের সৈয়দ পয়গম্বর আলীর ছেলে সৈয়দ রাশেদুজ্জামান (২৬) চাপড়া গ্রামের লুৎফর রহমানের মেয়ে শিরিনাকে (২৪) গত ২৯ সেপ্টেম্বর জোতবানী ইউনিয়নের কাজী মফেজ উদ্দিন সরকার এর কাজী অফিসে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় কাজী মফেজ উদ্দিন ৫ হাজার টাকা নিলেও বিয়ে রেজিষ্ট্রির কোন কাগজ দেন নাই।

রাশেদুজ্জামান জানান, বিয়ের কাগজ পত্রের বিষয়ে কাজী মফেজ উদ্দিনের নিকট বহুবার যোগাযোগ করেও তিনি কোন কাগজ দেন নাই। পরে অবশেষে ঐ কাজী বিয়ে রেজিষ্ট্রির কাগজ দিতে দশ হাজার টাকা দাবি করেন।

বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো.মনিরুজ্জামান জানান, অতিরিক্ত টাকা দাবি ও রেজিষ্ট্রির কাগজ না পেয়ে রাশেদুজ্জামান বৃহস্পতিবার (৭ নভেঃ) বিরামপুর থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ কাজী মফেজ উদ্দিনকে আটক করে দিনাজপুর কারাগারে পাঠিয়েছে।

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক নিয়োগের দাবীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

মোঃ আফজাল হোসেন-দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক নিয়োগের দাবীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসীন্দা ও স্থানীয় শ্রমিকরা।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া বাজার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

মিছিলটি তাপ বিদুৎ কেন্দ্র এলাকা প্রদক্ষিন করে, তাপ বিদুৎ কেন্দ্রের প্রধান ফটকের সামনে ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর সড়কের পাশে দাড়িয়ে ঘন্টা ব্যাপী মানব বন্ধন করেছেন ঐ শ্রমিকেরা।

মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্রের শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান,সাধারন সম্পাদক আবু সাঈদ, ফুলবাড়ী ট্রেড ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক নুর আলমসহ স্থানীয় শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা।

বড়পুকুরিয়া শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্রে তৃতীয় পক্ষের অধিনে শ্রমিক নিয়োগের জন্য বারবার দরপত্র আহবান করা হলেও,অদৃশ্য কারনে শ্রমিক নিয়োগ না করে, ওই দরপত্র স্থগিত করা হয়,এতে দির্ঘদিন থেকে শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ থাকার ফলে তাপ বিদুৎ কেন্দ্রটিতে স্থানীয় শ্রমিকরা কাজ না পেয়ে এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে।

শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সাধারন সম্পাদক আবু সাঈদ বলেন, আগামী চার দিনের মধ্যে দরপত্র উন্মুক্তো করে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া শ্ররু না করলে, আরো কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির মাধ্যমে শ্রমিক নিয়োগ করতে বাধ্য করা হবে বলে তিনি হুশিয়ারী দেন।

উল্লেখ্য বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্রে স্থানীয় ও অবিজ্ঞ শ্রমিক নিয়োগের দাবীতে, দির্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসচ্ছে স্থানীয় বাসীন্দারা ও বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্রের শ্রমিক অধিকার আন্দোলন কমিটি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে তাপ বিদুৎ কেন্দ্রের উপ-প্রধান প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, শ্রমিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসীন্দাদের মধ্যে অপৃতিকর ঘটনা ঘটে। এতে তাপ বিদুৎ ন্দ্রের মধ্যে আইন শৃংখলার অবনতি হওয়ায়, গত জুন মাসে তাপ বিদুৎ কতৃপক্ষ শ্রমিক নিযোগ দরপত্র স্থগীত করে। তিনি বলেন, এরপর আর দরপত্র আহবান করা হয়নি।

শ্রমিক নিয়োগের প্রয়োজন হলে আবারো দরপত্র আহবান করা হবে। তারা জানান আমাদের এ দাবী মেনে না নিলে আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এর দায় ভার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। এ জন্য তারা জ্বালানী, খনিজ ও বিদ্যুৎ মন্ত্রনালয় আসুহস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।

ঘোড়াঘাটে আমি একজন বিরোঙ্গনা নারী

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি-দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার চকবামুনিয়া বিশ্বনাথপুর গ্রামের সানোয়ার খান সানুর কন্যা তাসিয়া জাহান ঐশি (১৫) একজন বিরোঙ্গনা নারী।

১৯৭১ সালে পাকিস্থানি বাহিনির সাথে বাংলাদেশ স্বাধীন নিয়ে বেজেগেল সেই যুদ্ধ। যুদ্ধের সময় বাবুর আব্বারে পাকবাহিনি বাহিনিরা কোথায় যেন ধরে নিয়ে গেল সেই থেকে আর ফিরে আইলোনা।

পেটে দুইমাসের বাবু দেখতে দেখতে জম্ম নিলো তবুও ফিরে আইলোনা।এ সময় আমি একাকি বাড়ী খান সেনাদের পাশবিক অত্যাচার ধর্ষণ,সয্য করে বাবুর আব্বার জন্য পথ চেয়ে আজও বসে আছি। অনেক কষ্ট করে বাবুরে মানুষ করছি। স্কুলে শিক্ষক বাবুরে ভর্তি করায়না।স্কুলের অন্য ছেলে মেয়েরা বলে তোর মা বিরোঙ্গনা তোর সাথে খেলবোনা।

সকল দুঃখ কষ্ট বুকে নিয়ে বিরোঙ্গনা হয়ে আজও বেচে আছি। দেশ স্বাধীন হলো জাতী স্বাধীনতা পেল,মুক্তিযোদ্ধারা সুযোগ সুবিধা পেল,সরকারী ভাতা পেল,কিন্তু আজও আমি বিরোঙ্গনার জ্বালা যন্ত্রনা মাথায় নিয়ে বেচে আছি। বিরোঙ্গনার সাধ ও স্বীকৃতি পেলামনা। ভিক্ষা বিত্তি ও ভাপা পিঠা বিক্রি করে সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করার চেষ্টা করছি। ৩০ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হলো তবে কি সেই স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি ?তবে কেন দেশে এত মারা-মারি হানা হানি। তার এই একক অভিনয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহি অফিসার আবেগে ভেঙ্গে পরেন।

বিরোঙ্গনার একক অভিনয়ে ঘোড়াঘাট ওসমানপুর সরকারী ডিগ্রী কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্রী মোছাঃ তাসনিয়া জাহান ঐশি প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে এবং পরে জেলা পর্যায়ে ১ম স্থান অধিকারী হওয়ায় বিজয় ফুল অুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক তাকে গলায় মেডেল পরিয়ে দেন করেন।

নবাবগঞ্জ আইসিটি ভবন নির্মাণ হলেও, এমপিও তালিকায় নাম না আসায় হতাশ এলাকাবাসি

এমএ সাজেদুল ইসরাম সাগর-দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ৩নং গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামে রঘুনাথপুর মহাবিদ্যালয় সরকারের ৩ কোটি টাকা বরাদ্দে ৪তলা আইসিটি ভবন নির্মাণ করা হলেও শর্ত সাপেক্ষে এমপিও ভুক্তির সম্ভাবনা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি ২০১০ এবং ২০১৯ সালে এমপিও ভুক্তি তালিকা থেকে বঞ্চিত থাকায় এলাকাবাসীর মাঝে হতাশা সহ দেখা দিয়েছে ক্ষোভের। ওই কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মাহবুবুর রহমান জানান, ১৯৯৯ সালে রঘুনাথপুর মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

২০০১ সালে পাঠদানের অনুমতি সহ ২০০৪ সালে স্বীকৃতি লাভ করে । প্রতিষ্ঠানটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় ৪১জন জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির শিক্ষার্থী সহ ২০৯জন শিক্ষার্থীর বর্তমানে অধ্যায়ন চলমান রয়েছে।

এছাড়াও ২০১৫ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ফলাফলের গড় আনুপাতিক হার প্রতি বছর পরীক্ষার্থী ৬৪ জন,প্রতি বছর পাশ ৪০জন এবং পাশের হার ৬৪%।

তাছাড়াও নবাবগঞ্জ উপজেলার নন এমপিও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সব দিক থেকে সেরা প্রতিষ্ঠান হয়েও এমপিও ভুক্তির তালিকায় স্থান পায়নি ।

প্রতিষ্ঠার ২০বছর অতি বাহিত হলেও ঐ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ,শিক্ষিকা ,কর্মচারী মানবেতর জীবন যাপন করছে। কবে কোন সালে এমপিওভুক্তি হবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দুর্বীসহ হতাশাগ্রস্থ অবস্থায় পড়ে রয়েছেন তারা।

প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ডা: মো: মোশারফ হোসেন জানান রঘুনাথপুর মহাবিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্তির সকল শর্ত পুরন করলেও কি এক অজ্ঞাত রহস্য জনক কারণে এমপিওভুক্তি হল না অতীব দুঃখ জনক। তিনি দাবী করেছেন প্রয়োজনে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ ভাবে একটি তদন্ত টিম সরেজমিনে পর্যাবেক্ষন করলে মহাবিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্তি হতে পারে। অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান জানান অনেকে বয়সের কারণে অসুস্থতা সহ দৈন দশা দেখা দিয়েছে।

অপরদিকে ২০১৬ সালে চিকিৎসা সেবার অর্থ অভাবে পাকস্থলি ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে সমাজ কর্ম বিষয়ক প্রভাষক মোঃ হাবিবুর রহমান মৃত্যু বরণ করেছেন।

বর্তমানে তার পরিবারটি অভিভাবকহীন অবস্থায় অনাহারে অর্ধাহারে দিন যাপন করছেন। বিধায় প্রতিষ্ঠাটির সাবিক বিষয় বিবেচনা করে পরবর্তীতে সরকারের গৃহীত এমপিওভুক্তি করনের তালিকায় নাম অর্ন্তভুক্ত করনের দাবী জানিয়েছেন এলাকার সর্ব শ্রেনীর জনসাধারন।

বিরামপুরে শীতের সবজি,তোড়া পিঁয়াজ বাজারে উঠতে শুরু করেছে

ডা. নুরল হক, বিরামপুর-বিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা এখন আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত। শীতের আগাম সবজি বাজারে চাহিদার কারনে এবং দাম ভাল পাওয়ায় কৃসকরা সবজি চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছেন। পিঁয়াজ, ফুলকপি, বাধা কপি বেগুন ক্ষেত এখন বাহারী সবুজের সমারোহ।
অস্থিতিশীল পিঁয়াজের বাজারে বালুপাড়া গ্রামের আজমল বেশী দামের আশায় পিঁয়াজ ক্ষেতে কৃষাণীসহ পরিচর্ষ্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। আগাম পিঁয়াজ বাজারে তুলতে পারলে দাম বেশী পাবেন বলে সে জানায়। সে কাটা পিঁয়াজ ( তোড়া পেঁয়াজ ) ক্ষেতে রোপন করেছেন।
তোড়া পিঁয়াজ পাতা সহ ব্যবহার করা যায়। ১৫/২০ দিন পর পিঁয়াজ বাজারে তুলতে পারবেন বলে সে আশা ব্যক্ত করছেন। ইতো মধ্যে বিরামপুর বাজারে নুতন তোড়া পিয়াঁজ উঠতে শুরু করেছে। প্রতি কেজি পিঁয়াজ ৮০ টাকা হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, আগাম ফুলকপি চাষে লাখপতি হওয়ার স্বপ্নে ক্ষেত পরিচর্ষ্যায় ব্যস্ত একই গ্রামের নাহিদ ইসলাম। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহায়তায় তিনি এ কাজে উৎসাহিত হয়েছেন।
এ বছর সে প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন। তিনি জানান, বিঘা প্রতি তার খরচ হয়েছে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। সে আশা করছেন প্রতিবিঘা খরচ বাদে তার লাভ হবে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।
হরেকৃষ্টপুর (নাপিত পাড়া) গ্রামের জাহিদুল ইসলাম বিরামপুর কৃষি সস্প্রসারন অধিদপ্তরের সহয়োগীতায় পরিবেশ বান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পে ২০ শতক জমিতে বেগুন চাষ করেছের। তার বেগুন গাছে কোন প্রকার বালাই নাশক (বিষ) প্রয়োগ করা হয় নাই। ফলে এই বেগুনের চাহিদা বাজারে বেশী। ২০ শতক জমিতে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে সে জানায়।

আগাম সবজি হিসেবে ইতো মধ্যে ২০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছেন এবং আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার বেগুন বিক্রির আশা ব্যক্ত করেছেন। সে জানায়, যেহেতু বেগুনে কোন প্রকার বিষ ব্যবহার করা হয় নাই ফলে বেগুন বাজারে চাহিদা ও মুল্য বেশী।
বিরামপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, বিরামপুর উপজেলায় পিঁয়াজ ১০হেক্টোর, বেগুন ৫০ হেক্টোর, বাধাকপি ৫০হেক্টোর, ফুলকপি ৫০ হেক্টোর অন্যান্যসহ মোট ১ হাজার ২শত হেক্টোর জমিতে শাখ-সবজি চাষ হয়েছে।
এলাকার কৃষকরা জানান, ধান, গম চাষ করে তারা বেশী একটা লাভবান হতে পারেনি। ফলন ভালো হলেও ধানের বাজারে ধস নামে। ন্যাষ্য মুল্য থেকে বঞ্চিত হয় কৃষকরা। ফলে
ধানের চাষ করে লোকশান গুনতে হচ্ছে। তাই এ এলাকার কৃষকরা আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।