বুধবার-২৫ নভেম্বর ২০২০- সময়: রাত ২:০৫
বিরামপুরে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন করলেন ইউএনও দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ টু-লেন সড়ক প্রসস্তকরণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে দায়ের করা মামলায় স্থায়ী জামিন লাভ আপনাদের সেবা করার মধ্যে দিয়ে, এই ভালোবাসার প্রতিদান দিয়ে যাব-এমপি শিবলী সাদিক” হিলিতে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত ইউএনও’র মতবিনিময় পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে কুড়িগ্রামে আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভা উলিপুরে বাসের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু, সড়ক অবরোধ ধামইরহাটে বিশ্ব এন্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনা উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচন সভা বাগেরহাট প্রেসক্লাবের কমিটিকে জাতীয় মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের অভিনন্দন পোকার পেটে কৃষকের আখ

Daily Archives: November 24, 2020

পঞ্চগড়ের উত্তরাকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরুপ দৃশ্য

নিউজ ডেস্ক-হিমালয়কন্যা হিসেবে পরিচিত দেশের সর্ব-উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। শুধু ইতিহাস আর ঐতিহ্যেই নয়, অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জনপদের নাম পঞ্চগড়।

শীতপ্রবণ এ জেলার তেঁতুলিয়া থেকে দেখা যায় বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘা। চোখের কাছে ভেসে থাকা হিমালয় পর্বত ও কাঞ্চনজঙ্ঘার দুর্লভ মায়াবী দৃশ্য যে কারোরই মন কেড়ে নেয়।

বাংলাদেশ-ভারতের বুক চিরে বয়ে যাওয়া সীমান্ত নদী মহানন্দায় সূর্যাস্ত দর্শন, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, সমতল ভূমিতে গড়ে ওঠা সবুজের নৈসর্গ চা বাগানসহ নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্যে ভরপুর পঞ্চগড়। এসবে যেন স্বর্গীয় অনুভূতি।

মোগল আমলের স্থাপত্য মির্জাপুর শাহী মসজিদ, বার আউলিয়ার মাজার, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান বদেশ্বরী মন্দির (সীতার ৫১ পীঠের এক পীঠ), পাথরসমৃদ্ধ রকস মিউজিয়াম, প্রাচীন ডাকবাংলো, পিকনিক কর্নার, কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটের আনন্দ ধারা, শিশুপার্ক, ভূগর্ভস্থ ও নদী থেকে পাথর উত্তোলন দেখলে পর্যটকদের চোখ জুড়িয়ে যাবে। প্রচুর টাকা ব্যয় করে চীনের তিব্বত, নেপাল বা ভারতে গিয়ে নয়, ভাগ্য ভালো থাকলে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকেই আপনি খালি চোখে দেখতে পাবেন হিমালয় পর্বত আর ভারতের কাঞ্চনজঙ্ঘা।

গত দুই বছর থেকে তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে খালি চোখেই দেখা মিলছে হিমালয় পর্বত ও কাঞ্চনজঙ্ঘার। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ঋতুবৈচিত্র্যের শীতের মেঘমুক্ত নীলাকাশে ভেসে ওঠে তুষারশুভ্র হিমালয় পর্বত ও কাঞ্চনজঙ্ঘা।

পাহাড়ের বরফশুভ্র গায়ে সূর্যের আলো পড়লে চকচকে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত হিমালয় পর্বত ও কাঞ্চনজঙ্ঘার একাধিক রূপ দেখা যায়। এ দৃশ্য দেখার জন্য দুরবিন বা বাইনোকুলার সঙ্গে করে নিয়ে আসতে হবে না। দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকলে খালি চোখে দেখতে পারেন প্রকৃতির এসব অপরূপ দৃশ্য।

মোহনীয় এ দৃশ্য দেখতেই দেশ-বিদেশের পর্যটকরা এ সময়ে তেঁতুলিয়ায় ভিড় করতে শুরু করেছেন। কেউ একাকী, কেউ বন্ধুদের নিয়ে দল বেঁধে আবার কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে আসছেন এ মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দর্শনে। তেঁতুলিয়ার পুরোনো ডাকবাংলোর পাশ ঘেঁষে প্রবাহিত মহানন্দার পাড়ে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্তের বর্ণিল আলোকচ্ছ্বটায় উদ্ভাসিত অভূতপূর্ব দৃশ্যে অন্যরকম ভালোলাগার দ্যুতিতে মন ভরে যায়।

দিনের আলো শেষে সীমান্তের কাঁটাতার-ঘেঁষা ভারতের সার্চলাইটের আলো, শিলিগুড়ি শহরের নিয়নবাতি, মহানন্দা নদীর পানির কুল কুল শব্দ পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলে।

বিশেষ করে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন সুবিধা চালু হওয়ায় প্রতিদিনই তেঁতুলিয়ায় দেশি-বিদেশি পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসু প্রকৃতিপেমীদের ভিড় বাড়ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা না থাকায় পর্যটকদের অপূর্ণতা নিয়েই ফিরে আসতে হচ্ছে। আবাসন সুবিধা না থাকায় রাতযাপনের জন্য বাংলাবান্ধা-তেঁতুলিয়া থেকে ফিরে যেতে হয় ৬০ কিলোমিটার দূরে পঞ্চগড় শহরে। অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকায় বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন, হতাশ হচ্ছেন দেশ-বিদেশের সৌন্দর্যপিপাসু পর্যটকরা।

সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় অপার সম্ভাবনাময় এ এলাকাটিকে পর্যটন এলাকায় রূপান্তর করা সম্ভব। তেঁতুলিয়াকে পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করার দাবি স্থানীয় ও আগত পর্যটকদেরও।

জানা গেছে, বাংলাবান্ধা থেকে নেপালের দূরত্ব মাত্র ৬১ কিলোমিটার, এভারেস্ট শৃঙ্গ ৭৫ কিলোমিটার, ভুটান ৬৪ কিলোমিটার, চীন ২০০ কিলোমিটার, ভারতের দার্জিলিং ৫৮ কিলোমিটার ও শিলিগুড়ি ৮ কিলোমিটার আর কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব মাত্র ১১ কিলোমিটার। এ ছাড়া বাংলাবান্ধায় ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট (মানুষ পারাপার) চালু হওয়ায় এখানে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে।

পঞ্চগড় জেলা মোটর মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে বাংলাবান্ধা এবং বাংলাবান্ধা থেকে ঢাকা পর্যন্ত হানিফ, শ্যামলী বা নাবিল পরিবহনের এসি/ননএসি বাস চলাচল করছে।

এ ছাড়া ঢাকা থেকে বিমানে সৈয়দপুর পর্যন্ত আসতে পারেন। সৈয়দপুর থেকে বাস, মাইক্রোবাস বা প্রাইভেট কারে করে যেতে পারেন বাংলাবান্ধা পর্যন্ত। উপভোগ করতে পারেন পঞ্চগড়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য।

ঢাকা থেকে আসা শিক্ষার্থী ফরহাদুজ্জামান শেখর জানান, ‘শুনেছি তেঁতুলিয়া থেকে হিমালয় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। তাই কয়েক বন্ধু মিলে তেঁতুলিয়ায় এসেছি। খালি চোখে হিমালয় আর কাঞ্চনজঙ্ঘার অসাধারণ রূপ দেখেছি। আমি আজীবন এই দৃশ্য ভুলতে পারব না। তেঁতুলিয়া বেড়াতে আসা সার্থক হয়েছে।

রংপুর থেকে তেঁতুলিয়ায় বনভোজনে আসা সীমা আখতার বলেন, ‘বনভোজনে এসে তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পাব আশা করিনি। হিমালয়ের নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি।’

 

ঘোড়াঘাট ঐতিহাসিক দূর্গ অযত্মে অবহেলায় পড়ে আছে ,

নিউজ ডেস্ক-দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুর থেকে ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে সাহেবগঞ্জ মৌজায় করতোয়া নদীর তীর ঘেঁষে দাড়িয়ে আছে এক সময়ের রণ হুস্কারে গর্জে উঠা মধ্যযুগের বৃহত্তম ঘোড়াঘাট ঐতিহাসিক দূর্গ। ধারনা করা হয় ঘোড়াঘাট ঐতিহাসিক দুর্গ এগারো শতকে সেন আমলে নির্মিত হয়।

গৌড়িয় সুলতান বরবক শাহের সেনাপতি শাহ্ ইসমাইল কামতপুরের রাজার অধিকার থেকে ঘোড়াঘাট জয় করলে প্রশাসনিক ও সামরিক গুরুত্বের কারনে ঐতিহাসিক দূর্গটির সংস্কার করে নতুন রূপে গড়ে তোলা হয়।
সেনা ছাউনি সহ প্রতিরক্ষার প্রচুর অস্ত্রসজ্জায় সজ্জিত ঘোড়াঘাট ঐতিহাসিক দূর্গ সমকালীন বাংলার একমাত্র স্বয়ংসম্পূর্ণ দুর্গের মর্যাদা লাভ করে এবং দুর্ভেদ্য ও অজেয় শক্তির কেন্দ্ররূপে গড়ে উঠে। করতোয়া নদীর ধার ঘেঁষে উত্তর দক্ষিণ লম্বা দুর্গটির চারদিক সুউচ্চ মাটির দেয়াল দ্বারা পরিবেষ্টিত।

এক সময় মাটির দেওয়ালের বাহিরে তিনদিক ২৩ মিটার দীর্ঘ গভীর পরিক্ষা বেষ্টিত ছিল। পূর্বদিকটায় ছিল খাড়া পাড়া বিশিষ্ট খরস্রোতা করতোয়া নদী। দূর্গটির উত্তর দক্ষিনে লম্বা ও পূর্ব পশ্চিম দেওয়ালের দৈর্ঘ্য অনুরূপ, উত্তর দেওয়াল আধা মাইল এবং দক্ষিণ দেওয়াল প্রায় এক মাইল লম্বা। ধারনা করা হয় এই সীমানা কেবল দূর্গের কেন্দ্রের। বিশেষ করে দক্ষিণ দিকে আরো প্রলম্বিত ছিল।

উত্তর দক্ষিণ ও পশ্চিম ধারে যে পরিখা দেখা যায় তা প্রায় ৬০ ফুট  চওড়া। পশ্চিম দেওয়ালে উত্তরাংশে দুর্গের প্রধান প্রবেশ পথ ছিল। প্রধান প্রবেশ পথ থেকে ৪০০ গজ দক্ষিণ-পূর্ব দিকে দূর্গের ২য় আন্দদেয়াল শুরু। দূর্গের  ভিতরে ছিল প্রশাসনিক ভবন, সেনা ছাউনি, সামরিক কর্মচারীদের বাসভবন, ফৌজদারের ভবন, মসজিদ-মাদ্রাসা ইত্যাদি।

তবে এখন এই দুর্গের পরিখার ওপর ৮/১০ ফুট উচু লাল মাটির প্রাচীর আছে যেগুলো পথিকদের দৃষ্টি আকর্ষন করে। মাটির প্রাচীরের ওপরে আগাছা জন্মেছে। মসজিদের ধ্বংসাবশেষ ও বিক্ষিপ্ত কিছু ঢিবি ব্যতীত তেমস কিছু আর অবশিষ্ট নেই।

আগাছার সঙ্গে মিশে গেছে দুর্গের চিহ্নগুলো আস্তে আস্তে বিলীনের পথে এই দুর্গ। তাই স্থানীয়রা মনে করে এখনই আগামী প্রজন্ম ও পর্যটকদের কাছে আকর্ষনীয় করতে এই স্মৃতি চিহ্ন রক্ষায় এগিয়ে আসা উচিত।

এ ব্যাপারে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাফিউল আলম বলেন ,এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই আপনি বলার পর আমি জানলাম আমি এ বিষয়ে উর্ধতন কতৃপক্ষের সঙ্গে  কথা বলব।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে, এমপি দুদু

আকতার হোসেন বকুলজয়পুরহাটের পাঁচবিবির রুপাপুরে আগুনে পোড়া ক্ষতিগ্রস্থ আদিবাসি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেন, জয়পুরহাট-১ আসনের সাংসদ এ্যাডভোকেট সামছুল আলম দুদু। ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে এমপি দুদু নগত অর্থ, চাল, ডাল, তেল, আলু, শাড়ি, লুঙ্গি ও শীতের কম্বল প্রদান করেন।

এসময় এমপি মহোদয়ের সঙ্গে ছিলেন, ধরঞ্জী ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি খবির উদ্দিন মন্ডল, সাঃ সম্পাদক মমতাজুর রহমান, ধরঞ্জী দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি মাহমুদুল হাসান, স্থানীয় ইউপি সদস্য মিরাজুল ইসলাম, আঃ গনি মিয়া সহ অনেকেই।

মঙ্গলবার সন্ধ্যার সময় বৈদতিক র্স্টসার্কিটের আগুনে মুক্তিযোদ্ধা বালিয়া সিংয়ের গরীব অসহায় দিন-মজুর অনিল ও অমলের টিনের বেড়া ও ছাউনীর তৈরী ৬টি ঘর আগুনে সম্পূর্ন পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস কর্মিরা আসার আগেই এলাকাবাসি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ঘরে থাকা তাদের চাল,ডাল, পরিধানের পোষাক, ছাগল ও মুরগী আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

রাজারহাটে ৭০টি ভূমিহীন পরিবার পাবে পাকা বাড়ি

প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি-কুড়িগ্রামের রাজারহাটে আশ্রয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে ৭০টি ভূমিহীন পরিবারের মাঝে পাকা ঘর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম।

১১নভেম্বর বুধবার উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মীরের বাড়ি গ্রামে খাস জমির উপর প্রতিটি পাকা ঘর ১লাখ ৭১হাজার টাকা হিসেবে প্রায় ১কোটি ২০লাখ টাকা ব্যয়ে ঘর নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান, রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ নুরে তাসনিম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাজেবুল করিম প্রমূখ।

দু’টি কিডনি নষ্ট মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে বিরামপুরের জান্নাতুন

মোসলেম উদ্দিন-দিনাজপুরের বিরামপুরের রানীনগর (দেসমা) গ্রামের রমজান  আলীর স্ত্রী জান্নাতুন (২২) এর দুটি কিডনি’ই নষ্ট হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
চিকিৎসক বলেছে অন্তত একটি কিডনি লাগালে জান্নাতুন আবারও স্বাভাবিক ভাবে বাঁচতে পারবে।
স্বামী রমজান আলী একজন ছোট ব্যবসায়ী, কিডনি কিনার ক্ষমতা তার নেই। স্ত্রীকে বাঁচাতে, একটি কিডনির জন্য দেশের হৃদয়বান মানুষের নিকট আকুল আবেদন করছেন।
 সংসারে তারা শুধু দুইজন। সুখের স্বর্গে তাদের বসবাস। সংসারের উন্নতি আর সন্তান জন্ম দিয়ে তারা গড়বে এক নতুন জীবন সংসার। আশা আর স্বপ্ন দেখতেই জান্নাতুনের দেহে বাঁধে এক মরণ ব্যাধি।
দুই মাস আগে হঠাৎ জান্নাতুন অসুস্থ হয়ে পড়েন। দিনাজপুর-ঢাকায় তাকে চিকিৎসা করতে ছুটে বেড়ান তার স্বামী রমজান আলী। শেষে ডাক্তার বলেন জান্নাতুনের দু’টি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। বিষয়টি শুনে রমজানের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। স্ত্রীর প্রতি তার গভীর ভালবাসা, কিভাবে বাঁচাবে তাকে?
বর্তমান জান্নাতুনকে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালাইসিস এর মাধ্যমে সাময়িক সুস্থ্য রাখা হয়েছে, তবে তা স্থায়ী নয় ।চিকিৎসকরা বলেছেন রোগীর কিডনি দুটো পরিবর্তন অত্যান্ত জরুরী । কিন্তুু কিডনি জোগাড় করা তার পরিবারের নিকট কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কে তাঁকে দান করবে কিডনি ,কে আছে এমন হ্নদয়বান মানুষ, এমন প্রশ্নের যেন উত্তর  মিলাতে পারছে না পরিবারের লোকজন । তারপরও যেন  আশা ছাড়েনি (ও পজেটিভ ) গ্রুপের রক্তের কিডনির ।জান্নাতুনের জীবন বাঁচাতে সারাবিশ্ব তথা দেশ ,সমাজ সর্বস্তরের মানুষের পানে চেয়ে আছে পরিবারটি।
অসুস্থ জান্নাতুন বলেন, আমার বাঁচার বড় স্বাদ হয়। এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে যেতে চাই না আমি। কয়েক বছর হলো আমার বিয়ে হয়েছে, সংসারের স্বাদ এখনও পাইনি। অনেক ইচ্ছে করে সন্তান আমাকে মা বলে ডাক দিবে। দু’টি কিডনি একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। কখন যে জীবনটা বের হয়ে যায়। টাকা দিয়ে কিডনি কিনার ক্ষমতা নেই আমার স্বামীর। এই দুনিয়াতে যদি কোন দায়ালু মানুষ থাকে তাহলে আমাকে একটা কিডনি দিয়ে বাঁচান, আমি তার নিকট চিরকৃতজ্ঞ থাকবো।
জান্নাতুনের স্বামী রমজান আলী বলেন, আমি গরীর মানুষ, সামান্য ছোট একটা ব্যবসা করে সংসার চালায়। গত দুই মাস যাবৎ আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে। তার দুইটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে, ডাক্তার বলেছেন একটা কিডনি জোগাড় করতে পারলেও তাকে বাঁচানো যাবে। তার অসুস্থ হওয়ার পর থেকে আমার যা সম্পদ ছিলো তা শেষ করে ফেলেছি।
আজ আমার স্ত্রী দিনে দিনে মৃত্যুর দিকে ঢেলে পড়ছে। কোন ভাবেই একটি কিডনি জোগাড় করতে পারছি না। আজ আমি আমার স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য দেশবাসীর নিকট আকুল আবেদন করছি, যদি এমন কেহ হৃদয়বান, দয়ালু থাকেন আমার স্ত্রীকে একটি কিডনি দিয়ে বাঁচান।  আমার স্ত্রীকে বাঁচাতে ০১৬৪৫৫৫৭৭৮২ নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করছি।

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যানের ক্রসড্যাম রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন

মোঃ নয়ন হাসান বিরামপুর প্রতিনিধি-দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন আশুড়ার বিলের ক্রসড্যাম রক্ষার দাবিতে ১২ (নভেম্বর) বৃহস্পতিবার নবাবগঞ্জ উপজেলার সকল পেশাজীবি সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ শহরে মানববন্ধন করেছে।

মানববন্ধন শেষে ৬ দফা দাবিতে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুন নাহারের মাধ্যমে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান মানিক বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে বাঁধ সংস্কার কাজ শুরু না হলে এলাকার জনগণকে নিয়ে লংমার্চের মাধ্যমে সেখানে অবস্থান করে ক্রসড্যাম বাঁধ সংস্কারে নামবেন।

জানা যায় যে, ঐতিহাসিক আশুড়ার বিল ও শালবনকে ঘিরে ২০১০ সালে শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে সেখানে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।

আশুড়ার বিলকে মাছের অভয়াশ্রম ও পর্যটন উপযোগি করতে পানি ধারণের জন্য ক্রসড্যাম নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বন ও বিলের জায়গা জবর দখলকারী এলাকার কিছু লোক সেই রাবার ক্রসড্যাম কেটে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে।

ক্ষতিগ্রস্থ্য ক্রসড্যাম সংস্কার করে শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান রক্ষা ও আশুড়ার বিলকে মাছের অভয়াশ্রম করার দাবি জানিয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলার সকল পেশাজীবি সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ শহরে মানববন্ধন করেছে।

মানব বন্ধনে উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান মানিকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পারুল বেগম, ৯নং ইউপি চেয়ারম্যান সায়েম সবুজ, ৪নং ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক, ২নং ইউপি চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন, ৭নং ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্যা-হেল-আজিম, নবাবগঞ্জ ক্লাব এন্ড লাইব্রেরীর সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল রেজভী, বণিক সমিতির সভাপতি সানোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম, মাদক নির্মল কমিটির সভাপতি শাহিনুর ইসলাম, মৎস্যজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ প্রমূখ।