রবিবার-২৯ নভেম্বর ২০২০- সময়: রাত ৪:২৯
পর্যটকদের জন্য নয়নাভিরাম ‘সাজেক ভ্যালি’ শীতে বাঙ্গালীর ঐতিহ্য ভাপা পিঠা পাঁচবিবিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সমাপণী কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হলে মাদকমুক্ত ও অসমাপ্ত কাজ করব-আতিয়ার রহমান মিন্টু নেশার টাকার জন্য ২২ দিনের নবজাতককে কুপিয়ে হত্যা ঘোড়াঘাটে হেলথ এসোসিয়েশনের কর্মবিরোতি বন্ধ রাস্তা অবমুক্ত করলেন ইউএনও ভাতা বন্ধ ভাতা ভোগীরা মানবতার জীবনযাপন বিরামপুরে ৭২ বছরের বৃদ্ধ’কে ঔষধ ও আর্থিক সহায়তা দিলেন-ওসি মনিরুজ্জামান কোভিট-১৯ পরিস্থিতিতে মোরেলগঞ্জে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া হচ্ছে স্কুল ফিডিং বিস্কুট

ধামইরহাটে চিরি নদীর দু’পাড়ের কৃষকদের নবান্নের উৎসব

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি-নওগাঁর ধামইরহাটের চিরি নদীর  পাড়ের কৃষকদের মাঝে পালিত হলো নবান্নের উৎসব। প্রতি বছরের ন্যায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই দিনটিকে ওই এলাকার কৃষকরা পালন করে।

এবার ধানের দাম বেশী পাওয়ায় তাদের মাঝে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। প্রতিটি গ্রামে ফিরে এসেছে নবান্নের উৎসবের আমেজ।

১ অগ্রহায়ণ গ্রাম বাংলার কৃষকরা সাধারণত তাদের নতুন ফসল ঘরে তোলে। বর্তমানে মানে মাঠে মাঠে কৃষক সোনালী স্বপ্ন দুলছে। আর এ সোনালী স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে কৃষক-কৃষাণীরা কোমর বেঁেধ কাজ করছে।

বর্তমান এ এলাকায় স্বর্ণা-৫ জাতের ধান বেশি রোপন করা হয়েছে। ধান কাটামাড়াই পুরোদমে শুরু হয়েছে। বাজারে প্রতি মণ (৪০ কেজি) ধান এক হাজার ১শত টাকা দরে কেনা বেচা চলছে। কৃষকরা এবার ধানের দাম বেশি পেয়ে বেশ খুশি। তাদের মাঝে বাড়তি উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে,উপজেলার ধামইরহাট ইউনিয়নের অন্তর্গত ভারত সীমান্তবর্তী উত্তর রুপনারায়লপুর চিরি নদীর দুই পাড়ের কৃষকরা নবান্ন উৎসব পালনের জন্য ব্যাপর প্রস্তুতি নেয়। তারা নতুন ধানের আটা দিয়ে বিভিন্ন ধরণেয় পিঠা,পুলি এবং ক্ষীর তৈরি করে।

দিবস উপলক্ষে এলাকার মেয়ে-জামাইদের শ্বশুড় বাড়ীতে আগমন ঘটে। প্রায় প্রতিটি বাড়ীতে গরু ও মহিষের মাংস এবং নতুন ধানের চাল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে পায়েস ও ক্ষীর। এসব দিয়ে মেহমানদের অ্যাপায়ন করা হয়। নবান্ন উপলক্ষে চিরি নদীর ব্রীজের পশ্চিম পার্শে উত্তর রুপনারায়ণপুর গ্রামের দুইটি মহিষ গবাহ করা হয়।

ওই গ্রামের মাতব্বর মো.আইয়ুব হোসেন, মো.নবিবর রহমান জানান, তারা দুটি মহিষ গবাহ করে গ্রামবাসীদের মাঝে মাংস বিতরণ করেছেন। দুটি মহিষ থেকে প্রায় ৪শত ১০ কেজি মাংস পাওয়া গেছে। এক হাজার টাকার বিনিময়ে ২শত জনের মাঝে এ মাংস বিতরণ করা হয়।

এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.সেলিম রেজা বলেন, ব্রিধান-৮৭ ধান একর প্রতি ৬৩ থেকে ৬৫ মণ হারে ফলন হয়।

এ এলাকার কৃষকগণ অধিকাংশ জমিতে ভারতের স্বর্ণা-৫,রঞ্জিত এবং মামুন স্বণা ধান চাষ করে। এসব ধানের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। ব্রিধান-৮৭ ধানের রোগ বালাই নেই বললেই চলে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি।

তাছাড়া বীজতলা থেকে ধান পাকতে সময় লাগে মাত্র ১শত ২৭ দিন। অথচ স্বর্ণা-৫ ধানের সময় লাগে ১৪৫ দিন। স্বর্ণা-৫ জাতের ধান থেকে এ ধান চাষ করতে সার ও সেচের খরচ অনেক কম হয়। তাছাড়া স্বর্ণা-৫ জাতের ধান চাষ করলে ওই জমিতে আর রবি শস্য করা যায়না। আমাদের লক্ষ্য এক জমিতে বছরে যেন তিন ফলন ফলানো যায়।

কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উঠোন বৈঠক,হাট-বাজার সভা এবং গ্রুপ ভিত্তিক কৃষক সমাবেশ, গ্রাম কৃষক বন্ধু প্রশিক্ষণ,প্রণোদনা,লিফলেট বিতরণ,বিনামূল্যে ধানবীজ বিতরণ,কৃষি প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে কৃষকদের এ ধান চাষে উৎসাহিত করা হয়েছে। ফলে এলাকার কৃষকগণ এ ধানে চাষে বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.সেলিম রেজা বলেন, এবার ধামইরহাট উপজেলায় ১৯ হাজার ৭শত ৯০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। এবার ফলন কিছুটা কম হলেও দাম বেশি পেয়ে কৃষককূল খুশি। ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) এবং ৭শত ৯০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের ধান রোপন করছেন।

ব্রিধান-৩৪,৪৯,৭৫,৮৭,বিনা-১৭,স্বর্ণা-৫,ত্বরা স্বর্ণা,চিনি আতব,জিরাশাইল ও কাটারীভোগ জাতের ধান চাষ করছেন। বর্তমানে ধান কাটামাড়াই পুরোদমে শুরু হয়েছে। বাজারে কাঁচা ধান এক হাজার একশত টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে এলাকার কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *