শনিবার-২৫ জানুয়ারি ২০২০- সময়: রাত ৪:৫৩
গুরুদাসপুরে এক বৃদ্ধা খুন বিরামপুরে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত কাটলা হলি চাইল্ড স্কুল বিরামপুরে মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান দিদউফ বিরামপু‌রে দুস্থ শীতার্ত‌দের মা‌ঝে শীতবস্ত্র বিতরন বিরামপুরে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণ গণনার সূচনা বিরামপুরে ১২ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস খাওয়ানো হয়েছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সীতার কুটুরি গোচারণ ভূমিতে পরিণত কালো জাম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস, কালের পরিক্রমায় প্রতি বছরই হাজির হয় শীত দিনাজপুর হতদরিদ্র শীতার্থ মানুষের পাশে এগিয়ে এসেছে ডিএফএর

১৩ ডিসেম্বর ঘোড়াঘাট শক্র মুক্ত দিবস

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি-১৩ ডিসেম্বর ঘোড়াঘাট শক্র মুক্ত দিবস। এই দিনে ঘোড়াঘাট শক্র মুক্ত হয়।

জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবরের ডাকে বাংলার স্বাধীনতাকামী দামাল ছেলেরা, বৃদ্ধ, বনিতা, নারী,পুরুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করার ধারাবাহিকতায় ঘোড়াঘাটে ততকালীন মুজাহিদ বেটালিয়ন কমান্ডার মুজাহিদ মেজর বদর উদ্দিন তেনার রক্তে সঞ্চালীত হয় স্বাধীনতা যুদ্ধ করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে হবে। আর এই প্রতিজ্ঞা নিয়েই তিনি ঘোড়াঘাটের মুজাহিদ বাহিনীর সদস্য হযরত আলী, আনছার,মজিবর রহমান, আঃ লতিফ খাঁন, মোঃ হান্নান, আনোয়ার হোসেন, শাহাজাহান, নজরুল ইসলাম, আঃ হান্নান, দুদু মিয়া, মফিজ উদ্দিন, ইসমাইল, আমিরুল ইসলাম সহ আরো সহযোদ্ধাদেরকে নিয়ে সেই সময়ে পলাশবাড়ী থানাধীন হোসেনপুর আমবাগানে অবস্থানরত তিন ও চার বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাথে যোগদান করেন।

ঐ বেঙ্গল রেজিমেন্টের দায়িত্বে ছিলেন ততকালীন ল্যাপ্টেনেন্ট রফিক এবং সুবাদার আলতাফ হোসেন ও হাওয়ালদার মেজর মুনসুর আলী।

এরই সুত্র ধরে পাকিস্তানী খান সেনার এক দল সেনা বাহিনী রংপুর হতে সাজোয়া গাড়ী নিয়ে এসে বেঙ্গল রেজিমেন্টের সহিত সন্ধি করার কথা বলে ওয়ারলেছ বার্তায় জানান যে, তারা ভাই ভাই হানাহানি না করে শান্তির জন্য আলাপ করার কথা বলে পলাশবাড়ীতে যাইতে বলে। বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক খাঁন সেনার কথায় বিশ্বাস করে গত ইং ২৭/০৩/১৯৭১ তাং বেলা অনুমান ০২.০০টার দিকে সেখানে গেলে বাঙ্গালী সৈনিকেরা আক্রোমনের স্বিকার হয়। সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হলে হাওয়ালদার খমির উদ্দিন ও নায়েক আঃ মালেক সহ মুজাহিদ ইসমাইল নামের তিনজন বাঙ্গালী মুক্তিযুদ্ধা শহীদ হন।

ঐ সময় খাঁন সেনারা লেঃ রফিককে কৌশলে ধরে নিয়ে যায়। তখন থেকেই আলতাফ সুবাদার ও মুজাহিদ মেজর বদর উদ্দিনের রক্তে স্বাধীনতা যুদ্ধের সঞ্চলন বৃদ্ধি পেয়ে বাংলাদেশ শক্র মুক্ত করে স্বাধীন করতে হবে এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধে ঝাপিয়ে পরে।

