বুধবার-১৩ নভেম্বর ২০১৯- সময়: রাত ১:১০
ঘোড়াঘাটে বানিজ্যিক ভাবে মাল্টা বাগান করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে নাটোরের প্রতিবন্ধি প্রবীণ দম্পত্তি ভাতা নয়, চায় মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নবাবগঞ্জে ইঁদুর কেটে ফেলছে কাঁচা আমন ধানের রোপা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা কমেছে সময় ও দুর্ঘটনা,ঝালকাঠিতে ১৪ কি.মি মহাসড়ক নির্মাণ, স্বস্তিতে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা রাজাপুরে ব্যক্তি উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রীজ নির্মান, বই ও বেঞ্চ প্রদান মুক্তিযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ প্রসঞ্জী রায়এর পাশে- এমপি গোপাল ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল হাসপাতালে লাইভ ওয়ার্কশপে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় রিং (স্টেন্ট) সফল প্রতিস্থাপন সম্পন্ন ধামইরহাটে তিন ভূয়া ডিবি পুলিশ আটক সম্মানি না পেয়ে চিকিৎসা দিতে এলেন হারবাল এ্যাসিস্টেন্ট!

ঘোড়াঘাটের শহিদ মেজর বদর উদ্দিনের আত্ব কাহিনি

মোঃ সামসুল ইসলাম সামু-১৩ ডিসেম্বর ঘোড়াঘাট শক্র মুক্ত দিবস। এই দিনে ঘোড়াঘাট শক্র মুক্ত হয়।

জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ডাকে বাংলার স্বাধীনতাকামী দামাল ছেলেরা, বৃদ্ধ, বনিতা, নারী,পুরুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করার ধারাবাহিকতায় ঘোড়াঘাটে ততকালীন মুজাহিদ বেটালিয়ন কমান্ডার মুজাহিদ মেজর বদর উদ্দিন তেনার রক্তে সঞ্চালীত হয় স্বাধীনতা যুদ্ধ করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে হবে।

আর এই প্রতিজ্ঞা নিয়েই তিনি ঘোড়াঘাটের মুজাহিদ বাহিনীর সদস্য হযরত আলী, আনছার,মজিবর রহমান, আঃ লতিফ খাঁন,মীর হান্নান, আনোয়ার হোসেন, শাহাজাহান, নজরুল ইসলাম, আঃ হান্নান, দুদু মিয়া, মফিজ উদ্দিন, ইসমাইল, আমিরুল ইসলামসহ আরো সহযোদ্ধাদেরকে নিয়ে সেই সময়ে পলাশবাড়ী থানাধীন হোসেনপুর আমবাগানে অবস্থানরত তিন ও চার বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাথে যোগদান করেন।

ঐ বেঙ্গল রেজিমেন্টের দায়িত্বে ছিলেন ততকালীন ল্যাপ্টেনেন্ট রফিক এবং সুবাদার আলতাফ হোসেন ও হাওয়ালদার মেজর মুনসুর আলী। এরই সুত্র ধরে পাকি¯থানী খান সেনার এক দল সেনা বাহিনী রংপুর হতে সাজোয়া গাড়ী নিয়ে এসে বেঙ্গল রেজিমেন্টের সহিত সন্ধি করার কথা বলে ওয়ারলেছ বার্তায় জানান যে, তারা ভাই ভাই হানাহানি না করে শাšিতর জন্য আলাপ করার কথা বলে পলাশবাড়ীতে যাইতে বলে।

বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক খাঁন সেনার কথায় বিশ্বাস করে সেখানে গেলে বাঙ্গালী সৈনিকেরা আক্রোমনের ¯ী^কার হয়। সেখানে উভয় পরে মধ্যে গুলি বিনিময় হলে হাওয়ালদার খমির উদ্দিন ও নায়েক আঃ মালেক নামের দুইজন বাঙ্গালী মুক্তিসেনা শহীদ হন। সম্ভাবত তাদের বাড়ী নওগা জেলায় ছিল।

ঐ সময় খান সেনারা লেঃ রফিককে কৌশলে ধরে নিয়ে যায়। তখন থেকেই আলতাফ সুবাদার ও মুজাহিদ মেজর বদর উদ্দিনের রক্তে স্বাধীনতা যুদ্ধের সঞ্চলন বৃদ্ধি পেয়ে বাংলাদেশ শক্র মুক্ত করে স্বাধীন করতে হবে এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধে ঝাপিয়ে পরে।

যুদ্ধের কৌশল মতে বেঙ্গল রেজিমেন্টসহ মুজাহিদ মেজর বদর উদ্দিন মুক্তিযোদ্ধা বাহিনীদেরকে নিয়ে পলাশবাড়ীর বি টি সি-র উত্তর পুর্ব পার্শ্বে রংপুর মহা সড়কে বেরিকেট সৃষ্টি করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে অবস্থান করতে থাকে। সেখানে কিছুদিন অবস্থান করার পর প্লান মোতাবেক রংপুর ক্যান্টনমেন্ট আক্রোমন করার সিন্ধাšত নেওয়া হয়। আর সেই সিন্ধাšত মতে বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও মুজাহিদ বাহীনির মুক্তিযোদ্ধারা একটি করে খন্ড গ্রপে ভাগ হয়ে মাদারগঞ্জ চৌধুরীনি হয়ে রংপুরের দিকে রওনা দেয় এবং একটি গ্রপ পলাশবাড়ীতে এ্যম্বুষ নিয়ে থাকে। এই অবস্থায় খন্ড খন্ড ভাবে সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হলে মাদারগঞ্জ নামক স্থানে চোপাগাড়ী গ্রামের আমিরুল ইসলাম ও জোলাপাড়া গ্রামের ইসমাইল হোসেন নামের দুই মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। সেখানে তুমুল যোদ্ধের সম্মুখিন হলে গোলাবারুদের সল্পতার কারনে মুক্তিযোদ্ধারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যার।যার যার নিরাপদ স্থানে চলে যায়।

এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা পার্শ্ববর্ত্তি বন্ধু দেশ ভারতে গিয়ে গেরিলা প্রশিন নিয়ে মুজাহিদ মেজর বদর উদ্দিন বাংলার মাটিতে অবস্থান নিয়েই মুক্তিযুদ্ধ করার প্রতিজ্ঞায় যুদ্ধের প্রস্তুতিতে আত্ব-গোপনে থাকা কালে খান সেনার হাতে আটক হয়। সেই সময়ে আর সি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে খান সেনাদের ক্যান্টনমেন্টে তাকে একটি ঘরে আটক রেখে হাত বেধে লটকিয়ে ব্লেড দ্বারা শরীর কেটে ত বিত করেন।সেই ত স্থানে লবন ছিটিয়ে দিতো।

মেজর বদর উদ্দিন যন্ত্রনায় অস্থির হলেও খাঁন সেনাদের জিজ্ঞাসায় শুধু বলেছে ইনশাআললাহ আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি। কিন্তু তার সাথে কে-কে ছিল তাদের নাম জানার জন্য ব্যানেট চার্জের মাধ্যমে ত-বিত করে অমানুষিক ভাবে চরম শা¯িত দিলেও মেজর বদর উদ্দিন তার সহযোদ্ধাদের নাম প্রকাশ করে নাই। অবশেষে খাঁন সেনাদের অমানুষিক নির্যাতনের ¯ী^কার হয়ে তার শরীর হতে মাংস পচে খষে ২১ দিন পর চির নিদ্রায় ঘুমিয়ে না ফেরার দেশে চলে গিয়ে শহীদ হন মেজর বদর উদ্দিন।

মেজর বদর উদ্দিনসহ সারা বাংলাদেশে আরো অগনিত যোদ্ধা শহীদ হলেও তারা না থাকলেও তাদের নাম লেখা থাকবে স্বর্নাঅরে শহীদের খাতায়, আর তারই সাথে চির অমর হয়ে থাকবে এই স্বাধীন বাংলাদেশের নাম। আমরা ঘোড়াঘাটের মানুষ এ বছরের ন্যায় প্রতি বছর যেন এই দিনে শক্র মুক্ত দিবসটি পালন করতে পারি এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।বর্তমানে শহীদ বদর উদ্দিনের কবরের পাশে তার নামে একটি সৃতি ফলক তৈরী করা হয়েছে। তার কবরটি দেয়া হয়েছে ঘোড়াঘাট পৌর সদর এলাকার ডাকবাংলার পাশে।

বর্তমানে তার দুটি ছেলে ও দুটি মেয় একটির নাম আমিরুল ইসলাম এবং অপর ছেলের নাম এস এম রবিউল ইসলাম। মেয়ে দুটি সাহাজাদী ও আলেয়া খাতুন,তার স্ত্রী মোছাঃ আনোয়ারা খাতুন।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *