রবিবার-২৯ নভেম্বর ২০২০- সময়: রাত ৩:৫২
পর্যটকদের জন্য নয়নাভিরাম ‘সাজেক ভ্যালি’ শীতে বাঙ্গালীর ঐতিহ্য ভাপা পিঠা পাঁচবিবিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সমাপণী কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হলে মাদকমুক্ত ও অসমাপ্ত কাজ করব-আতিয়ার রহমান মিন্টু নেশার টাকার জন্য ২২ দিনের নবজাতককে কুপিয়ে হত্যা ঘোড়াঘাটে হেলথ এসোসিয়েশনের কর্মবিরোতি বন্ধ রাস্তা অবমুক্ত করলেন ইউএনও ভাতা বন্ধ ভাতা ভোগীরা মানবতার জীবনযাপন বিরামপুরে ৭২ বছরের বৃদ্ধ’কে ঔষধ ও আর্থিক সহায়তা দিলেন-ওসি মনিরুজ্জামান কোভিট-১৯ পরিস্থিতিতে মোরেলগঞ্জে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া হচ্ছে স্কুল ফিডিং বিস্কুট

Daily Archives: November 26, 2020

নবাবগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলন,ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

নবাবগঞ্জে(দিনাজপুর) থেকে, এম এ সাজেদুল ইসলাম সাগর-একাধিক বার সতর্ক করার পরও সরকারি নিষেধ-বিধি তোয়াক্কা না করে অবৈধ ভাবে ভূমির আকার পরিবর্তন করে বালু উত্তোলন করায় বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম বিভিন্নভাবে গুড়িয়ে দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত।

রবিবার দুপুরে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের উত্তর মুরাদপুর এলাকায় সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুন নাহারের দিক নির্দেশনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আল-মামুনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত অবৈধ বালু উত্তোলনকারী তোতা মিয়া, তোতা মিয়ার ছেলে গোলাম রব্বানী এবং লিটনের অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত শ্যালো মেশিন ভেঙে আগুনে পুড়ে ধ্বংস করেন।

এরপর কেউ নির্দেশনা অমান্য করে বালু উত্তোলন করলে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে পূনরায় সতর্ক করেন ভ্রাম্যমান আদালত।

বিরামপুরে হাজী সমাবেশ

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি- বিরামপুর চাংপাই চাইনিজ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ফাস্ট ফুডে কমপ্লেক্সে ৯ নভেম্বর, সোমবার এয়ার বেস্ট কোবা হজ্জ কাফেলার উদ্যোগে এক হাজী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিরামপুর থানা পরিষদ জামে মসজিদের খতীব ও পাউশগাড়া ফাযিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ আলহাজ্জ মাওলানা তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, এয়ার বেস্ট কোবা হজ্জ কাফেলার প্রোপ্রাইটার আলহাজ্জ মাওলানা আব্দুল্লাহ শাহজাহান।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, বিজুল দারুল হুদা কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ডক্টর নূরুল ইসলাম, প্রধান মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হক, হজ্জ কাফেলার প্রতিনিধি আলহাজ্জ জাহিদুল ইসলাম, ২০২১ সালের হ্জ্জযাত্রীদেও মধ্য হতে যথাক্রমে অধ্যাপক আলহাজ্জ খাইরুল আলম, আলহাজ্জ মাওলানা ইদ্রীস আলী, আলহাজ্জ অধ্যাপক সিরাজুল হক, ইমরুল কায়েস ও মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন প্রমুখ।

হাজী সমাবেশে বিরামপুর সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার হজ্জ ও উমরাযাত্রীগণ উপস্থিত ছিলেন। দুআ ও মুনাজাতের মাধ্যমের সমাবেশের সমাপ্তি হয়।

কুড়িগ্রামে গণপ্রকৌশল দিবস ও আইডিইবি’র সুবর্ণ জয়ন্তী পালন

প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি-‘নীল অর্থনীতি এনে দিবে সমৃদ্ধি’ এই প্রতিপাদ্যে কুড়িগ্রামে স্বাস্থ্য বিধি মেনে গণপ্রকৌশল দিবস ও ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনীয়ার্স (আইইডিবি) ৫০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে ৮নভেম্বর রবিবার  শহরের জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট কার্যালয় প্রাঙ্গনে সমাবেশ, বেলুন উড়ানো ও পায়রা অবমুক্ত করা হয়।

এসময় বক্তব্য রাখেন, কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ড. মো. নূরে আলম, আইডিইবি’র কুড়িগ্রাম জেলাম শাখার সভাপতি প্রকৌশলী কামাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক বকুল চন্দ্র সাহা, রায়হান মিঞা, সৈয়দ মাহফুজার রহমান প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

উল্লেখ্য যে, আইডিইবি’র সুরর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বছর ব্যাপী দেশজুড়ে ৫০ হাজার গাছের চারা রোপন, ৫০টি হতদরিদ্র পরিবারকে পূনর্বাসন, মাক্স বিতরণ ও শতাধিক সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হবে।

ক্রেতা-বিক্রেতার ঢল ঘোড়াঘাট মাছ বাজারে

মোসলেম উদ্দিন, হিলি-প্রতিদিন সকাল হলেই শুরু হয় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট মাছ বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম। তরতাজা ভাল মানের মাছ এবং দাম কম পাওয়ায় এই বাজারে মাছ কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে মাছ ব্যবসায়ীরা এবং সাধারণ মানুষ।
মাছবাজারে কোন ঘর বা সরকারি সেট না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের, এমনটিই অভিযোগ মাছ ব্যবসায়ীদের।
সোমবার (৯ নভেম্বর) সকালে ঘোড়াঘাট মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি-বিদেশি এবং জংলী প্রজাতির বহু প্রকার মাছ উঠেছে এই মাছবাজারে। বাজারে আকর্ষণীয় হিসাবে ছিলো বড় রুই,কাতল, পাংগাস, ছিলভর, তেঁলাপিয়া।
এছাড়াও মলা-ঢেলা, পুটি, কই,মাগুর, টেংরা ইত্যাদি। মুলত ঘোড়াঘাটের মাটি লাল, আর লাল মাটির মাছের স্বাদ হয় মিষ্টি। পূর্বে একসময় এই মাছ বাজার ছিলো জমজমাট। কিছুদিন আগে মাছের সরবরাহ কম থাকায়, মাছ বাজারটি ভেঙে পড়ে।
বর্তমান পূর্বের ন্যায় আবার জমে উঠেছে এই বাজারে মাছের বেচা-কেনা। এখন উপজেলায় বিভিন্ন খালে-বিলে, পুকুরে মাছের চাষ করছে মাছচাষীরা।
এছাড়াও ঘোড়াঘাটের উপর দিয়ে বয়ে গেছে করতোয়া নদীর শাখা,আর এই শাখা নদীতে জেলেরা প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে মাছ ধরছেন। বর্তমান নদীতে সবসময় পানি থাকায় মাছের বিচরণ রয়েছে। নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন শতশত জেলেরা। আর এই সব স্থান থেকে মাছ ধরে ঘোড়াঘাট বাজারে মাছ নিয়ে ভিড় করছেন তারা।
খুচরা মাছ ব্যবসায়ী নুকুল কুমার দাস বলেন, আমরা এখানকার মাছ আড়ৎ থেকে মাছ ক্রয় করে বিক্রি করেছি, আজ বড় পাংগাস মাছ ৮০ থেকে ৮৫ টাকা দরে কিনে তা বিক্রি করেছি ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে,ছোট পাংগাস ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি, রুইমাছ ১৪০ টাকা কেজি দরে নিয়ে তা বিক্রি করেছি ১৬০ টাকা, তেলাপিয়া ১১০ টাকা করে নিয়ে ১২০ টাকা দরে বিক্রি করেছি।
খুচরা ব্যবসায়ী রঞ্জন দাস বলেন, আমার নিকট আড়াই কেজি ওজনের কাতলমাছ ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি, আমার কিনা আছে ২৫০ টাকা দরে। বড় ছিলভর কাপ মাছ ১৬০ টাকা কিনে তা বিক্রি করেছি ১৮০ টাকা দরে।
মাছ কিনতে আসা শামসুল হকের সঙ্গে কথা হয়, তিনি বলেন, সকাল বেলায় মাছ নিতে আসছি।কেন না সকালে নদীর ছোট জাতের মাছ পাওয়া যায়। নদীর মাছের স্বাদ আলাদা। আমি ২০০ টাকা কেজি দরে মলা মাছ নিয়েছি।
গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থেকে পাইকারী মাছ কিনতে আসা রেজাউল করিমের সাথে কথা হয়, তিনি বলেন, প্রতিদিন সকালে এই বাজারে পাইকারী মাছ নিতে আসি। ঘোড়াঘাট মাছবাজারে অন্য এলাকার চেয়ে মাছের দাম কম আছে এবং এখানকার মাছের স্বাদ ভাল।
উপজেলার কামদিয়া এলাকা মাছচাষী রসুল মিয়া বলেন, আমার তিনটি পুকুর আছে। এই পুকুরে আমি প্রায় সব প্রকার মাছ চাষ করে থাকি। এখন বর্তমান সপ্তাহে একবার করে এই পুকুর থেকে মাছ তুলি এবং এই মাছ বাজারে এনে পাইকারী দেয়।
কথা হয় মাছ আড়ৎদার ছাবিবর ও ওলি রহমানের সাথে,তারা বলেন, সকাল ৬ টা থেকে শুরু হয় মাছ কেনা-বেচা।  তা বেলা ১১ টা পর্যন্ত বেচা-কেনা হয় পাইকারী বাজারে।
তবে খুচরা বাজারে সারাদিন কেনা-বেচা হয় মাছ। তিনারা আরও বলেন, রাস্তার সাথে আমাদের এই মাছের বাজার। এখানে কোন ঘর বা সরকারি বাজার সেট নেই। যার কারণে আমাদের অনেক কষ্ট করে ব্যবসা করতে হয়। প্রতিনয়ত রোদ, বৃষ্টি, ঝড় আর শীতের সাথে লড়াই করে ব্যবসা করতে হয়।

গাছিরা শীতের শুরুতেই মিষ্টি রস সংগ্রহে ব্যস্ত বিরামপুরে

মোঃ নয়ন হাসান বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি- সকালের মিষ্টি রোদে মুড়ির সাথে রসের আয়োজন আর কেনা বেঁচা শুরু হয়ে গেছে এখনই।

খেঁজুর গাছের সংকট স্বত্তেও দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার এখনও যেসব গাছ অবশিষ্ঠ আছে তা কেঁটে রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে গাছিরা।

তথ্য মতে জানা যায় যে, আরও কিছুদিন পর শীতের এ রস উৎসব শুরু হবে পুরোদমে শীতের তীব্রতা শুরু না হলেও পুরোদমে আয়োজন শুরু হয়ে গেছে।

কোন পরিচর্যা ছাড়াই অনেকটা প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে উঠে এইসব খেঁজুরের রস অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় এলাকার চাহিদা অনেক বেশি।

সভ্যতার ক্রমবিকাশে সময়ের পরিবর্তনে দিন দিন বিরামপুর উপজেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে খেঁজুর গাছের পরিমান। কয়েক বছর আগেও বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে,ক্ষেতের আইলের পাশে কিংবা রাস্তার দুই পাশে অসংখ্য খেঁজুর গাছ দেখা যেত। বর্তমানে বসতবাড়ি কিংবা ক্ষেত- খামারের আশে-পাশে এমনকি রাস্তা ঘাটের পাশে আর আগের মত খেঁজুর গাছের দেখা মিলেনা।

যুগ যুগ ধরে শীত মৌসুমে খেঁজুর গাছের রস সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন অনেকে। আজ খেঁজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বেশির ভাগ গাছিরা তাদের পুরুষানুক্রমের পেশা ছেড়েছেন। তবে হাতে গোনা ক’জন এখনও ধরে রেখেছেন এই পেশা।

বিরামপুর পৌরসভাধীন চাঁদপুর মধ্যপাড়ার গাছি আমির আলী বলেন, “দিন দিন খেঁজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পেশাটি বর্তমানে ছেড়ে অন্য পেশায় যোগ দিয়েছে তিনিসহ এলাকার অনেক গাছীরা”।

সচেতন মহল মনে করেন গ্রামের মানুষকে বেশি বেশি করে খেঁজুর গাছ রোপন করার বিষয়ে উৎসাহিত ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারি কিংবা বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসা উচিৎ। তাছাড়া প্রতি বছর আমরা যে পরিমাণে খেঁজুর গাছ কেটে ফেলছি তাতে আর কয়েক বছর পর এই খেঁজুর গাছের রস পাওয়া যাবে না।

এ প্রসঙ্গে বিরামপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমান বলেন, “বাঙ্গালিরা কিছু মৌসুমী খাবারের প্রতি আকৃষ্ট। তার মধ্যে খেঁজুর রস একটি। খেঁজুর গাছের রসের প্রতি আমাদের লোভ এখনো আছে কিন্তু আমরা খেঁজুর গাছের কথা ভুলে গেছি”।

কাউন্সিলর আরো বলেন- তালগাছ ও অন্যান্য বৃক্ষ রোপনের পাশাপাশি খেঁজুর গাছ রোপন করা আমাদের উচিৎ। নতুবা আগামী প্রজন্মের কাছে খেঁজুর গাছ অচেনা গাছে পরিনত হবে”।

বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিকছন চন্দ্র পাল বলেন- ইতিমধ্যে উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে সড়কের দু-পাশে তালগাছের বীজ রোপণ হয়েছে।

তালগাছের মত খেঁজুর গাছ ও লাগাতে হবে আমাদের। তাছাড়াও পরিবেশ বান্ধব গুরুত্বপূর্ণ ও আমাদের ঐতিহ্যের এই খেঁজুর গাছ টিকিয়ে রাখতে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, গণসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং বেশি বেশি করে সাধ্য মতো খেঁজুর গাছ রোপন করতে হবে। সেই ব্যাপারে সবাইকে  উৎসাহ প্রদান করেন তিনি”।

ভয়াল ১২ই নভেম্বর ৫ কোটি মানুষ উপকূলবাসী আজও কাঁদে

শেখ সাইফুল ইসলাম কবির-শেখ আজ ভয়াল ১২ই নভেম্বর ৫ কোটি মানুষ উপকূলবাসী আজও কাঁদে ।

এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গৃহীত পদক্ষেপের কারণে আগের মতো ক্ষয়ক্ষতি হয় না। এটাই হলো বঙ্গবন্ধুর বাংলার স্বাধীনতার সফলতা। করেবাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াল ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসে ১০ লক্ষাধিক লোক মৃত্যুবরণ করে।

বহু পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। বহু পরিবার তাদের আত্মীয়স্বজন, বাবা-মা, ভাই-বোন হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছিল।আজ ভয়াল ১২ই নভেম্বর ১৯৭০ সালের এই দিনে প্রলঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় দেশের উপকূলীয় আঞ্চল। ভয়াবহ সেদিনের ৪৮ বছর অতিবাহিত হলেও আজো সে দুর্বিসহ স্মৃতি তাড়িয়ে বেড়ায় উপকূলের বাসিন্দাদের।

উপকূলের প্রায় ৫ কোটি মানুষ প্রতিনিয়ত বহুমূখী দুর্যোগের সঙ্গে বসবাস করেন। এই ঘূর্ণিঝড় লণ্ডভণ্ড করে দেয় উপকূল। বহু মানুষ প্রাণ হারায়। ঘরবাড়ি হারিয়ে পথে বসেন। এই ঘূর্ণিঝড় গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল।

উইকিপিডিয়ার সূত্র বলছে, এ পর্যন্ত রেকর্ডকৃত ঘূর্ণিঝড় সমূহের মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্নিঝড়। সর্বকালের সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসাবেও এটিকে আখ্যা দেয়া হয়েছে। এটির নাম ছিল ‘ভোলা সাইক্লোন’। এটি সিম্পসন স্কেলে ক্যাটাগরি ৩ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় ছিল। ওই ঘূর্ণিঝড়টি ৮ই নভেম্বর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট হয়। ক্রমশ শক্তিশালী হতে হতে এটি উত্তর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ১১ নভেম্বর এটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ১৮৫ কিলোমিটারে পৌঁছায়। ওই রাতেই উপকূলে আঘাত হানে।

জলোচ্ছ্বাসের কারণে উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপসমূহ প্লাবিত হয়। ওই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় পাঁচ লাখ লোকের প্রাণহানি ঘটে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ছিল ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা। ওই সময়ে সেখানকার ১ লাখ ৬৭ হাজার মানুষের মধ্যে ৭৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। একটি এলাকার প্রায় ৪৬ শতাংশ প্রাণ হারানোর ঘটনা ছিল অত্যন্তহৃদয়বিদারক।

’৭০-এর ঘূর্ণিঝড়ে মনপুরা উপকূলে প্রায় ৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। এর মধ্যে হাজিরহাট ইউনিয়নের পাটোয়ারী পরিবারে ৫৫ জন স্বজন প্রাণ হারায়। এছাড়াও অধিকাংশ পরিবারে ৭-১০ জন স্বজনের প্রাণ যায়। তখন বেতার ও টেলিভিশনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস শোনার আজকের মতো জোরদার ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি ছিল না কোন আশ্রয়কেন্দ্র।

নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা থাকলেও এত মানুষের প্রাণহানি হত না বলে মন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘূর্ণিঝড়ে বিপর্যস্ত মনপুরাবাসীকে সমবেদনা জানাতে হেলিকাপ্টারে ছুটে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি প্রত্যেকটি পরিবারের স্বজন হারানো মানুষের সাথে দেখা করে সমবেদনা জানান। পরে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক সহযোগিতা দেন।

বাংলাদেশে ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর সংঘটিত ঘূর্ণিঝড়টি পৃথিবীর সর্বকালের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণঘাতী ঝড় হিসেবে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। চলতি বছরের ১৮ মে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) বিশ্বের পাঁচ ধরনের ভয়াবহ প্রাণঘাতী আবহাওয়া ঘটনার শীর্ষ তালিকা প্রকাশ করে। তালিকার শীর্ষ প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এ ঝড়টিকে পৃথিবীর সর্বকালের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণঘাতী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ১৩ নভেম্বর ভোর পর্যন্ত বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) উপকূল অঞ্চলে সর্বকালের ভয়াবহ প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানে। সরকারি হিসেবে এতে তিন থেকে পাঁচ লাখ মানুষ মারা যান। তবে বেসরকারি হিসেবে মৃত্যের সংখ্যা ১০ লাখের বেশি ছিল।

ঘটনা-১
তোফায়েল আহমেদ অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, ১৯৭০-এর ১২ নভেম্বর আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াল ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসে ১০ লক্ষাধিক লোক মৃত্যুবরণ করেছিল। অনেক পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। অনেক পরিবার তাদের আত্মীয়স্বজন, মা-বাবা, ভাই-বোন হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছিল।

প্রতি বছর আমাদের জাতীয় জীবনে যখন ১২ নভেম্বর ফিরে আসে, তখন বেদনাবিদুর সেই দিনটির কথা স্মৃতির পাতায় গভীরভাবে ভেসে ওঠে।’৭০-এর ৭ জুন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আওয়ামী লীগে যোগদান করি।১ জানুয়ারি ’৭০-এ রাজনৈতিক তত্পরতার ওপর থেকে বিধি-নিষেধ প্রত্যাহূত হয়। তখন আমি ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ডাকসুর ভিপি।

ছাত্রলীগের উদ্যোগে আমার নেতৃত্বে সে দিন প্রথম জনসভা করি পল্টনে। তখনই বঙ্গবন্ধু আমাকে বলেছিলেন, ‘তুই ভোলা যাবি। সকল এরিয়া সফর করবি। আমি তোকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দিবো।’ এই কথাটি ভীষণভাবে আমার হূদয়কে আলোড়িত করে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশমতো ভোলা সফরে যাই এবং ভোলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে তখন রাস্তা-ঘাট, পুল-কালভার্ট কিছুই ছিল না,—ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক তত্পরতা চালাই। বঙ্গবন্ধু ১৭০০ টাকা দিয়ে একটা মোটরবাইক আমাকে কিনে দিয়েছিলেন। এই মোটরবাইক ছিল আমার যানবাহন।

সেদিন আমি ছিলাম জন্মস্থান ভোলায়। বঙ্গবন্ধু আমাকে আসন্ন নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে ব্যস্ত ছিলাম আমার নির্বাচনী এলাকায়। কয়েকদিন ধরেই গুমোট আবহাওয়া ছিল। বৃষ্টি আর সেই সঙ্গে ছিল ঝড়ো বাতাস।

এরকম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শামসুদ্দীন আহমেদ মিয়া, মাওলানা মমতাজুল করিম, মোস্তাফিজুর রহমান মিয়া এবং অন্য নেতাদের নিয়ে আমার নির্বাচনী এলাকাসহ ভোলায় ব্যাপক গণসংযোগ করি। আমার নির্বাচনী এলাকা ছিল ভোলা থানা, দৌলত খাঁ থানা, তজমুদ্দি থানা। তখন মনপুরা থানা হয়নি। কিন্তু মনপুরার তিনটি ইউনিয়নও আমার নির্বাচনী এলাকার অন্তর্ভুক্ত ছিল। আর একটি এলাকা ছিল বোরাহানউদ্দিন, লালমোহন এবং চরফ্যাশন।

আমার নির্বাচনী এলাকাটি বড় ছিল। এই নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু যখন আমাকে প্রস্তুতির নির্দেশ দেন তখন আমার বয়স মাত্র ২৬।বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ঘূর্ণিঝড় দুর্গত-অসহায় মানুষের জন্য এলাকায় এলাকায় ক্যাম্প করে যে ব্যাপক ত্রাণকার্য সেদিন আমি পরিচালনা করেছি তা আমার বাকি জীবনে চলার পথের পাথেয় হয়ে আছে। জাতীয় চার নেতার অন্যতম শ্রদ্ধেয় নেতা তাজউদ্দীন ভাই এক বিরাট লঞ্চভর্তি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে ভোলা এসেছিলেন ত্রাণকার্যে। তার থেকে কিছু তিনি বিলি করতে পেরেছেন বাকিগুলো রেখে এসেছিলেন আমার কাছে। সেগুলো আমি বিলি-বণ্টন করেছি। খাবার পানি, মুড়ি, চিঁড়া, ওষুধ-পথ্য বিলি করেছি দুর্গত এলাকায়।

ঘটনা-২
সেদিনের স্মৃতির কথা তুলে ধরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ ইলিয়াছ (৬৫) বলছিলেন, ‘আগের দিন সন্ধ্যায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মাঝে হঠাৎ কালো মেঘের সৃষ্টি। মাইক ও রেডিওতে প্রচার হয়েছে ১০ নম্বর বিপদ সংকেত। রাতেই ৮-১০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে নেয় বাড়িঘরের প্রয়োজনীয় মালামালসহ জমিতে উৎপাদিত ধানগুলো, মধ্যরাতে হঠাৎ মুহূর্তের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আক্রমণ করলে মারা যায় আমার মামাতো ভাই।

ওই সময়ে ধ্বংসস্তুপের মাঝে বেঁচে থাকা খুব কঠিন ছিলো’। কমলনগরের আরো একজন আবদুল করিম (৭২) বলেন, ‘৭০ এর ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ফেনী নদী ও ভূলুয়া নদী থেকে আসা পানি ও ঘূর্ণিঝড়ে মরে যাওয়া বহু মানুষ ভেসে ভেসে চলে গেছেন, তাদের কবর দেওয়া কোনভাবেই সম্ভব হয়নি।’

ঘটনা-৩
ভোলার দৌলতখান পৌর এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান ’৭০-র ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘সেদিন ছিল মেঘাচ্ছন্ন। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। রাতের বেলা দোকান বন্ধ করে ঘরে এসে ঘুমাতে যাই। এমন সময় দোকানের কর্মচারীরা নীচে ঘুমাচ্ছিল। তারা অনুভব করে বিছানা ভিজতে শুরু করেছে।

অল্প কিছুক্ষনের মধ্যে প্রবলবেগে পানি আসতে দেখে তারা তাড়াতাড়ি বাড়িতে এসে এই খবর দেয়। তখন পরিবারের সকল সদস্যদেরকে নিয়ে ঘরের দোতলায় অবস্থান নেই। পরে যখন পানি কমে যায়, তখন চারদিকে শুধু আর পানি পানি দেখতে পাই। কোন ঘর-বাড়ির চিহ্ন ছিল না।

ঘটনা-৪
ভোলা সদরের আলীনগর ইউনিয়নের সাচিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আলমগীর মাঝি ’৭০-র ঘূর্ণিঝড়ের কথা বলতে গিয়ে বলেন, ওই বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। বাড়ি একটু দূরে থাকায় তিনি দৌলতখান বাজারের একটি দোকান ঘরের মধ্যে থেকে পড়ালেখা করছিলেন। রাতে দেখেন প্রবলবেগে পানি আসছে। সেই সাথে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল।

এসময় তিনি একাকী কি করবেন ভেবে আশ-পাশের দোকানগুলোতে কোন মানুষের অবস্থান আছে কিনা, তা বুঝতে চেষ্টা করলেন। তার পাশের একটি দোকানের মধ্যে লোকজনের কথা শুনতে পেয়ে সেখানে যেতে মনস্থির করলেন। নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলেন যে পানির চাপ প্রচণ্ড। এর মধ্যে অনেক সময় অতিবাহিত হয়ে গেল। উপায়ন্তর না দেখে তিনি ওই পানির মধ্যে ঝাঁপ দিয়ে পাশের দোকানের বেড়াটি ধরলেন।

পরে তিনি দোকানের উপরে থাকা লোকজনকে ডাক দিলে তারা তাকে উপরে তোলেন। সকালবেলা তিনি বাড়িতে গিয়ে দেখেন, ঘরগুলো বন্যায় ভেঙে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। যাওয়ার সময় তিনি পথে পথে হাজারো লোকের মরাদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন।

ঘটনা-৫
মনপুরা উপকূলের সবার মত ’৭০ সালের ২৭ বছরের গর্ভবতী রাহেলা তার স্বামী, ৩ সন্তান, পরিবার-পরিজন নিয়ে গাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ততক্ষনে উপকূল জুড়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হয়েছিল। রাত বাড়ার সাথে সাথে ঘূর্ণিঝড় প্রকট আকার ধারণ করে। গাছ থেকে পড়ে যায় রাহেলা। খেজুর গাছের পাতা ধরে বন্যার পানি থেকে বাঁচতে লড়াই করেছিলেন রাহেলা।

এক পর্যায়ে রাহেলা অচেনা এক পুরুষের সাথে কাঠের আলমারী ধরে বাঁচার চেষ্টা করেন। ততক্ষণে স্রোতের টানে রাহেলাসহ অচেনা পুরুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় বঙ্গোপসাগরে। ৬ দিন সাগরে ভাসার পর ভারতীয় জাহাজ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম দিয়ে যায়। টানা ১ মাস চট্টগ্রামের হাসপাতালে চিকিৎসা শেষ করে বরিশাল হয়ে মনপুরা আসেন। ঘূর্ণিঝড়ে রাহেলা তার তিন সন্তানকে হারিয়েছেন।

প্রলয়ংকরী ‘ভোলা সাইক্লোন’-এর আগে এবং পরেও উপকূলের উপর দিয়ে অনেকগুলো ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে। কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির বিচারে ১৯৭০-এর ১২ নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড় সবচেয়ে ভয়ংকর বলে প্রমাণিত। স্বল্প পরিসরে হলেও এত বছর পরেও ওই দিবসটি পালিত হয়। দিনটিকে স্মরণ করে গণমাধ্যমসমূহ।

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ’৭০-এর আগে ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে ‘বাকেরগঞ্জ সাইক্লোন’-এ প্রায় ২ লাখ লোক প্রাণ হারিয়েছিল। এরমধ্যে এক লাখ লোকের মৃত্যু ঘটে দুর্ভিক্ষ ও মহামারীতে। ১৫৮২ খ্রীষ্টাব্দে বাকেরগঞ্জ তথা বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে আরেকটি ঘূর্ণিঝড়ের কথা জানা যায়। ওই ঘূর্ণিঝড়েও ২ লাখ লোক প্রাণ হারান।

১৯৭০-এর পরের ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড় ছিল ভয়াবহ। এতে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডর, ২০০৮ সালের ৩ মে নার্গিস, ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলা, ২০১৩ সালের ১৬ মে মহাসেন, ২০১৪ সালের ২৮ অক্টোবর নিলোফার, ২০১৬ সালের ২১ মে রোয়ানুসহ বেশকিছু ছোটবড় ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানে। তবে ’৭০-এর ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা অন্যকোন ঝড় অতিক্রম করতে পারেনি।

১২ নভেম্বর উপকূল দিবসের দাবি
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগবে, এত দিবসের ভিড়ে কেন আবার ‘উপকূল দিবসের’ দাবি? আমার প্রশ্নটা ঠিক এর বিপরীত। এত দিবস থাকা সত্বেও ‘উপকূল দিবস’ নেই কেন? সমগ্র উপকূল অঞ্চল ঘুরে খবরের খোঁজ করতে গিয়ে এই প্রশ্নটা মাথায় ঘুরছিল কয়েক বছর আগে থেকেই।

খবর লেখার মধ্যদিয়ে আমি প্রতিদিন উপকূলের কথা বলি। কিন্তু একটি দিবস থাকলে অন্তত সবাই মিলে একযোগে উপকূলের কথা বলার সুযোগ পাই! দিন ঠিক করার আগে নিজের কাছে নিজের আরেকটা প্রশ্ন, কেন উপকূল দিবস চাই?

যেকোন দিবস দাবির পেছনে রয়েছে অনেক যৌক্তিকতা। দিবস কোন সুনির্দিষ্ট বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে পারে, দিবস অধিকার আদায়ের কথা বলতে পারে, দিবস পারে জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর জোরালো করতে। কেন উপকূল দিবস চাই- প্রশ্নটির সহজ জবাব হলো, উপকূলের মানুষের কণ্ঠস্বর জোরদার করার মধ্যদিয়ে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করা, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

একই সঙ্গে প্রতিবছর একটি সুনির্দিষ্ট দিনে উপকূল দিবস পালিত হলে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের মাঝে সতেনতা বাড়বে। তথ্য আদান-প্রদান, তথ্য অধিকারের বিষয়গুলো নিশ্চিত হবে। কেন্দ্রের কাছে পৌঁছাবে উপকূলের কণ্ঠস্বর।

উপকূলের প্রায় ৫ কোটি মানুষ প্রতিনিয়ত বহুমূখী দুর্যোগের সঙ্গে বসবাস করেন। কেবল দুর্যোগ এলেই এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর খবরাখবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। কিন্তু স্বাভাবিক সময়েও তাদের জীবন যে কতটা অস্বাভাবিক, সে বিষয়ে খুব একটা খোঁজ রাখা হয় না। উপকূলের প্রান্তিকের তথ্য যেমন কেন্দ্রে পৌঁছায় না, ঠিক তেমনি কেন্দ্রের মাঠে পৌঁছাচ্ছে না বহুমূখী কারণে।

উপকূলের দিকে গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারকদের নজর বাড়িয়ে উপকূলবাসীর জীবনমান উন্নয়ন ঘটানোই উপকূলের জন্য একটি দিবস প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য। মোটামুটি এগুলোই উপকূল দিবস প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি।

এবারের চিন্তা দিন নিয়ে- কোন দিনটিকে ‘উপকূল দিবস’ প্রস্তাব করা যায়! খুঁজে পাই ১২ নভেম্বরকে। এটাই উপকূলবাসীর কাছে সবচেয়ে বেশি স্মরণীয়। কারণ, ’৭০ সালের এই দিনে উপকূলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল গোটা উপকূল।

এদিন বাংলাদেশের উপকূলের উপর দিয়ে বয়ে যায় সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ভোলা সাইক্লোন’। এই ঘূর্ণিঝড় লণ্ডভণ্ড করে দেয় উপকূল। বহু মানুষ প্রাণ হারান। ঘরবাড়ি হারিয়ে পথে বসেন। এই ঘূর্ণিঝড় গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। এটি সিম্পসন স্কেলে ক্যাটাগরি ৩ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় ছিল। ঘূর্ণিঝড়টি ৮ই নভেম্বর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট হয়। ক্রমশ শক্তিশালী হতে হতে এটি উত্তর দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

১১ নভেম্বর এটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ১৮৫ কিলোমিটারে পৌঁছায়। ওই রাতেই উপকূলে আঘাত হানে। জলোচ্ছ্বাসের কারণে উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপসমূহ প্লাবিত হয়। ওই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় পাঁচ লাখ লোকের প্রাণহানি ঘটেছে বলে বলা হলেও বেসরকারি হিসাবে প্রায় দশ লাখ।

ভাবি, এই দিনটিকেই উপকূল দিবস প্রস্তাব করা যায়। পত্রপত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমে ২০১৬ সালে এই দিবসের প্রস্তাব তুলে জনমত গঠণের চেষ্টা করি। লেখার শিরোনাম ছিল- ‘১২ নভেম্বর হোক উপকূল দিবস’। সমগ্র উপকূল থেকেই ব্যাপক সাড়া পাই।

এরই ধারাবাহিকতায় এবার ২০১৭ সালে প্রথমবারের মত ১২ নভেম্বর বেসরকারিভাবে ‘উপকূল দিবস’ হিসাবে পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৭১০ কিলোমিটার সমুদ্ররেখা পূর্বে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে পশ্চিমে সাতক্ষীরার শ্যামনগর পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলের সর্বত্র ১২ নভেম্বর উপকূল দিবসের আওয়াজ।

আর ’৭০-এর ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস যখন আমরা ছিলাম ‘অসহায়’। বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছিলেন তার মূল লক্ষ্য ছিল শোষণহীন অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। সেই দায়িত্বটা এখন বর্তেছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার স্কন্ধে। তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে চলেছেন।

ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসে আগে প্রতি বছর বাংলাদেশে লাখ লাখ লোক মৃত্যুবরণ করত, ঘরবাড়ি হারাত। সেসব এখন আর নেই। ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টে বাংলাদেশের ভূমিকা আন্তর্জাতিক বিশ্বে প্রশংসনীয়। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করার যে ব্যবস্থা আমরা গড়ে তুলেছি তা এখন সারা বিশ্বের জন্য মডেল হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ আমাদের অনুসরণ-অনুকরণ করতে পারে।

বাংলাদেশে এখনো প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস হয়, কিন্তু যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি আগে হতো এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গৃহীত পদক্ষেপের কারণে আগের মতো ক্ষয়ক্ষতি হয় না। এটাই হলো বঙ্গবন্ধুর বাংলার স্বাধীনতার সফলতা।কিন্তু একটি দিবস থাকলে অন্তত সবাই মিলে একযোগে উপকূলের কথা বলার সুযোগ পাই! দিন ঠিক করার আগে নিজের কাছে নিজের আরেকটা প্রশ্ন, কেন উপকূল দিবস চাই?

যেকোন দিবস দাবির পেছনে রয়েছে অনেক যৌক্তিকতা। দিবস কোন সুনির্দিষ্ট বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে পারে, দিবস অধিকার আদায়ের কথা বলতে পারে, দিবস পারে জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর জোরালো করতে। কেন উপকূল দিবস চাই- প্রশ্নটির সহজ জবাব হলো, উপকূলের মানুষের কণ্ঠস্বর জোরদার করার মধ্যদিয়ে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করা, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

একই সঙ্গে প্রতিবছর একটি সুনির্দিষ্ট দিনে উপকূল দিবস পালিত হলে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের মাঝে সতেনতা বাড়বে। তথ্য আদান-প্রদান, তথ্য অধিকারের বিষয়গুলো নিশ্চিত হবে। কেন্দ্রের কাছে পৌঁছাবে উপকূলের কণ্ঠস্বর।

উপকূলের প্রায় ৫ কোটি মানুষ প্রতিনিয়ত বহুমূখী দুর্যোগের সঙ্গে বসবাস করেন। কেবল দুর্যোগ এলেই এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর খবরাখবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। কিন্তু স্বাভাবিক সময়েও তাদের জীবন যে কতটা অস্বাভাবিক, সে বিষয়ে খুব একটা খোঁজ রাখা হয় না। উপকূলের প্রান্তিকের তথ্য যেমন কেন্দ্রে পৌঁছায় না, ঠিক তেমনি কেন্দ্রের মাঠে পৌঁছাচ্ছে না বহুমূখী কারণে।

উপকূলের দিকে গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারকদের নজর বাড়িয়ে উপকূলবাসীর জীবনমান উন্নয়ন ঘটানোই উপকূলের জন্য একটি দিবস প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য। মোটামুটি এগুলোই উপকূল দিবস প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি।

এবারের চিন্তা দিন নিয়ে- কোন দিনটিকে ‘উপকূল দিবস’ প্রস্তাব করা যায়! খুঁজে পাই ১২ নভেম্বরকে। এটাই উপকূলবাসীর কাছে সবচেয়ে বেশি স্মরণীয়। কারণ, ’৭০ সালের এই দিনে উপকূলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল গোটা উপকূল।

এদিন বাংলাদেশের উপকূলের উপর দিয়ে বয়ে যায় সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ভোলা সাইক্লোন’। এই ঘূর্ণিঝড় লণ্ডভণ্ড করে দেয় উপকূল। বহু মানুষ প্রাণ হারান। ঘরবাড়ি হারিয়ে পথে বসেন। এই ঘূর্ণিঝড় গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। এটি সিম্পসন স্কেলে ক্যাটাগরি ৩ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় ছিল। ঘূর্ণিঝড়টি ৮ই নভেম্বর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট হয়। ক্রমশ শক্তিশালী হতে হতে এটি উত্তর দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

১১ নভেম্বর এটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ১৮৫ কিলোমিটারে পৌঁছায়। ওই রাতেই উপকূলে আঘাত হানে। জলোচ্ছ্বাসের কারণে উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপসমূহ প্লাবিত হয়। ওই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় পাঁচ লাখ লোকের প্রাণহানি ঘটেছে বলে বলা হলেও বেসরকারি হিসাবে প্রায় দশ লাখ।

ভাবি, এই দিনটিকেই উপকূল দিবস প্রস্তাব করা যায়। পত্রপত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমে ২০১৬ সালে এই দিবসের প্রস্তাব তুলে জনমত গঠণের চেষ্টা করি। লেখার শিরোনাম ছিল- ‘১২ নভেম্বর হোক উপকূল দিবস’। সমগ্র উপকূল থেকেই ব্যাপক সাড়া পাই।

এরই ধারাবাহিকতায় এবার ২০১৭ সালে প্রথমবারের মত ১২ নভেম্বর বেসরকারিভাবে ‘উপকূল দিবস’ হিসাবে পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

৭১০ কিলোমিটার সমুদ্ররেখা পূর্বে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে পশ্চিমে সাতক্ষীরার শ্যামনগর পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলের সর্বত্র ১২ নভেম্বর উপকূল দিবসের আওয়াজ।আর ’৭০-এর ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস যখন আমরা ছিলাম ‘অসহায়’। বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছিলেন তার মূল লক্ষ্য ছিল শোষণহীন অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। সেই দায়িত্বটা এখন বর্তেছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার স্কন্ধে। তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে চলেছেন।

ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসে আগে প্রতি বছর বাংলাদেশে লাখ লাখ লোক মৃত্যুবরণ করত, ঘরবাড়ি হারাত। সেসব এখন আর নেই। ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টে বাংলাদেশের ভূমিকা আন্তর্জাতিক বিশ্বে প্রশংসনীয়। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করার যে ব্যবস্থা আমরা গড়ে তুলেছি তা এখন সারা বিশ্বের জন্য মডেল হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ আমাদের অনুসরণ-অনুকরণ করতে পারে।

বাংলাদেশে এখনো প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস হয়, কিন্তু যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি আগে হতো এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গৃহীত পদক্ষেপের কারণে আগের মতো ক্ষয়ক্ষতি হয় না। এটাই হলো বঙ্গবন্ধুর বাংলার স্বাধীনতার সফলতা।

এরই ধারাবাহিকতায় এবার ২০১৭ সালে প্রথমবারের মত ১২ নভেম্বর বেসরকারিভাবে ‘উপকূল দিবস’ হিসাবে পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৭১০ কিলোমিটার সমুদ্ররেখা পূর্বে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে পশ্চিমে সাতক্ষীরার শ্যামনগর পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলের সর্বত্র ১২ নভেম্বর উপকূল দিবসের।

নীল অর্থনীতি বাংলাদেশের সমৃদ্ধকে ত্বরান্বিত করবে-হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি

দিনাজপুর- জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ ধারণ করে আইডিইবি’র দীর্ঘ ৫০ বছরের ইতিহাসে জাতি গঠনমূলক বহুমাত্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

স্বাধীনতার ঊষালগ্নে ১৯৭০ সালের ৮ নভেম্বর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনীয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) প্রতিষ্ঠিত হয়। আইডিইবি একমাত্র পেশাজীবী সংগঠন, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল এবং আইডিইবি’র অনেক সদস্য প্রকৌশলী মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন।

সংগঠনের সুবর্ণ জয়ন্তীর উদযাপনের মাহেন্দ্রক্ষণে মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ উৎসর্গকারী আইডিইবি’র সকল সদস্য প্রকৌশলী ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানিয়ের আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী সংগঠন হিসেবে লক্ষপ্রাণের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে এদেশের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিশেষ দায়বদ্ধতা ছিল ও আছে।

