মঙ্গলবার-২৬ মে ২০২০- সময়: বিকাল ৩:২৬
বিরামপুরে পৌর মেয়র সহ ৭ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে বিরামপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী পালিত বিরামপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আটক বিরামপুরে লাখো কণ্ঠে ৭ মার্চের ভাষন পাঠ গুরুদাসপুরে এক বৃদ্ধা খুন বিরামপুরে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত কাটলা হলি চাইল্ড স্কুল বিরামপুরে মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান দিদউফ বিরামপু‌রে দুস্থ শীতার্ত‌দের মা‌ঝে শীতবস্ত্র বিতরন বিরামপুরে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণ গণনার সূচনা বিরামপুরে ১২ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস খাওয়ানো হয়েছে

ঘোড়াঘাট শত্রু মুক্ত দিবস ১৩ ডিসেম্বর

ঘোড়াঘাট থেকে একরামুল হক-  ১৩ই ডিসেম্বর ঘোড়াঘাট মুক্ত দিবস। এই দিনে ঘোড়াঘাট শত্রু মুক্ত হয়।

জাতির জনক বঙ্গবণ্দু শেখ মজিবরের ডাকে বাংলার স্বাধীনতাকামী দামাল ছেলেরা, বৃদ্ধ, বনিতা, নারী, পুরুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করার ধারাবাহিকতায় ঘোড়াঘাটে তৎকালীন মুজাহিদ ব্যাটেলিয়ন কমান্ডার মুজাহিদ মেজর বদর উদ্দিন সঞ্চালিত হয় স্বাধীনতা যুদ্ধ করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে হবে।

আর এই প্রতিজ্ঞা নিয়েই তিনি ঘোড়াঘাটের মুজাহিদ বাহিনীর সদস্য হযরত আরী, আনছার, মজিবর রহমান, আঃ লতিফ খাঁন, মীর হান্নান, আনোয়ার হোসেন, শাহাজাহান, নজরুল ইসলাম, আঃ হান্নান, দুদু মিয়া, মফিজ উদ্দিন, ইসমাইল, আমিরুল ইসলামসহ আরো সহযোদ্ধাদেরকে নিয়ে সেই সময়ে পলাশবাড়ী থানাধীন হোসেনপুর আমবাগানে অবস্থানরত তিন ও চার বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাথে যোগদান করেন।

ঐ বেঙ্গল রেজিমেন্টের দায়িত্বে ছিলেন, তৎকালীন ল্যাপ্টেনেন্ট রফিক এবং সুবাদার আলতাফ হোসেন ও হাওয়ালদার মেজর মুনসুর আলী। এরই সুত্র ধরে পাকিস্তানী খান সেনারা একদল সেনাবাহিনী রংপুর হতে সাজোয়া গাড়ী নিয়ে এসে বেঙ্গল রেজিমেন্টের সহিত সন্ধি করার কথা বলে ওয়ারলেছ বার্তায় জানান যে, তারা ভাই ভাই হানাহানি না করে শান্তির জন্য আলাপ করার কথা বলে পলাশবাড়ীতে যাইতে বলে।

বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক খাঁন সেনার কথায় বিশ্বাস করে গত ২৭/০৩/১৯৭১ বেলা অনুমান ২.০০ টার দিকে সেখানে গেলে বাঙ্গালী সৈনিকেরা আক্রমণের স্বীকার হয়। সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হলে হাওয়ালদার খমির উদ্দিন ও নায়েক আঃ মালেক সহ মুজাহিদ ইসমাইল নামের তিনজন বাঙ্গালী সুবাদার ও মুজাহিদ মেজর বদর উদ্দিনের রক্তে স্বাধীনতা যুদ্ধের সঞ্চালন বৃদ্ধি পেয়ে বাংলাদেশ শত্র“ মুক্ত করে স্বাধীন করতে হবে এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে।

যুদ্ধের কৌশল মতে বেঙ্গল রেজিমেন্ট সহ মুজাহিদ মেজর বদর উদ্দিন মুক্তিযোদ্ধা বাহিনীদেরকে নিয়ে পলাশবাড়ীর বিটিসি-র উত্তর পূর্ব পার্শ্বে রংপুর মহা সড়কে বেরিকেট সৃষ্টি করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে অবস্থান করতে থাকে।

সেখানে কিছুদিন অবস্থান করার পর পরিকল্পনা মোতাবেক রংপুর ক্যান্টনমেন্ট আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  আর এ সিদ্ধান্ত মতে বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও মুজাহিদ বাহিনী সহ মুক্তিযোদ্ধারা একটি করে খন্ড গ্র“পে ভাগ হয়ে মাদারগঞ্জ চৌধুরানী হয়ে রংপুরের দিকে রওয়ানা দেয় এবং একটি গ্র“প পলাশবাড়ীতে এ্যাম্বুষ নিয়ে থাকে।

এ অবস্থায় খন্ড খন্ড ভাবে সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হলে সেখানে তুমুল যুদ্ধের সম্মুখীন হয়ে গোলাবারুদের স্বল্পতার কারনে মুজাহিদরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং তারা নিরাপদ স্থানে চলে যায়।

এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা পার্শ্ববর্তী বন্ধু দেশ ভারতে গিয়ে গেরিলা প্রশিক্ষণ নিলেও মুজাহিদ মেজর বদর উদ্দিন বাংলার মাটিতে অবস্থান নিয়েই মুক্তিযুদ্ধ করার প্রতিজ্ঞায় যুদ্ধের প্রস্তুতিতে আত্মগোপনে থাকা কালে খাঁন সেনার হাতে আটক হয়।

সেই সময়ে আর সি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে খাঁন সেনাদের ক্যান্টনমেন্টে তাকে একটি ঘরে আটক রেখে হাত বেঁধে লটকিয়ে ব্লেড দ্বারা শরীর কেটে কাটা স্থানে লবন ছিটিয়ে দিতো।

মেজর বদর উদ্দিন যন্ত্রনায় অস্থির হলেও খাঁন সেনাদের জিজ্ঞাসায় শুধু বলেছে ইনশাআল্লাহ আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি। কিন্তু তার সাথে কে,কে ছিল তাদের নাম জানার জন্য ব্যানেট চার্জের মাধ্যমে ক্ষতবিক্ষত করে অমানুষিক ভাবে চরম শাস্তি দিলেও মেজর বদর উদ্দিন তার শরীর হতে মাংস পচে খষে ২১ দিন পর চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে না ফেরার দেশে চলে গিয়ে শহীদ হন মেজর বদর উদ্দিন।

মেজর বদর উদ্দিনসহ সারা বাংলাদেশে আরো অগনিত যোদ্ধা শহীদ হলেও তারা না থাকলেও তাদের নাম লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে শহীদের খাতায়, আর তারই সাথে চির অমর হয়ে থাকবে এই স্বাধীন বাংলাদেশের নাম। আমরা ঘোড়াঘাটের মানুষ এ বছরের ন্যায় প্রতি বছর যেন এই দিনে শত্রু মুক্ত দিবসটি পালন করতে পারি এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *