রবিবার-২৯ নভেম্বর ২০২০- সময়: রাত ৩:৫৯
পর্যটকদের জন্য নয়নাভিরাম ‘সাজেক ভ্যালি’ শীতে বাঙ্গালীর ঐতিহ্য ভাপা পিঠা পাঁচবিবিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সমাপণী কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হলে মাদকমুক্ত ও অসমাপ্ত কাজ করব-আতিয়ার রহমান মিন্টু নেশার টাকার জন্য ২২ দিনের নবজাতককে কুপিয়ে হত্যা ঘোড়াঘাটে হেলথ এসোসিয়েশনের কর্মবিরোতি বন্ধ রাস্তা অবমুক্ত করলেন ইউএনও ভাতা বন্ধ ভাতা ভোগীরা মানবতার জীবনযাপন বিরামপুরে ৭২ বছরের বৃদ্ধ’কে ঔষধ ও আর্থিক সহায়তা দিলেন-ওসি মনিরুজ্জামান কোভিট-১৯ পরিস্থিতিতে মোরেলগঞ্জে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া হচ্ছে স্কুল ফিডিং বিস্কুট

Daily Archives: November 26, 2020

বিভাগীয় পরিচালকের বোচাগঞ্জ উপজেলায় কোইকা-জিএনবির নিরাপদ প্রসূতি কেন্দ্র পরিদর্শন

মোঃ আফজাল হোসেন-দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) এর যৌথ আর্থিক-সহযোগিতায় জিএনবি’র কোইকা-জিএনবি সিএইচডব্লিউ প্রকল্প ২০১৯ সাল থেকে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়নের জন্য দিনাজপুর জেলার বোচাঁগঞ্জ উপজেলার ১নং নাফানগরও ২নং ইশানিয়া ইউনিয়নে কাজ করে যাচ্ছে। সেই এলাকা দুইটিতে আধুনিক ২৪/৭ নিরাপদ প্রসূতি কেন্দ্র নির্মান করেন কোইকা।

সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘন্টা প্রসতি মায়েদের সেবা দানে প্রস্তুত নিরাপদ প্রসূতি কেন্দ পরিদর্শন করেন পরিবার পরিকল্পনা রংপুর বিভাগীয় পরিচালক মোঃ মাহবুব আলম।

৪ নভেম্বর বুধবার দুপুরে উক্ত নিরাপদ প্রসূতি কেন্দ্রের আধুনিক ডেলিভারী সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি ও সুযোগ সুবিধা ঘুরে দেখেন এবং সেবা নিতে আসা গর্ভবতী মায়েদের সাথে কথা বলেন ও নিরাপদ প্রসূতি কেন্দ্রের সেবা সংক্রান্ত অগ্রগতি ও খোজ খবর নেন।

এসময় কোইকা-জিএনবি সিএইচডব্লিউ প্রকল্প ম্যানেজার কর্নেলিউস ডালবৎ , দিনাজপুর জেলার উপ পরিচালক ডা, আবু নছর নরুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা কনসালটেন্ট ডা, রেজাউল করিম, বোচাগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাকিরুল ইসলাম, এমওএমসিএইচ বোচাগঞ্জ ডা,শাহ শামীমা আলম সহ প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকতা ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তাগনউপস্থিত ছিলেন।

ক্ষমাই তাঁকে মহৎ করেছে

বকুল, পাঁচবিবি থেকে- ২০০৯ সাল স্বাস্থ্য বিভাগের উপদেষ্টা প্রফেসর ডাঃ মোফাসের হোসেন জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতাল পরিদর্শনে এসেছিলেন। পরিদর্শন শেষে জয়পুরহাট সার্কিট হাউসে এক মতবিনিময় সভা করেন।

সভা শেষে জেলা প্রশাসকের অফিসে যাওয়ার প্রাক্ককালে জেলা, উপজেলা আ.লীগ ও সহযোগি সংগঠনের বিভিন্ন প্রর্যায়ের দলীয় নেতা কর্মিরা স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে বিদায় জানানোর জন্য অন্যসব নেতাদের ন্যায় দুইবারের জেলা আ.লীগের সভাপতি এবং জয়পুরহাট-১ আসনের দুইবারের সাংসদ আলহাজ্ব এ্যাডঃ সামছুল আলম দুদু (সে সময় পাঁচবিবি পৌর সভার মেয়র) সার্কিট হাউসের সিড়ির নীচে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

এসময় হঠাৎ তাঁর রাজনৈতিক বিরোধীরা তাঁকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন এমনকি গাঁয়ের পাঞ্জাবী পর্যন্ত ছিড়ে ফেলে এবং বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। এ অবস্থা দেখে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে এসে রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষর রোষানল হতে দুদুকে উদ্ধার করে তাঁর গাড়িতে নিয়ে ডিসি অফিসে যায়।

সার্কিট হাউজের ওই মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কেন্দ্রীয় আ.লীগের নেতা, হাসপাতালের তত্বাবধায়ক, সিভিল সার্জন, হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের ডাক্তার সহ জেলা ও পাঁচ উপজেলার নেতাকর্মিরা।

এবিষয়ে জয়পুরহাট-১ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব এ্যাডঃ সামছুল আলম দুদু বলেন, এতগুলো ভিআইপি ব্যাক্তি, জেলা ও উপজেলার নেতাদের সামনে আমাকে যারা অপমান করেছিল তাদের বিরুদ্ধে আমি আ.লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নিকট লিখিত বা মৌখিকভাবে অভিযোগ করি নাই।

ক্ষমাশীল ব্যাক্তিকে আল্লাহ্ ও আল্লাহ্র রাসুল যেহেতু পছন্দ করেন সেজন্য আমাকে যারা অপমান করেছিল তাঁদেরকে আমি ক্ষমা করে দিয়েছি। ক্ষমা মানুষকে যে মহৎ করে এজন্যই আল্লার রহমতে এবং বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা আমাকে অনেক সম্মান বাড়িয়ে দিয়েছে। আজ আমি পৌর মেয়র থেকে এমপি হয়েছি।

ব্যারিষ্টার সুমন চৌধুরী তাঁর ফেসবুক আইডিতে একটা বক্তব্য দিয়েছেন, এখন অনেকেই নিজের জমি বিক্রয় করে আওয়ামীলীগ করে আবার কেউ আওয়ামীলীগ করে জমি ক্রয় করছে। কিন্ত সামছুল আলম দুদু দীর্ঘদিন ধরে পৌর সভার মেয়র, জেলা আ.লীগের সভাপতি এমনকি জয়পুরহাট-১ আসনের এমপি এতগুলো পদের ক্ষমতায় থেকেও নিজের এবং পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য কিছুই করলেন না।

কুড়িগ্রামে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের মাঝে সাদা ছড়ি বিতরণ

প্রহলাদ মন্ডল সৈকত-কুড়িগ্রাম জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী জেলা শাখার উদ্যোগে ৩০জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের মাঝে সাদা ছড়ি বিতরণ করা হয়েছে।

৫নভেম্বর বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে সৈয়দ শামসুল হক মিলনায়তনে বিতরন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন. ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. নজরুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রোকোনুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব নীলু, জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সচিব আবু আলী মাতব্বর, জেলা সভাপতি শহীদুল ইসলাম, সাংবাদিক হুমায়ুন কবির সূর্য, শাহীন আহমেদ, জেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক মমিনুর রহমান প্রমুখ।

কুড়িগ্রাম জেলায় ৬২জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের মধ্য থেকে ৩০ জনের মাঝে বিভিন্ন দাতা ব্যক্তিদের সহায়তায় কুড়িগ্রাম জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থা এই সাদা ছড়ি বিতরণ করেন।

এক বোন তো মাটি চাপায় মইল,হামারো মরণ ওংকাই হবে

আনোয়ার সাদাত –মোর বইন যখন মাটি চাপায় মইল, তখন তো সব্বাই ফোটো তুইল্যা নিয়া গেইল্যো। কই আজো তো দেখনু না, কেউ হামার পাশোত দাঁড়াইল। ভাঙা মাটির ঘরোত যেংকা করি হামার বোন মইল, হামারো মরণ ওংকাই হবি। এখন হামার ফোটো আর তুইল্যেন না তোরা। কেউ কিছু করবার পাইবেন না। হারাও যখন মরি পরি থাকিম বইনের নাখান, সেদিন আইস্যেই হামার ফোটো তুলবার।

এমনটাই বলছিলেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌরএলাকা প্রতিবন্ধী পরিবারটির কর্তাব্যক্তি মানসিক প্রতিবন্ধী দুলাল চন্দ্র রায় (৬৫)।

দুলাল চন্দ্র রায় (৬৫), মাধব চন্দ্র রায় (৬৩), কানাই চন্দ্র রায় (৬০), গোপাল চন্দ্র রায় (৫৮), শেফালী রানী রায়, (৫৫), বলাই চন্দ্র রায় (৫৩) এবং জ্যোৎ¯œা রানী রায় (৫০)। সাত ভাইবোন তাঁরা। তাঁদের মধ্যে বলাই চন্দ্র রায় শারিরীক ও মানসিকাভাবে ভালো থাকায় অন্যখানে নিজ সংসার করেন এবং চলতি বছরের ৩১ জুলাই মাটির ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে মারা যান শারীরিক প্রতিবন্ধী জ্যোৎ¯œা রানী।

বর্তমানে তাঁর পরিবারে চারজন শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী এবং একজন হৃদরোগী ভাইবোন নিয়েই তাঁর সংসার। তাঁদের মধ্যে শুধুমাত্র দুলাল চন্দ্র রায় পান বয়স্কভাতার কার্ড।

জানা যায়, পৌরএলাকার পুরাতন বন্দরে ছিল তাদের বাসাবাড়ি। তাদের দাদা ছিলেন ব্রিটিশ আমলের ফুলবাড়ী পোষ্ট মাষ্টার এবং বাবা ফনী মোহন রায় ছিলেন শিক্ষক।

একসময় তাদের ছিল ২১ একর (৬৩ বিঘা) জমি। থাকতো গোলাভরা ধান, ছিল গোয়াল ভর্তি গরু-মহিষ ও ছাগল, আরো ছিল পুকুর ভর্তি মাছ। বাড়িতে ছিল চাকর-বাকরের ভিড়। কোনকিছুরই কমতি ছিল না তাদের। মুক্তিযুদ্ধের পরপরই পুরাতন বন্দর ছেড়ে পৌরএলাকার পূর্ব কাটাবাড়ী গ্রামে চলে আসেন তাঁরা।

১৯৮৪ সালে জমিজমা সংক্রান্ত কারণে দুষ্কৃতিদের হামলায় নিহত হন তাদের বাবা। বাবা নিহতের পর দালালদের খপ্পড়ে পড়ে জমিজমা হারিয়ে সর্বস্বান্ত হন তারা। তখন থেকেই দুর্বিষহে জীবনযাপন শুরু হয় তাদের। দুশ্চিন্তায় হারিয়ে যায় তাদের মানসিক ভারসাম্য। খাবার ও পুষ্টির অভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় রূপধারণ করে তাদের শরীরে। বর্তমানে তাদের বেহাল দশার চিত্র দেখার কেউ নাই।

পৌরএলাকার পূর্ব কাঁটাবাড়ী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ৭ শতক জমিতে রয়েছে ভাঙা মাটি ও টিনের চালার ঘর। প্রথমে ঘরটি দেখে গোয়াল ঘর মনে হলেও কাছে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কয়েকজন বসে আছেন। দেখে বোঝার উপায় নেই সেখানে কোন মানুষের বসবাস রয়েছে। ওই ভাঙা মাটির ঘরে রয়েছেন মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ওই ভাইবোনগুলো।

আঙিনায় রয়েছে দুটো গরু বাঁধা। খোলা আকাশের নিচে শাক-পাতা রান্না করছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী শেফালী রানী রায়, গরুগুলো খাবার দিচ্ছেন হৃদরোগী কানাই চন্দ্র রায়। দুর্বিষহ জীবনের চিত্র দেখা যায় সেখানে।

হৃদরোগী কানাই চন্দ্র রায় অশ্রু চোখে বলেন, ‘আমরা সাত ভাইবোন। একসময় অনেক সম্পত্তি মালিক ছিলাম আমরা। দালাল চক্রের খপ্পড়ে পড়ে বর্তমানে সর্বস্ব হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি। সেই চিন্তায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে এবং খাবার ও পুষ্টির অভাবে প্রতিবন্ধতকার কবলে পড়ে আমার পাঁচ ভাইবোন। আমার ছোটভাই বলাই ভালো হওয়ায় পুরাতন বন্দরে বিয়ে করে নিজের সংসার করছে। আর আমি বাজার কাঁচাবাজারের ব্যবসা করতাম। তা দিয়েই চালিয়ে যাচ্ছিলাম প্রতিবন্ধী ভাইবোনের সংসার। কিন্তু গত চারবছর পূর্বে আমি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শারীরিকভাবে ভেঙে পড়ি। বর্তমানে অন্যের দোকানে কাজ করে এবং বড় ভাইয়ের বয়স্ক ভাতার টাকাসহ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে দিন কাটছে আমাদের। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করছি’

প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন ও কমলেশ রায় বলেন, ‘আমরা ছোট থেকেই তাঁদের দুর্দশার জীবন দেখে আসছি। প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি, যাতে তার দৃষ্টিতে আসে ওই প্রতিবন্ধী পরিবারটি।’

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু ফরহাদ বাবু বলেন, ‘যখন বাড়ির তালিকা করেছি তখন তাদের কাছে কাগজ চেয়েছিল তারা কাগজপত্র দেয়নি তাই তাঁদের নাম তালিকাভূক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তাঁদের নাম তালিকভুক্ত করব।’

ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি ইউএনওর নজরে এসেছে তিনি প্রস্তার পাঠাবেন।’

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। বর্তমানে ঘর নির্মানের যে তালিকা হয়েছে; আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি সেখানে ওই প্রতিবন্ধী পরিবারের নাম নেই। আগামীতে যখন সুযোগ আসবে তখন তাঁদের নাম দেওয়া হবে।

শেখ হাসিনা পিতার আদর্শ অনুযায়ী দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন-মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি

ফজিবর রহমান বাবু- দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেখানো পথ অনুসরণ করে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।

কারণ জাতির পিতার সারা জীবনের যে সংগ্রাম সেই সংগ্রামের মুল লক্ষ্য ছিল দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। তিনি দুঃখী মানুষের জন্য কাঁদতেন।

তিনি আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, দিয়ে গেছেন আত্ম পরিচয় দেবার সুযোগ। পিতার সেই আদর্শকে বুকে লালন করে বর্তমানে মানুষের কল্যানে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বেব যেমন বাঙালি জাতি বিশ্ব দরবারে মাথা উচু করে চলছে, তেমনি ভাবে করোনাকালেও বাংলাদেশের উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে।

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ৫ নভেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার দুপুরে বীরগঞ্জ উপজেলার ১১ নং মরিচা ইউনিয়নের মাহাতাবপুর গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রায়ন-২ প্রকল্পের বাস্তবায়নে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের অধীন ‘ভুমিহীন ও গৃহহীন অর্থাৎ ‘ক’ শ্রেনীর পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন এমপি গোপাল।

বীরগঞ্জ উপজেলায় আশ্রায়ন-২ প্রকল্পের আওতায় মোট ৩শ টি গৃহ নির্মান করা হবে বলে জানান প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। সেই অনুযায়ী ১১ নং মরিচা ইউনিয়নে ২৫ টি গৃহ নির্মান কাজের উদ্বোধন করা হলো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল কাদের এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম, উপজেলা কমিশনার (ভুমি) ডালিম সরকার, উপজেলা  আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম নুর, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সানাউল্লাহ, মরিচা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাহারুল ইসলাম চৌধুরী হেলাল।

অলিগলি ঘুরে বাদাম বিক্রির আয় দিয়ে সংসার চলে আলেমুলের

মোসলেম উদ্দিন-বাদাম,এই বাদাম, লাগবে নাকি বাদাম? গলায় ডালী ঝুলিয়ে দিনাজপুরের হিলি বাজারের অলিগলি ঘুরে বাদাম বিক্রি করছে ৩৭ বছর বয়সী আলেমুল আলী। প্রতিদিন পুরো হিলি শহর ঘুরে ৫ থেকে ৬ কেজি বাদাম বেচেন তিনি। আর তা থেকে লাভ হয় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং এই আয় দিয়ে চলে আলেমুলের সংসার।
৭ বছর ধরে বাদাম বিক্রি করে আসছেন আলেমুল। প্রতিদিন সকাল ৯টায় গরম গরম বাদাম ডালীতে সাজিয়ে শুরু হয় তার কর্মজীবন। রোদ,বৃষ্টি, ঝড় কিংবা প্রচন্ড শীতকে উপেক্ষা করে তার এই পথ চলা।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা ইউনিয়নের পাশে মাহালী  পাড়ায় আলেমুলের বসবাস। এক ছেলে এক মেয়ে স্ত্রী ও তার মাকে নিয়ে থাকে সে। নীলফামারি জেলায় তার স্থায়ী বাড়ি। প্রায় ২০ বছর যাবৎ এখানে থাকেন তিনি। জীবনে অনেক ঘাতপ্রতি পেরিয়ে আজ এখানে।
প্রথমে রিকশা চালিয়েছে সে। আল্প আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে আলেমুল। চিন্তা-ভাবনায় আজ তার শরীর অকেজো হয়ে পড়েছে। সংসারে তার পাঁচ জন খানেয়ালা,এই ছোট ব্যবসা থেকে সকল চাহিদা মেটাতে হয় তাকে। সেই সকালে গরম ভাত খেয়ে, গরম বাদামের ডালা গলায় নিয়ে, চলে সারাদিন। অনেক ক্ষুধা লাগলেও টাকার মায়ায় কোন কিছু খায় না আলেমুল। সে ভাবে ৩০ টাকা দিয়ে খাবার কিনে খাবো, থাক? ৩০ টাকা থাকলে মা বাচ্চাদের চাহিদা মেটাতে পারবো।
বাদাম ব্যবসায়ী আলেমুলের নিকট বাদাম কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা হয়, তারা বলেন, ইনার বাদাম ভাজা খুব কড়া,খেতেও অনেক স্বাদ। আবার লবণেও তৈরি করে বিভিন্ন মসলা দ্বারা। প্রতিদিন হিলি শহরের বিভিন্ন এলাকায় তিনি ঘুরে বেরিয়ে বাদাম বিক্রি করে। আমি তার নিকট প্রতিদিন বাদাম কিনে খায়।
কথা হয় ঐ বাদাময়ালা আলেমুলের সাথে, চোখ-মুখ শুকনা হলেও হাসিটা তার অতিব মিষ্টি। আর মিষ্টি হাসি ও বিষন্নতা নিয়ে সে বলেন, কষ্টের সাথে ভাই আমার বসবাস। প্রথমে অল্প বয়সে আমার বল্যবিবাহ হয়েছিল, সংসারটা বেশি দিন টিকেনি। ছোট বউ,বয়স অল্প। তাই সংসারে অভাব-অনটন দেখে সে পালিয়ে গেছে। আবার যখন ভারস্থ বয়স ২৫ বছরে বিয়ে করছি। বিয়ে করা প্রায় ১২ বছর হলো।
দুই ছেলে-মেয়ে। নিজের কষ্ট হলেও বউ,বাচ্চা ও মাকে নিয়ে অনেকটাই সুখে আছি। বাড়িতে প্রতিদিন বউ,মা মিলে ৫ থেকে ৬ কেজি বাদাম ভাজি। আবার গরম খাবার খেয়ে বাদাম নিয়ে বের হই সারাদিনের মনে। ব্যবসা শেষে, রাতে যা লাভ হয় তাই দিয়ে বাজার খরচ করে বাড়ি ফিরি। এটাই আমার নিত্যদিন জীবন-সংসার।
আলেমুলের স্থানীয় ইউপি সদস্য আরিফ হোসেন জানান, আলেমুলকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনি। বাগজানা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তার পরিবারটিকে বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে আসছি। তার স্ত্রীকে ৫ বছর মেয়াদি মাটি কাটার কাজ দিয়েছি এবং আলেমুলকে একটা ভিজিডি অথবা ভিজিএফের কার্ড করে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিবো। তিনি আরও জানান, তার মা লতিফা বেগমকে একটা বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।