যুদ্ধের কৌশল মতে বেঙ্গল রেজিমেন্ট সহ মুজাহিদ মেজর বদর উদ্দিন মুক্তিযোদ্ধা বাহিনীদেরকে নিয়ে পলাশবাড়ীর বি টি সি-র উত্তর পুর্ব পার্শ্বে রংপুর মহা সড়কে বেরিকেট সৃষ্টি করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে অবস্থান করতে থাকে। সেখানে কিছুদিন অবস্থান করার পর প্লান মোতাবেক রংপুর ক্যান্টনমেন্ট আক্রোমন করার সিন্ধান্ত নেওয়া হয়। আর সেই সিন্ধান্ত মতে বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও মুজাহিদ বাহীনির মুক্তিযোদ্ধারা একটি করে খন্ড গ্র“পে ভাগ হয়ে মাদারগঞ্জ চৌধুরীনি হয়ে রংপুরের দিকে রওনা দেয় এবং একটি গ্র“প পলাশবাড়ীতে এ্যম্বুষ নিয়ে থাকে। এই অবস্থায় খন্ড খন্ড ভাবে সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হলে সেখানে তুমুল যোদ্ধের সম্মুখিন হয়ে গোলাবারুদের সল্পতার কারনে মুক্তিযোদ্ধারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যার,যার নিরাপদ স্থানে চলে যায়।

এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা পার্শ্ববত্তি বন্ধু দেশ ভারতে গিয়ে গেরিলা প্রশিক্ষন নিলেও মুজাহিদ মেজর বদর উদ্দিন বাংলার মাটিতে অবস্থান নিয়েই মুক্তিযুদ্ধ করার প্রতিজ্ঞায় যুদ্ধের প্রস্তুতিতে আত্বগোপনে থাকা কালে খাঁন সেনার হাতে আটক হয়। সেই সময়ে আর সি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে খাঁন সেনাদের ক্যান্টনমেন্টে তাকে একটি ঘরে আটক রেখে হাত বেধে লটকিয়ে ব্লেড দ্বারা শরীর কেটে কাটা স্থানে লবন ছিটিয়ে দিতো।

মেজর বদর উদ্দিন যন্ত্রনায় অস্থির হলেও খাঁন সেনাদের জিজ্ঞাসায় শুধু বলেছে ইনশাআল্লাহ আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি। কিন্তু তার সাথে কে,কে ছিল তাদের নাম জানার জন্য ব্যানেট চার্জের মাধ্যমে খতবিক্ষত করে অমানুষিক ভাবে চরম শাস্তি দিলেও মেজর বদর উদ্দিন তার সহযোদ্ধাদের নাম প্রকাশ করে নাই।

অবশেষে খাঁন সেনাদের অমানুষিক নির্যাতনের স্বিকার হয়ে তার শরীর হতে মাংস পচে খষে ২১ দিন পর চির নিদ্রায় ঘুমিয়ে না ফেরার দেশে চলে গিয়ে শহীদ হন মেজর বদর উদ্দিন। মেজর বদর উদ্দিন সহ সারা বাংলাদেশে আরো অগনিত যোদ্ধা শহীদ হলেও তারা না থাকলেও তাদের নাম লেখা থাকবে স্বর্নাঅক্ষরে শহীদের খাতায়, আর তারই সাথে চির অমর হয়ে থাকবে এই স্বাধীন বাংলাদেশের নাম।

পরে মুক্তিযোদ্ধারা ভারতে গিয়ে গেরিলা প্রশিক্ষন নিয়ে দির্ঘ্য ৯ মাস যাবৎ খাঁন সেনাদের সাথে লড়াই করে ১৩ই ডিসেম্বর ঘোড়াঘাটকে শক্র মুক্ত করে। আমরা ঘোড়াঘাটের মানুষ এ বছরের ন্যায় প্রতি বছর যেন এই দিনে শক্র মুক্ত দিবসটি পালন করতে পারি এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।

বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও আমরা স্বাধীনতা ভোগের পাশাপাশি প্রতি বৎসর ঘোড়াঘাটে শক্র মুক্ত দিবসটি পালন করছি। অথচ ঘোড়াঘাটে মেজর বদের উদ্দিনসহ অন্যান্য শহীদের বদ্যভুমির কোন সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি।

ঘোড়াঘাটবাসী উন্নয়নশীল আওয়ামীলীগ সরকারের হস্তক্ষেপে ঘোড়াঘাটে শহীদের বদ্যভুমির উন্নয়ন চায়।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *