রবিবার-২৯ নভেম্বর ২০২০- সময়: রাত ৪:০৩
পর্যটকদের জন্য নয়নাভিরাম ‘সাজেক ভ্যালি’ শীতে বাঙ্গালীর ঐতিহ্য ভাপা পিঠা পাঁচবিবিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সমাপণী কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হলে মাদকমুক্ত ও অসমাপ্ত কাজ করব-আতিয়ার রহমান মিন্টু নেশার টাকার জন্য ২২ দিনের নবজাতককে কুপিয়ে হত্যা ঘোড়াঘাটে হেলথ এসোসিয়েশনের কর্মবিরোতি বন্ধ রাস্তা অবমুক্ত করলেন ইউএনও ভাতা বন্ধ ভাতা ভোগীরা মানবতার জীবনযাপন বিরামপুরে ৭২ বছরের বৃদ্ধ’কে ঔষধ ও আর্থিক সহায়তা দিলেন-ওসি মনিরুজ্জামান কোভিট-১৯ পরিস্থিতিতে মোরেলগঞ্জে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া হচ্ছে স্কুল ফিডিং বিস্কুট

Daily Archives: November 26, 2020

ব্যাঙ্গালুরুরকে হারিয়ে শীর্ষে মুম্বাই

মোহাম্মদ সিরাজের করা অফস্ট্যাম্পের বাইরের ডেলিভারিটি এক্সট্রা কভার দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকালেন সূর্যকুমার যাদব, পাঁচ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে গেল মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। এ বলটি সীমানা পার হতেই সূর্যের উদযাপন ছিল দেখার মতো, যা নিশ্চিতভাবেই বাড়তি সাহস দেবে আইপিএল ইতিহাসের সফলতম দলটিকে।লক্ষ্যটা বড় ছিল না, তবে আবুধাবির মাঠের জন্য আবার খুব ছোটও নয়। এর মধ্যে আবার টপঅর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান দিয়েছেন হতাশার পরিচয়। তবে একদমই বিচলিত হননি তিন নম্বরে নামা সূর্যকুমার যাদব। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদেই ব্যাঙ্গালুরুর দেয়া ১৬৫ রানের লক্ষ্য ৫ উইকেট ও ৫ বল হাতে রেখেই ছুঁয়ে ফেলেছে মুম্বাই।

ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা সূর্য খেলেন আইপিএলের নিজের সর্বোচ্চ ৭৯ রানের ইনিংস। মাত্র ৪৩ বলের ইনিংসটিতে ১০ চারের পাশাপাশি ৩টি ছক্কাও হাঁকিয়েছেন সূর্য। ইনিংসের একপর্যায়ে ব্যাঙ্গালুরু অধিনায়ক বিরাট কোহলির সঙ্গে বচসা হয় সূর্যের। যার জবাবটা আগুনে ব্যাটেই দিয়েছেন তিনি, আর এতে পুড়ে অঙ্গার হয়েছে কোহলি ও তার দল।১৬৫ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম পাওয়ার প্লে’তে ৪৫ রানের বেশি করতে পারেনি মুম্বাই। সাজঘরে ফিরে যান ১৯ বলে ১৮ রান করা কুইন্টন ডি কক। ইনিংসের অষ্টম ওভারে আউট হন আরেক ওপেনার ইশান কিশান (১৮ বলে ২৩), দলের রান তখন মাত্র ৫২, জয়ের জন্য ৭৪ বলে করতে হতো ১১৩ রান।চাপ বাড়িয়ে একাদশ ওভারে মোহাম্মদ সিরাজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন ৮ বলে ৫ রান করা সৌরভ তিওয়ারি। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ক্রুনাল পান্ডিয়াকে নিয়ে ১৯ বলে ৩৫ রান যোগ করেন সূর্য। যেখানে ক্রুনালের অবদান ১০ বলে মাত্র ১০ রান, বাকি ঝড় তোলেন সূর্য।দলের জয়ের জন্য সমীকরণতা ৩৭ বলে ৫৮ রান থাকা অবস্থায় আউট হন ক্রুনাল, উইকেটে আসেন তার ছোট ভাই হার্দিক। তিনি উইকেটে থাকেন পাক্কা পাঁচ ওভারে, এই ত্রিশ বলে আসে ৫১ রান, যা প্রায় নিশ্চিত করে দেয় মুম্বাইয়ের জয়। দুই ছক্কার মারে হার্দিক করেন ১৫ বলে ১৭ রান।হার্দিক-ক্রুনালের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দুই জুটিতে সূর্যের অবদান ছিল যথাক্রমে ৯ বলে ২৩ ও ১৫ বলে ৩০ রান। উনিশতম ওভারের শেষ বলে বাউন্ডারি হাঁকান ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক কাইরন পোলার্ড, শেষ ওভারের জন্য বাকি থাকে মাত্র ৩ রান। তবে পুরো ওভার নেননি সূর্য, প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে নিশ্চিত করেন জয়।এ জয়ের সুবাদে প্লে-অফের টিকিট একপ্রকার নিশ্চিতই বলা চলে মুম্বাইয়ের। সব দলের ১২টি করে ম্যাচ শেষে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে গেছে মুম্বাই। শেষের ম্যাচগুলো অত্যাশ্চর্য কোনো ঘটনা না ঘটলে তাদের বাদ পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। অন্যদিকে ম্যাচ হারলেও, ১৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে ব্যাঙ্গালুরু।

 

এদিকে আবু ধাবির শেখ জায়েদ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতেছিলেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক কাইরন পোলার্ড। টস জিতে তিনি ব্যাট করার আমন্ত্রন জানান কোহলির দলকে। বিরাাট কোহলিও চেয়েছিলেন, যে কোনো মূল্যে প্রথমে ব্যাট করার।আমন্ত্রিত হয়ে ব্যাট করতে নেমে জস ফিলিপ এবং দেবদুত পাড্ডিকাল ৭.৫ ওভারেই গড়ে ফেলেন ৭১ রানের জুটি। ২৪ বলে ৩৩ রান করে এ সময় ফিলিপ আউট হয়ে গেলে মড়ক লাগে ব্যাঙ্গালুরুর ইনিংসে।একপাশে পাড্ডিকাল দারুণ ব্যাটিং করে গেলেও অন্য পাশে আশা যাওয়ার মিছিল অব্যাহত ছিল। ৯ রান করে আউট হয়ে যান বিরাট কোহলি। ১২ বলে ১৫ রান করে আউট হন এবি ডি ভিলিয়ার্স। শিভাম দুবে করেন ২ রান। ক্রিস মরিসের ব্যাট থেকে আসে ৪ রান। গুরকিরাত সিং ১১ বলে অপরাজিত থাকেন ১৪ রানে। ওয়াশিংটন সুন্দর করেন ১০ রান।শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে ব্যাঙ্গালুরুর স্কোর ওঠে ১৬৪ রান। মুম্বাইয়ের হয়ে সবচেয়ে ইকনোমি বোলিং করেন জসপ্রিত বুমরাহ। বলতে গেলে একাই তিনি ব্যাঙ্গালুরুর রান আটকে রাখেন। ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। ট্রেন্ট বোল্ট, রাহুল চাহার এবং কাইরন পোলার্ড নেন ১টি করে উইকেট।

আমাদের স্বনির্ভরতা অর্জন করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতা অর্জনের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ১৯৪৮ থেকেই কিন্তু সংগ্রামের শুরু, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। …তবে বিজয়ী জাতি হিসেবে কেন মানুষের কাছে আমরা হাত পেতে চলবো। তাই আমাদের স্বনির্ভরতা অর্জন করতে হবে। আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২০ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

যারা স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা প্রতিটি ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন। প্রতিবছর ২৫ মার্চ আমরা এ পুরস্কার দিয়ে থাকি। এবার করোনার কারণে সেটা হলো না। জাতির জনকের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানও জনসমাগম না করে করার চেষ্টা করলাম। তবে করোনার মধ্যেও আজ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ। আমি বলেছি, যেহেতু স্বাধীনতা পুরস্কার, যেভাবেই হোক পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে তুলে দিতে হবে।দেশকে ডিজিটাল করার কথা তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ডিজিটাল হয়েছে বলেই আমি সেখানে না থেকেও ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকতে পারছি। সরকারপ্রধান বলেন, একটি স্বাধীন হিসেবে গড়ে তোলার এমন কোনো কাজ নেই যা বঙ্গবন্ধু করেননি। কিন্তু তাকে সপরিবারে হত্যা করা হলো। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেই বিচার বন্ধ করে দেয়, যারা জেলে ছিল তাদের মুক্তি দেয়, যারা পাকিস্তানে ছিল তাদের ফিরিয়ে আনে। পুরস্কৃত করে চাকরি দিয়ে। যে ৭ মার্চের ভাষণ মানুষকে উজ্জীবিত করেছিল তা নিষিদ্ধ করা হয়। স্বাধীনতার কথা আসলেই এই বিষয়গুলো মনে পড়ে।শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যেন স্বাধীন জাতি হিসেবে মর্যাদা নিয়ে চলতে পারি। বাংলাদেশকে আমরা দারিদ্র্যমুক্ত করব, উন্নত-সমৃদ্ধ করব। করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বের মানুষকে স্থবির করে দিয়েছে। মানুষ যেন রক্ষা পায়, অর্থনৈতিক গতিশীলতা যেন থাকে। দেশের মানুষের সব মৌলিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। সারাবিশ্বই যেন করোনা ভাইরাসের হাত থেকে মুক্তি পায়। সবাইকে এখনই সর্তক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। যা যা প্রয়োজন ব্যবস্থা নিচ্ছি।সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউরোপের ধাক্কা আমাদের দেশেও আসে। সে জন্য এখনই প্রস্তুতি নিন। জেলায় জেলায় হাসপাতালে প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা। অনেক চিকিৎসক নার্স নিয়োগ দিচ্ছি। আপনারাও সচেতন থাকুন।জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ সব কর্মসূচি বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে স্বাধীনতা পদক দেওয়ার কর্মসূচিটিও স্থগিত করা হয়েছিল, যা আজ ভূষিতদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেন। পদক প্রদান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন স্যাটেলাইট টেলিভিশন, রেডিও, অনলাইন সরাসরি সম্প্রচার করে।এ বছর পুরস্কার পেয়েছেন- স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের জন্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দাস্তগীর গাজী বীর প্রতীক, প্রয়াত কমান্ডার (অব.) আবদুর রউফ, প্রয়াত মুহম্মদ আনোয়ার পাশা ও আজিজুর রহমান। চিকিৎসাবিদ্যায় অধ্যাপক ডা. মো. উবায়দুল কবীর চৌধুরী ও অধ্যাপক ডা. এ কে এম এ মুক্তাদির। সংস্কৃতিতে কালীপদ দাস ও ফেরদৌসী মজুমদার।এ ছাড়া শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ভারতেশ্বরী হোমস্ এবার স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়লো ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

এ সময় তিনি বলেন, সবার স্বাস্থ্য ঝুঁকিকে বিচেচনায় নিয়ে গত মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে আমরা বাধ্য হয়েছি। আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে নানান জিনিস পর্যালোচনা করেছি, সীমিত পরিসরে কিছু জিনিস খোলা যায় কি না। আমাগী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে দেখব পরিস্থিতি অনুকূল হলে সীমিত পরিসরে (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) খোলার চেষ্টা করব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহাবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুকসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।