সেই দায়বদ্ধতা থেকে আইডিইবি’র প্রতিষ্ঠাকালিন দর্শনের আলোকে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠির নিকট প্রযুক্তিসেবা পৌঁছে দেয়া ও প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে প্রতিবছর আইডিইবি’র প্রতিষ্ঠা দিবস ৮ নভেম্বর দেশব্যাপী গণপ্রকৌশল দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

৮ নভেম্বর রোববার জাতীয় সংসদের হইপ ইকবালুর রহিম এমপি গণপ্রকৌশল দিবস-২০২০ ও ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনীয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) ৫০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী (সুবর্ণ জয়ন্তী) উপলক্ষে ভার্চুয়ালের মাধ্যমে দিনাজপুরে আইডিইবির বর্নাঢ্য র‌্যালীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল “নীল অর্থনীতি এনে দিবে সমৃদ্ধি”।

তিনি আরও বলেন, আইডিইবি’র প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরে মানবসম্পদ উন্নয়নে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে বঙ্গবন্ধু’র শিক্ষা দর্শন বাস্তবায়ন, প্রযুক্তিমনস্ক জাতি গঠনে রাজনীতিতে প্রযুক্তিভাবনা যুক্তকরণ, দেশের নদ নদী রক্ষা, পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, কৃষি জমি রক্ষা এবং পরিকল্পিত নগর ও গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণ এবং ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় করণীয় সহ জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে আইডিইবি’র সময়োপযোগী আহ্বানসমূহ জনগণকে সর্বদা অনুপ্রাণিত করেছে।

আইডিইবি’র ৫০ বছরের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় এসব প্রযুক্তিনির্ভর দার্শনিক আহ্বান অতীত, বর্তমান, অনাগত প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে ব্লু ইকোনমি বা নীল অর্থনীতি বা সমুদ্র অর্থনীতিকে সম্ভাবনাময় বিকল্প অর্থনীতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিশ্ব ব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী ব্লু ইকোনমির আধুনিক সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, সমুদ্রে যে পানি আছে এবং এর তলদেশে যে পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, সেই সব সম্পদকে যদি আমরা টেকসই উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করি তবে তাকে ব্লু ইকোনমি বা নীল অর্থনীতি।

ভারত মহাসাগরের ব-দ্বীপ বাংলাদেশের জন্য ব্লু ইকোনমি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। বঙ্গবন্ধু’র পথনির্দেশনায় আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের (পিসিএ) রায়ে মিয়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ মিটিয়ে বঙ্গোপসাগরের বিশাল এলাকার ওপর বাংলাদেশের অধিকার সুরক্ষিত হয়েছে।

এই সমুদ্র বিজয়ের পর বাংলাদেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব উত্তরণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে সমুদ্র সম্পদের গুরুত্ব ও অপার সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে। র‌্যালীটি দিনাজপুর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

দিনাজপুর আইডিইবি কার্যলয় চত্বরে অনুষ্ঠানে আইডিইবির জেলা শাখার সভাপতি মোঃ মতিউর রহমান মতির সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর অধ্যক্ষ প্রকৌশলী আব্দুল ওয়াদুদ মন্ডল, আইডিইবির জেলা শাখার সহ-সভাপতি প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুল আউয়াল, জিলা পরিষদের সদস্য ফয়সাল হাবিব সুমন প্রমুখ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, আইডিইবি মহিলা ও পরিবার কল্যান পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশল, আইডিইবি ও আইসিটি ক্লাব দিনাজপুর, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ, এ্যাপটাচ পলিটেকনিক, এস আর এ পলিটেকনিক, ডি আই এসটি পলিটেকনিক, আনোয়ারা পলিটেকনিক, পুর্ণভবা পলিটেকনিক, উত্তরণ পলিটেকনিকসহ জেলার প্রতিটি উপজেলার প্রতিনিধিবৃন্দ।

 

পাঁচবিবির বধ্যভুমি পরিদর্শনে এডিসি

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি- ৮ নভেম্বর. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত জয়পুরহাট জেলার একদল শিক্ষার্থী ৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কে জানতে ও শিখতে সেই সময়ের ঘটে যাওয়া নানান ঘটনার স্থানগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করেন।

৭১ সালে পাকহানাদার বাহিনী ও রাজাকার, আলবদর দ্বারা তৎকালিন পূর্ব পাকিস্থানের নিরীহ মানুষকে নির্বিচারে পাখির মত গুলি করে হত্যার পর যেখানে মাটিচাপা দিয়ে রেখে ছিল সেইসব স্থানগুলো এখন বধ্যভুমি হিসাবে পরিচিত।

 শনিবার দিনব্যাপী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতে শিক্ষার্থীরা ওইসব বধ্যভুমি গুলো পরিদর্শন করেন। এসময় প্রত্যক্ষদর্শীদের নিকট থেকে সেই সময়ের নারকীয় ঘটনাগুলো শোনেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে জানার এবং শিখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

পাঁচবিবি উপজেলায় ২৩টি বধ্যভুমি থাকলেও জেলায় মোট ৫৬টি। নন্দইল মিশন পাড়ায় নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের আদিবাসী ভার্স্কয্য পরিদর্শনে গেলে ওই এলাকার ৭০ বছর বয়সের বৃদ্ধা সুখি সরেন ও কোকতাড়ার বকুলতলার বধ্যভুমি সর্ম্পকে দরগাপাড়ার নজরুল ইসলাম সেইসব দিনের নরহত্যার ঘটনাগুলো তাদের সামনে বর্ননা করেন।

গত মাসে জেলা প্রশাসক মোঃ শরীফুল ইসলাম উপজেলার বধ্যভুমি গুলো পরিদর্শন শেষে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো নতুন প্রজন্মর জন্য একটা ডকমেন্টঁরী তৈরী করা হবে। তারই ধারাবাহিকতায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সমন্বে শিক্ষার্থীরা প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গুলো ভিডিও ধারন করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বরমান হোসেন, সহকারি কমিশনার (ভুমি) এম এম আশিক রেজা ও সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব আমিনুল ইসলাম বাবুল।