মঙ্গলবার-২৬ মে ২০২০- সময়: বিকাল ৩:৫০
বিরামপুরে পৌর মেয়র সহ ৭ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে বিরামপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী পালিত বিরামপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আটক বিরামপুরে লাখো কণ্ঠে ৭ মার্চের ভাষন পাঠ গুরুদাসপুরে এক বৃদ্ধা খুন বিরামপুরে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত কাটলা হলি চাইল্ড স্কুল বিরামপুরে মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান দিদউফ বিরামপু‌রে দুস্থ শীতার্ত‌দের মা‌ঝে শীতবস্ত্র বিতরন বিরামপুরে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণ গণনার সূচনা বিরামপুরে ১২ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস খাওয়ানো হয়েছে

উপমহাদেশের ইতিহাস শ্রেষ্ঠ দানবীর হাজী মুহাম্মদ মহসিন !

রকমারি ডেস্কহাজী মুহাম্মদ মহসিন, যিনি দানশীলতার জন্য দানবীর খেতাব পেয়েছিলেন। দানশীলতার কারণে হাজী মহসিন কিংবদন্তীতে পরিণত হয়েছেন।

উপমহাদেশের ইতিহাসের এ বিখ্যাত দানবীর মুহাম্মদ মহসিন ১৭৩২ সালের ৩ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে জন্মগ্রহণ করেন।

দানের ক্ষেত্রে তুলনা অর্থে মানুষ সর্বদা তাঁর দৃষ্টান্ত ব্যবহার করে থাকে। এই সর্বশ্রেষ্ঠ দানবীর পুরো বাঙালি জাতি হিন্দু, মুসলিম সকলের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র।

অঢেল সম্পত্তির মালিক ছিলেন হাজী মহসিন। এসব সম্পদ তিনি দুহাতে অকাতরে বিলিয়ে গেছেন। মহসিনের পূর্ব পুরুষরা অত্যন্ত ধনী ছিলেন। ইরান থেকে বাংলায় আসা তার বাবা হাজী ফয়জুল্লাহ ছিলেন একজন ধনী জায়গিরদার।

মাতা জয়নব খানমেরও হুগলি, যশোর, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়ায় বিস্তর জমি ছিল। তাঁর বোন মন্নুজানের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারী হিসেবে মহসিন বোনের সম্পত্তির মালিক হন।

এতো সম্পদের মালিক হয়েও মহসিন ছিলেন খুব ধার্মিক ও নিরহঙ্কারী। তিনি সর্বদা সহজ সরল জীবনযাপন করতেন। তিনি ছিলেন চিরকুমার। তিনি তার প্রতিষ্ঠিত ইমাম বাড়া প্রাসাদে বাস করতেন না। ইমাম বাড়ির পাশে একটি ছোট কুটিরে বাস করতেন।

আর কুরআন শরীফ নকল করে যা পেতেন তা দিয়েই চলতেন। নিজ হাতে রান্না করে অধিনস্তদের নিয়ে বসে খেতেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে হাজী মহসিন গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্জন করেছেন। পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষার জন্য রাজধানী মুর্শিদাবাদ যান। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি দেশ ভ্রমণে বের হন। তিনি মক্কা, মদিনা, কুফা, কারবালাসহ ইরান, ইরাক, আরব, তুরস্ক এমন নানা স্থান সফর করে দীর্ঘ ২৭ বছর পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।

শিক্ষানুরাগী এ দানবীর তাঁর অর্থ দিয়ে বহু বিদ্যাপিঠ স্থাপন করে গেছেন। হুগলিতে ‘হুগলি মহসিন কলেজ’ ও ‘চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ’ প্রতিষ্ঠার সময় মহসিনের ওয়াকফকৃত অর্থ ব্যবহৃত হয়। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠে ‘দৌলতপুর মুহসিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’।

১৭৬৯-৭০ সালের সরকারি দলিল অনুযায়ী তৎকালীন দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অনেক লঙ্গরখানা স্থাপন করেন এবং সরকারি তহবিলে অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। ১৮০৬ সালে তিনি ‘মহসিন ফান্ড নামক তহবিল প্রতিষ্ঠা করেন। এ তহবিল ধর্মীয় কর্মকাণ্ড, পেনশন, বৃত্তি ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্য বরাদ্দ করা হয়।

১৮১২ সালে এ ধার্মিক দানবীর হুগলিতে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে হুগলির ইমামবাড়ায় দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য,ইতিহাসে দাতা হাজী মুহাম্মদ মহসিনের নাম চিরস্মরণীয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলের নাম তাঁর স্মরণে রাখা হয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাটির নাম বিএনএস হাজী মহসিন।

এছাড়াও মহসিন ফান্ডের অর্থে অসংখ্য দরিদ্র ছাত্রদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয় ভারত ও বাংলাদেশে। কিন্তু আশ্চর্য, এমন একজন মহান ব্যাক্তির জন্মদিন নীরবে চলে যাচ্ছে! অথচ এখনও হাজার হাজার ছাত্র তাঁর রেখে যাওয়া টাকার স্কলারশিপ নিচ্ছে। ইতিহাসের এই মহান ব্যাক্তিকে কেন ভুলে গেল বাঙালি ?

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *